ওয়ার্ল্ডকাপ কাউন্টডাউন

দেড় লাখ লোকের দেশ কুরাসাও খেলবে বিশ্বমঞ্চে

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩: ৫৭
কুরাসাও ফুটবল দল। সংগৃহীত ছবি

ইতিহাসে সবচেয়ে কম জনসংখ্যার দেশ হিসেবে বিশ্বকাপ মঞ্চে জায়গা করে নিয়েছে কুরাসাও। বর্তমানে মাত্র ১ লাখ ৬০ হাজার জনসংখ্যার এই ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্রটি ২০১৪ সালে ফিফা র‌্যাংকিংয়েতে ১৮৩ ছিল। সেখান থেকে মাত্র ১১ বছরের কঠোর পরিশ্রমের পর দেশটি প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলবে।

প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দক্ষিণ আমেরিকার দেশটি বর্তমানে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ৮২ নম্বর পজিশনে অবস্থান করছে। দলটি ডাকনাম লা ফামিলিয়া আজুল বা নীল পরিবার।

দলটির প্রধান কোচ ডাচ ফুটবলার ডিক অ্যাডভোকেট। ট্রান্সফার মার্কেটের তথ্য অনুযায়ী, তিনি তাঁর কোচিং ক্যারিয়ারে দক্ষিণ কোরিয়া, বেলজিয়াম, রাশিয়ার ডাগআউটে ছিলেন। এছাড়া তাঁর কোচিংয়ে রাশিয়ান ক্লাব জেনিত সেন্ট পিটার্সবার্গ ২০০৮-০৯ মৌসুমে উয়েফা সুপার কাপ জিতেছে।

কুরাসাও ইন্টার-কন্টিনেন্টাল প্লে-অফ ছাড়াই কনকাকাফ অঞ্চলের গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে সরাসরি বিশ্বকাপে নাম লিখিয়েছে। বাছাইপর্বের চূড়ান্ত রাউন্ড গ্রুপ-বি-তে তারা জ্যামাইকা এবং ত্রিনিদাদ ও টাবাগোর মতো শক্তিশালী দলকে পেছনে ফেলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়। ২০২৫ সালের ১৮ নভেম্বর জ্যামাইকার কিংস্টনে একটি স্নায়ুচাপের ম্যাচে ০-০ ড্র করে তারা প্রথমবারের সরাসরি টিকিট নিশ্চিত করে।

গারভানে কাস্টেরিন। সংগৃহীত ছবি
গারভানে কাস্টেরিন। সংগৃহীত ছবি

এর আগে তারা বারমুডাকে ৭-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছিল। কুরাসাও কনকাকাফের বাছাই পর্বের ২য় ও ৩য় রাউন্ডের ১০ ম্যাচে অপরাজিত থাকে। তাঁরা ১০ ম্যাচে সাতটিতে জয় লাভ করে আর ৩টিতে ড্র করে।

কুরাসাও এবার বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘ই’-তে অবস্থান করছে। এই গ্রুপে দলটিকে আগামী ১৪ জুন মুখোমুখি হবে চার বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জার্মানির। এরপর ২১ জুন ইকুয়েডর এবং ২৬ জুন আইভরি কোস্টের বিপক্ষে মাঠে নামবে তারা।

প্লেয়ার টু ওয়াচ

গারভানে কাস্টানির যিনি বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে পাঁচটি গোল করেছেন। বর্তমানে এই সেন্টার ফরওয়ার্ড মালোশিয়ার সুপার লীগের ক্লাব তেরেঙ্গানুতে খেলে থাকেন।

অন্যদিকে জুনিনহো ব্যাকুনা যিনি দাচ ক্লাব ভোলেনডামের মিডফিল্ডার। তিনি বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে তিনটি গোল করেছেন, জাতীয় দলে তাঁর গোল সংখ্যা ১৪।

কুরাসাও নবাগত এবং ছোট দেশ। তারা যদি ইকুয়েডর বা আইভরি কোস্টদের বিপক্ষে অঘটন ঘটিয়ে জয় বা পয়েন্ট ছিনিয়ে নিতে পারে, তাহলে নিজেদের প্রথম আসরেই তাঁরা নকআউট পর্বে যাওয়ার গৌরব অর্জন করতে সক্ষম হবে। যার ফলে তাঁরা নিজেদের ফুটবল ইতিহাসের সেরা সাফল্য গড়তে পাড়বে।

সম্পর্কিত