জন্মদিন
স্ট্রিম ডেস্ক

ডালাসে একটি গল্প প্রচলিত আছে। বলা হয়, টেক্সাস স্টেডিয়ামের (ডালাস শহরের ঠিক বাইরে) ছাদে একটি বিশাল ছিদ্র ছিল, যাতে ঈশ্বর তাঁর প্রিয় ফুটবল দলের খেলা দেখতে পারেন।
এবারের বিশ্বকাপেও এটিএন্ডটি স্টেডিয়ামে একটি বিশাল খোলা জায়গা রাখা হয়েছে। সেখানে নিচে ১৬০ ফুটের একটি বিশাল স্ক্রিন লাগানো হয়েছে, যাতে ঈশ্বর ও ভক্তরা একইভাবে আধুনিক উপায়ে খেলা দেখতে পারেন।
সোমবার দুপুরে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে জয় পেল আর্জেন্টিনা। সেই খেলার সময় আসমানের ফুটবল দেবতারা কিংবা গ্যালারিতে থাকা ৭০ হাজার ৬৪৯ জন দর্শক নিশ্চয় কৃতজ্ঞ থাকবেন। কারণ তারা সেদিন এক বিস্ময়কর ইতিহাসের সাক্ষী হয়েছেন।
সেদিন অস্ট্রিয়ানদের বিপক্ষে মন্ত্রমুগ্ধকর দুটি গোল করার মধ্য দিয়ে অন্য সবাইকে পেছনে ফেলে বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন লিও মেসি। ৩৯ বছর বয়সী এই তারকা ১৮টি গোল করার পরও থেমে যাওয়ার কোনো লক্ষণ দেখাচ্ছেন না। বয়স তাঁর কাছে একটি সংখ্যা মাত্র!
মেসি তার অসাধারণ ক্যারিয়ারের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই অন্যদের চেয়ে আলাদা। তিনি যত ট্রফি সংগ্রহ করেছেন তার সংখ্যা প্রায় অবিশ্বাস্য। তাঁকে দেওয়া সম্মাননাগুলো যদি আপনি পাশাপাশি সাজান, সেগুলো রাখার জন্য একটি এয়ারক্রাফট হ্যাঙ্গারের প্রয়োজন হবে।
জার্মান স্ট্রাইকার মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ড ছাড়িয়ে ১৮ গোল নিয়ে মেসি এখন সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় একাই শীর্ষে অবস্থান করছেন।
একের পর এক ইতিহাস গড়লেও মেসি অতিমানব নন। তিনিও রক্ত-মাংসের সাধারণ মানুষের মতোই খেলেন। তার প্রমাণ পাওয়া গেল অস্ট্রিয়ার ম্যাচে।
ওই দিন ম্যাচ শুরু হওয়ার মাত্র চার মিনিটের মাথায় অস্ট্রিয়ার ডিফেন্ডার স্টিফান পোশ এবং জাভার শ্লেগার দুজনেই আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড লাউতারো মার্তিনেজের গোড়ালিতে আঘাত করলে তিনি বক্সের ভেতরে পড়ে যান। ভিএআর শেষ পর্যন্ত এটিকে পেনাল্টি হিসেবে ঘোষণা করে।
প্রত্যাশিতভাবেই পেনাল্টি কিক নিতে এগিয়ে আসেন মেসি। কিন্তু শটটি গোল পোস্টের ডান পাশ দিয়ে গোলরক্ষক আলেকজান্ডার শ্লেগারের প্রসারিত হাতেরও অনেক দূর দিয়ে বাইরে চলে যায়।
মেসির ছয়টি বিশ্বকাপের সাতটি পেনাল্টির মধ্যে এটি ছিল তৃতীয় মিস এবং এটিই প্রথম যা গোলরক্ষক সেভ করেননি, বরং সরাসরি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে।
পরে মেসি মৃদু হেসে বলেন, ‘যে পেনাল্টিটি আমি মিস করেছি, হয়তো সেটি গোল করলে আমি অন্যগুলো করতে পারতাম না। আপনি কখনই জানবেন না কী হতো। তবে আমি ফলাফল নিয়ে খুশি।’
সেই পেনাল্টি মিসটি ছিল খোদ মেসিরই প্রতীকী রূপ। মেসি একই সঙ্গে একজন নিখুঁত খেলোয়াড় আবার অন্য সব মানুষের মতোই ভুল করা মানুষ।
অনেকের কাছে মনে হতে পারে, মেসি উচ্চতা মাত্র ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি, তিনি আদর্শ অ্যাথলেট নন। কিন্তু তাকে আটকানোর চেষ্টা করা প্রতিটি প্রতিপক্ষকে বোকা বানাতে মেসির মতো ওস্তাদ কেউ নেই।
মেসির মতো যারা কিংবদন্তি খেলোয়াড় ছিলেন, তারা এর আগে বিশ্বকাপের মঞ্চে বারবার হৃদয়ভাঙা গল্প উপহার দিয়েছেন। কিন্তু একই মঞ্চে মেসি বারবার মহাকাব্য রচনা করছেন।
মাত্র ১৫ মিনিট আগে যে পেনাল্টি স্পট থেকে তিনি বল বাইরে পাঠিয়েছিলেন, তার ঠিক এক গজ পেছন থেকে আবারও বাঁ পা দিয়ে বলকে পাঠিয়ে দেন গোল পোস্টের জালে। সঙ্গে সঙ্গে মেসির নামে রচিত হয় বিশ্ব রেকর্ড।
মেসির দ্বিতীয় গোলটি তার প্রথমটির মতো অতোটা নান্দনিক ছিল না। ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে (৯৫ মিনিটে) দুটি ডিফ্লেকশন বা বল ধাক্কা খেয়ে ফিরে আসার পর একটি হেকটিক রিবাউন্ড থেকে তিনি গোলটি করেন। এই গোলের মাধ্যমে তিনি বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুটের দৌড়েও শীর্ষে (৫টি গোল নিয়ে) আছেন।
অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে যেদিন ইতিহাস গড়লেন মেসি, সেদিন থেকে ঠিক ৪০ বছর আগে একই দিনে তাঁরই পূর্বসূরি ম্যারাডোনা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিখ্যাত ‘হ্যান্ড অফ গড’ গোলটি করেছিলেন।
মেসি তাঁর কাছে-দূরের সব ভক্তের উদ্দেশে বিনয়ের সঙ্গে বলেন, আমার নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করার জন্য কোনো ঐশ্বরিক হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই।
আর্জেন্টিনা দলের ম্যানেজার লিওনেল স্কালোনি বলেন, ‘লিওকে নিয়ে কথা বলার মতো আর কোনো শব্দ আমার কাছে নেই।’
(মার্কিন সাময়িকী স্পোর্টস ইলাস্ট্রেটেড থেকে সংক্ষেপিত অনূদিত)

ডালাসে একটি গল্প প্রচলিত আছে। বলা হয়, টেক্সাস স্টেডিয়ামের (ডালাস শহরের ঠিক বাইরে) ছাদে একটি বিশাল ছিদ্র ছিল, যাতে ঈশ্বর তাঁর প্রিয় ফুটবল দলের খেলা দেখতে পারেন।
এবারের বিশ্বকাপেও এটিএন্ডটি স্টেডিয়ামে একটি বিশাল খোলা জায়গা রাখা হয়েছে। সেখানে নিচে ১৬০ ফুটের একটি বিশাল স্ক্রিন লাগানো হয়েছে, যাতে ঈশ্বর ও ভক্তরা একইভাবে আধুনিক উপায়ে খেলা দেখতে পারেন।
সোমবার দুপুরে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে জয় পেল আর্জেন্টিনা। সেই খেলার সময় আসমানের ফুটবল দেবতারা কিংবা গ্যালারিতে থাকা ৭০ হাজার ৬৪৯ জন দর্শক নিশ্চয় কৃতজ্ঞ থাকবেন। কারণ তারা সেদিন এক বিস্ময়কর ইতিহাসের সাক্ষী হয়েছেন।
সেদিন অস্ট্রিয়ানদের বিপক্ষে মন্ত্রমুগ্ধকর দুটি গোল করার মধ্য দিয়ে অন্য সবাইকে পেছনে ফেলে বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন লিও মেসি। ৩৯ বছর বয়সী এই তারকা ১৮টি গোল করার পরও থেমে যাওয়ার কোনো লক্ষণ দেখাচ্ছেন না। বয়স তাঁর কাছে একটি সংখ্যা মাত্র!
মেসি তার অসাধারণ ক্যারিয়ারের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই অন্যদের চেয়ে আলাদা। তিনি যত ট্রফি সংগ্রহ করেছেন তার সংখ্যা প্রায় অবিশ্বাস্য। তাঁকে দেওয়া সম্মাননাগুলো যদি আপনি পাশাপাশি সাজান, সেগুলো রাখার জন্য একটি এয়ারক্রাফট হ্যাঙ্গারের প্রয়োজন হবে।
জার্মান স্ট্রাইকার মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ড ছাড়িয়ে ১৮ গোল নিয়ে মেসি এখন সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় একাই শীর্ষে অবস্থান করছেন।
একের পর এক ইতিহাস গড়লেও মেসি অতিমানব নন। তিনিও রক্ত-মাংসের সাধারণ মানুষের মতোই খেলেন। তার প্রমাণ পাওয়া গেল অস্ট্রিয়ার ম্যাচে।
ওই দিন ম্যাচ শুরু হওয়ার মাত্র চার মিনিটের মাথায় অস্ট্রিয়ার ডিফেন্ডার স্টিফান পোশ এবং জাভার শ্লেগার দুজনেই আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড লাউতারো মার্তিনেজের গোড়ালিতে আঘাত করলে তিনি বক্সের ভেতরে পড়ে যান। ভিএআর শেষ পর্যন্ত এটিকে পেনাল্টি হিসেবে ঘোষণা করে।
প্রত্যাশিতভাবেই পেনাল্টি কিক নিতে এগিয়ে আসেন মেসি। কিন্তু শটটি গোল পোস্টের ডান পাশ দিয়ে গোলরক্ষক আলেকজান্ডার শ্লেগারের প্রসারিত হাতেরও অনেক দূর দিয়ে বাইরে চলে যায়।
মেসির ছয়টি বিশ্বকাপের সাতটি পেনাল্টির মধ্যে এটি ছিল তৃতীয় মিস এবং এটিই প্রথম যা গোলরক্ষক সেভ করেননি, বরং সরাসরি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে।
পরে মেসি মৃদু হেসে বলেন, ‘যে পেনাল্টিটি আমি মিস করেছি, হয়তো সেটি গোল করলে আমি অন্যগুলো করতে পারতাম না। আপনি কখনই জানবেন না কী হতো। তবে আমি ফলাফল নিয়ে খুশি।’
সেই পেনাল্টি মিসটি ছিল খোদ মেসিরই প্রতীকী রূপ। মেসি একই সঙ্গে একজন নিখুঁত খেলোয়াড় আবার অন্য সব মানুষের মতোই ভুল করা মানুষ।
অনেকের কাছে মনে হতে পারে, মেসি উচ্চতা মাত্র ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি, তিনি আদর্শ অ্যাথলেট নন। কিন্তু তাকে আটকানোর চেষ্টা করা প্রতিটি প্রতিপক্ষকে বোকা বানাতে মেসির মতো ওস্তাদ কেউ নেই।
মেসির মতো যারা কিংবদন্তি খেলোয়াড় ছিলেন, তারা এর আগে বিশ্বকাপের মঞ্চে বারবার হৃদয়ভাঙা গল্প উপহার দিয়েছেন। কিন্তু একই মঞ্চে মেসি বারবার মহাকাব্য রচনা করছেন।
মাত্র ১৫ মিনিট আগে যে পেনাল্টি স্পট থেকে তিনি বল বাইরে পাঠিয়েছিলেন, তার ঠিক এক গজ পেছন থেকে আবারও বাঁ পা দিয়ে বলকে পাঠিয়ে দেন গোল পোস্টের জালে। সঙ্গে সঙ্গে মেসির নামে রচিত হয় বিশ্ব রেকর্ড।
মেসির দ্বিতীয় গোলটি তার প্রথমটির মতো অতোটা নান্দনিক ছিল না। ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে (৯৫ মিনিটে) দুটি ডিফ্লেকশন বা বল ধাক্কা খেয়ে ফিরে আসার পর একটি হেকটিক রিবাউন্ড থেকে তিনি গোলটি করেন। এই গোলের মাধ্যমে তিনি বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুটের দৌড়েও শীর্ষে (৫টি গোল নিয়ে) আছেন।
অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে যেদিন ইতিহাস গড়লেন মেসি, সেদিন থেকে ঠিক ৪০ বছর আগে একই দিনে তাঁরই পূর্বসূরি ম্যারাডোনা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিখ্যাত ‘হ্যান্ড অফ গড’ গোলটি করেছিলেন।
মেসি তাঁর কাছে-দূরের সব ভক্তের উদ্দেশে বিনয়ের সঙ্গে বলেন, আমার নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করার জন্য কোনো ঐশ্বরিক হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই।
আর্জেন্টিনা দলের ম্যানেজার লিওনেল স্কালোনি বলেন, ‘লিওকে নিয়ে কথা বলার মতো আর কোনো শব্দ আমার কাছে নেই।’
(মার্কিন সাময়িকী স্পোর্টস ইলাস্ট্রেটেড থেকে সংক্ষেপিত অনূদিত)

আর্জেন্টিনা যদি ১৯৬২ সালের পর প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখতে চায় এবং বিশ্বের তৃতীয় দল হিসেবে তা করতে পারে, তাহলে সেই কৃতিত্বের কেন্দ্রবিন্দুতে যে আবারও লিওনেল মেসিই থাকবেন, তা প্রায় নিশ্চিত।
৩৮ মিনিট আগে
আফ্রিকার দেশ ঘানার অতি-রক্ষণাত্মক কৌশলে হোঁচট খেয়েছে চলতি বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট দল ইংল্যান্ড। মঙ্গলবার রাতে বোস্টনের জিলেট স্টেডিয়ামে গ্রুপ ‘এল’-এর ম্যাচে ঘানার সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেছে ‘থ্রি লায়ন্স’রা।
২ ঘণ্টা আগে
মাঠে নামার আগেও চলছিল রোনালদোর সমালোচনা। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসির পাশাপাশি বর্তমান তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে, আর্লিং হলান্ডরা যখন মাঠ কাঁপাচ্ছেন তখন রোনালদো কী করছেন তা নিয়ে চলছিল আলোচনা।
২ ঘণ্টা আগে
আর্জেন্টিনা, লিওনেল মেসি ও তাঁর ভক্তদের জন্য ১৬ জুন একটি বিশেষ দিন। এই দিনে ফিফা বিশ্বকাপে অভিষেক করেছিলেন মেসি। দিনটি আরও এক কারণে স্মরণীয়। মেসি এই দিনে মিরোস্লাভ ক্লোসার সঙ্গে যৌথভাবে বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ ১৬ গোলদাতার রেকর্ড স্পর্শ করেন।
৩ ঘণ্টা আগে