৫২ বছর পর আবার বিশ্বমঞ্চে হাইতি

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক

হাইতি ফুটবল দল। সংগৃহীত ছবি

রাজনৈতিক অস্থিরতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ আর দারিদ্র্যের সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করা হাইতির মানুষ ফুটবলের মাঝেই বেঁচে থাকার রসদ খুঁজে পায়। ১৯৭৪ বিশ্বকাপে তারা যখন প্রথম ও শেষবার বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল, তখন ইতালিয়ান গোলরক্ষক ডিনো জফের টানা ১৯ ম্যাচ গোল না খাওয়ার বিশ্বরেকর্ড ভেঙে দিয়েছিলেন হাইতির ইমানুয়েল সানন। দীর্ঘ ৫২ বছর পর আবারও বিশ্বমঞ্চে হাইতি।

অবশ্য অভিষেক আসরে মনে রাখার মতো কিছু করতে পারেনি হাইতি। সেবার তিন ম্যাচ খেলে জয় অধরাই থেকে যায় তাদের। এবারের বিশ্বকাপেও হাইতির কোয়ালিফাই করার গল্পটিও নানা চড়াই-উতরাইয়ে ভরপুর। ২০২৪ সালে হাইতির ন্যাশনাল স্টেডিয়াম দখল হয়ে গেলে অস্থিতিশীল এক পরিস্থিতিতে তারা নিজেদের হোম ম্যাচগুলো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে কুরাসাও-এ গিয়ে খেলতে বাধ্য হয়।

দেশটিতে চলমান গৃহযুদ্ধের সূত্রপাত ২০২১ সালে; ওই বছরের জুলাইয়ে দেশটির সবশেষ নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জোভেনেল মোয়িস আততায়ীর গুলিতে নিহত হন। এরপর রাজনৈতিক শূন্যতা সৃষ্টি হলে দেশটির দুষ্কৃতকারী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সহিংসতা বাড়তে থাকে।

হিউম্যান রাইটসের তথ্যমতে, হাইতিতে চলমান সংঘাতে ২০২৪ সালেই ৫ হাজার ৬০০ এর বেশি নিহত হয়েছে। তাদের অর্ধেকের বেশি জনসংখ্যা খাদ্য সংকটে যেমনভাবে ভুগছে। ওই বছরেরই মার্চ মাসে দেশটির ন্যাশনাল স্টেডিয়াম (স্ট্যাড সেলভিও কাটোর) গ্যাংগুলো দখল করে নেয়।

নিজেদের মাঠে খেলার সুযোগ না পেলেও কনকাকাফ অঞ্চলের বাছাইপর্বে অপরাজিত থেকেই মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে হাইতি। বাছাইপর্বের শেষ রাউন্ডে তারা কোস্টারিকাকে হারিয়ে থার্ড রাউন্ডে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়। বাছাইপর্বের দ্বিতীয় ও তৃতীয় রাউন্ডে ১০ ম্যাচে তারা ২০টি গোল দেয় এবং ১৩টি হজম করে।

ঘরছাড়া এই যাযাবর দলটি বিশ্বকাপে অংশ নেবে। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ৮৩তম অবস্থানে থাকা দলটির ডাকনাম লে গ্রেনেডিয়ার্স। তাদের দলের প্রধান কোচ সেবাস্তিয়ান মিনিয়ে মূলত ৪-২-৩-১ ফরমেশনে দল সাজাতে পছন্দ করেন। এবার এই কৌশলেই গ্রুপ ‘সি’-তে ভালো কিছু করার প্রত্যাশায় দলটি। এই গ্রুপে তাদের মোকাবিলা করতে হবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল, গত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কো এবং ইউরোপ থেকে ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে আসা স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে।

গ্রুপ পর্বে হাইতির ম্যাচগুলোর সময়সূচি

১৩ জুন, ২০২৬: বনাম স্কটল্যান্ড

১৯ জুন, ২০২৬: বনাম ব্রাজিল

২৪ জুন, ২০২৬: বনাম মরক্কো।

প্লেয়ার টু ওয়াচ

ডাকেন্স নাজোন যিনি দলের আক্রমণভাগের প্রধান ভরসা এবং অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার। তার ফিনিশিং দক্ষতা হাইতির জন্য মহামূল্যবান। তিনি কনকাফ কোয়ালিফাইং রাউন্ডে ১০ ম্যাচে ৬ টি গোল করে। তাছাড়া ৬ ফুট ৪ ইঞ্চির ফ্র্যান্টজডি পিয়েরোট আই স্ট্রাইকার ২০২৫ সালের নভেম্বরের তথ্য অনুযায়ী হাইতির হয়ে ৪৭ ম্যাচে ৩৩ টি গোল করেছেন।

হাইতি এই গ্রুপের আন্ডারডগ হলেও তাদের হারিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা যেকোনো দলের আছে। ১৯৭৪ সালের সেই অমর স্মৃতিই হবে এবার তাদের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। যদি তারা প্রথম ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে রুখে দিতে পারে, তবে ‘গ্রুপ সি’ থেকে দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়া তাদের জন্য অসম্ভব নয়।

সম্পর্কিত