মুক্তিযুদ্ধে যুক্তরাজ্যের ভূমিকা: দোদুল্যমান সরকার কিন্তু অটল জনসমর্থন১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বিশ্ব রাজনীতির পরাশক্তিগুলোর ভূমিকা ছিল স্পষ্ট ও বিভাজিত। একদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীন সরাসরি পাকিস্তানের পক্ষ নিয়েছিল, অন্যদিকে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও ভারত দাঁড়িয়েছিল বাংলাদেশের পাশে।
১৯৭১: চীন যে কারণে পাকিস্তানের পক্ষ নিয়েছিল১৯৭১ সালে বিশ্ব ছিল স্নায়ু যুদ্ধের টানাপোড়েনে ঝুঁকিপূর্ণ এক অবস্থায়। বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলো তখন পৃথিবীজুড়ে ভূরাজনৈতিক কৌশলগত দাবা খেলায় লিপ্ত ছিল। সেই প্রেক্ষাপটে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান তথা আজকের বাংলাদেশ এক গভীর সংকটের দিকে এগোচ্ছিল।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে কেন ইতিহাসের ভুল দিকে ছিল মধ্যপ্রাচ্যবাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো ইতিহাসের ভুল দিকে অবস্থান নিয়েছিল। ধর্মীয় সংহতি, রাজনৈতিক স্বার্থ ও পরাশক্তিগুলোর ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে তারা ভিন্ন ভিন্ন ভূমিকা পালন করে।
একাত্তরে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা: কৌশলগত স্বার্থের কাছে হেরেছিল মানবতা১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ছিল সুপরিকল্পিত কৌশলগত স্বার্থরক্ষার এক নির্মম উদাহরণ। সে সময় মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চেয়ে স্নায়ুযুদ্ধের ভূরাজনৈতিক স্বার্থ বড় হয়ে দেখা দিয়েছিল।
পাকিস্তানি জেনারেলদের স্ববিরোধিতার দলিলে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের নকশা১৯৭১ সালের বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড নিয়ে পাঁচ দশকে জল কম ঘোলা করা হয়নি। কখনো ভারতীয় ষড়যন্ত্র, কখনো বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে মূল অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, এই হত্যাকাণ্ডের ‘মাস্টারমাইন্ড’ কারা ছিল, তা প্রমাণের জন্য আমাদের ভারতীয় বা বাংলাদেশি নথির প্রয়োজন নেই।
ফটো নিউজ /শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে শ্রদ্ধা১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের ঠিক আগে এ দেশীয় রাজাকারদের সহায়তায় শিক্ষক, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, বিজ্ঞানী, চিকিৎসকসহ দেশের বহু কৃতী সন্তানকে হত্যা করা হয়। পরাজয় নিশ্চিত জেনে বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করতে ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী হাজারো মানুষকে হত্যা করে।
প্রিয় পতাকা: মহান মুক্তিযুদ্ধে অর্জিত এই পতাকার রং কী বলে আমাদেরপ্রিয় পতাকা: মহান মুক্তিযুদ্ধে অর্জিত এই পতাকার রং কী বলে আমাদের
অপারেশন ওমেগার দুঃসাহসী গল্প১৯৭১ সালে যখন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী পূর্ব বাংলায় গণহত্যা চালাচ্ছিল, তখন আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থা কিংবা বিদেশি সাংবাদিকদেরও প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল। ঠিক সে সময় লন্ডনের কয়েকজন তরুণ-তরুণী সিদ্ধান্ত নেন, ত্রাণ নিয়ে সীমান্ত ভেঙে বাংলাদেশে ঢোকার। এ দুঃসাহসী মানবিক অভিযানই ইতিহাসে পরিচিত অপারেশন ওমেগা নামে।
মুক্তিযুদ্ধের অনন্য বন্ধু–আদ্রে মালরোআদ্রে মালরো ছিলেন ফরাসি লেখক, প্রত্নতত্ত্ববিদ ও রাজনৈতিক চিন্তাবিদ—যিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় ফ্রান্সে বাংলাদেশের পক্ষে সাংস্কৃতিক আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন। তাঁর ঐতিহাসিক ঘোষণা ‘আমাকে একটি যুদ্ধবিমান দাও’ আন্তর্জাতিক সমাজকে নাড়া দেয় এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রামে বিরল সমর্থন যোগায়।
জেনারেল যখন নিজেই ধর্ষক: বাংকারের অন্ধকূপে নারী নির্যাতনের গোপন দলিল১৯৭১ সালের রণক্ষেত্র। চারদিকে লুটপাট আর নারী নির্যাতনের মহোৎসব। সাধারণ সৈনিকরা নিজেদের মধ্যে ফিসফিস করে কথা বলছে। তাদেরই একজন প্রশ্ন তুলল— ‘আমাদের কমান্ডার (জেনারেল নিয়াজী) নিজেই তো একজন ধর্ষক। তাহলে আমাদের থামাবে কে?’
পাকিস্তানি প্রোপাগান্ডায় আল-বদর: যুদ্ধাপরাধের আত্মস্বীকৃত দলিল১৯৭১ সালের ডিসেম্বরের প্রাক্কালে, যখন ঢাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর পরাজয় সুনিশ্চিত, ঠিক সেই অন্তিম লগ্নে আল-বদর বাহিনীর নেতারা তাদের চূড়ান্ত বার্তা বা ‘আখেরি খিতাব’ দেন। এই বার্তাটি ছিল বাঙালি জাতির জন্য চরম বিপজ্জনক এক ঘোষণা।
একাত্তরের শরণার্থী শিবির: মার্কিন সিনেটর এডওয়ার্ড কেনেডির লড়াই১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের শরণার্থী শিবিরে মানবিক বিপর্যয়ের বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে এগিয়ে আসেন মার্কিন সিনেটর এডওয়ার্ড কেনেডি। অক্সফামের ‘টেস্টিমোনি অব সিক্সটি’-তে প্রকাশিত তাঁর বিখ্যাত প্রবন্ধ শরণার্থী শিবিরে শিশু, নারী, বৃদ্ধ ও আহত মানুষের ভয়াবহ দুর্দশা বিশ্ব বিবেকের সামনে তুলে ধরে।
মুক্তিযুদ্ধে আমাদের নারীরাহলিউডের থ্রিলার সিরিজগুলোতে নারী স্পাই দেখে আমরা খুবই পুলকিত হই। কিন্তু বলতে পারেন বাস্তব জীবনে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে নারী স্পাই কে ছিলেন? কিংবা কোন নারী মুক্তিযোদ্ধাকে ‘মুক্তি বেটি’ নামে ডাকা হত? মুক্তিযুদ্ধে কোন নারী মুক্তিযোদ্ধার মাথার দাম সে সময়ে এক হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল?
বীরাঙ্গনাদের বন্ধু ডা. জিওফ্রে ডেভিস১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহতার পরে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে নির্যাতনের শিকার লক্ষাধিক নারীর পাশে দাঁড়ান অস্ট্রেলিয়ান চিকিৎসক ডা. জিওফ্রে ডেভিস। WHO-এর অনুরোধে ১৯৭২ সালে বাংলাদেশে এসে তিনি নির্যাতিত নারীদের চিকিৎসা, গর্ভপাত সেবা, পুনর্বাসন এবং চিকিৎসক টিম গড়ে তোলায় অসামান্য ভূমিকা রাখেন।
বর্ষাকাল ছিল একাত্তরের গেরিলাযোদ্ধা‘আমরা বর্ষার অপেক্ষায় আছি… তাঁরা পানিকে ভয় পায়, আর আমরা হচ্ছি জলের রাজা। প্রকৃতি হবে আমাদের দ্বিতীয় বাহিনী।’ নিউইয়র্ক টাইমসের খ্যাতিমান সাংবাদিক সিডনি শনবার্গের ‘ডেটলাইন বাংলাদেশ’ প্রতিবেদনে এসব কথা বলেছিলেন এক বাঙালি অফিসার।
যে প্রতিবেদন বদলে দিয়েছিল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি১৯৭১ সালের গণহত্যার প্রকৃত চিত্র বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছিলেন পাকিস্তানি সাংবাদিক অ্যান্থনি মাসকারেনহাস। সামরিক জান্তার নিয়ন্ত্রণে ঘেরা পাকিস্তান থেকে বের হয়ে লন্ডনে গিয়ে তিনি প্রকাশ করেন সেই ঐতিহাসিক রিপোর্ট—“Genocide”।
বাংলাদেশের গণহত্যার কথা বিশ্বব্যাপী জানিয়েছিলেন যে বিদেশি সাংবাদিক১৯৭১ সালে বাংলাদেশের গণহত্যা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সবচেয়ে বেশি রিপোর্ট করেছিলেন নিউইয়র্ক টাইমসের সংবাদদাতা সিডনি এইচ শনবার্গ। ২৫ মার্চ রাতে অপারেশন সার্চলাইটের ভয়াবহ গণহত্যার তিনি ছিলেন প্রত্যক্ষদর্শী।