আরিফ রহমান

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে পাকিস্তান সেনাবাহিনী যে নিধনযজ্ঞ চালায়, তা কেবল একটি সামরিক অভিযান ছিল না, বরং এই ঘটনা আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম সুপরিকল্পিত ও নৃশংসতম জেনোসাইড হিসেবে চিহ্নিত। এই অপারেশন সার্চলাইটের পেছনে থাকা নীল নকশা এবং পরবর্তী সময়ে বিশ্ব গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো বিশ্লেষণ করলে এক ভয়াবহ সত্য উন্মোচিত হয়; যা প্রমাণ করে, এটি ছিল গেল শতকের অন্যতম বৃহৎ জাতিগত নিধনযজ্ঞের সূচনা।
এই পৈশাচিক পরিকল্পনার সূত্রপাত ঘটেছিল ১৯৭১ সালের ১৮ মার্চ সকালে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের জিওসি কার্যালয়ে, যেখানে মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী এবং মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা একটি সাধারণ পেন্সিল দিয়ে ‘লাইট ব্লু অফিস প্যাড’-এ এই মরণ-পরোয়ানাটি লিখেছিলেন। মোট ১৬টি সুনির্দিষ্ট অনুচ্ছেদে বিভক্ত এই ৫ পৃষ্ঠার নীল নকশায় বাঙালিদের ওপর চূড়ান্ত আঘাত হানার রূপরেখা তৈরি করা হয়েছিল। এর মূল লক্ষ্য ছিল বাঙালি সশস্ত্র বাহিনীকে সম্পূর্ণভাবে নিরস্ত্র করে হত্যা করা।
এই পরিকল্পনার অন্যতম নিষ্ঠুর অংশ ছিল বুদ্ধিজীবী ও ছাত্র সমাজকে লক্ষ্যবস্তু করা, যাতে একটি ‘বৌদ্ধিক শূন্যতা’ তৈরির মাধ্যমে বাঙালি জাতিকে চিরতরে পঙ্গু করে দেওয়া যায়।
২৫ মার্চ রাত ১১টা ৩০ মিনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে এই অভিযান শুরু হয়। ট্যাঙ্ক, ভারী কামান ও স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের গর্জনে কেঁপে ওঠে ঘুমন্ত ঢাকা শহর। পাকিস্তান সেনাবাহিনী তথ্য গোপনের উদ্দেশ্যে প্রায় ৫০ জন বিদেশি সাংবাদিককে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অবরুদ্ধ করে রাখে এবং পরদিন তাদের জোরপূর্বক দেশত্যাগে বাধ্য করে। তবে ব্রিটিশ সাংবাদিক সাইমন ড্রিং এবং মাইকেল লরেন্ট অসীম সাহসিকতায় হোটেলের ছাদে ও এয়ার কন্ডিশনিং ডাক্টে লুকিয়ে থেকে এই সেন্সরশিপ ব্যর্থ করে দেন।
জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ৩২ ঘণ্টা লুকিয়ে থেকে ড্রিং যে ধ্বংসলীলা প্রত্যক্ষ করেন, তা ৩০ মার্চ লন্ডনের ডেইলি টেলিগ্রাফে ‘Tanks Crush Revolt in Pakistan: 7,000 Slaughtered’ শিরোনামে প্রকাশিত হয়ে বিশ্ববাসীকে স্তম্ভিত করে দেয়। সাইমন ড্রিং তাঁর প্রতিবেদনে বর্ণনা করেন, জগন্নাথ হলের হিন্দু ছাত্রদের লাইনে দাঁড় করিয়ে ব্রাশফায়ার করা হয়েছিল এবং সেই রাতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আবাসিক এলাকায় হানা দিয়ে ড. জি সি দেবের মতো মনীষীদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। তিনি প্রত্যক্ষ করেন, কীভাবে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সের সাহসী প্রতিরোধকে ট্যাঙ্কের গোলার আঘাতে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং চারদিকে লাশের স্তূপ পড়ে ছিল।
একই সময়ে নিউইয়র্ক টাইমসের নির্ভীক সাংবাদিক সিডনি শ্যানবার্গ বোম্বে থেকে পাঠানো তাঁর প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ঢাকা শহরে নিহতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। তিনি বিশেষভাবে তুলে ধরেন কীভাবে পাকিস্তান সেনাবাহিনী হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা যেমন শাঁখারীবাজার ও নবাবপুরে ঘরবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল এবং মানুষ যখন প্রাণভয়ে বের হচ্ছিল তখন তাদের ওপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করছিল।
শ্যানবার্গের প্রতিবেদনে উঠে আসে, পাকিস্তানী সেনারা হিন্দুদের বাড়িগুলোতে হলুদ রঙের ‘H’ চিহ্ন এঁকে পরিকল্পিতভাবে নিধনযজ্ঞ চালিয়েছিল যা অনেক ক্ষেত্রে নাৎসি বাহিনীর বর্বরতাকেও হার মানায়। অন্যদিকে মার্কিন কনসাল জেনারেল আরচার ব্লাড তাঁর ঐতিহাসিক ‘ব্লাড টেলিগ্রাম’-এ এই পৈশাচিকতাকে ‘সিলেক্টিভ জেনোসাইড’ বা নির্বাচিত গণহত্যা হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। তাঁর পাঠানো গোপন বার্তায় রোকেয়া হলের ছাত্রীদের ওপর চালানো পাশবিক নির্যাতন এবং পরবর্তী সময়ে ১৪০ জনের একটি গণকবর পাওয়ার লোমহর্ষক বিবরণ উঠে আসে যা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।
টাইম ম্যাগাজিনের ৫ এপ্রিলের প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্যাঙ্ক ও ট্রাকবোঝাই সেনারা ধর্মীয় উন্মাদনা নিয়ে সাধারণ মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করেছে। নিউজউইক এপ্রিলের শেষ দিকে রিপোর্ট করে, নিহতের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে এবং এটি কেবল শুরু। জেনোসাইড গবেষক আর জে রুমেল তাঁর বিশ্লেষণে দেখিয়েছেন, পাকিস্তানী নীতিনির্ধারকরা বাঙালিদের মানুষ হিসেবে গণ্য না করে কেবল ‘মাটি’ চেয়েছিল, মানুষ নয়। জেনারেল টিক্কা খানের সেই কুখ্যাত উক্তি—‘আমি মাটি চাই, মানুষ নয়’—অপারেশন সার্চলাইটের আসল উদ্দেশ্যকে নগ্নভাবে প্রকাশ করে।
এই বর্ণবাদী ও সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গিই ২৫ শে মার্চের নিহতের সংখ্যাকে আকাশচুম্বী করে তুলেছিল।
অপারেশন সার্চলাইটের বিভীষিকা কেবল ঢাকাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। চট্টগ্রাম, খুলনা ও কুমিল্লাসহ সারা দেশে একই কায়দায় নিধনযজ্ঞ চালানো হয়েছিল। বিদেশি সংবাদপত্রের এই আর্কাইভগুলো আজ শুধুমাত্র পরিসংখ্যান নয়, বরং মানবতার বিরুদ্ধে সংঘটিত এক চরম অপরাধের জীবন্ত দলিল হিসেবে টিকে আছে।
সাইমন ড্রিং-এর সেই ঐতিহাসিক রিপোর্ট এবং আরচার ব্লাডের সাহসী প্রতিবাদ যদি না থাকত, তবে হয়তো পাকিস্তান এই বিশাল গণহত্যাকে ‘সীমিত পুলিশি অ্যাকশন’ হিসেবে বিশ্ববাসীর কাছে চালিয়ে দিতে পারত।
আজ আন্তর্জাতিকভাবে ২৫ মার্চের স্বীকৃতি আদায়ে এবং এই বর্বরতার সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণে বিদেশি সাংবাদিকদের এই তথ্যবহুল প্রতিবেদনগুলো সবচেয়ে শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। ১৯৭১ সালের সেই কালরাত্রিতে যা ঘটেছিল তা ছিল একটি সুপরিকল্পিত গণহত্যা। এই গণহত্যার উদ্দেশ্য ছিল একটি জাতিসত্তাকে মানচিত্র থেকে মুছে ফেলা, কিন্তু বাঙালির অদম্য প্রতিরোধ সেই নীল নকশাকে ব্যর্থ করে দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়কে অনিবার্য করে তুলেছিল।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে পাকিস্তান সেনাবাহিনী যে নিধনযজ্ঞ চালায়, তা কেবল একটি সামরিক অভিযান ছিল না, বরং এই ঘটনা আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম সুপরিকল্পিত ও নৃশংসতম জেনোসাইড হিসেবে চিহ্নিত। এই অপারেশন সার্চলাইটের পেছনে থাকা নীল নকশা এবং পরবর্তী সময়ে বিশ্ব গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো বিশ্লেষণ করলে এক ভয়াবহ সত্য উন্মোচিত হয়; যা প্রমাণ করে, এটি ছিল গেল শতকের অন্যতম বৃহৎ জাতিগত নিধনযজ্ঞের সূচনা।
এই পৈশাচিক পরিকল্পনার সূত্রপাত ঘটেছিল ১৯৭১ সালের ১৮ মার্চ সকালে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের জিওসি কার্যালয়ে, যেখানে মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী এবং মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা একটি সাধারণ পেন্সিল দিয়ে ‘লাইট ব্লু অফিস প্যাড’-এ এই মরণ-পরোয়ানাটি লিখেছিলেন। মোট ১৬টি সুনির্দিষ্ট অনুচ্ছেদে বিভক্ত এই ৫ পৃষ্ঠার নীল নকশায় বাঙালিদের ওপর চূড়ান্ত আঘাত হানার রূপরেখা তৈরি করা হয়েছিল। এর মূল লক্ষ্য ছিল বাঙালি সশস্ত্র বাহিনীকে সম্পূর্ণভাবে নিরস্ত্র করে হত্যা করা।
এই পরিকল্পনার অন্যতম নিষ্ঠুর অংশ ছিল বুদ্ধিজীবী ও ছাত্র সমাজকে লক্ষ্যবস্তু করা, যাতে একটি ‘বৌদ্ধিক শূন্যতা’ তৈরির মাধ্যমে বাঙালি জাতিকে চিরতরে পঙ্গু করে দেওয়া যায়।
২৫ মার্চ রাত ১১টা ৩০ মিনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে এই অভিযান শুরু হয়। ট্যাঙ্ক, ভারী কামান ও স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের গর্জনে কেঁপে ওঠে ঘুমন্ত ঢাকা শহর। পাকিস্তান সেনাবাহিনী তথ্য গোপনের উদ্দেশ্যে প্রায় ৫০ জন বিদেশি সাংবাদিককে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অবরুদ্ধ করে রাখে এবং পরদিন তাদের জোরপূর্বক দেশত্যাগে বাধ্য করে। তবে ব্রিটিশ সাংবাদিক সাইমন ড্রিং এবং মাইকেল লরেন্ট অসীম সাহসিকতায় হোটেলের ছাদে ও এয়ার কন্ডিশনিং ডাক্টে লুকিয়ে থেকে এই সেন্সরশিপ ব্যর্থ করে দেন।
জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ৩২ ঘণ্টা লুকিয়ে থেকে ড্রিং যে ধ্বংসলীলা প্রত্যক্ষ করেন, তা ৩০ মার্চ লন্ডনের ডেইলি টেলিগ্রাফে ‘Tanks Crush Revolt in Pakistan: 7,000 Slaughtered’ শিরোনামে প্রকাশিত হয়ে বিশ্ববাসীকে স্তম্ভিত করে দেয়। সাইমন ড্রিং তাঁর প্রতিবেদনে বর্ণনা করেন, জগন্নাথ হলের হিন্দু ছাত্রদের লাইনে দাঁড় করিয়ে ব্রাশফায়ার করা হয়েছিল এবং সেই রাতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আবাসিক এলাকায় হানা দিয়ে ড. জি সি দেবের মতো মনীষীদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। তিনি প্রত্যক্ষ করেন, কীভাবে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সের সাহসী প্রতিরোধকে ট্যাঙ্কের গোলার আঘাতে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং চারদিকে লাশের স্তূপ পড়ে ছিল।
একই সময়ে নিউইয়র্ক টাইমসের নির্ভীক সাংবাদিক সিডনি শ্যানবার্গ বোম্বে থেকে পাঠানো তাঁর প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ঢাকা শহরে নিহতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। তিনি বিশেষভাবে তুলে ধরেন কীভাবে পাকিস্তান সেনাবাহিনী হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা যেমন শাঁখারীবাজার ও নবাবপুরে ঘরবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল এবং মানুষ যখন প্রাণভয়ে বের হচ্ছিল তখন তাদের ওপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করছিল।
শ্যানবার্গের প্রতিবেদনে উঠে আসে, পাকিস্তানী সেনারা হিন্দুদের বাড়িগুলোতে হলুদ রঙের ‘H’ চিহ্ন এঁকে পরিকল্পিতভাবে নিধনযজ্ঞ চালিয়েছিল যা অনেক ক্ষেত্রে নাৎসি বাহিনীর বর্বরতাকেও হার মানায়। অন্যদিকে মার্কিন কনসাল জেনারেল আরচার ব্লাড তাঁর ঐতিহাসিক ‘ব্লাড টেলিগ্রাম’-এ এই পৈশাচিকতাকে ‘সিলেক্টিভ জেনোসাইড’ বা নির্বাচিত গণহত্যা হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। তাঁর পাঠানো গোপন বার্তায় রোকেয়া হলের ছাত্রীদের ওপর চালানো পাশবিক নির্যাতন এবং পরবর্তী সময়ে ১৪০ জনের একটি গণকবর পাওয়ার লোমহর্ষক বিবরণ উঠে আসে যা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।
টাইম ম্যাগাজিনের ৫ এপ্রিলের প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্যাঙ্ক ও ট্রাকবোঝাই সেনারা ধর্মীয় উন্মাদনা নিয়ে সাধারণ মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করেছে। নিউজউইক এপ্রিলের শেষ দিকে রিপোর্ট করে, নিহতের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে এবং এটি কেবল শুরু। জেনোসাইড গবেষক আর জে রুমেল তাঁর বিশ্লেষণে দেখিয়েছেন, পাকিস্তানী নীতিনির্ধারকরা বাঙালিদের মানুষ হিসেবে গণ্য না করে কেবল ‘মাটি’ চেয়েছিল, মানুষ নয়। জেনারেল টিক্কা খানের সেই কুখ্যাত উক্তি—‘আমি মাটি চাই, মানুষ নয়’—অপারেশন সার্চলাইটের আসল উদ্দেশ্যকে নগ্নভাবে প্রকাশ করে।
এই বর্ণবাদী ও সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গিই ২৫ শে মার্চের নিহতের সংখ্যাকে আকাশচুম্বী করে তুলেছিল।
অপারেশন সার্চলাইটের বিভীষিকা কেবল ঢাকাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। চট্টগ্রাম, খুলনা ও কুমিল্লাসহ সারা দেশে একই কায়দায় নিধনযজ্ঞ চালানো হয়েছিল। বিদেশি সংবাদপত্রের এই আর্কাইভগুলো আজ শুধুমাত্র পরিসংখ্যান নয়, বরং মানবতার বিরুদ্ধে সংঘটিত এক চরম অপরাধের জীবন্ত দলিল হিসেবে টিকে আছে।
সাইমন ড্রিং-এর সেই ঐতিহাসিক রিপোর্ট এবং আরচার ব্লাডের সাহসী প্রতিবাদ যদি না থাকত, তবে হয়তো পাকিস্তান এই বিশাল গণহত্যাকে ‘সীমিত পুলিশি অ্যাকশন’ হিসেবে বিশ্ববাসীর কাছে চালিয়ে দিতে পারত।
আজ আন্তর্জাতিকভাবে ২৫ মার্চের স্বীকৃতি আদায়ে এবং এই বর্বরতার সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণে বিদেশি সাংবাদিকদের এই তথ্যবহুল প্রতিবেদনগুলো সবচেয়ে শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। ১৯৭১ সালের সেই কালরাত্রিতে যা ঘটেছিল তা ছিল একটি সুপরিকল্পিত গণহত্যা। এই গণহত্যার উদ্দেশ্য ছিল একটি জাতিসত্তাকে মানচিত্র থেকে মুছে ফেলা, কিন্তু বাঙালির অদম্য প্রতিরোধ সেই নীল নকশাকে ব্যর্থ করে দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়কে অনিবার্য করে তুলেছিল।
.png)

প্রায় ৪০০ বছরের পুরোনো ঢাকা নগরীও এমন অসংখ্য পরিবর্তনের সাক্ষী। একসময় ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নবাব কিংবা সমাজের উচ্চবিত্তরা ঢাকায় আসেন। তাঁদের সঙ্গে আসেন নানা ধরনের কারিগর, শিল্পী ও পেশাজীবীরাও। ফলে কলকাতা ও উত্তর ভারতের অনেক পেশা একসময় ঢাকায় প্রচলিত ছিল। সময়ের আবর্তে সেই পেশাগুলোর অধিকাংশই হারিয়ে
০৯ আগস্ট ২০২৬
‘যুদ্ধ’ শব্দটার সঙ্গে আমাদের পরিচয় অনেক দিনের। টিভি খুললেই যুদ্ধের খবর, ফেসবুকে ঢুকলেই ধ্বংসস্তূপ, আগুন আর মানুষের কান্নার ছবি। এত বেশি দেখতে দেখতে আমরা যেন অভ্যস্ত হয়ে গেছি। নিউজফিড স্ক্রল করতে এখন আর আঙুল থেমে যায় না।
০৬ আগস্ট ২০২৬
চব্বিশের গণ অভ্যুত্থান নিয়ে এরই মধ্যে বেশকিছু গবেষণা হয়েছে। আজকের লেখায় গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী তিনটি গবেষণা নিয়ে আলোচনা করব। গবেষণাগুলোতে এই গণঅভ্যুত্থানকে তিনটি ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে গবেষকরা বিশ্লেষণ করেছেন।
০৫ আগস্ট ২০২৬
১৯৭৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রথম প্রকাশিত হয় মঈদুল হাসানের বই ‘মূলধারা ৭১’। ২০১২ সালের জানুয়ারিতে এর দ্বিতীয় সংস্করণের সপ্তম মুদ্রণ প্রকাশিত হয়। প্রকাশের পর কয়েক দশক পেরিয়ে গেলেও বইটির গুরুত্ব কমেনি। বরং নতুন প্রজন্মের কাছে এটি আরও বেশি প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে।
২৯ জুলাই ২০২৬