স্ট্রিম ডেস্ক

বিশ্ব চলচ্চিত্রে যে কজন পরিচালক ‘সিনেমার ভাষা’ বদলে দিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে মার্কিন পরিচালক স্ট্যানলি কুবরিক একজন। তাঁর সিনেমা মানুষকে ভাবায়। ১৯২৮ সালের ২৬ জুলাই নিউইয়র্কে তাঁর জন্ম। জীবদ্দশায় ১৩টি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন। সংখ্যায় কম হলেও প্রতিটি ছবিই সিনেমার ইতিহাসে বিশেষ জায়গা দখল করে নিয়েছে। আজও বিশ্বের নানা দেশের চলচ্চিত্র শিক্ষার্থীরা তাঁর কাজ নিয়ে পড়াশোনা করেন।
লুক ম্যাগাজিনে ফটোগ্রাফার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন স্ট্যানলি কুবরিক। স্থিরচিত্রের জগৎ থেকে সিনেমায় এসে ক্যামেরার ‘অ্যাঙ্গেলে’ এমন সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন, যা দর্শকদের মুগ্ধ করে এবং চলচ্চিত্রে যোগ করে নতুন মাত্রা। বিভিন্ন ঘরানার চলচ্চিত্র নির্মাণে দারুণ মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন তিনি। রোম্যান্স, যুদ্ধ, অপরাধজগতের অন্ধকার, ডার্ক হিউমার, নৃশংসতা থেকে শুরু করে সায়েন্স ফিকশন—সব ঘরানার সিনেমাই রয়েছে এই গুণী নির্মাতার ঝুলিতে। তাঁর নির্মাণশৈলীর ভক্ত ছিলেন স্টিভেন স্পিলবার্গের মতো কিংবদন্তি পরিচালকও।
কুবরিকের গল্প বলার ধরন অন্যান্য নির্মাতার চেয়ে বেশ আলাদা। তাঁর সিনেমা দেখলে মনে হবে ছবির প্রতিটি ফ্রেমই যেন গল্প বলছে। ক্যামেরা, মুভমেন্ট, আলো, শব্দ, কালার গ্রেডিং থেকে শুরু করে অভিনেতারা ফ্রেমের কোথায় দাঁড়াচ্ছেন; সবকিছুই ছিল সেই গল্পের অংশ। চলচ্চিত্রে ট্র্যাকিং শট, রিভার্স জুম কিংবা নিখুঁত কম্পোজিশনের ব্যবহার নিয়ে অনেক আলোচনা হয়। কিন্তু কুবরিকের আসল শক্তি ছিল তাঁর ভিজ্যুয়াল ল্যাংগুয়েজ। অর্থাৎ, সংলাপের চেয়ে ছবির মাধ্যমেই তিনি বেশি কথা বলতেন। একটি দৃশ্য কীভাবে সাজানো হবে, ক্যামেরা কোথায় থাকবে, চরিত্র কীভাবে হাঁটবে—সব সিদ্ধান্তই সিনেমায় যোগ করতো ভিন্ন মাত্রা।

উদাহরণ হিসেবে ‘কিলারস কিস’-এর কথা বলা যায়। ১৯৫৫ সালে নির্মিত এই ছবির একটি দৃশ্য আজও আলোচিত। নিউইয়র্কের পুতুল তৈরির গুদামে দুইজন মানুষের মারামারির একটি দৃশ্য। অ্যাকশন দৃশ্য তো অনেক সিনেমাতেই থাকে। কিন্তু এই সিনেমার প্রতিটি শট এমনভাবে সাজানো যে দর্শক চরিত্রগুলোর ভেতরকার ভয়, রাগ আর অসহায়ত্বও অনুভব করতে পারেন।
আবার ‘আ ক্লকওয়ার্ক অরেঞ্জ’ সিনেমায় দেখা যায়, অ্যালেক্স ও তার বন্ধুরা কোরোভা মিল্ক বারে বসে ‘আল্ট্রা ভায়োলেন্সের’ প্রস্তুতি নিচ্ছে। দৃশ্যটি অস্বস্তিকর, কিন্তু চোখ সরানো যায় না। আবার ‘ব্যারি লিনডন’ সিনেমায় ডুয়েলের আগে নায়ক দৃঢ় কণ্ঠে বলে, ‘আমি দুঃখিত নই। আমি ক্ষমা চাইব না।’ আবার ‘দ্য শাইনিং’-এ জ্যাক নিকোলসন কুড়াল দিয়ে দরজা ভাঙছেন। হঠাৎ দরজার ফাঁক দিয়ে মুখ বের করে বলেন, ‘হেয়ার ইজ জনি।’ এটি সিনেমার ইতিহাসে বিখ্যাত দৃশ্যগুলোর একটি।
এসব দৃশ্য শুধু অভিনয়ের জন্যই বিখ্যাত নয়। একটা দৃশ্য কীভাবে দর্শকের মনে গেঁথে দিতে হয়, তা কুবরিক ভালো করেই জানতেন। এ কারণেই তাঁর সিনেমার দৃশ্যগুলো থেকে চোখ সরিয়ে রাখা মুশকিল।
তবে খুঁতখুঁতে স্বভাবের হওয়ায় কুবরিকের সঙ্গে কাজ করা অভিনেতাদের জন্য সহজ ছিল না। যতক্ষণ না কোনো দৃশ্য তাঁর মনের মতো হতো, ততক্ষণ টেক চলত। একই দৃশ্যের জন্য ২০, ৩০ বার, এমনকি আরও বেশি টেক নেওয়ার ঘটনাও শোনা যায়। এ নিয়ে একবার তাঁকে প্রশ্ন করলে জবাবে বলেছিলেন, অনেক অভিনেতাই সংলাপ মুখস্থ করে আসেন না। আবার অনেকেই শৃঙ্খলা মানেন না। ফলে একই দৃশ্য বারবার করতে হয়। তিনি বলেন, ‘হয়তো আমি ৩০ বার টেক নিয়েছি। কিন্তু পরে সেই অভিনেতাই সবাইকে বলেছেন, আমি নাকি ১০০ বার টেক নিয়েছি। এভাবেই গল্প ছড়িয়ে যায়।’
স্ট্যানলি কুবরিকের সিনেমার আরেকটা বৈশিষ্ট্য হলো, চরিত্রগুলো কখনো পুরোপুরি ভালো নয়, আবার খারাপও নয়। তারা প্রায়ই ভুল করে, ভুল সিদ্ধান্ত নেয়। আবার সেই সিদ্ধান্তের মূল্যও চোকাতে হয়। তিনি মানুষের ভেতরকার ভালো-মন্দের দ্বন্দ্ব খুঁজতে ভালোবাসতেন। কেন্দ্রীয় চরিত্র হলেই যে তাঁকে ভুল-ত্রুটির ঊর্ধ্বে রাখবেন, এমন প্রবণতা তাঁর ছিল না। হয়তো এ কারণেই ভয়, লোভ, ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষা তাঁর ছবিতে বারবার ফিরে আসে।
তবে মানুষের জটিল মনস্তত্ত্ব বোঝাতে কুবরিক দেখিয়েছেন, চরিত্ররা অনেক সময় জানেই না, তারা কেন লড়ছে, কেন বেঁচে আছে! তবু তারা এগিয়ে যায়। কারণ মানুষের সামনে অন্য কোনো পথ থাকে না। ‘শো মাস্ট গো অন’।
কুবরিকের প্রথম চলচ্চিত্র ‘ফিয়ার অ্যান্ড ডিজায়ার’ মুক্তি পায় ১৯৫৩ সালে। ছবির গল্প খুব সাধারণ। চারজন সৈনিক একটি অজানা জায়গায় আটকা পড়ে। তাদের বাঁচতে হবে। সেখান থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজতে হবে। সেই সিনেমায় তিনি দেখিয়েছেন, বিপদের মুহূর্তে মানুষ আসলে নিজের সঙ্গেই সবচেয়ে বেশি লড়াই করে। চারজন সৈনিক একসঙ্গে থাকলেও প্রত্যেকে ভেতরে ভেতরে একা। প্রত্যেকের ভয় আলাদা। প্রত্যেকের সিদ্ধান্তও আলাদা। তারা একে অন্যকে সাহায্য করছে। আবার নিজের ভেতরের আতঙ্কের সঙ্গেও যুদ্ধ করছে। এই প্রশ্ন শুধু ‘ফিয়ার অ্যান্ড ডিজায়ার’-এ নয়। তাঁর প্রায় সব ছবিতেই ফিরে ফিরে এসেছে।

স্ট্যানলি কুবরিকের ছবিতে যেমন গল্প থাকে, থাকে দর্শনও। উদাহরণ হিসেবে ‘প্যাথস অব গ্লোরি’ সিনেমার কথা বলা যায়। ১৯৫৭ সালে মুক্তি পাওয়া এই ছবি অনেক সমালোচকের কাছে তাঁর অন্যতম সেরা সৃষ্টি। যুদ্ধের মধ্যে মানুষের চরিত্র কীভাবে বদলে যায়, সেই গল্প তুলে ধরেছেন এই সিনেমায়। পুরো সিনেমার কোথাও অতিরিক্ত আবেগ বা মেলোড্রামা নেই। কিন্তু ছবি শেষ হওয়ার পর দর্শকের মনে জন্ম নেয় অসংখ্য প্রশ্ন। আর এখানেই পরিচালক সার্থক।
১৯৯৯ সালে মুক্তি পায় কুবরিকের শেষ চলচ্চিত্র ‘আইজ ওয়াইড শাট’। এই ছবিতে সম্পর্কের টানাপোড়েন যে কতটা অস্বস্তির জন্ম দিতে পারে তা দেখিয়েছেন পরিচালক। এখানে তিনি যৌনতা, আকাঙ্ক্ষা, আর মানুষের ভঙ্গুরতা নিয়েও কথা বলেছেন।
এই ছবির ফাইনাল কাট শেষ করার পর পরিবার ও সহকর্মীদের নিয়ে ছবিটি দেখেন কুবরিক। মাত্র চার দিন পর, ১৯৯৯ সালের ৭ মার্চ, যুক্তরাজ্যে মারা যান তিনি। তখন তাঁর বয়স ছিল ৭০ বছর।
সময় যত এগোবে, স্ট্যানলি কুবরিকের সিনেমা তত নতুন অর্থে ফিরে আসবে। কারণ মানুষের ভয়, একাকিত্ব, ভালোবাসা, লোভ কিংবা অস্তিত্বের প্রশ্ন কখনো পুরোনো হয় না। আর কুবরিকের সিনেমাও ঠিক সেই কারণেই কখনো পুরোনো হবে না।

বিশ্ব চলচ্চিত্রে যে কজন পরিচালক ‘সিনেমার ভাষা’ বদলে দিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে মার্কিন পরিচালক স্ট্যানলি কুবরিক একজন। তাঁর সিনেমা মানুষকে ভাবায়। ১৯২৮ সালের ২৬ জুলাই নিউইয়র্কে তাঁর জন্ম। জীবদ্দশায় ১৩টি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন। সংখ্যায় কম হলেও প্রতিটি ছবিই সিনেমার ইতিহাসে বিশেষ জায়গা দখল করে নিয়েছে। আজও বিশ্বের নানা দেশের চলচ্চিত্র শিক্ষার্থীরা তাঁর কাজ নিয়ে পড়াশোনা করেন।
লুক ম্যাগাজিনে ফটোগ্রাফার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন স্ট্যানলি কুবরিক। স্থিরচিত্রের জগৎ থেকে সিনেমায় এসে ক্যামেরার ‘অ্যাঙ্গেলে’ এমন সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন, যা দর্শকদের মুগ্ধ করে এবং চলচ্চিত্রে যোগ করে নতুন মাত্রা। বিভিন্ন ঘরানার চলচ্চিত্র নির্মাণে দারুণ মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন তিনি। রোম্যান্স, যুদ্ধ, অপরাধজগতের অন্ধকার, ডার্ক হিউমার, নৃশংসতা থেকে শুরু করে সায়েন্স ফিকশন—সব ঘরানার সিনেমাই রয়েছে এই গুণী নির্মাতার ঝুলিতে। তাঁর নির্মাণশৈলীর ভক্ত ছিলেন স্টিভেন স্পিলবার্গের মতো কিংবদন্তি পরিচালকও।
কুবরিকের গল্প বলার ধরন অন্যান্য নির্মাতার চেয়ে বেশ আলাদা। তাঁর সিনেমা দেখলে মনে হবে ছবির প্রতিটি ফ্রেমই যেন গল্প বলছে। ক্যামেরা, মুভমেন্ট, আলো, শব্দ, কালার গ্রেডিং থেকে শুরু করে অভিনেতারা ফ্রেমের কোথায় দাঁড়াচ্ছেন; সবকিছুই ছিল সেই গল্পের অংশ। চলচ্চিত্রে ট্র্যাকিং শট, রিভার্স জুম কিংবা নিখুঁত কম্পোজিশনের ব্যবহার নিয়ে অনেক আলোচনা হয়। কিন্তু কুবরিকের আসল শক্তি ছিল তাঁর ভিজ্যুয়াল ল্যাংগুয়েজ। অর্থাৎ, সংলাপের চেয়ে ছবির মাধ্যমেই তিনি বেশি কথা বলতেন। একটি দৃশ্য কীভাবে সাজানো হবে, ক্যামেরা কোথায় থাকবে, চরিত্র কীভাবে হাঁটবে—সব সিদ্ধান্তই সিনেমায় যোগ করতো ভিন্ন মাত্রা।

উদাহরণ হিসেবে ‘কিলারস কিস’-এর কথা বলা যায়। ১৯৫৫ সালে নির্মিত এই ছবির একটি দৃশ্য আজও আলোচিত। নিউইয়র্কের পুতুল তৈরির গুদামে দুইজন মানুষের মারামারির একটি দৃশ্য। অ্যাকশন দৃশ্য তো অনেক সিনেমাতেই থাকে। কিন্তু এই সিনেমার প্রতিটি শট এমনভাবে সাজানো যে দর্শক চরিত্রগুলোর ভেতরকার ভয়, রাগ আর অসহায়ত্বও অনুভব করতে পারেন।
আবার ‘আ ক্লকওয়ার্ক অরেঞ্জ’ সিনেমায় দেখা যায়, অ্যালেক্স ও তার বন্ধুরা কোরোভা মিল্ক বারে বসে ‘আল্ট্রা ভায়োলেন্সের’ প্রস্তুতি নিচ্ছে। দৃশ্যটি অস্বস্তিকর, কিন্তু চোখ সরানো যায় না। আবার ‘ব্যারি লিনডন’ সিনেমায় ডুয়েলের আগে নায়ক দৃঢ় কণ্ঠে বলে, ‘আমি দুঃখিত নই। আমি ক্ষমা চাইব না।’ আবার ‘দ্য শাইনিং’-এ জ্যাক নিকোলসন কুড়াল দিয়ে দরজা ভাঙছেন। হঠাৎ দরজার ফাঁক দিয়ে মুখ বের করে বলেন, ‘হেয়ার ইজ জনি।’ এটি সিনেমার ইতিহাসে বিখ্যাত দৃশ্যগুলোর একটি।
এসব দৃশ্য শুধু অভিনয়ের জন্যই বিখ্যাত নয়। একটা দৃশ্য কীভাবে দর্শকের মনে গেঁথে দিতে হয়, তা কুবরিক ভালো করেই জানতেন। এ কারণেই তাঁর সিনেমার দৃশ্যগুলো থেকে চোখ সরিয়ে রাখা মুশকিল।
তবে খুঁতখুঁতে স্বভাবের হওয়ায় কুবরিকের সঙ্গে কাজ করা অভিনেতাদের জন্য সহজ ছিল না। যতক্ষণ না কোনো দৃশ্য তাঁর মনের মতো হতো, ততক্ষণ টেক চলত। একই দৃশ্যের জন্য ২০, ৩০ বার, এমনকি আরও বেশি টেক নেওয়ার ঘটনাও শোনা যায়। এ নিয়ে একবার তাঁকে প্রশ্ন করলে জবাবে বলেছিলেন, অনেক অভিনেতাই সংলাপ মুখস্থ করে আসেন না। আবার অনেকেই শৃঙ্খলা মানেন না। ফলে একই দৃশ্য বারবার করতে হয়। তিনি বলেন, ‘হয়তো আমি ৩০ বার টেক নিয়েছি। কিন্তু পরে সেই অভিনেতাই সবাইকে বলেছেন, আমি নাকি ১০০ বার টেক নিয়েছি। এভাবেই গল্প ছড়িয়ে যায়।’
স্ট্যানলি কুবরিকের সিনেমার আরেকটা বৈশিষ্ট্য হলো, চরিত্রগুলো কখনো পুরোপুরি ভালো নয়, আবার খারাপও নয়। তারা প্রায়ই ভুল করে, ভুল সিদ্ধান্ত নেয়। আবার সেই সিদ্ধান্তের মূল্যও চোকাতে হয়। তিনি মানুষের ভেতরকার ভালো-মন্দের দ্বন্দ্ব খুঁজতে ভালোবাসতেন। কেন্দ্রীয় চরিত্র হলেই যে তাঁকে ভুল-ত্রুটির ঊর্ধ্বে রাখবেন, এমন প্রবণতা তাঁর ছিল না। হয়তো এ কারণেই ভয়, লোভ, ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষা তাঁর ছবিতে বারবার ফিরে আসে।
তবে মানুষের জটিল মনস্তত্ত্ব বোঝাতে কুবরিক দেখিয়েছেন, চরিত্ররা অনেক সময় জানেই না, তারা কেন লড়ছে, কেন বেঁচে আছে! তবু তারা এগিয়ে যায়। কারণ মানুষের সামনে অন্য কোনো পথ থাকে না। ‘শো মাস্ট গো অন’।
কুবরিকের প্রথম চলচ্চিত্র ‘ফিয়ার অ্যান্ড ডিজায়ার’ মুক্তি পায় ১৯৫৩ সালে। ছবির গল্প খুব সাধারণ। চারজন সৈনিক একটি অজানা জায়গায় আটকা পড়ে। তাদের বাঁচতে হবে। সেখান থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজতে হবে। সেই সিনেমায় তিনি দেখিয়েছেন, বিপদের মুহূর্তে মানুষ আসলে নিজের সঙ্গেই সবচেয়ে বেশি লড়াই করে। চারজন সৈনিক একসঙ্গে থাকলেও প্রত্যেকে ভেতরে ভেতরে একা। প্রত্যেকের ভয় আলাদা। প্রত্যেকের সিদ্ধান্তও আলাদা। তারা একে অন্যকে সাহায্য করছে। আবার নিজের ভেতরের আতঙ্কের সঙ্গেও যুদ্ধ করছে। এই প্রশ্ন শুধু ‘ফিয়ার অ্যান্ড ডিজায়ার’-এ নয়। তাঁর প্রায় সব ছবিতেই ফিরে ফিরে এসেছে।

স্ট্যানলি কুবরিকের ছবিতে যেমন গল্প থাকে, থাকে দর্শনও। উদাহরণ হিসেবে ‘প্যাথস অব গ্লোরি’ সিনেমার কথা বলা যায়। ১৯৫৭ সালে মুক্তি পাওয়া এই ছবি অনেক সমালোচকের কাছে তাঁর অন্যতম সেরা সৃষ্টি। যুদ্ধের মধ্যে মানুষের চরিত্র কীভাবে বদলে যায়, সেই গল্প তুলে ধরেছেন এই সিনেমায়। পুরো সিনেমার কোথাও অতিরিক্ত আবেগ বা মেলোড্রামা নেই। কিন্তু ছবি শেষ হওয়ার পর দর্শকের মনে জন্ম নেয় অসংখ্য প্রশ্ন। আর এখানেই পরিচালক সার্থক।
১৯৯৯ সালে মুক্তি পায় কুবরিকের শেষ চলচ্চিত্র ‘আইজ ওয়াইড শাট’। এই ছবিতে সম্পর্কের টানাপোড়েন যে কতটা অস্বস্তির জন্ম দিতে পারে তা দেখিয়েছেন পরিচালক। এখানে তিনি যৌনতা, আকাঙ্ক্ষা, আর মানুষের ভঙ্গুরতা নিয়েও কথা বলেছেন।
এই ছবির ফাইনাল কাট শেষ করার পর পরিবার ও সহকর্মীদের নিয়ে ছবিটি দেখেন কুবরিক। মাত্র চার দিন পর, ১৯৯৯ সালের ৭ মার্চ, যুক্তরাজ্যে মারা যান তিনি। তখন তাঁর বয়স ছিল ৭০ বছর।
সময় যত এগোবে, স্ট্যানলি কুবরিকের সিনেমা তত নতুন অর্থে ফিরে আসবে। কারণ মানুষের ভয়, একাকিত্ব, ভালোবাসা, লোভ কিংবা অস্তিত্বের প্রশ্ন কখনো পুরোনো হয় না। আর কুবরিকের সিনেমাও ঠিক সেই কারণেই কখনো পুরোনো হবে না।
.png)

কোনো খাবার শরীরের জন্য কতটা ভালো বা খারাপ হবে, তা নির্ভর করে কী পরিমাণে খাচ্ছেন, কীভাবে রান্না করছেন এবং আপনার সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস কেমন, তার ওপর। তবে এর অর্থ এই নয় যে সব খাবার সবার জন্য সমানভাবে উপযোগী। নিজের শারীরিক অবস্থা ও প্রয়োজন অনুযায়ী সুষম খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
১ দিন আগেচিত্রশিল্পী তৌহিন হাসান ঘুরে দেখেছেন দেশ-বিদেশের বিখ্যাত সব আর্ট মিউজিয়াম ও আর্ট গ্যালারি। প্রতিটি সংগ্রহশালায় ক্যানভাস থেকে ক্যানভাসে তিনি খুঁজেছেন শিল্পের ভাষা; রঙ, আলো আর তুলির আঁচড়ে অনুভব করেছেন শিল্পীদের জীবন, সময় ও সৃষ্টির গল্প। সেই শিল্পভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়ে শুরু হলো নতুন ধারাবাহিক
২৬ জুলাই ২০২৬
ইন্টারনেটের হাজারো নেতিবাচকতার ভিড়ে প্রাণীদের ‘কিউট’ ভিডিও ছিল এক চিলতে স্বস্তি। কিন্তু এআই-এর যুগে সেই নির্ভেজাল বিশ্বাসে এখন ফাটল ধরেছে। কোনো ভিডিও দেখে হাসার বদলে আমাদের মনে আগে প্রশ্ন জাগছে, এটি কি আসল নাকি এআই দিয়ে তৈরি? অবিশ্বাসের এই ডিজিটাল চোরাবালিতে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন উঠছে, আমাদের ছোট ছোট আনন্দ
২৫ জুলাই ২০২৬
সমকালীন বাংলাদেশের বুদ্ধিবৃত্তিক জগতে এক অসাধারণ ব্যক্তিত্ব আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। জনপ্রিয়তা ও মননশীলতার মেলবন্ধনের দুর্লভ উদাহরণ তিনি। সৃজনশীল ব্যক্তিত্বের পাশাপাশি তিনি একজন কর্মবীর। আজ তিনি সাতাশি বছর পূর্ণ করলেন।
২৫ জুলাই ২০২৬