
নতুন পে-স্কেলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন একধাক্কায় শতভাগ বাড়লেও এই সুবিধার বাইরে থাকছে দেশের প্রায় ৯৮ শতাংশ শ্রমজীবী। দেশের বেশির ভাগ শ্রমখাতে নেই নূন্যতম মজুরি কাঠামোও। বেতন বৃদ্ধির এমন ভিন্ন বাস্তবতায় এই দুই ধরনের শ্রমশক্তির মধ্যে তৈরি হতে পারে আর্থিক বৈষম্য।
অর্থনীতিবিদ ও শ্রমিক অধিকার বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশে মোট শ্রমশক্তি প্রায় সাড়ে সাত কোটি। এর মধ্যে মাত্র ২ শতাংশ সরকারি চাকরিজীবী। অর্থাৎ শ্রমবাজারের বিশাল অংশের (৯৮ শতাংশ) বেতন বাড়ছে না। আবার সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে দেশে প্রতিষ্ঠানিক খাতে কর্মরত মাত্র ১৫ শতাংশ শ্রমশক্তি। বাকিরা অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের। অথচ বেসরকারি ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের জন্য কোনো সর্বজনীন ন্যূনতম মজুরি কাঠামো নেই। খাতভিত্তিক কয়েকটি ন্যূনতম মজুরি কাঠামো থাকলেও সেগুলোর সময়োপযোগিতা ও মৌলিক চাহিদা পূরণের সক্ষমতা নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন।
তবে ২ শতাংশ শ্রমজীবীর হাতে আসা বাড়তি টাকার প্রভাব ঠিকই পড়বে বাজারে। এতে মূল্যস্ফীতিতে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা তৈরি হতে পারে। আবার বাড়তি খরচ তুলতে সরকারও চাপাতে পারে করের বোঝা। এসব চাপ মূলত পড়বে আর্থিক সুরক্ষাহীন বেসরকারি ও অপ্রাতিষ্ঠানিক শ্রমশক্তির ওপর। এতে ক্রয় ক্ষমতা কমে আয় বৈষম্য আর প্রকট হবে।
সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির অর্থ হলো রাষ্ট্রের টাকার চাহিদা বেড়ে যাওয়া। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই বাড়তি চাহিদা মেটাতে সরকারকে ঋণ নিতে অথবা নতুন টাকা ছাপাতে হতে পারে। সেক্ষেত্রে বাজারে টাকার চাহিদা ও সরবরাহ একসঙ্গে বেড়ে ‘ডিমান্ড-পুল’ মূল্যস্ফীতি ভয়াবহ রূপ নেবে।
পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ‘পে-স্কেলের সুবিধাভোগীর চেয়ে কয়েকগুণ বেশি মানুষ বেসরকারি ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে যুক্ত। রাজস্ব বাড়িয়ে বা ঋণ নিয়ে এই বাড়তি বেতন দেওয়ার উদ্যোগের প্রভাব সরাসরি পড়বে বাজারে। কিন্তু বেসরকারি খাতে সাধারণ মানুষের আয় না বাড়লে মূল্যস্ফীতি নিম্ন ও মধ্যবিত্তের নাভিশ্বাস আরও বাড়বে।’
একই কথা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা ফেলো তামিম আহমেদেরও। তার মতে, সরকারি পে-স্কেলের বাইরের এই বিরাট জনগোষ্ঠীকে আর্থিক সুরক্ষা বলয়ে আনার সময় বহু আগেই পার হয়ে গেছে।
বেসরকারি খাতের পেশাজীবীরা যেন একটা নির্দিষ্ট অঙ্কের নিচে বা নামমাত্র মজুরি না পান, সেটি নিশ্চিত করা হয় ন্যূনতম মজুরি কাঠামোর মাধ্যমে। কিন্তু দেশে বর্তমানে এ ধরনের সর্বজনীন কোনো কাঠামো নেই। যা আছে, তা খাতভিত্তিক।
বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সভাপ্রধান তাসলিমা আখতার স্ট্রিমকে জানান, ‘অভিন্ন ন্যূনতম মজুরি না থাকায় এক খাতের সঙ্গে অন্য খাতের চরম বৈষম্য তৈরি হচ্ছে। তৈরি পোশাক খাতের প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক ছাড়াও চা, চামড়া, ওষুধ, জাহাজভাঙা শিল্পের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতের শ্রমিকরা অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন। শ্রম আইনে তিন বছর পরপর মজুরি পর্যালোচনার বিধান রয়েছে। দ্রুত বাজারদরের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সব খাতের মজুরি বাড়ানো না হলে শিল্পখাতে অস্থিরতা তৈরির ঝুঁকি রয়েছে।’
তবে জাতীয় ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের ক্ষেত্রে বাস্তবিক কিছু চ্যালেঞ্জের কথাও উঠে আসছে। তামিম আহমেদ স্ট্রিমকে বলেন, ‘সব শিল্পের সক্ষমতা এক নয়। একবারে সর্বজনীন ন্যূনতম মজুরি চাপিয়ে দিলে তৈরি পোশাকের মতো সক্ষম খাতগুলো হয়তো মানিয়ে নেবে। কিন্তু দুর্বল ও ছোট খাতগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই একবারে না এগিয়ে নিম্নতম মজুরি বোর্ডের সক্ষমতা বাড়িয়ে ধাপে ধাপে সব খাতকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া এবং জাতীয় ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়নই টেকসই সিদ্ধান্ত হবে। একই সঙ্গে মজুরি বোর্ডের ত্রিপক্ষীয় আলোচনায় স্বচ্ছতা ও শ্রমিক প্রতিনিধি নির্বাচনে জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং আলোচনার কার্যবিবরণী জনসমক্ষে প্রকাশ করা জরুরি।
জাতীয় ন্যূনতম মজুরি না থাকা এবং পে-স্কেল পরবর্তী বাজার সংকট সামাল দিতে তারা দ্রুত কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শও দেন। তামিম আহমেদ বলেন, ‘সরকারি পে-স্কেলের পাশাপাশি বেসরকারি ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের জন্য সরকারকে অবিলম্বে একটি বাস্তবসম্মত ন্যূনতম মজুরির রূপরেখা প্রণয়ন করতে হবে। স্বল্প ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষকে বাঁচাতে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর পরিধি কয়েকগুণ বাড়ানোও দরকার।’
এ ছাড়া নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মতো খাদ্য সহায়তা কার্যক্রমে বরাদ্দ বাড়ানো এবং তা স্বচ্ছতার সঙ্গে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনায় আনার ওপর জোর দেন তিনি।
তাসলিমা আখতারের মতে, সংশোধিত শ্রম আইনের আলোকে অবিলম্বে পিছিয়ে থাকা সব খাতে নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করে বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মজুরি পুনর্নির্ধারণ করা উচিত।
.png)

দেশের একমাত্র সরকারি জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) দ্বিতীয় ইউনিট নির্মাণে ঋণচুক্তি করেছে সরকার। চুক্তি অনুযায়ী, ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইডিবি) এই প্রকল্পে ১ বিলিয়ন ডলার অর্থায়ন করবে।
২ ঘণ্টা আগে
গত জুন শেষে ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬ হাজার ২৮৪ কোটি টাকায়। তিন মাসের ব্যবধানে ১৭ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা বাড়ায় ব্যাংক খাতের ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ ঋণই এখন খেলাপি।
২১ ঘণ্টা আগে
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে নবম পে-স্কেল অনুমোদন করেছে সরকার। এতে বেতন বেড়েছে সর্বনিম্ন ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত। তবে লাখ কোটি টাকা বাড়তি ব্যয়ের এই বোঝা আগে থেকেই চাপে থাকা অর্থনীতি সামাল দিতে পারবে কি না, তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন পে-স্কেলের সুবিধা প
০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১ হাজার কোটি টাকার বেশি অঙ্কের খেলাপিরা ঋণ পুনঃতফসিল বা নবায়নের জন্য সর্বোচ্চ ১৫ বছর সময় পাবেন। এর মধ্যে দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ডের সুযোগ থাকছে, যে সময়ে ঋণ পরিশোধে বিরতির সুবিধা পাওয়া যাবে। সোমবার (৩১ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংক এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
৩১ আগস্ট ২০২৬