সাভারে মাদ্রাসাছাত্র বলাৎকারের মামলায় পুলিশের অভিযান, আসামিরা পলাতক

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
সাভার

প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩: ০৪
গ্রেপ্তারের প্রতিকী ছবি। স্ট্রিম গ্রাফিক
গ্রেপ্তারের প্রতিকী ছবি। স্ট্রিম গ্রাফিক

সাভারে মাদ্রাসাছাত্র বলাৎকারের মামলায় অভিযুক্ত মাদ্রাসায় অভিযান চালিয়েছে সাভার মডেল থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পূর্ব শাহীবাগ এলাকায় মারকাযুল উলুম আশ-শরইয়্যাহ মাদ্রাসায় অভিযান চালিয়েও কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

পুলিশ জানায়, সাভার মডেল থানার ওসি (অপারেশন) আব্দুস সবুরের নেতৃত্বে পুলিশ মাদ্রাসায় যায়। তারা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং অভিযোগ ওঠা ছাত্রদের নথিপত্র যাচাই করেন। তবে সেখান থেকে অভিযুক্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘ভুক্তভোগী পরিবার আদালতে বিষয়টি নিয়ে গেলে সাভার মডেল থানায় মামলাটি করা হয়। মামলার পরপরই আমরা গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালনা করি। কিন্তু অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে। খুব দ্রুত আমরা তাদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হব।’

তবে এখনও আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় ভুক্তভোগী শিশুর বাবা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমার ছেলেকে দীর্ঘ ছয় মাস ধরে ৬-৭ জন ছাত্র ও শিক্ষক মিলে বলাৎকার করেছে। মাদ্রাসার মুহতামিম জিয়া বিন কাশেমের কাছেও বিচার দিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি অপরাধীদের পালাতে সাহায্য করেছেন। বিষয়টি নিয়ে তিনি আমাকে চুপ থাকতে বলেন ও হুমকি দেন। পুলিশের কাছে আমার দাবি, অতি দ্রুত মামলার সব আসামি গ্রেপ্তার করা হোক ও আইনের আওতায় আনা হোক।’

যা বললেন মাদ্রাসা ছাত্র ও কর্তৃপক্ষ

মাদ্রাসার একাধিক শিক্ষার্থী জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত নিন্দনীয়। আমরা প্রকৃত দোষীর যথাযথ বিচার চাই। তবে আমাদের দাবি, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে কোনো ছাত্র ও শিক্ষককে যেন হয়রানি না করা হয়। যেসব ছাত্রের নাম মামলায় দেওয়া হয়েছে, তাদের প্রত্যেকের বয়স ১৩ ও এর নিচে বলে জানান তারা।

মাদ্রাসাটির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও হিসাবরক্ষক লোকমান বলেন, কিছুদিন আগে শিশুটির বাবা মাদ্রাসায় এসে মুহতামিমকে ডাকতে থাকেন। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলের সঙ্গে এ ধরনের খারাপ কাজ হয়েছে। যারা করেছে, যে হুজুররা করেছে, আমি তাদের দেখে নেব।’ পরবর্তীতে যে ওস্তাদ ও ছাত্রদের বিষয়ে অভিযোগ, তারা ভয়ে মাদ্রাসা ছেড়ে চলে যায়।

তিনি আরও বলেন, ‘মাদ্রাসার বড় হুজুর সেদিনই বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন। কেউ যদি অন্যায়-অপরাধ করে থাকে, তদন্ত করে তাকে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা হোক। এখানে অভিযোগের বিষয়টিও আপনারা খতিয়ে দেখুন। পাঁচজন ছাত্র। এই শিশুদের অবস্থা কী হবে? কেউ যদি অন্যায় করে থাকে, সেটা আমরা সমর্থন করি না। আমরা চাই, প্রকৃত অপরাধী কে, সেটা উদ্‌ঘাটিত হোক।’

মামলায় যা বলা হয়েছে

এর আগে, মাদ্রাসা পড়ুয়া সাত বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের ঘটনায় আদালতে মামলার আবেদন করেন ভুক্তভোগীর বাবা। মামলায় পাঁচ শিক্ষার্থী ও এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে সরাসরি বলাৎকারের অভিযোগ আনা হয়েছে। বাকি চারজনের বিরুদ্ধে বলাৎকারে সহযোগিতা, অপরাধীদের পালিয়ে যেতে সহায়তা করা ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। গত ২৬ আগস্ট সাভার মডেল থানায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়।

শিশুটির বাবা জানান, তার সন্তান মাদ্রাসায় আবাসিকে থেকে পড়াশোনা করে। সম্প্রতি সে বাড়িতে আসলে মাদ্রাসায় ফিরতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে মাদ্রাসার অন্য শিক্ষার্থীর অভিভাবকের কাছে তিনি জানতে পারেন, সেখানে শিশু শিক্ষার্থী বলাৎকারের অভিযোগ রয়েছে। গত ১৪ আগস্ট শিশুটি পরিবারের সদস্যদের কাছে তাকে বলাৎকারের শিকার হওয়ার কথা জানায়। তার অভিযোগ, চলতি বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থী তার ছেলেকে বলাৎকার করে।

এদিকে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ১৮ আগস্ট তাকে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকেরা তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) নেওয়ার পরামর্শ দেন। ওই দিনই শিশুটিকে ওসিসিতে নেওয়া হয় এবং সেখানে চার দিন ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত