গুম ও মানবাধিকার বিলে মৌলিক ঘাটতি, তদন্তের কর্তৃত্ব অভিযুক্তের হাতেই: টিআইবি

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩: ১৩
টিআইবি। ফাইল ছবি
টিআইবি। ফাইল ছবি

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬-এ প্রয়োজনীয় সংশোধনের প্রস্তাব দেওয়া হলেও স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের ক্ষেত্রে মৌলিক ঘাটতি রয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির মতে, বাহিনীর বিরুদ্ধে তদন্তের কর্তৃত্ব কার্যত অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের হাতেই থাকছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে টিআইবি জানায়, বিল দুটি চূড়ান্ত অনুমোদনের পূর্বে প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা নিয়ে সংসদে অর্থবহ আলোচনা প্রয়োজন। সংস্থাটির মতে, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে প্রকৃত অর্থে স্বাধীন করতে কমিশনের ওপর নির্বাহী বিভাগের প্রভাব কমানো এবং আর্থিক ও প্রশাসনিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা জরুরি।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘কমিশন গঠন হচ্ছে, কিন্তু তা স্বাধীন হওয়ার আশা দুরাশাই রয়ে যাচ্ছে। একইভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের তদন্তের কর্তৃত্ব কার্যত অভিযুক্তের হাতেই থাকছে।’ তিনি বলেন, শৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে কমিশন নিজে তদন্ত না করে সংশ্লিষ্ট বাহিনী বা প্রতিষ্ঠানের কাছেই প্রতিবেদন চাইবে—এমন বিধান বহাল রাখা হয়েছে। এতে তদন্তের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে টিআইবি। সংস্থাটি বলছে, অভিযুক্ত বাহিনীকে নিজ সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্ত থেকে বিরত রাখার প্রস্তাব থাকলেও অন্য শৃঙ্খলা বাহিনী বা আন্তঃবাহিনী তদন্ত দলের মাধ্যমে তদন্তের সুযোগ রাখা হয়েছে। ফলে তদন্তকারী প্রতিষ্ঠান সত্যিকার অর্থে কতটা স্বাধীন থাকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। একই সঙ্গে গুমের শিকার ব্যক্তিকে খুঁজে পাওয়া বা তার পরিণতি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অনুসন্ধান চালিয়ে যাওয়া এবং পরিবারকে অগ্রগতি জানানোর বিষয়টি যথাযথভাবে রাখা হয়নি।

টিআইবি আরও বলেছে, গুমের অভিযোগের ক্ষেত্রে ‘মিথ্যা বা হয়রানিমূলক’ অভিযোগের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের সাজা রাখায় অভিযোগ করার বিষয়ে ভয় তৈরি হতে পারে। সংস্থাটির মতে, তদন্ত ব্যবস্থায় স্বার্থের দ্বন্দ্ব থাকলে প্রকৃত অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ার দায় উল্টো অভিযোগকারীদের ওপর পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘সংসদীয় কমিটির পর্যালোচনা ছিল বিল দুটির মৌলিক দুর্বলতা সংশোধনের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে, কিন্তু মূল কৌশলগত উদ্বেগগুলো বহাল রয়েছে।’ বিল দুটি তড়িঘড়ি পাস না করে প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা নিয়ে সংসদের সব সদস্যের অর্থবহ আলোচনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সংশোধনের আহ্বান জানান তিনি।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত