মার্কিন তুলা ও এমএমএফ পোশাকে শুল্কমুক্ত সুবিধার অগ্রগতি চায় বিটিএমএ

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ২৪ জুন ২০২৬, ১৯: ২৮
বিটিএমএর বৈঠক। সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা তুলা ও ম্যান-মেড ফাইবার (এমএমএফ) ব্যবহার করে বাংলাদেশে উৎপাদিত তৈরি পোশাকের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা কার্যকরে দ্রুত অগ্রগতির আহ্বান জানিয়েছে বিটিএমএ।

বুধবার রাজধানীর গুলশানে বিটিএমএ কার্যালয়ে সংগঠনটির নেতাদের সঙ্গে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের একটি প্রতিনিধিদলের বৈঠকে এ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়।

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেলের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশের প্রাইমারি টেক্সটাইল শিল্পের বর্তমান অবস্থা, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পর রপ্তানি সক্ষমতা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে বিটিএমএ নেতারা বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তির ধারা ৫.৩ দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাদের মতে, ওই ধারার আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত তুলা ও ম্যান-মেড ফাইবার ব্যবহার করে বাংলাদেশে তৈরি পোশাক উৎপাদন করা হলে সেসব পণ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

শওকত আজিজ রাসেল বলেন, দেশের টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক খাতের প্রধান ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্প হিসেবে বিটিএমএ দীর্ঘদিন ধরে রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। প্রস্তাবিত শুল্কমুক্ত সুবিধা কার্যকর হলে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকরা আন্তর্জাতিক বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে পৌঁছাবে।

বিটিএমএর মতে, এ সুবিধা চালু হলে একদিকে যেমন বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত উপকৃত হবে, অন্যদিকে বাংলাদেশে মার্কিন তুলা ও ম্যান-মেড ফাইবারের রপ্তানিও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। ফলে এটি উভয় দেশের জন্যই লাভজনক হবে।

তবে চুক্তি স্বাক্ষরের পরও এ বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় শিল্প উদ্যোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়। বিটিএমএ নেতারা ধারা ৫.৩ বাস্তবায়ন, সংশ্লিষ্ট ‘রুলস অব অরিজিন’ চূড়ান্তকরণ এবং প্রক্রিয়াটিতে দ্রুত অগ্রগতি নিশ্চিত করতে মার্কিন সহযোগিতা কামনা করেন।

বৈঠকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সহযোগিতা সম্প্রসারণ, টেক্সটাইল ও সংশ্লিষ্ট শিল্পে অংশীদারত্ব জোরদার, মার্কিন তুলার ব্যবহার বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়।

মার্কিন প্রতিনিধি দলে ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাসের পলিটিক্যাল-ইকোনমিক কাউন্সেলর এরিক গিলান, অ্যাগ্রিকালচারাল অ্যাটাশে এরিন কভার্ট এবং পলিটিক্যাল-ইকোনমিক কর্মকর্তা চার্লস বেসনার্ড।

বৈঠকে বিটিএমএর পরিচালক চৌধুরী মো. হানিফ সোয়েব, প্রকৌশলী সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ, মির্জা আহমেদ ইস্পাহানী ও রুবায়েত হায়দার উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সংগঠনটির সাবেক পরিচালক মো. মাসুদ রানা ও প্রকৌশলী রাজীব হায়দারও আলোচনায় অংশ নেন।

Ad 300x250

সম্পর্কিত