দেশের সোনার বাজারে চলছে অস্থিরতা। গতকাল সোমবার তিন দফায় দাম কমানোর পর আজ মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সাড়ে ৫ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই দফায় ভরিতে ১৬ হাজার ৩০০ টাকা দাম বেড়েছে।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) বিকেলে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন এই দাম কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছে। নতুন দর অনুযায়ী, দেশের বাজারে সবচেয়ে ভালো মানের (২২ ক্যারেট) এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৬২ হাজার টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পাকা সোনা) দাম বৃদ্ধি এবং সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আজ সকাল সাড়ে ১০টায় প্রথমে ভালো মানের সোনার দাম ভরিতে ৫ হাজার ৪২৪ টাকা বাড়ানো হয়। এরপর বিকেল ৪টায় দ্বিতীয় দফায় আরও ১০ হাজার ৯০৬ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা দেয় সংগঠনটি। সব মিলিয়ে একদিনেই ২২ ক্যারেট সোনার দাম ১৬ হাজার ৩০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।
নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৪ হাজার ৪৪৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৭৫ হাজার ৪৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে গতকাল সোমবার তিন দফায় সোনার দাম মোট ১৩ হাজার ৯৩৯ টাকা কমানো হয়েছিল। ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম নেমে এসেছিল ২ লাখ ৪৫ হাজার ৭৬০ টাকায়।
চলতি বছর এ নিয়ে মোট ২৪ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হলো, যার মধ্যে ১৬ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে।
সোনার পাশাপাশি রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ১৭৫ টাকা বাড়িয়ে ৬ হাজার ৫৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২১ ক্যারেট ৬ হাজার ২৪০ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট ৫ হাজার ৩৬৫ টাকায় বিক্রি হবে।
বাজুস সূত্র জানায়, মূলত আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাবেই দেশের বাজারে এই অস্থিরতা। বিশ্ববাজারেও স্পট মার্কেটে একদিনেই সোনার দাম ৬ শতাংশের বেশি বা আউন্সপ্রতি ২৮০ ডলার বেড়েছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনা ৪ হাজার ৯০০ ডলারে বিক্রি হচ্ছে, যা ঐতিহাসিক রেকর্ড। এর আগে গত ২৯ জানুয়ারি দেশের বাজারে সোনার দাম সর্বোচ্চ ২ লাখ ৮৬ হাজার ১ টাকায় পৌঁছেছিল।