স্ট্রিম ডেস্ক

বাংলাদেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় বেশ বড় ও গুরুত্বপূর্ণ জায়গা নিয়ে আছে ইসলামি ব্যাংক। শুধু শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং নয়, দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থায়ও এই ব্যাংকের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। এই ব্যাংকের হাত ধরে শুরু হওয়ার পর বর্তমানে দেশের ব্যাংক খাতের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ আজ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার আওতায়। কিন্তু এই যাত্রার শুরুটা কীভাবে? কোথা থেকে এল মূলধন?
স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় তৈরি হয়েছিল ইসলামি ব্যাংকের ধারণা।
ইসলামি ব্যাংকিংয়ের মূল ভিত্তি হলো সুদ (রিবা) পরিহার করে লাভ-লোকসান ভাগাভাগির ভিত্তিতে আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনা করা। বিশ শতকের মধ্যভাগে মুসলিম বিশ্বে ইসলামি শরিয়াহর নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ব্যাংকিং ব্যবস্থার দাবি জোরালো হতে থাকে।
১৯৭০-এর দশকে এই ধারণা বাস্তব রূপ পেতে শুরু করে। একই সময়ে মুসলিম দেশগুলোর অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে গড়ে ওঠে ইসলামি ডেভলপমেন্ট ব্যাংক বা আইডিবি। ১৯৭৪ সালে এর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর অর্থমন্ত্রীদের সম্মেলনে এর চুক্তি অনুমোদিত হয় এবং ১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করে। আইডিবির অন্যতম লক্ষ্য ছিল সদস্য দেশগুলোতে ইসলামি অর্থনীতি ও ইসলামি ব্যাংকিংয়ের প্রসার ঘটানো।
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে শুরু করে। ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ আইডিবির সদস্য হয়। ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড এ্যাপ্লাইড রিসার্চের গবেষকদের মতে, এই সদস্যপদ দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ইসলামি ব্যাংকিং ধারণা নিয়ে আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করে।
তবে শুধু আন্তর্জাতিক উদ্যোগই নয়, দেশের ভেতরেও একদল অর্থনীতিবিদ, ব্যাংকার ও উদ্যোক্তা ইসলামি ব্যাংক প্রতিষ্ঠার পক্ষে কাজ শুরু করেন। এই পর্যায়ে ইসলামিক ইকোনোমিক্স রিসার্চ ব্যুরো ও বাংলাদেশ ইসলামি ব্যাংকারস এ্যাসোসিয়েশন নামে দুটি সংগঠনের ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিল।
এই প্রতিষ্ঠানগুলো ইসলামি ব্যাংকিং নিয়ে গবেষণা, প্রশিক্ষণ, সেমিনার ও কর্মশালার আয়োজন করে জনমত গঠনের চেষ্টা চালায়। একই সঙ্গে তারা ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদদের ইসলামি ব্যাংকিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করে।
গবেষণা ও বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনার পাশাপাশি ব্যবসায়ী মহলেও ইসলামি ব্যাংক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ শুরু হয়।
তৎকালীন ‘মুসলিম বিজনেসম্যান সোসাইটি’ (পরবর্তীতে ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্ট অ্যান্ড বিজনেসম্যান এ্যাসোসিয়েশন)-এর সঙ্গে যুক্ত একদল উদ্যোক্তা নতুন ব্যাংকের জন্য মূলধন সংগ্রহে সক্রিয় ভূমিকা নেন। তারা দেশীয় বিনিয়োগকারী খুঁজে বের করা, বিদেশি অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং সম্ভাব্য শেয়ারহোল্ডারদের একত্রিত করার কাজ করেন।
দীর্ঘ প্রস্তুতি ও আলোচনার পর অবশেষে ইসলামি ব্যাংক প্রতিষ্ঠার প্রকল্প বাস্তব রূপ পেতে শুরু করে।
১৩ মার্চ ১৯৮৩ সালে দেশের প্রথম শরিয়াহভিত্তিক বাণিজ্যিক ব্যাংক হিসেবে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি (তৎকালীন ইসলামি ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড) একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধিত হয়। এরপর ২৮ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদন লাভ করে এবং ৩০ মার্চ ঢাকায় প্রথম শাখার মাধ্যমে ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করে। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয় একই বছরের ১২ আগস্ট।
এটি শুধু বাংলাদেশের নয়, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রথম পূর্ণাঙ্গ ইসলামি ব্যাংক হিসেবেও পরিচিত।
অনেকের ধারণা ইসলামি ব্যাংক একক কোনো ব্যক্তি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বাস্তবে বিষয়টি ছিল অনেক বেশি সমষ্টিগত। ব্যাংকটি গড়ে ওঠে একটি বহুজাতিক যৌথ উদ্যোগ হিসেবে। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে এতে অংশ নেয়—বাংলাদেশের ২২ জন উদ্যোক্তা, ৪টি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের ১১টি ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থা, ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইডিবি), এবং সৌদি আরবের দুই বিশিষ্ট ব্যক্তি।
ইসলামি ব্যাংকের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর একটি হলো এর প্রতিষ্ঠার অর্থ কে দিল। প্রাথমিক মূলধনের বড় অংশ আসে বিদেশি ইসলামি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে। ইসলামি ব্যাংকের নিজস্ব ইতিহাস অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠাকালীন ইকুইটির প্রায় ৬৩ দশমিক ৯২ শতাংশ আসে বিদেশি ইসলামি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে। এই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ছিল—ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইডিবি), আল রাজি কোম্পানি ফর কারেন্সি এক্সচেঞ্জ অ্যান্ড কমার্স (সৌদি আরব), কুয়েত ফাইন্যান্স হাউস, জর্ডান ইসলামিক ব্যাংক, বাহরাইন ইসলামিক ব্যাংক, দুবাই ইসলামিক ব্যাংক, ইসলামিক ব্যাংকিং সিস্টেমস ইন্টারন্যাশনাল হোল্ডিং (লুক্সেমবার্গ) এছাড়াও কুয়েতের বিভিন্ন সরকারি ও সামাজিক বিনিয়োগ তহবিল। বাকি মূলধন আসে বাংলাদেশি উদ্যোক্তা, প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি অংশীদারদের কাছ থেকে। ফলে ইসলামি ব্যাংককে শুরু থেকেই একটি বহুজাতিক ইসলামি আর্থিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হয়।
প্রতিষ্ঠাকালীন শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে বাংলাদেশ সরকারও অংশীদার ছিল। তবে ব্যাংকটি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে ওঠেনি। বরং এটি একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়, যেখানে সরকার, দেশীয় উদ্যোক্তা এবং বিদেশি ইসলামি আর্থিক প্রতিষ্ঠান—সব পক্ষের অংশগ্রহণ ছিল। এটি ছিল বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে এক নতুন ধরনের মালিকানা কাঠামো।
প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ঋণের ওপর সুদ আদায় করা হয়। ইসলামি ব্যাংকিং সেই পদ্ধতির পরিবর্তে মুদারাবা, মুশারাকা, মুরাবাহা, বাই-মুয়াজ্জল, বাই-সালামসহ বিভিন্ন শরিয়াহসম্মত আর্থিক চুক্তির মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা করে। প্রতিষ্ঠাতাদের লক্ষ্য ছিল এমন একটি ব্যাংক গড়ে তোলা, যা একদিকে আধুনিক বাণিজ্যিক ব্যাংকের মতো কাজ করবে, অন্যদিকে ইসলামি অর্থনীতির নীতিমালা অনুসরণ করবে।
১৯৮৩ সালে ইসলামি ব্যাংকের প্রতিষ্ঠা বাংলাদেশের ব্যাংকিং ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় তৈরি করে। প্রথমত, এটি দেশে বিকল্প ব্যাংকিং ব্যবস্থার সূচনা করে। দ্বিতীয়ত, মধ্যপ্রাচ্যের ইসলামি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের আর্থিক সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দেয়।
তৃতীয়ত, এর সফলতার পর একে একে আরও ইসলামি ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হতে শুরু করে। পরবর্তীতে আল-বারাকা ব্যাংক, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকসহ আরও বেশ কয়েকটি ইসলামি ব্যাংক গড়ে ওঠে।

বাংলাদেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় বেশ বড় ও গুরুত্বপূর্ণ জায়গা নিয়ে আছে ইসলামি ব্যাংক। শুধু শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং নয়, দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থায়ও এই ব্যাংকের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। এই ব্যাংকের হাত ধরে শুরু হওয়ার পর বর্তমানে দেশের ব্যাংক খাতের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ আজ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার আওতায়। কিন্তু এই যাত্রার শুরুটা কীভাবে? কোথা থেকে এল মূলধন?
স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় তৈরি হয়েছিল ইসলামি ব্যাংকের ধারণা।
ইসলামি ব্যাংকিংয়ের মূল ভিত্তি হলো সুদ (রিবা) পরিহার করে লাভ-লোকসান ভাগাভাগির ভিত্তিতে আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনা করা। বিশ শতকের মধ্যভাগে মুসলিম বিশ্বে ইসলামি শরিয়াহর নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ব্যাংকিং ব্যবস্থার দাবি জোরালো হতে থাকে।
১৯৭০-এর দশকে এই ধারণা বাস্তব রূপ পেতে শুরু করে। একই সময়ে মুসলিম দেশগুলোর অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে গড়ে ওঠে ইসলামি ডেভলপমেন্ট ব্যাংক বা আইডিবি। ১৯৭৪ সালে এর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর অর্থমন্ত্রীদের সম্মেলনে এর চুক্তি অনুমোদিত হয় এবং ১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করে। আইডিবির অন্যতম লক্ষ্য ছিল সদস্য দেশগুলোতে ইসলামি অর্থনীতি ও ইসলামি ব্যাংকিংয়ের প্রসার ঘটানো।
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে শুরু করে। ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ আইডিবির সদস্য হয়। ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড এ্যাপ্লাইড রিসার্চের গবেষকদের মতে, এই সদস্যপদ দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ইসলামি ব্যাংকিং ধারণা নিয়ে আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করে।
তবে শুধু আন্তর্জাতিক উদ্যোগই নয়, দেশের ভেতরেও একদল অর্থনীতিবিদ, ব্যাংকার ও উদ্যোক্তা ইসলামি ব্যাংক প্রতিষ্ঠার পক্ষে কাজ শুরু করেন। এই পর্যায়ে ইসলামিক ইকোনোমিক্স রিসার্চ ব্যুরো ও বাংলাদেশ ইসলামি ব্যাংকারস এ্যাসোসিয়েশন নামে দুটি সংগঠনের ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিল।
এই প্রতিষ্ঠানগুলো ইসলামি ব্যাংকিং নিয়ে গবেষণা, প্রশিক্ষণ, সেমিনার ও কর্মশালার আয়োজন করে জনমত গঠনের চেষ্টা চালায়। একই সঙ্গে তারা ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদদের ইসলামি ব্যাংকিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করে।
গবেষণা ও বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনার পাশাপাশি ব্যবসায়ী মহলেও ইসলামি ব্যাংক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ শুরু হয়।
তৎকালীন ‘মুসলিম বিজনেসম্যান সোসাইটি’ (পরবর্তীতে ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্ট অ্যান্ড বিজনেসম্যান এ্যাসোসিয়েশন)-এর সঙ্গে যুক্ত একদল উদ্যোক্তা নতুন ব্যাংকের জন্য মূলধন সংগ্রহে সক্রিয় ভূমিকা নেন। তারা দেশীয় বিনিয়োগকারী খুঁজে বের করা, বিদেশি অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং সম্ভাব্য শেয়ারহোল্ডারদের একত্রিত করার কাজ করেন।
দীর্ঘ প্রস্তুতি ও আলোচনার পর অবশেষে ইসলামি ব্যাংক প্রতিষ্ঠার প্রকল্প বাস্তব রূপ পেতে শুরু করে।
১৩ মার্চ ১৯৮৩ সালে দেশের প্রথম শরিয়াহভিত্তিক বাণিজ্যিক ব্যাংক হিসেবে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি (তৎকালীন ইসলামি ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড) একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধিত হয়। এরপর ২৮ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদন লাভ করে এবং ৩০ মার্চ ঢাকায় প্রথম শাখার মাধ্যমে ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করে। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয় একই বছরের ১২ আগস্ট।
এটি শুধু বাংলাদেশের নয়, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রথম পূর্ণাঙ্গ ইসলামি ব্যাংক হিসেবেও পরিচিত।
অনেকের ধারণা ইসলামি ব্যাংক একক কোনো ব্যক্তি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বাস্তবে বিষয়টি ছিল অনেক বেশি সমষ্টিগত। ব্যাংকটি গড়ে ওঠে একটি বহুজাতিক যৌথ উদ্যোগ হিসেবে। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে এতে অংশ নেয়—বাংলাদেশের ২২ জন উদ্যোক্তা, ৪টি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের ১১টি ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থা, ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইডিবি), এবং সৌদি আরবের দুই বিশিষ্ট ব্যক্তি।
ইসলামি ব্যাংকের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর একটি হলো এর প্রতিষ্ঠার অর্থ কে দিল। প্রাথমিক মূলধনের বড় অংশ আসে বিদেশি ইসলামি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে। ইসলামি ব্যাংকের নিজস্ব ইতিহাস অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠাকালীন ইকুইটির প্রায় ৬৩ দশমিক ৯২ শতাংশ আসে বিদেশি ইসলামি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে। এই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ছিল—ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইডিবি), আল রাজি কোম্পানি ফর কারেন্সি এক্সচেঞ্জ অ্যান্ড কমার্স (সৌদি আরব), কুয়েত ফাইন্যান্স হাউস, জর্ডান ইসলামিক ব্যাংক, বাহরাইন ইসলামিক ব্যাংক, দুবাই ইসলামিক ব্যাংক, ইসলামিক ব্যাংকিং সিস্টেমস ইন্টারন্যাশনাল হোল্ডিং (লুক্সেমবার্গ) এছাড়াও কুয়েতের বিভিন্ন সরকারি ও সামাজিক বিনিয়োগ তহবিল। বাকি মূলধন আসে বাংলাদেশি উদ্যোক্তা, প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি অংশীদারদের কাছ থেকে। ফলে ইসলামি ব্যাংককে শুরু থেকেই একটি বহুজাতিক ইসলামি আর্থিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হয়।
প্রতিষ্ঠাকালীন শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে বাংলাদেশ সরকারও অংশীদার ছিল। তবে ব্যাংকটি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে ওঠেনি। বরং এটি একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়, যেখানে সরকার, দেশীয় উদ্যোক্তা এবং বিদেশি ইসলামি আর্থিক প্রতিষ্ঠান—সব পক্ষের অংশগ্রহণ ছিল। এটি ছিল বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে এক নতুন ধরনের মালিকানা কাঠামো।
প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ঋণের ওপর সুদ আদায় করা হয়। ইসলামি ব্যাংকিং সেই পদ্ধতির পরিবর্তে মুদারাবা, মুশারাকা, মুরাবাহা, বাই-মুয়াজ্জল, বাই-সালামসহ বিভিন্ন শরিয়াহসম্মত আর্থিক চুক্তির মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা করে। প্রতিষ্ঠাতাদের লক্ষ্য ছিল এমন একটি ব্যাংক গড়ে তোলা, যা একদিকে আধুনিক বাণিজ্যিক ব্যাংকের মতো কাজ করবে, অন্যদিকে ইসলামি অর্থনীতির নীতিমালা অনুসরণ করবে।
১৯৮৩ সালে ইসলামি ব্যাংকের প্রতিষ্ঠা বাংলাদেশের ব্যাংকিং ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় তৈরি করে। প্রথমত, এটি দেশে বিকল্প ব্যাংকিং ব্যবস্থার সূচনা করে। দ্বিতীয়ত, মধ্যপ্রাচ্যের ইসলামি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের আর্থিক সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দেয়।
তৃতীয়ত, এর সফলতার পর একে একে আরও ইসলামি ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হতে শুরু করে। পরবর্তীতে আল-বারাকা ব্যাংক, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকসহ আরও বেশ কয়েকটি ইসলামি ব্যাংক গড়ে ওঠে।

মৌলবাদ কেবল আদর্শগত বা ধর্মীয় বিষয় নয়, এর একটি সুসংগঠিত অর্থনৈতিক ভিত্তি রয়েছে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদ আবুল বারকাত। আজ থেকে ১১ বছর আগে তিনি তাঁর ‘বাংলাদেশে মৌলবাদ ও মৌলবাদী জঙ্গিত্বের রাজনৈতিক অর্থনীতি’ শীর্ষক গবেষণায় এমন যুক্তি তুলে ধরেছিলেন।
২ ঘণ্টা আগে
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, গতানুগতিক নয়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে জনগণের প্রত্যাশা পূরণকে জোর দেওয়া হচ্ছে। বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রতিটি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে মূল ধারায় নিয়ে আসাই এই বাজেটের মূল লক্ষ্য।
১৩ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, খুরশীদ আলম নিজে ঋণখেলাপি নন, তাঁর স্ত্রীর মালিকানাধীন একটি প্রতিষ্ঠান ঋণখেলাপি।
১৫ ঘণ্টা আগে
স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের সময় তিন বছর বাড়ানোর অনুরোধ ইতিবাচকভাবে বিবেচনার সুপারিশ করেছে জাতিসংঘের উন্নয়ন নীতিবিষয়ক কমিটি (সিডিপি)। মঙ্গলবার (২ জুন) অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে।
১৬ ঘণ্টা আগে