আবদুল মুত্তালী নাবিল

ভোর হয় হয়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের ভেজা ঘাসগুলো তখন কুয়াশা আর ঘুমের ঘোরে আচ্ছন্ন। ঠিক তার পাশেই সেলিম আল দীন মুক্তমঞ্চে বইছে ভিন্ন হাওয়া। নীল-সাদা জার্সি গায়ে, চোখে ঘুমের আবেশ নিয়ে শত শত শিক্ষার্থী জড়ো হয়েছেন সেখানে। লক্ষ্য একটাই, প্রায় ১৩ হাজার কিলোমিটার দূরের কান্সাস সিটির মাঠে প্রিয় দল আর্জেন্টিনা আর লিওনেল মেসির লড়াই বড় পর্দায় উপভোগ করা।
গতকাল বুধবারের (১৭ জুন) ভোর। ম্যাচ তখন মাত্র ৪ মিনিট। স্কোরলাইন ০-০। লওতারো মার্তিনেসের বাড়ানো পাসে দারুণ এক ভলিতে বল জালে জড়ালেন মেসি। মুহূর্তের জন্য গগনবিদারি চিৎকারে কেঁপে উঠল মুক্তমঞ্চ। কিন্তু রেফারি অফসাইডের বাঁশি বাজাতেই সেই উল্লাস স্তব্ধ হয়ে গেল। যেন এক নিমিষেই থমকে গেল পুরো ক্যাম্পাস। তবে সেই নিস্তব্ধতা ছিল ঝড়ের আগের পূর্বাভাস মাত্র।
এবারের বিশ্বকাপে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বড় পর্দায় খেলা দেখার আয়োজন করা হয়েছে মুক্তমঞ্চে। সকাল সাতটায় খেলা শুরুর আগেই এই প্রাঙ্গণ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী মুখ্লাতুল জিনান তৃষা নিজের অনুভূতি জানিয়ে বললেন, ‘এই প্রথম এত মানুষের সাথে এভাবে খেলা দেখছি। মনে হচ্ছে যেন কাতার কিংবা কান্সাস সিটির স্টেডিয়ামেই বসে আছি। বন্ধুদের সাথে এই মুহূর্তগুলো অনেক দিন মনে থাকবে।’
খেলা দেখার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেকে তো সারারাতই ঘুমাননি। বটতলার চায়ের আড্ডায় রাতভর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল আর্জেন্টিনার রণকৌশল। পতাকা আর প্রিয় ১০ নম্বর জার্সি গায়ে জড়িয়ে প্রিয় দলকে সমর্থন দিতে আসা শিক্ষার্থীদের ভিড়ে মুক্তমঞ্চ যেন এক টুকরো বুয়েনস আইরেস হয়ে উঠেছিল।
ম্যাচের ১৭তম মিনিটে রদ্রিগো ডি পলের নিখুঁত পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যখন মেসি বল জালে জড়ালেন, তখন আর কোনো সংশয় ছিল না। মুক্তমঞ্চের আকাশে উড়তে শুরু করল আর্জেন্টিনার পতাকা। প্রথমার্ধ ১-০ তে শেষ হলেও সমর্থকদের মনে ছিল সূক্ষ্ম শঙ্কা। ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী হাসানুজ্জামানের ভাষায়, ‘এবারের বিশ্বকাপে অনেক অঘটন ঘটছে, তাই আলজেরিয়ার মতো লড়াকু দলকে নিয়ে কিছুটা ভয় ছিল।’
তবে সব শঙ্কা দূর করে দ্বিতীয়ার্ধে শুরু হয় আসল ‘মেসি ম্যাজিক’। ৬০ মিনিটে গোলরক্ষকের ফিরতি বলে গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তিনি। আর ৭৬ মিনিটে চিরচেনা শৈলীতে বাঁকানো শটে গোল করে পূর্ণ করেন হ্যাটট্রিক। বাঁধভাঙা উল্লাসে ফেটে পড়েন জাহাঙ্গীরনগরের ভক্তরা। সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী এমিল ইসলাম শাহীন আনন্দের অশ্রুভেজা চোখে বললেন, ‘মেসির এমন হ্যাটট্রিক দেখার জন্য সারারাত জেগে থাকা সার্থক। এখন শান্তিতে ঘুমাতে পারব।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের এই উৎসবমুখর আয়োজনের নেপথ্যে ছিলেন জাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক মাহমুদুল হাসান কিরণ। তিনি বলেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম শিক্ষার্থীরা যেন স্টেডিয়ামের আমেজে খেলা উপভোগ করতে পারে। সবার এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আমাদের সার্থকতা। আগামী ১৮ তারিখ থেকে বটতলাতেও বড় পর্দায় খেলা দেখানো হবে।’
খেলা শেষে ভোরের আলো যখন ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়ছে, তখন মুক্তমঞ্চের কোলাহল ধীরে ধীরে স্তিমিত হয়ে আসছে। তবে শিক্ষার্থীদের চোখেমুখে ছিল এক অনন্য তৃপ্তি। মেসি নামের জাদুকর যেন জাহাঙ্গীরনগরের এই ভোরটিকে রাঙিয়ে দিয়ে গেলেন এক অবিস্মরণীয় স্মৃতিতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডায়েরিতে যুক্ত হলো বিশ্বকাপ উন্মাদনার নতুন এক রঙিন অধ্যায়।

ভোর হয় হয়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের ভেজা ঘাসগুলো তখন কুয়াশা আর ঘুমের ঘোরে আচ্ছন্ন। ঠিক তার পাশেই সেলিম আল দীন মুক্তমঞ্চে বইছে ভিন্ন হাওয়া। নীল-সাদা জার্সি গায়ে, চোখে ঘুমের আবেশ নিয়ে শত শত শিক্ষার্থী জড়ো হয়েছেন সেখানে। লক্ষ্য একটাই, প্রায় ১৩ হাজার কিলোমিটার দূরের কান্সাস সিটির মাঠে প্রিয় দল আর্জেন্টিনা আর লিওনেল মেসির লড়াই বড় পর্দায় উপভোগ করা।
গতকাল বুধবারের (১৭ জুন) ভোর। ম্যাচ তখন মাত্র ৪ মিনিট। স্কোরলাইন ০-০। লওতারো মার্তিনেসের বাড়ানো পাসে দারুণ এক ভলিতে বল জালে জড়ালেন মেসি। মুহূর্তের জন্য গগনবিদারি চিৎকারে কেঁপে উঠল মুক্তমঞ্চ। কিন্তু রেফারি অফসাইডের বাঁশি বাজাতেই সেই উল্লাস স্তব্ধ হয়ে গেল। যেন এক নিমিষেই থমকে গেল পুরো ক্যাম্পাস। তবে সেই নিস্তব্ধতা ছিল ঝড়ের আগের পূর্বাভাস মাত্র।
এবারের বিশ্বকাপে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বড় পর্দায় খেলা দেখার আয়োজন করা হয়েছে মুক্তমঞ্চে। সকাল সাতটায় খেলা শুরুর আগেই এই প্রাঙ্গণ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী মুখ্লাতুল জিনান তৃষা নিজের অনুভূতি জানিয়ে বললেন, ‘এই প্রথম এত মানুষের সাথে এভাবে খেলা দেখছি। মনে হচ্ছে যেন কাতার কিংবা কান্সাস সিটির স্টেডিয়ামেই বসে আছি। বন্ধুদের সাথে এই মুহূর্তগুলো অনেক দিন মনে থাকবে।’
খেলা দেখার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেকে তো সারারাতই ঘুমাননি। বটতলার চায়ের আড্ডায় রাতভর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল আর্জেন্টিনার রণকৌশল। পতাকা আর প্রিয় ১০ নম্বর জার্সি গায়ে জড়িয়ে প্রিয় দলকে সমর্থন দিতে আসা শিক্ষার্থীদের ভিড়ে মুক্তমঞ্চ যেন এক টুকরো বুয়েনস আইরেস হয়ে উঠেছিল।
ম্যাচের ১৭তম মিনিটে রদ্রিগো ডি পলের নিখুঁত পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যখন মেসি বল জালে জড়ালেন, তখন আর কোনো সংশয় ছিল না। মুক্তমঞ্চের আকাশে উড়তে শুরু করল আর্জেন্টিনার পতাকা। প্রথমার্ধ ১-০ তে শেষ হলেও সমর্থকদের মনে ছিল সূক্ষ্ম শঙ্কা। ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী হাসানুজ্জামানের ভাষায়, ‘এবারের বিশ্বকাপে অনেক অঘটন ঘটছে, তাই আলজেরিয়ার মতো লড়াকু দলকে নিয়ে কিছুটা ভয় ছিল।’
তবে সব শঙ্কা দূর করে দ্বিতীয়ার্ধে শুরু হয় আসল ‘মেসি ম্যাজিক’। ৬০ মিনিটে গোলরক্ষকের ফিরতি বলে গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তিনি। আর ৭৬ মিনিটে চিরচেনা শৈলীতে বাঁকানো শটে গোল করে পূর্ণ করেন হ্যাটট্রিক। বাঁধভাঙা উল্লাসে ফেটে পড়েন জাহাঙ্গীরনগরের ভক্তরা। সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী এমিল ইসলাম শাহীন আনন্দের অশ্রুভেজা চোখে বললেন, ‘মেসির এমন হ্যাটট্রিক দেখার জন্য সারারাত জেগে থাকা সার্থক। এখন শান্তিতে ঘুমাতে পারব।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের এই উৎসবমুখর আয়োজনের নেপথ্যে ছিলেন জাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক মাহমুদুল হাসান কিরণ। তিনি বলেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম শিক্ষার্থীরা যেন স্টেডিয়ামের আমেজে খেলা উপভোগ করতে পারে। সবার এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আমাদের সার্থকতা। আগামী ১৮ তারিখ থেকে বটতলাতেও বড় পর্দায় খেলা দেখানো হবে।’
খেলা শেষে ভোরের আলো যখন ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়ছে, তখন মুক্তমঞ্চের কোলাহল ধীরে ধীরে স্তিমিত হয়ে আসছে। তবে শিক্ষার্থীদের চোখেমুখে ছিল এক অনন্য তৃপ্তি। মেসি নামের জাদুকর যেন জাহাঙ্গীরনগরের এই ভোরটিকে রাঙিয়ে দিয়ে গেলেন এক অবিস্মরণীয় স্মৃতিতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডায়েরিতে যুক্ত হলো বিশ্বকাপ উন্মাদনার নতুন এক রঙিন অধ্যায়।

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের ১১তম কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি পদে মহিবুল আহসান এবং গোলাম দস্তগীর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।
২ দিন আগে
বিশ্বব্যাপী শিক্ষণ পদ্ধতিতে বাড়ছে কৃত্রিক বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রভাব। তবে এআই প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের পাশাপাশি গুরুত্ব দিতে হবে ‘এথিক্যাল এআই’ বা নৈতিক এআই চর্চায়। নজর রাখতে হবে প্রযুক্তির ব্যবহার যেন শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে।
৩ দিন আগে
আগামী জুলাইয়ের মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাড়ে ৪ লাখ শিক্ষার্থী স্কুল ড্রেস পাবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। শনিবার (১৩ জুন) নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে পঞ্চমীঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ের ‘বিশ্বেশ্বর পোদ্দার ভবন’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এই তথ্য জানান তিনি।
৭ দিন আগে
পদত্যাগপত্রে অধ্যাপক কনক ব্যক্তিগত ও একাডেমিক ব্যস্ততার কথা উল্লেখ করলেও...
৯ দিন আগে