স্ট্রিম প্রতিবেদক

উপকূলবাসীর কাছে ২৯ এপ্রিল মানেই শোক, বেদনা আর স্বজন হারানোর এক দীর্ঘশ্বাস। ১৯৯১ সালের এই দিনে প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে চালিয়েছিল নজিরবিহীন ধ্বংসযজ্ঞ।
রাতের অন্ধকারে মুহূর্তের মধ্যেই লণ্ডভণ্ড হয়ে গিয়েছিল বিস্তীর্ণ জনপদ, সাগরের উত্তাল ঢেউয়ে বিলীন হয়ে গিয়েছিল হাজারো পরিবার। তবে তিন দশকের বেশি সময় পর, জলোচ্ছ্বাসের ধরন ও উচ্চতা বিশ্লেষণ করে নতুন একটি প্রশ্ন সামনে এসেছে—সেদিনের সেই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগটি কি শুধুই ঘূর্ণিঝড় ছিল, নাকি সুনামি?
ধ্বংসযজ্ঞ আর জলোচ্ছ্বাসের এই ভয়ংকর রূপ অবিকল সুনামির মতো মনে হলেও, বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করেছেন—এটি আসলে সুনামি নয়, ছিল এক প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (নোয়া), ইউনাইটেড স্টেটস জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস) এবং ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের তথ্য বলছে, গভীর মহাসাগরে সুনামির ঢেউ খুব একটা উঁচু হয় না। সাধারণত এটি ১ থেকে ৩ ফুট পর্যন্ত উঁচু হয়। এ কারণে গভীর সমুদ্রে থাকা জাহাজগুলো অনেক সময় টেরই পায় না যে নিচ দিয়ে প্রলয়ংকরী সুনামি বয়ে যাচ্ছে।
তবে এই সুনামি যখন তীরের বা উপকূলের অগভীর জলের কাছাকাছি আসে, তখন সমুদ্রের গভীরতা কমে যাওয়ার কারণে ঢেউয়ের গতি কমে যায় ঠিকই, কিন্তু এর উচ্চতা বাড়ে ভয়ংকরভাবে। উপকূলে আঘাত হানার সময় সাধারণ ধ্বংসাত্মক সুনামিগুলোর উচ্চতা ১০ ফুট থেকে শুরু করে ১০০ ফুট (৩০ মিটার) পর্যন্ত হতে পারে।
বিজ্ঞানের এই ব্যাখ্যার সঙ্গে ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের রাতের ভয়াবহতার বেশ মিল পাওয়া যায়। সেদিন রাত ১০টার পর উপকূলীয় অঞ্চলে ১০ থেকে ২০ ফুট উচ্চতার বিশাল জলোচ্ছ্বাস আছড়ে পড়েছিল। পাহাড়সমান সেই ঢেউ মুহূর্তের মধ্যেই গ্রামগঞ্জ, চর ও উপকূলীয় জনপদ তলিয়ে দেয়। ঢেউয়ের এই অস্বাভাবিক উচ্চতা এবং ধ্বংসের মাত্রা বিবেচনা করেই এখন প্রশ্ন উঠেছে, ২৯ এপ্রিলের সেই দুর্যোগ কি কেবল একটি ঘূর্ণিঝড় ছিল, নাকি এর পেছনে সুনামির কোনো প্রভাব ছিল?
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ স্ট্রিমকে বলেন, ‘সুনামি মূলত ভূমিকম্পের কারণে সৃষ্টি হয়। ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের দুর্যোগটি ছিল একটি সুপার সাইক্লোন বা অত্যন্ত শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়। সেদিন রাতে ১০ থেকে ২০ ফুট উচ্চতার যে বিশাল ঢেউ আছড়ে পড়েছিল, সেটি ছিল ঘূর্ণিঝড়ের প্রবল বাতাস এবং পূর্ণিমার ভরা জোয়ারের সম্মিলিত প্রভাবে সৃষ্টি হওয়া জলোচ্ছ্বাস বা স্টর্ম সার্জ।’
জলোচ্ছ্বাসের উচ্চতা এত বেশি হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি আরও বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়ের সময় বাতাসের গতিবেগ যদি ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটারের ওপরে থাকে, তবে সেই শক্তিশালী বাতাস সমুদ্রের পানিকে প্রবল বেগে উপকূলের দিকে ঠেলে নিয়ে আসে। ২৯ এপ্রিলের ঘূর্ণিঝড়টি যখন উপকূলে আঘাত হানে, তখন সাগরে পূর্ণিমার ভরা জোয়ার চলছিল। ভরা জোয়ারের সময় সাগরের পানি এমনিতেই ফুলে থাকে। এর সঙ্গে সুপার সাইক্লোনের বাতাস যুক্ত হওয়ায় জলোচ্ছ্বাসের উচ্চতা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে ১০-১৫ ফুট বা তারও বেশি হয়ে যায়। ১৯৭০ সালের ঘূর্ণিঝড়ের সময়ও একই কারণে বিশাল জলোচ্ছ্বাস হয়েছিল। ঘূর্ণিঝড়টি পূর্ণিমার সময় না হয়ে অন্য কোনো সময় আঘাত হানলে এই উচ্চতা তুলনামূলকভাবে কম হতো।’
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, সেই রাতের ভয়াবহ তাণ্ডবে প্রাণ হারিয়েছিলেন ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৮২ জন। যদিও বাস্তবে নিহতের এই সংখ্যা আরও অনেক বেশি বলে ধারণা করা হয়। অগণিত মানুষ চোখের পলকে হারিয়েছিলেন তাঁদের ঘরবাড়ি, আজীবনের সহায়-সম্বল এবং আপনজনদের। এত বছর পেরিয়ে গেলেও ২৯ এপ্রিলের সেই রাতের দুঃস্বপ্ন আজও তাড়া করে ফেরে উপকূলের মানুষদের।

উপকূলবাসীর কাছে ২৯ এপ্রিল মানেই শোক, বেদনা আর স্বজন হারানোর এক দীর্ঘশ্বাস। ১৯৯১ সালের এই দিনে প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে চালিয়েছিল নজিরবিহীন ধ্বংসযজ্ঞ।
রাতের অন্ধকারে মুহূর্তের মধ্যেই লণ্ডভণ্ড হয়ে গিয়েছিল বিস্তীর্ণ জনপদ, সাগরের উত্তাল ঢেউয়ে বিলীন হয়ে গিয়েছিল হাজারো পরিবার। তবে তিন দশকের বেশি সময় পর, জলোচ্ছ্বাসের ধরন ও উচ্চতা বিশ্লেষণ করে নতুন একটি প্রশ্ন সামনে এসেছে—সেদিনের সেই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগটি কি শুধুই ঘূর্ণিঝড় ছিল, নাকি সুনামি?
ধ্বংসযজ্ঞ আর জলোচ্ছ্বাসের এই ভয়ংকর রূপ অবিকল সুনামির মতো মনে হলেও, বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করেছেন—এটি আসলে সুনামি নয়, ছিল এক প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (নোয়া), ইউনাইটেড স্টেটস জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস) এবং ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের তথ্য বলছে, গভীর মহাসাগরে সুনামির ঢেউ খুব একটা উঁচু হয় না। সাধারণত এটি ১ থেকে ৩ ফুট পর্যন্ত উঁচু হয়। এ কারণে গভীর সমুদ্রে থাকা জাহাজগুলো অনেক সময় টেরই পায় না যে নিচ দিয়ে প্রলয়ংকরী সুনামি বয়ে যাচ্ছে।
তবে এই সুনামি যখন তীরের বা উপকূলের অগভীর জলের কাছাকাছি আসে, তখন সমুদ্রের গভীরতা কমে যাওয়ার কারণে ঢেউয়ের গতি কমে যায় ঠিকই, কিন্তু এর উচ্চতা বাড়ে ভয়ংকরভাবে। উপকূলে আঘাত হানার সময় সাধারণ ধ্বংসাত্মক সুনামিগুলোর উচ্চতা ১০ ফুট থেকে শুরু করে ১০০ ফুট (৩০ মিটার) পর্যন্ত হতে পারে।
বিজ্ঞানের এই ব্যাখ্যার সঙ্গে ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের রাতের ভয়াবহতার বেশ মিল পাওয়া যায়। সেদিন রাত ১০টার পর উপকূলীয় অঞ্চলে ১০ থেকে ২০ ফুট উচ্চতার বিশাল জলোচ্ছ্বাস আছড়ে পড়েছিল। পাহাড়সমান সেই ঢেউ মুহূর্তের মধ্যেই গ্রামগঞ্জ, চর ও উপকূলীয় জনপদ তলিয়ে দেয়। ঢেউয়ের এই অস্বাভাবিক উচ্চতা এবং ধ্বংসের মাত্রা বিবেচনা করেই এখন প্রশ্ন উঠেছে, ২৯ এপ্রিলের সেই দুর্যোগ কি কেবল একটি ঘূর্ণিঝড় ছিল, নাকি এর পেছনে সুনামির কোনো প্রভাব ছিল?
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ স্ট্রিমকে বলেন, ‘সুনামি মূলত ভূমিকম্পের কারণে সৃষ্টি হয়। ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের দুর্যোগটি ছিল একটি সুপার সাইক্লোন বা অত্যন্ত শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়। সেদিন রাতে ১০ থেকে ২০ ফুট উচ্চতার যে বিশাল ঢেউ আছড়ে পড়েছিল, সেটি ছিল ঘূর্ণিঝড়ের প্রবল বাতাস এবং পূর্ণিমার ভরা জোয়ারের সম্মিলিত প্রভাবে সৃষ্টি হওয়া জলোচ্ছ্বাস বা স্টর্ম সার্জ।’
জলোচ্ছ্বাসের উচ্চতা এত বেশি হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি আরও বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়ের সময় বাতাসের গতিবেগ যদি ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটারের ওপরে থাকে, তবে সেই শক্তিশালী বাতাস সমুদ্রের পানিকে প্রবল বেগে উপকূলের দিকে ঠেলে নিয়ে আসে। ২৯ এপ্রিলের ঘূর্ণিঝড়টি যখন উপকূলে আঘাত হানে, তখন সাগরে পূর্ণিমার ভরা জোয়ার চলছিল। ভরা জোয়ারের সময় সাগরের পানি এমনিতেই ফুলে থাকে। এর সঙ্গে সুপার সাইক্লোনের বাতাস যুক্ত হওয়ায় জলোচ্ছ্বাসের উচ্চতা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে ১০-১৫ ফুট বা তারও বেশি হয়ে যায়। ১৯৭০ সালের ঘূর্ণিঝড়ের সময়ও একই কারণে বিশাল জলোচ্ছ্বাস হয়েছিল। ঘূর্ণিঝড়টি পূর্ণিমার সময় না হয়ে অন্য কোনো সময় আঘাত হানলে এই উচ্চতা তুলনামূলকভাবে কম হতো।’
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, সেই রাতের ভয়াবহ তাণ্ডবে প্রাণ হারিয়েছিলেন ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৮২ জন। যদিও বাস্তবে নিহতের এই সংখ্যা আরও অনেক বেশি বলে ধারণা করা হয়। অগণিত মানুষ চোখের পলকে হারিয়েছিলেন তাঁদের ঘরবাড়ি, আজীবনের সহায়-সম্বল এবং আপনজনদের। এত বছর পেরিয়ে গেলেও ২৯ এপ্রিলের সেই রাতের দুঃস্বপ্ন আজও তাড়া করে ফেরে উপকূলের মানুষদের।

পুরোপুরি চিকিৎসা শেষ হওয়ার পর প্রাণীরা যখন সুস্থ্য হয়ে উঠবে তখন তাদের অবমুক্ত করা হবে। এর আগ পর্যন্ত তাদের ওখানেই রাখা হবে।
১ দিন আগে
প্রতিবছর মৌসুমি ও আকস্মিক বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, তাপদাহ, শৈত্যপ্রবাহ, অতিবৃষ্টি, খরা, নদীভাঙন ও ভূমিকম্পের মতো বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে দেশ। এতে প্রাণহানিও ঘটছে প্রতিবছর। তবে আগাম সতর্কবার্তা প্রচার এবং দ্রুত পদক্ষেপ নিলে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
৩ দিন আগে
দেশে এ বছর কিছুটা দেরিতে ঢুকেছে মৌসুমী বায়ু। এতে বৃষ্টি ঝরলেও স্বস্তি মেলেনি। বরং বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় সারাদেশেই ভ্যাপসা গরমের অস্বস্তি রয়ে গেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর আজ মঙ্গলবার দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির পূর্বাভাস দিলেও এখনও কয়েকটি জেলার ওপর দিয়ে বইছে মৃদু তাপপ্রবাহ।
৬ দিন আগে
বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্প কারখানাকে এখন বিশ্ব সাপ্লাই চেইনে ‘সবুজ কারখানা বিপ্লবের’ উদাহরণ হিসেবে হাজির করা হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ‘পরিবেশবান্ধব’ লিডারশিপ ইন এনার্জি অ্যান্ড এনভাইরনমেন্টাল ডিজাইন (লিড) সার্টিফায়েড কারখানা এখন বাংলাদেশে।
১০ দিন আগে