leadT1ad

মিডিয়া সংলাপ

বজ্রপাতের সময় ৩০/৩০ নিয়ম মানলে ঝুঁকি কমবে

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১২ জুন ২০২৬, ২১: ৩২
‘আবহাওয়া, দুর্যোগ ও জনস্বার্থে সাংবাদিকতা’ শীর্ষক মিডিয়া সংলাপে অতিথিরা। ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবছর মৌসুমি ও আকস্মিক বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, তাপদাহ, শৈত্যপ্রবাহ, অতিবৃষ্টি, খরা, নদীভাঙন ও ভূমিকম্পের মতো বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে দেশ। এতে প্রাণহানিও ঘটছে প্রতিবছর। তবে আগাম সতর্কবার্তা প্রচার এবং দ্রুত পদক্ষেপ নিলে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

গতকাল বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ‘দুর্যোগ বিষয়ক সতর্কতা’ শীর্ষক মিডিয়া সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন। সংলাপটির আয়োজন করে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ।

বক্তারা বলেন, দুর্যোগের আগাম সতর্কবার্তা মেনে চললে ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে সময়মতো আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও সতর্কবার্তা পৌঁছে দিতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সংবাদমাধ্যমকে একযোগে কাজ করতে হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফ উদ্দিন বলেন, বর্তমানে সংবাদমাধ্যম দ্রুত মানুষের কাছে দুর্যোগের আগাম বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে। ১৯৭০ সালের ঘূর্ণিঝড়ে যেখানে লাখো মানুষের প্রাণহানি হয়েছিল, সেখানে এখন সেই সংখ্যা ২০-এর নিচে নেমে এসেছে। আগাম সতর্কবার্তার মাধ্যমে প্রাণহানি ও গবাদিপশুর ক্ষতি কমানো সম্ভব হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমান বলেন, বর্তমানে বহুমুখী ব্যবহার উপযোগী আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে, যা সাধারণ সময়ে বিদ্যালয় এবং দুর্যোগকালে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এসব কেন্দ্রে গবাদিপশু রাখার ব্যবস্থা, রান্নার সুবিধা এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য প্রশস্ত শৌচাগার রয়েছে। তিনি বলেন, অনেক মানুষ গবাদিপশু ও সম্পদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকায় আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে চান না। তাই এসব সুবিধার তথ্য আরও বেশি প্রচার করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেন বলেন, বন্যার সময় সংবাদমাধ্যম তথ্য জানতে বেশি যোগাযোগ করে। কিন্তু বন্যার আগেই যদি আগাম সতর্কবার্তা নিয়মিত প্রচার করা হয়, তাহলে মানুষ প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য বেশি সময় পায়।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পরিচালক (প্রশাসন) ও যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ নাজমুল আবেদীন বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের আগাম সতর্কবার্তা পাওয়ার পর আশ্রয়কেন্দ্রে মানুষকে নিয়ে আসার কাজ করে তাঁর মন্ত্রণালয়। এ কাজে ৮০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত রয়েছেন। তবে মানুষ অনেক সময় সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত তথ্যের ওপর বেশি আস্থা রাখে। তাই আগাম বার্তা ও আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা সংবাদমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরতে হবে।

প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কবিতা বোস বলেন, দুর্যোগের সময় নারী, মেয়ে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাঁদের জন্য দুর্যোগপূর্ব সতর্কবার্তা এবং দুর্যোগ-পরবর্তী সেবার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বজ্রপাতের আগাম সতর্কবার্তা এবং করণীয় সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

স্বাগত বক্তব্যে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মোমেনুল ইসলাম বলেন, সঠিক তথ্য যেমন প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সহায়তা করে, তেমনি ভুয়া তথ্য ও অপতথ্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই সহজ ভাষায় সঠিক তথ্য প্রচারে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

৩০/৩০ নিয়ম মানলে মৃত্যুঝুঁকি কমে

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে ঝড়, বন্যা, বৃষ্টি, বজ্রপাত নিয়ে তিনটি পৃথক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ প্রতিম বড়ুয়া ও ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির উপপরিচালক শরাফাত হোসেন খান। পরে তাঁরা সাংবাদিক ও বিভিন্ন পেশার ব্যক্তিদের প্রশ্নের উত্তর দেন।

উপস্থাপনায় আবহাওয়াবিদ মোহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, এই বছর এ পর্যন্ত বজ্রপাতে ১৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে। বজ্রপাত থেকে বাঁচতে ৩০/৩০ নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। অর্থাৎ বিজলি চমকানোর ৩০ সেকেন্ড সময়ের মধ্যে বজ্রধ্বনি হলে দৌড়ে বাসা বা আবদ্ধ কক্ষে প্রবেশ করতে হবে এবং ৩০ মিনিট পর্যন্ত অবস্থান করতে হবে। এতে মৃত্যুঝুঁকি এড়ানো সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রথম আলোর সহকারী সম্পাদক ফিরোজ চৌধুরী। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের ৫০ জন সাংবাদিক এই মিডিয়া সংলাপে অংশগ্রহণ করেন।

Ad 300x250

সম্পর্কিত