
রাজধানীর উপর দিয়ে আগামী ২১ এপ্রিল থেকে তাপপ্রবাহ বা হিটওয়েভ বয়ে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন আবহাওয়া সংস্থা। পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহের শুরু থেকেই ঢাকার তাপমাত্রা লাফিয়ে বাড়তে শুরু করবে। এ সময় প্রকৃত তাপমাত্রা ৩৭ বা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকলেও তীব্র আর্দ্রতার কারণে মানুষের শরীরে তা ৪২ থেকে ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত অনুভূত হতে পারে।
গুগল ওয়েদার, অ্যাকুওয়েদার, দ্য ওয়েদার চ্যানেল এবং ভেন্টুস্কাইয়ের মতো শীর্ষস্থানীয় আবহাওয়া মডেল ও ওয়েবসাইটগুলোর দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস বিশ্লেষণে এই উদ্বেগজনক চিত্র পাওয়া গেছে। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের (বিএমডি) পূর্বাভাসেও ২১ থেকে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা বাড়ার কথা বলা হয়েছে।
কোনো এলাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকলে সেখানে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে বলে ধরা হয়। তাপপ্রবাহের মাত্রা ৩৮ থেকে ৩৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি হলে তা হয় মাঝারি তাপপ্রবাহ। আর কোনো এলাকায় ৪০ থেকে ৪১ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বয়ে গেলে তাকে তীব্র তাপপ্রবাহ বলা হয়। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি ছাড়ালে তখন তাকে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ বলা হয়।
দ্য ওয়েদার চ্যানেল ও অ্যাকুওয়েদারের ১০ দিনের পূর্বাভাস বলছে, আগামী সোমবারই (২০ এপ্রিল) ঢাকার তাপমাত্রা ৩৫ থেকে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাবে। তবে মূল তাপপ্রবাহ শুরু হবে পরদিন থেকে। ২১ থেকে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত ঢাকার আকাশ থাকবে আংশিক মেঘলা থেকে পুরোপুরি রৌদ্রোজ্জ্বল এবং বাতাস থাকবে চরম উত্তপ্ত। এ সময় থার্মোমিটারের পারদ গড়ে ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করবে।
তাপমাত্রার চেয়েও নগরবাসীকে বেশি ভোগাবে চরম আর্দ্রতা। গুগল ওয়েদারে ২১ থেকে ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত ঢাকার জন্য ‘এক্সেসিভ হিট’ বা চরম তাপপ্রবাহের সতর্কতা দেখানো হচ্ছে।
অ্যাকুওয়েদারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২১ এপ্রিল মঙ্গলবার প্রকৃত তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি থাকলেও ‘রিয়েল ফিল’ বা অনুভূত তাপমাত্রা হবে ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এরপর ২২, ২৩ ও ২৪ এপ্রিল প্রকৃত তাপমাত্রা ৩৫ থেকে ৩৭ ডিগ্রির ঘরে থাকলেও, অনুভূত তাপমাত্রা যথাক্রমে ৩৮, ৪২ এবং সর্বোচ্চ ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এ সময় রোদ ও অতিবেগুনি রশ্মির তীব্রতা ১১ থেকে ১২ বা ‘এক্সট্রিম’ পর্যায়ে থাকবে, যা ত্বক ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
সেই হিসাবে, ঢাকায় অতি তীব্র তাপপ্রবাহ অনুভূত হতে পারে।
আবহাওয়া বিষয়ক ওয়েবসাইট ভেন্টুস্কাইয়ের জিএফএস ও আইকন মডেলের হিটম্যাপে দেখা যায়, আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝিতে ঢাকা ও এর আশপাশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল তীব্র তাপমাত্রা নির্দেশক লাল ও কালচে খয়েরি রঙে ঢেকে রয়েছে। ম্যাপ অনুযায়ী, ওই সময় দেশের মধ্যাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রার পারদ চরম আকার ধারণ করবে।
ভেন্টুস্কাইয়ের মিটিওগ্রাম বা তাপমাত্রার লেখচিত্র বিশ্লেষণে এই তাপপ্রবাহের ভয়াবহ রূপ ফুটে ওঠে। লেখচিত্র অনুযায়ী, ১৬ থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত তাপমাত্রা ৩৩ থেকে ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে থাকলেও, ২০ এপ্রিল থেকে তা লাফিয়ে বাড়তে শুরু করবে।
২০ থেকে ২২ এপ্রিল পর্যন্ত ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা পৌঁছাবে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। তবে পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করবে সপ্তাহের শেষ ভাগে। ভেন্টুস্কাইয়ের পূর্বাভাস বলছে, ২৪ এপ্রিল তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং ২৫ এপ্রিল শনিবার তা সর্বোচ্চ চূড়া ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইটে পৌঁছাতে পারে, যা মৌসুমের অন্যতম উষ্ণ দিন হওয়ার শঙ্কা তৈরি করেছে।
টানা কয়েক দিনের এই হাঁসফাঁস গরমের পর সপ্তাহান্তে কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে। অ্যাকুওয়েদার ও ওয়েদার চ্যানেলের পূর্বাভাস বলছে, ২৫ এপ্রিল শনিবার বিকেল থেকে আকাশ কিছুটা মেঘলা হতে পারে। ২৬ ও ২৭ এপ্রিলের দিকে ঢাকায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টি হলে ২৮ এপ্রিল থেকে তাপমাত্রা কমে ৩২ থেকে ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসতে পারে।
এ ধরনের চরম তাপপ্রবাহের সময় হিটস্ট্রোক ও পানিশূন্যতার প্রবল ঝুঁকি থাকে। তাই এই দিনগুলোতে খুব প্রয়োজন ছাড়া ভরদুপুরে রোদে বের না হওয়া, ছাতা ব্যবহার করা এবং প্রচুর পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি ও তরল খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
.png)

এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। জাতিসংঘ সতর্ক করে বলেছে, চলমান এল নিনো এল নিনো ৭০ বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী হতে পারে। এর প্রভাব ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত থাকতে পারে। খবর বিবিসির।
০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পরিবেশ সুরক্ষায় সাফল্যের দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান ১৭৭টি দেশের মধ্যে ১৭৫তম। গত জুলাইয়ে ‘এনভায়রনমেন্টাল পারফরম্যান্স ইনডেক্স (ইপিআই) ২০২৬’ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় ও কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়। সেখানে এই ফলাফল উঠে এসেছে।
২৯ আগস্ট ২০২৬
নেপাল-তিব্বতে আকস্মিক বন্যার সঙ্গে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের সম্পর্ক থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। জলবায়ু সংকট বরফাবৃত পর্বত এবং মেরু অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলছে এবং লাখো মানুষের জীবনকে ফেলছে ঝুঁকিতে।
২৮ আগস্ট ২০২৬
আইআইইডি এবং ওকাপের যৌথ গবেষণায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৮৪.৯ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাত। রিকশাচালক, নির্মাণশ্রমিক, দিনমজুর বা পোশাক কারখানার এসব শ্রমিকের শারীরিক শ্রমই তাঁর জীবিকার একমাত্র পুঁজি। অথচ সেই শ্রমিকের দেহটাই এখন ধ্বংস হচ্ছে তীব্র গরমে।
২৬ আগস্ট ২০২৬