মৌলভীবাজারে বজ্রপাতে ১৪ গরুর মৃত্যু

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
মৌলভীবাজার

জুড়ীতে বজ্রপাতে পশুর মৃত্যুতে ভিড় করে এলাকার লোকজন। স্ট্রিম ছবি

মৌলভীবাজারের জুড়ীতে বজ্রপাতে কয়েকটি চা-শ্রমিক পরিবারের ১৪টি গরু ও একটি মহিষ মারা গেছে। বুধবার (৩ জুন) দুপুরে উপজেলার গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের কুচাই জ্বালাই ও পাথরটিলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুরে কুচাই জ্বালাই মাঠে কাছাকাছি চড়তে থাকা গরুর ওপর একটি বজ্রপাতে ১৪টির মৃত্যু হয়। একই সময় পার্শ্ববর্তী পাথরটিলা এলাকায় আরেকটি বজ্রপাত একটি মহিষেরও মৃত্যু হয়।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে জরুরি সরকারি সহযোগিতার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী।

বজ্রপাতে চারটি গরু হারানো চা-শ্রমিক সুমন গড় বলেন, ‘আমার শেষ সম্বল ছিল এই গরুগুলো। একসঙ্গে সব মারা গেল। এখন আমার আর কিছুই রইল না।’

তিনটি গরু হারানো আরেক চা-শ্রমিক মিতালি রাজভর বলেন, ‘অনেক কষ্ট করে জমানো টাকা দিয়ে একটি গরু কিনেছিলাম। একটু আগেই গরুগুলোকে মাঠে দিয়ে বাড়িতে ফিরেছিলাম। হঠাৎ খবর পেলাম আমার তিনটি গরুর ওপর বজ্রপাত হয়েছে। আমার সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল।’

মহিষের মালিক কৃষক আব্দুল গফফার বলেন, অনেক কষ্ট করে টাকা জমিয়ে মহিষটি কিনেছিলাম। কোরবানির পশুর হাটে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা দাম উঠেছিল, কিন্তু আমি ২ লাখ টাকা আশা করেছিলাম।

ঘটনার পর ঘটনাস্থল গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলেন গোয়ালবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আব্দুল কাইয়ূম। ঘটনার পরপরই মৌলভীবাজার-১ (জুড়ী-বড়লেখা) আসনের সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন আহমেদ মিঠুকে বিষয়টি অবহিত করা হয়।

এমপি নাছির উদ্দিন বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কষ্ট আমি অনুভব করি। ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের মাধ্যমে যাচাই করে প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুশফিকীন নূর জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের নাম সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রশাসন থেকে তাদের সহযোগিতা করা হবে।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত