আল-জাজিরার এক্সপ্লেইনার
স্ট্রিম ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির নানা প্রস্তাব নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। দুই সপ্তাহের এই ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। দুই পক্ষের কর্মকর্তারা চুক্তির বিভিন্ন শর্ত ও প্রস্তাব নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন কথা বলছেন।
বিতর্কের মূলে রয়েছে ইরানের দেওয়া ১০ দফার প্রস্তাব। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) পাকিস্তানের ইসলামাবাদে আলোচনায় বসবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। সেই আলোচনার মূল ভিত্তি এই ১০ দফা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এই প্রস্তাব ‘কাজের উপযোগী’। শুরুতে ইরানকে ১৫ দফার একটি প্রস্তাব দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। সেই প্রস্তাবকে অযৌক্তিক ও ‘সর্বোচ্চ দাবি’ হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছিল ইরান।
যুদ্ধবিরতির কয়েক ঘণ্টা পরই পরিস্থিতি ঘোলাটে হতে শুরু করে। ট্রাম্পসহ মার্কিন কর্মকর্তারা ইরানের প্রস্তাব নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানান। ইরানের প্রস্তাবের শর্তগুলোর ব্যাখ্যা নিয়ে খোদ ওয়াশিংটনের একেক কর্মকর্তা একেক কথা বলছেন।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স তো প্রকাশিত প্রস্তাবকে হেসেই উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ইরানের কোনো এক ‘র্যান্ডম ইয়াহু’ বা সাধারণ লোক এই প্রস্তাব তৈরি করে টিভিতে ছেড়ে দিয়েছে।
বিভ্রান্তি আরও বাড়িয়েছে প্রস্তাবের ভাষার পার্থক্য। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিরোধের জায়গা হলো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার। দেখা গেছে, ফার্সি ভাষায় লেখা প্রস্তাবে যা বলা আছে, ইংরেজি অনুবাদে তা নেই।
ট্রাম্প প্রশাসন ইরানকে যুদ্ধ অবসানের জন্য ১৫ দফার রূপরেখা দিয়েছিল। কর্মকর্তাদের মতে, এর লক্ষ্য ছিল দীর্ঘদিনের শত্রুতায় স্থায়ী বিরতি টানা।
পুরো প্রস্তাব জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। তবে মার্কিন গণমাধ্যম এবং অন্যান্য সূত্রমতে প্রস্তাবে বলা হয়, ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দেবে। তাদের দেশের ভেতরে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করাও বন্ধ করতে হবে। আগে থেকে সমৃদ্ধ করা ইউরেনিয়ামের মজুদ আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) কাছে হস্তান্তর করতে হবে।

ইরানকে বাকি পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে আইএইএ-কে নজরদারির সুযোগ দিতে হবে। হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে হবে। লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইয়েমেনের হুথিদের মতো আঞ্চলিক মিত্রদের সমর্থন দেওয়া বন্ধ করতে হবে।
বিনিময়ে ইরানের ওপর থেকে সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে। তবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা এবং সংখ্যার ওপর সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হবে।
বুধবার ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, প্রস্তাবের ১৫ দফার অনেকগুলোতেই দুই দেশ একমত হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘আমরা ইরানের সঙ্গে শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে আলোচনা করছি এবং ভবিষ্যতেও করব।’
তবে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের এই রূপরেখা মানতে রাজি হয়নি। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাঘায়ি জানান, তেহরান মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা পেয়েছে। তিনি ওয়াশিংটনের দাবিগুলোকে ‘অযৌক্তিক’ এবং ‘সর্বোচ্চ দাবি’ বলে প্রত্যাখ্যান করেন।
এর বদলে তেহরান তাদের নিজস্ব ১০ দফার পাল্টা প্রস্তাব দেয়। এতে যুদ্ধের সময় ইরানের ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে হামলা না করার প্রতিশ্রুতি চাওয়া হয়। হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার কথা বলা হয়। সবচেয়ে বড় কথা, ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার মেনে নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
বুধবার ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছ থেকে ১০ দফার প্রস্তাব পেয়েছে। তিনি এই প্রস্তাবকে আলোচনার জন্য ‘কাজের উপযোগী ভিত্তি’ বলে উল্লেখ করেন। কিন্তু দিনের আলো ফুরানোর আগেই যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক অবস্থান নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দেয়।
ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ গিয়ে অভিযোগ করেন, কিছু লোক চুক্তি নিয়ে ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গ্রহণযোগ্য “পয়েন্টস” বা শর্তের মাত্র একটি তালিকা আছে। আমরা রুদ্ধদ্বার আলোচনার সময় সেগুলো নিয়েই কথা বলব।’ এর বেশি কোনো বিস্তারিত তথ্য তিনি দেননি। তিনি আরও বলেন, এই শর্তগুলোর ভিত্তিতেই আমরা যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আলাদা একটি পোস্টে বলেন, কোনো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ হবে না। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে মিলে গভীরে লুকানো পারমাণবিক ‘ধুলো’ (ডাস্ট) খুঁড়ে বের করে ধ্বংস করবে। বি-২ বোম্বার বিমান দিয়ে এই কাজ করা হবে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লিভিটও ইরানের প্রস্তাব নিয়ে ওঠা খবরগুলোকে খুব একটা গুরুত্ব দেননি। তিনি বলেন, তেহরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার যেকোনো দাবি ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করবেন।
লিভিট সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রেসিডেন্টের রেড লাইন বা চূড়ান্ত সীমা বদলায়নি। ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অবসান ঘটাতে হবে।’ যদিও ইরান বলছে তারা পারমাণবিক অস্ত্র বানাতে চায় না, কিন্তু তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করাকে নিজেদের জাতীয় অধিকার বলে মনে করে।
লিভিট আরও বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের প্রথম ১০ দফার প্রস্তাব আক্ষরিক অর্থেই আবর্জার ঝুড়িতে ফেলে দিয়েছিল। পরে ইরান একটি সংশোধিত প্রস্তাব দেয়, যা ‘অধিকতর যুক্তিসংগত এবং সম্পূর্ণ ভিন্ন’ পরিকল্পনা। এই প্রস্তাবকে ট্রাম্পের ১৫ দফা প্রস্তাবের সঙ্গে খাপ খাওয়ানো যেতে পারে।
ট্রাম্পের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড ভ্যান্স প্রকাশিত সংস্করণকে পাত্তাই দেননি। বুদাপেস্টে সাংবাদিকদের ভ্যান্স বলেন, ‘তারা কী করার অধিকার রাখে, তা নিয়ে আমরা মাথা ঘামাই না। আমরা মাথা ঘামাই তারা আসলে কী করছে তা নিয়ে।’ তিনি জানান, প্রস্তাবগুলোর অন্তত তিনটি আলাদা খসড়া দেখেছেন। ভ্যান্স বলেন, ‘প্রথম ১০ দফার প্রস্তাব এমন কিছু ছিল, যা দেখে আমাদের মনে হয়েছে চ্যাটজিপিটি দিয়ে লেখা।’
এককথায় উত্তর হলো, হ্যাঁ। একই পরিকল্পনার অন্তত দুটি আলাদা সংস্করণ আছে বলে মনে হচ্ছে। একটি ইংরেজিতে এবং অন্যটি ফার্সিতে লেখা।
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল ফার্সি সংস্করণ প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র নীতিগতভাবে বেশ কিছু দাবি মেনে নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো ইউরেনিয়াম ‘সমৃদ্ধকরণ মেনে নেওয়া’।
তবে অভিযোগ উঠেছে যে, ইংরেজি ভাষার সংস্করণ থেকে এই কথা বাদ দেওয়া হয়েছে। ইরান সব সময়ই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করাকে নিজেদের সার্বভৌম অধিকার বলে দাবি করে আসছে। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন এবং তাদের মিত্র ইসরায়েল এই দাবিকে ‘রেড লাইন’ হিসেবে দেখছে। তারা বলছে, এই শর্ত নিয়ে কোনো আলোচনাই হবে না।
বছরের পর বছর ধরে তেহরান দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ বেসামরিক। পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। ২০১৫ সালে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছিল। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে তারা নিজেদের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করতে রাজি হয়েছিল। কিন্তু ২০১৮ সালে ট্রাম্প সেই ঐতিহাসিক চুক্তি থেকে বের হয়ে আসেন এবং ইরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির নানা প্রস্তাব নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। দুই সপ্তাহের এই ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। দুই পক্ষের কর্মকর্তারা চুক্তির বিভিন্ন শর্ত ও প্রস্তাব নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন কথা বলছেন।
বিতর্কের মূলে রয়েছে ইরানের দেওয়া ১০ দফার প্রস্তাব। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) পাকিস্তানের ইসলামাবাদে আলোচনায় বসবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। সেই আলোচনার মূল ভিত্তি এই ১০ দফা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এই প্রস্তাব ‘কাজের উপযোগী’। শুরুতে ইরানকে ১৫ দফার একটি প্রস্তাব দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। সেই প্রস্তাবকে অযৌক্তিক ও ‘সর্বোচ্চ দাবি’ হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছিল ইরান।
যুদ্ধবিরতির কয়েক ঘণ্টা পরই পরিস্থিতি ঘোলাটে হতে শুরু করে। ট্রাম্পসহ মার্কিন কর্মকর্তারা ইরানের প্রস্তাব নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানান। ইরানের প্রস্তাবের শর্তগুলোর ব্যাখ্যা নিয়ে খোদ ওয়াশিংটনের একেক কর্মকর্তা একেক কথা বলছেন।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স তো প্রকাশিত প্রস্তাবকে হেসেই উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ইরানের কোনো এক ‘র্যান্ডম ইয়াহু’ বা সাধারণ লোক এই প্রস্তাব তৈরি করে টিভিতে ছেড়ে দিয়েছে।
বিভ্রান্তি আরও বাড়িয়েছে প্রস্তাবের ভাষার পার্থক্য। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিরোধের জায়গা হলো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার। দেখা গেছে, ফার্সি ভাষায় লেখা প্রস্তাবে যা বলা আছে, ইংরেজি অনুবাদে তা নেই।
ট্রাম্প প্রশাসন ইরানকে যুদ্ধ অবসানের জন্য ১৫ দফার রূপরেখা দিয়েছিল। কর্মকর্তাদের মতে, এর লক্ষ্য ছিল দীর্ঘদিনের শত্রুতায় স্থায়ী বিরতি টানা।
পুরো প্রস্তাব জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। তবে মার্কিন গণমাধ্যম এবং অন্যান্য সূত্রমতে প্রস্তাবে বলা হয়, ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দেবে। তাদের দেশের ভেতরে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করাও বন্ধ করতে হবে। আগে থেকে সমৃদ্ধ করা ইউরেনিয়ামের মজুদ আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) কাছে হস্তান্তর করতে হবে।

ইরানকে বাকি পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে আইএইএ-কে নজরদারির সুযোগ দিতে হবে। হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে হবে। লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইয়েমেনের হুথিদের মতো আঞ্চলিক মিত্রদের সমর্থন দেওয়া বন্ধ করতে হবে।
বিনিময়ে ইরানের ওপর থেকে সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে। তবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা এবং সংখ্যার ওপর সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হবে।
বুধবার ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, প্রস্তাবের ১৫ দফার অনেকগুলোতেই দুই দেশ একমত হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘আমরা ইরানের সঙ্গে শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে আলোচনা করছি এবং ভবিষ্যতেও করব।’
তবে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের এই রূপরেখা মানতে রাজি হয়নি। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাঘায়ি জানান, তেহরান মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা পেয়েছে। তিনি ওয়াশিংটনের দাবিগুলোকে ‘অযৌক্তিক’ এবং ‘সর্বোচ্চ দাবি’ বলে প্রত্যাখ্যান করেন।
এর বদলে তেহরান তাদের নিজস্ব ১০ দফার পাল্টা প্রস্তাব দেয়। এতে যুদ্ধের সময় ইরানের ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে হামলা না করার প্রতিশ্রুতি চাওয়া হয়। হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার কথা বলা হয়। সবচেয়ে বড় কথা, ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার মেনে নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
বুধবার ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছ থেকে ১০ দফার প্রস্তাব পেয়েছে। তিনি এই প্রস্তাবকে আলোচনার জন্য ‘কাজের উপযোগী ভিত্তি’ বলে উল্লেখ করেন। কিন্তু দিনের আলো ফুরানোর আগেই যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক অবস্থান নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দেয়।
ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ গিয়ে অভিযোগ করেন, কিছু লোক চুক্তি নিয়ে ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গ্রহণযোগ্য “পয়েন্টস” বা শর্তের মাত্র একটি তালিকা আছে। আমরা রুদ্ধদ্বার আলোচনার সময় সেগুলো নিয়েই কথা বলব।’ এর বেশি কোনো বিস্তারিত তথ্য তিনি দেননি। তিনি আরও বলেন, এই শর্তগুলোর ভিত্তিতেই আমরা যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আলাদা একটি পোস্টে বলেন, কোনো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ হবে না। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে মিলে গভীরে লুকানো পারমাণবিক ‘ধুলো’ (ডাস্ট) খুঁড়ে বের করে ধ্বংস করবে। বি-২ বোম্বার বিমান দিয়ে এই কাজ করা হবে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লিভিটও ইরানের প্রস্তাব নিয়ে ওঠা খবরগুলোকে খুব একটা গুরুত্ব দেননি। তিনি বলেন, তেহরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার যেকোনো দাবি ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করবেন।
লিভিট সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রেসিডেন্টের রেড লাইন বা চূড়ান্ত সীমা বদলায়নি। ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অবসান ঘটাতে হবে।’ যদিও ইরান বলছে তারা পারমাণবিক অস্ত্র বানাতে চায় না, কিন্তু তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করাকে নিজেদের জাতীয় অধিকার বলে মনে করে।
লিভিট আরও বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের প্রথম ১০ দফার প্রস্তাব আক্ষরিক অর্থেই আবর্জার ঝুড়িতে ফেলে দিয়েছিল। পরে ইরান একটি সংশোধিত প্রস্তাব দেয়, যা ‘অধিকতর যুক্তিসংগত এবং সম্পূর্ণ ভিন্ন’ পরিকল্পনা। এই প্রস্তাবকে ট্রাম্পের ১৫ দফা প্রস্তাবের সঙ্গে খাপ খাওয়ানো যেতে পারে।
ট্রাম্পের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড ভ্যান্স প্রকাশিত সংস্করণকে পাত্তাই দেননি। বুদাপেস্টে সাংবাদিকদের ভ্যান্স বলেন, ‘তারা কী করার অধিকার রাখে, তা নিয়ে আমরা মাথা ঘামাই না। আমরা মাথা ঘামাই তারা আসলে কী করছে তা নিয়ে।’ তিনি জানান, প্রস্তাবগুলোর অন্তত তিনটি আলাদা খসড়া দেখেছেন। ভ্যান্স বলেন, ‘প্রথম ১০ দফার প্রস্তাব এমন কিছু ছিল, যা দেখে আমাদের মনে হয়েছে চ্যাটজিপিটি দিয়ে লেখা।’
এককথায় উত্তর হলো, হ্যাঁ। একই পরিকল্পনার অন্তত দুটি আলাদা সংস্করণ আছে বলে মনে হচ্ছে। একটি ইংরেজিতে এবং অন্যটি ফার্সিতে লেখা।
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল ফার্সি সংস্করণ প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র নীতিগতভাবে বেশ কিছু দাবি মেনে নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো ইউরেনিয়াম ‘সমৃদ্ধকরণ মেনে নেওয়া’।
তবে অভিযোগ উঠেছে যে, ইংরেজি ভাষার সংস্করণ থেকে এই কথা বাদ দেওয়া হয়েছে। ইরান সব সময়ই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করাকে নিজেদের সার্বভৌম অধিকার বলে দাবি করে আসছে। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন এবং তাদের মিত্র ইসরায়েল এই দাবিকে ‘রেড লাইন’ হিসেবে দেখছে। তারা বলছে, এই শর্ত নিয়ে কোনো আলোচনাই হবে না।
বছরের পর বছর ধরে তেহরান দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ বেসামরিক। পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। ২০১৫ সালে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছিল। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে তারা নিজেদের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করতে রাজি হয়েছিল। কিন্তু ২০১৮ সালে ট্রাম্প সেই ঐতিহাসিক চুক্তি থেকে বের হয়ে আসেন এবং ইরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন।

পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে শুভেন্দু অধিকারী একটি আলোচিত নাম। একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম সেনাপতি থেকে আজ তিনি রাজ্যের প্রধান বিরোধী মুখ হয়ে উঠেছেন।
৬ ঘণ্টা আগে
প্রায় ছয় সপ্তাহের তীব্র সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি শর্তসাপেক্ষ দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। এই সংঘাতে হাজারো মানুষের প্রাণহানি ঘটে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়।
১ দিন আগে
ইরানি সভ্যতা মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার দেড় ঘণ্টা আগেই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছেন তিনি। প্রাথমিকভাবে মেনে নিয়েছেন ইরানের দেওয়া ১০টি শর্ত।
১ দিন আগে
রাজ্যের ২৯৪ আসনের লড়াইয়ে মূল প্রতিদ্বন্দ্বী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস এবং শুভেন্দু অধিকারীর বিজেপি। বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস লড়াইয়ের ময়দানে থাকলেও তারা খুব একটা প্রভাব ফেলতে পারবে বলে মনে হচ্ছে না।
২ দিন আগে