পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ‘আই-প্যাক’ কী, কীভাবে কাজ করে, আবারও কেন আলোচনায়

প্রকাশ : ২৪ মে ২০২৬, ২১: ২৪
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ‘আই-প্যাক’ কী, কীভাবে কাজ করে, আবারও কেন আলোচনায়। সংগৃহীত ছবি

সাম্প্রতিক নির্বাচনী ফলাফলের পর তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক অবস্থান ও কৌশল নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির ভূমিধস বিজয়ের পর তৃণমূলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন বিষয়ের সমীকরণ নতুনভাবে সামনে আসছে। তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী পরামর্শদাতা সংস্থা আই-প্যাক নিয়েও তাই আলোচনা-সমালোচনা কমছে না। এই সংস্থাটির ‘পরামর্শ’ মেনেই ২০২১-র বিধানসভা নির্বাচনে মমতা ব্যানার্জীর দল বিপুল সাফল্য পেয়েছিল—এমন বিশ্বাস রাজনৈতিক মহলে বেশ ভালোভাবেই চর্চিত ছিল।

ধারণা করা হয়, তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক স্তরে সিদ্ধান্ত নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতো আই-প্যাকের বেতনভুক্ত পেশাদার কর্মীরা। আই-প্যাককে ঘিরে কিছু অভিযোগ ও তদন্তের খবর সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে জায়গা পেয়েছে—যেমন অর্থ লেনদেন বা রাজনৈতিক প্রচারে অর্থ ব্যবহারের অভিযোগ। এ সূত্রে আইপ্যাক আবারও সমালোচনা।

আই-প্যাক নিয়ে যত চিন্তা

আই-প্যাককে তৃণমূল কংগ্রেসের ‘এপল অফ আই’ বা ‘চোখের মণি’ বললেও ভুল হবে না। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনের আগে থেকেই সংস্থাটির দিনকাল ভালো যাচ্ছে না। কয়েক মাস আগে পশ্চিমবঙ্গের চাঞ্চল্যকর কয়লা পাচার-কাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে আই-প্যাকের বিরুদ্ধে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, কয়লা পাচার-কাণ্ডের সব টাকা এই আই-প্যাকের অ্যাকাউন্টে জমা পড়ে। সেই টাকা গোয়া বিধানসভা নির্বাচনে খরচও করা হয়। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি আই-প্যাকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। যদিও এই মামলাকে ‘বিজেপির ষড়যন্ত্র’ বলে উড়ে দিয়েছিলেন ততকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়।

গত জানুয়ারি মাসে কলকাতায় আই-প্যাকের সদর দফতর এবং সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টোরেট বা ইডির গোয়েন্দারা। সেই খবর পেয়ে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কার্যালয়ের ভেতরে ঢুকে ইডির হাত থেকে একগাদা গুরুত্বপূর্ণ ফাইলপত্র নিজের হাতে নিয়ে ক্যামেরার সামনে দিয়েই বেরিয়ে আসেন। এ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জলঘোলাও কম হয়্নি।

কেন্দ্রীয় এজেন্সির কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলাও হয়, যা বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। সেদিনের ঘটনা থেকে স্পষ্ট হয়ে যায়—তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনীতি কিংবা নির্বাচনী কৌশলের জন্য আই-প্যাক কতোটা গুরুত্বপূর্ণ!

এই ঘটনার জের ধরে দিল্লিতে আইপ্যাকের অন্যতম সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিনেশ চান্দেল আটক হন। এর পরপরই সংস্থার কর্মীরা হঠাৎ ছুটিতে যাওয়ার নির্দেশ পান। অনেক মনে করেন, নির্বাচনের ঠিক আগে আইপ্যাকের প্রধানকে আটক করা এবং নির্বাচনের পর ছেড়ে দেওয়ার এই পুরো প্রক্রিয়াটি নির্বাচনী ফলাফলের ওপর এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব বিস্তার করেছে। ২০২১ সালে তৃণমূলকে জেতানোর পেছনে যেমন আই-প্যাকের অবদান স্বীকার করা হয়, তেমনি এবারের নির্বাচনে মমতার হারের পেছনেও আই-প্যাককে দায়ী করেন দলটির অনেক রাজনীতিবিদ।

আইপ্যাক কী?

যাঁরা বিশ্বরাজনীতির খবরাখবর রাখেন, তাঁদের জন্য ‘আই-প্যাক’ নামটি নতুন কিছু নয়। আই-প্যাক (I-PAC)-এর পুরো নাম ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি। এটি মূলত একটি রাজনৈতিক পরামর্শদাতা বা স্ট্রাটেজিক সংস্থা।

আই-প্যাককে তৃণমূল কংগ্রেসের ‘এপল অফ আই’ বা ‘চোখের মণি’ বললেও ভুল হবে না। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনের আগে থেকেই সংস্থাটির দিনকাল ভালো যাচ্ছে না। কয়েক মাস আগে পশ্চিমবঙ্গের চাঞ্চল্যকর কয়লা পাচার-কাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে আই-প্যাকের বিরুদ্ধে।

২০১৩-১৪ সাল নাগাদ এই সংস্থার প্রাথমিক চিন্তাভাবনা শুরু হয়। বিখ্যাত নির্বাচন স্ট্র্যাটেজিস্ট প্রশান্ত কিশোরের হাত ধরে এর যাত্রা শুরু। তাঁর সঙ্গে যোগ দেন একদল তরুণ পেশাদার। শুরুতে এই টিমের নাম ছিল 'সিটিজেনস ফর অ্যাকাউন্টেবল গভর্নান্স' বা সিএজি। ২০১৫ সালে নাম বদলে আনুষ্ঠানিকভাবে 'আইপ্যাক' রাখা হয়। বর্তমানে আইপ্যাকের মূল দায়িত্ব সামলাচ্ছেন প্রতীক জৈন।

আইপ্যাক মূলত আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ভোটারের ডেটা অ্যানালাইসিস আর সোশ্যাল মিডিয়া ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য নির্বাচনের রণকৌশল তৈরি করে। পশ্চিমবঙ্গে শুধু তৃণমূল কংগ্রেস নয়, অতীতে অরবিন্দ কেজরিওয়াল থেকে খোদ নরেন্দ্র মোদীর রাজনৈতিক প্রচারেও মাঠে নামতে দেখা যায় ‘সিএজি’ নামে পরিচিত সাবেক ‘আই-প্যাক’ টিমকে। কেবল পশ্চিমবঙ্গ নয়, ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে আইপ্যাক নতুন ঘরানার জন্ম দিয়েছে। এর প্রধান কার্যালয় অবস্থিত হায়দ্রাবাদের গুগায়ে। ধারণা করা হয়, এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই ভারত সফলতার সঙ্গে ডেটা ড্রিভেন রাজনীতির যুগে পা রেখেছে।

আইপ্যাক কীভাবে কাজ করে?

ভারতে আগে নির্বাচন হতো মূলত মাঠের কর্মীদের ওপর ভর করে। আইপ্যাক এসে এই ধারা অনেকখানি বদলে দিয়েছে। তারা রাজনীতিতে কর্পোরেট মার্কেটিং আর বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ব্যবহার শুরু করে। আইপ্যাকের মূল শক্তি হলো তাদের মাঠ পর্যায়ের বিশাল টিম। এরা প্রথমে ভোটারদের নিয়ে ব্যাপক আকারে সমীক্ষা চালায়। কোন এলাকার ভোটারদের বয়স কত, তাদের জাতিগত বা সাম্প্রদায়িক সমীকরণ কী, তা বিশ্লেষণ করা হয়। অনেক সময় সাধারণ গবেষক বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সেজে ফোনেও বিভিন্ন ইস্যুতে মানুষের মতামত সংগ্রহ করা হয়। এই সমস্ত তথ্য বা ডেটা বিশ্লেষণ করে তৈরি হয় নির্বাচনের 'উইনিং ব্লুপ্রিন্ট' বা জয়ের নকশা।

আধুনিক যুগে সোশ্যাল মিডিয়া জনমত গঠনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে। আইপ্যাকের একটি শক্তিশালী আইটি সেল বা কন্টেন্ট রাইটিং টিম রয়েছে। তারা ফেসবুক, টুইটার (এক্স), ইউটিউব এবং হোয়াটসঅ্যাপের জন্য আলাদা প্রচার কৌশল সাজায়।

সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিপক্ষকে কীভাবে আক্রমণ করা হবে, তার ভাষাও এরা ঠিক করে দেয়। দলের ডিজিটাল প্রচারের ব্যানার, গ্রাফিক ডিজাইন, ভিডিও থিম এবং পোস্টার তৈরি করে এই সংস্থাই। পোস্টারে ঠিক কী শব্দ ব্যবহার করা হবে এবং তার রঙ কেমন হবে, তাও আইপ্যাকের পেশাদাররা নির্ধারণ করে দেন।

ভারতে আগে নির্বাচন হতো মূলত মাঠের কর্মীদের ওপর ভর করে। আইপ্যাক এসে এই ধারা অনেকখানি বদলে দিয়েছে। তারা রাজনীতিতে কর্পোরেট মার্কেটিং আর বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ব্যবহার শুরু করে।

জনগণের আবেগকে স্পর্শ করতে পারে এমন স্লোগান তৈরিতে আইপ্যাক পারদর্শী। দলের নির্বাচনী ইস্তেহার বা ম্যানিফেস্টো তৈরির পেছনেও থাকে এদের বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ।

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে আইপ্যাকের ভূমিকা

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে আইপ্যাকের প্রবেশ ঘটে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর। সেই সময় বাংলায় বিজেপি বা পদ্ম শিবিরের ব্যাপক উত্থান ঘটেছিল। তৃণমূল কংগ্রেস সেসময় বেশ রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের হাল ফেরাতে ধরেন আইপ্যাকের হাত।

আইপ্যাক দায়িত্ব নিয়েই তৃণমূলের পুরো ভাবমূর্তি বা ইমেজ পরিবর্তনের কাজে নেমে পড়ে। জনমানসে দলের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে তারা বিভিন্ন কর্মসূচির পরিকল্পনা করে।

আইপ্যাকের মস্তিস্কপ্রসূত প্রথম সফল কর্মসূচি ছিল 'দিদিকে বলো'। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট ফোন নম্বরে কল করে সাধারণ মানুষ সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তাঁদের ক্ষোভ বা অভিযোগ জানানোর সুযোগ পান। এই পদক্ষেপটি তৃণমূলের প্রতি মানুষের ক্ষোভ অনেকটাই প্রশমিত করতে সাহায্য করেছিল।

২০২১ সালের হাই-ভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনে আইপ্যাক মূল স্লোগান তৈরি করে—'বাংলা নিজের মেয়েকেই চায়'। এই স্লোগানটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে ভালো কাজ করে।

এ ছাড়া ভোটের আগে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে 'দুয়ারে সরকার'-এর মতো প্রকল্প চালু করার পরামর্শ দেয় আইপ্যাক। মানুষের ঘরের দোরগোড়ায় সরকারি সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার এই কৌশলটি নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে তৃণমূলকে বেশ সাহায্য করেছে বলে ধারণা করা হয়।

ভোটের প্রচারের পাশাপাশি তৃণমূল দলের অভ্যন্তরীণ সংস্কারেও আইপ্যাকের বড় ভূমিকা ছিল। পুরোনোদের সরিয়ে তরুণ প্রজন্মের নেতাদের সামনে আনার কাজও তারা সফলভাবে করে। তৃণমূলের প্রার্থী চয়ন বা টিকিট বণ্টন থেকে শুরু করে নেতাদের প্রচারের ভাষা ঠিক করা, সবকিছুতেই ছিল আইপ্যাকের নীলনকশার ছাপ ।

ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে আইপ্যাকের প্রভাব

২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে প্রশান্ত কিশোরের নেতৃত্বাধীন টিম (তদানীন্তন সিএজি) নরেন্দ্র মোদীর জন্য পক্ষে সফলতার সঙ্গে কাজ করেছে বলে ধারণা করা হয়। মোদীর পক্ষে ‘চায়ে পে চর্চা’ এবং আধুনিক প্রযুক্তির ‘থ্রি-ডি র‍্যালি’-র মতো জনপ্রিয় প্রচারণার মূল মাস্টারমাইন্ড ছিলেন এই পেশাদাররা। এরপর আর ফিরে তাকাতে হয়নি তাদেরকে। বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে ২০১৪ সালে ভারতের ক্ষমতায় আসে বিজেপি। সফল হয় সিএজি-র নির্বাচনী ক্যাম্পেইন।

পরে সংস্থাটি ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে আঞ্চলিক দলকে ক্ষমতায় বসাতে সাহায্য করেছে। ২০১৫ সালে বিহারের নির্বাচনে তারা নীতিশ কুমারের জেডিইউ এবং মহাগাঠবন্ধনের পক্ষে কাজ করে জয় নিশ্চিত করে। ২০১৭ সালে পাঞ্জাবে ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিংয়ের হয়ে 'ক্যাপ্টেন ফর পাঞ্জাব' ক্যাম্পেইন পরিচালনা করে এই টিম।

এছাড়াও অন্ধ্রপ্রদেশে ওয়াই এস জগন্মোহন রেড্ডি, দিল্লিতে অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং তামিলনাড়ুতে এম কে স্ট্যালিনের হয়ে কাজ করে তাদের বিপুল ভোটে জেতাতে আইপ্যাক পর্দার আড়াল থেকে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

আইপ্যাকের এই বিশাল কর্মযজ্ঞ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে যেমন প্রশংসা রয়েছে, তেমনি বিতর্কেরও শেষ নেই। সমালোচকদের একাংশের মতে, আইপ্যাকের মতো সংস্থাগুলো জনমানুষের রাজনীতিকে এক ধরনের কর্পোরেট মার্কেটিং বা ব্যবসায়িক বিজ্ঞাপনে পরিণত করেছে। কেউ কেউ মনে করেন, জনমতকে বৈজ্ঞানিক উপায়ে প্রভাবিত করে ভোটারদের একধরনের 'ব্রেন ওয়াশ' করার চেষ্টা করা হয়।

এই কর্পোরেট সংস্কৃতির কারণে নির্বাচনের খরচও আগের চেয়ে অনেক বেড়ে গেছে। জনগণের ট্যাক্সের টাকা ঘুরিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার এই প্রবণতা সুস্থ গণতন্ত্রের পথে বাধা বলেও মনে করেন অনেক প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ফলাফলকে ঘিরে আইপ্যাকের কৌশলগত ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে; বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ও নির্বাচনী স্ট্র্যাটেজির কার্যকারিতা নিয়ে সমালোচনা বাড়ার কারণে। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে ওঠা কিছু অভিযোগ ও তদন্তসংক্রান্ত খবর এবং ভারতের রাজনীতিতে ডেটা-নির্ভর প্রচার কৌশলের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব—সব মিলিয়ে আই-প্যাক আবারও জাতীয় ও রাজ্য রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে।

সম্পর্কিত