সিএনএনের এক্সপ্লেইনার/এআই কি সত্যিই সবাইকে মেরে ফেলবে, কীভাবে?

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬: ১৯
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মানবজাতিকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারে—এমনটাই বলছেন এআই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত কিছু মানুষ। তাদের দাবি, আগামী এক দশকের মধ্যেই এআই মানবজাতিকে ধ্বংস করে দিতে পারে।

গত সপ্তাহে এ নিয়ে রাজনীতিবিদ, বড় বড় সংবাদমাধ্যম এমনকি গায়িকা শেরিল ক্র-ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এর সূত্রপাত অ্যানথ্রপিকের কর্মী জ্যাকব কক্সনের একটি ঘোষণা থেকে। তিনি জানান, এআই কোম্পানিটির কাজ তার কাছে এতটাই বিপজ্জনক মনে হয়েছে যে তিনি প্রতিষ্ঠানটি ছেড়ে দিচ্ছেন।

অ্যানথ্রপিকের আরেক কর্মী ইভান হাবিঙ্গারও বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। তাঁর মতে, আগামী ১০ বছরের মধ্যে এআইয়ের কারণে মানবজাতি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ১০ শতাংশের বেশি।

এ নিয়ে মেশিন ইন্টেলিজেন্স রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এমআইআরআই) প্রেসিডেন্ট নেট সোয়ারেস বলেন, ‘মানুষ যখন এসব কথা বলে, তখন অনেকেই বিশ্বাস করতে চান না। কিন্তু আমি মনে করি, শেষ পর্যন্ত এটাই সবচেয়ে সম্ভাব্য পরিণতি।’

কিন্তু এই দাবির সঙ্গে যে সংখ্যাগুলো জুড়ে দেওয়া হচ্ছে, সেগুলো শুনতে বেশ নির্ভুল মনে হলেও প্রশ্নটা থেকেই যায়—কম্পিউটার সফটওয়্যার, এমনকি পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী সফটওয়্যারও, ঠিক কীভাবে এক দশকের মধ্যে ৮৩০ কোটি মানুষকে মেরে ফেলবে?

এআই জগতের সবাই অবশ্য এই সর্বনাশের গল্পে বিশ্বাস করেন না। এর একটি কারণ হলো, এই ভবিষ্যদ্বাণীর পেছনে বিস্তারিত ব্যাখ্যা খুব কম। ‘বৈজ্ঞানিক দাবিকে যাচাই বা ভুল প্রমাণ করা সম্ভব হওয়া দরকার, ঠিক এ কারণেই বৈজ্ঞানিক দাবির ক্ষেত্রে প্রমাণযোগ্যতা গুরুত্বপূর্ণ। তা না হলে সেগুলো ধর্মীয় যুক্তির মতো হয়ে যায়,’ বলেন এআই নাও ইনস্টিটিউটের প্রধান এআই বিজ্ঞানী এবং সাবেক ওপেনএআই নিরাপত্তা প্রকৌশলী হেইডি খলাফ। তিনি বলেন, ‘আপনাকে এমনভাবে দাবি করতে হবে, যাতে সেটি প্রমাণ বা ভুল প্রমাণ করা যায়।’

কৃত্রিম মহামারিতে কি নিশ্চিহ্ন হবে মানবজাতি

এআই নিয়ে ভয় পাওয়া মানুষের একটি আশঙ্কা হলো, যথেষ্ট শক্তিশালী কোনো এআই জৈব অস্ত্র ব্যবহার করে পুরো মানবজাতিকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারে। কিন্তু কম্পিউটার থেকে কম্পিউটারে সংঘটিত কাজ—যেমন অন্য সিস্টেমে হ্যাক করা—থেকে এআই কীভাবে বাস্তব জগতে গিয়ে একটি ভয়ংকর রোগজীবাণু তৈরি ও ছড়িয়ে দেওয়ার পর্যায়ে পৌঁছাবে?

এআই ফিউচারস প্রজেক্টের গবেষক এবং এমআইআরআইয়ের সাবেক কর্মী থমাস লারসেন বলেন, একটি ‘সুপারইন্টেলিজেন্ট’ বা অতিমানবীয় বুদ্ধিসম্পন্ন এআই কোনো মানুষকে দিয়ে ভয়ংকর ভাইরাস তৈরির কাজ করিয়ে নিতে পারে—এমনটা কল্পনা করা সম্ভব।

তিনি অ্যানথ্রপিকের সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করেন। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, গবেষকেরা ভাইরাস ও বিষাক্ত পদার্থ নিয়ে গবেষণার কাজে ক্লডকে ব্যবহার করছেন।

লারসেন বলেন, ‘আমি খুব সহজেই এমন একটি এআই কল্পনা করতে পারি, যেটি এখনকার মতোই কোনো ব্যবস্থায় চালু আছে, কিন্তু যদি সেটি অনেক বেশি বুদ্ধিমান ও কৌশলী হয় এবং এমন কিছু করতে চায়, তাহলে সেটি একজন মানুষকে ধোঁকা দিয়ে তাকে দিয়ে ওই জিনিস তৈরি ও ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ করিয়ে নিতে পারে।’

সোয়ারেসের ধারণা আরও এক ধাপ এগিয়ে। তাঁর মতে, এআইয়ের এমনকি কোনো মানুষকেও ব্যবহার করার প্রয়োজন নাও হতে পারে। নিজেকে উন্নত করতে থাকা কোনো এআই প্রোগ্রাম হয়তো ‘স্বয়ংক্রিয় জৈব গবেষণাগারে নিজেরাই জীবনের রূপ তৈরি করা শুরু করতে পারে।’

তবে মানবজাতিকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারে এমন একটি ভাইরাস তৈরি করতে শুধু কোনো লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলকে প্রাণঘাতী নকশা তৈরি করতে বললেই হবে না। গবেষণাটি সঠিকভাবে করা গেলেও সেটি তৈরি করা এবং সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়া হবে অত্যন্ত জটিল ও সূক্ষ্ম একটি কাজ।

কার্নেগি মেলন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেশিন লার্নিংয়ের অধ্যাপক এরিক শিং, মাইক্রোবায়োলজি এবং কম্পিউটার সায়েন্স, দুই বিষয়েই তাঁর পিএইচডি রয়েছে। তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ক্ষতিকর ভাইরাস তৈরির বিষয়টিকে নির্দেশনা ছাড়া লেগো জোড়া লাগানোর সঙ্গে তুলনা করেছেন।

তিনি বলেন, ‘এটা এমন নয় যে সব টুকরো নিজেরাই একটি মডেল তৈরি করে ফেলবে। এখানে কোন অংশ আগে, কোন অংশ পরে, তাপমাত্রা, সময়ের ক্রম, পরিবেশ—সবকিছুর বিষয় আছে। একটি অংশ ঠিক জায়গায় না থাকলে পুরো কাজটাই ভেস্তে যেতে পারে। সফল হওয়ার সম্ভাবনাই কম। তা না হলে ওষুধ তৈরি করা খুব সহজ হয়ে যেত।’

এ ছাড়া কোনো গবেষণাগারের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া কিংবা জৈব বা রাসায়নিক অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহ করতেও এআইকে বাস্তব জগতের নানা বাধা অতিক্রম করতে হবে।

এরিক শিং বলেন, ‘রাসায়নিক অস্ত্র তৈরির নকশা ইন্টারনেটেই প্রকাশ্যে পাওয়া যায়। সেগুলো গোপন কিছু নয়। কিন্তু সেগুলো আমরা সর্বত্র দেখতে পাই না। কারণ বাস্তব জগতের বিদ্যমান আইন, বিধিনিষেধ এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো ইতিমধ্যে এসব সরবরাহব্যবস্থা ও ঝুঁকির বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণে বেশ ভালো কাজ করছে।’

রোবট কি মানুষকে মেরে ফেলবে

সোয়ারেস মনে করেন, ইলন মাস্কের স্বয়ংক্রিয় ও নিজেদের মতো করে আরও রোবট তৈরি করতে সক্ষম রোবটের বাহিনী তৈরির আকাঙ্ক্ষাই মানুষের টিকে থাকার ক্ষেত্রে একটি সম্ভাব্য দুর্বল জায়গা।

তিনি বলেন, ‘আপনি যখন এমন রোবট তৈরি করবেন, যারা নিজেদের শক্তির অবকাঠামো তৈরি করতে পারে, নিজেদের কারখানা বানাতে পারে এবং সেই কারখানায় আরও রোবট তৈরি করতে পারে, তখন এক অর্থে সেটি একটি নতুন যান্ত্রিক জীবনব্যবস্থায় পরিণত হবে।’

সোয়ারেস সতর্ক করে বলেন, ‘একসময় আপনি হয়তো এমন একটি সীমা পার হয়ে যাবেন, যেখান থেকে আর ফিরে আসা সম্ভব নয়। মানুষ যদি তখন এআইকে বন্ধ করতে চায়, এআই হয়তো বলবে, ‘‘আসলে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এবার মানুষকেই বন্ধ করে দেওয়া হবে।’’ সেই পর্যায়ে পৌঁছানোর আগেই থামতে হবে।’

তবে এখন পর্যন্ত ইলন মাস্ক তার বহুল প্রতিশ্রুত অপটিমাস রোবটকে ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী সাধারণ মানুষের বাজারে আনতে বারবার ব্যর্থ হয়েছেন। লাখ লাখ রোবট মোতায়েন করা, কিংবা রোবটগুলোকে নিজেদের মতো করে আরও রোবট তৈরির একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ উৎপাদনব্যবস্থা গড়ে তুলতে দেওয়ার পর্যায় তো আরও দূরের বিষয়।

পারমাণবিক অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ নেবে এআই?

এরপর আসে পারমাণবিক অস্ত্রের প্রশ্ন। পারমাণবিক অস্ত্র ৮০ বছরেরও বেশি সময় ধরে পৃথিবীতে রয়েছে এবং সাধারণভাবে স্বীকৃত যে এগুলো পুরো মানবজাতিকে নিশ্চিহ্ন করার মতো ক্ষমতা রাখে।

এআই কি এসব অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে? খলাফ মনে করিয়ে দেন, পারমাণবিক স্থাপনাগুলো সাধারণত প্রকাশ্য ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন বা ‘এয়ার-গ্যাপড’ থাকে। ফলে এআইয়ের পক্ষে সেগুলোর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় পৌঁছানোর সুযোগ সীমিত।

তিনি বলেন, ‘এসব ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভিন্ন, কঠোর ও নিয়ন্ত্রিত প্রকৌশল মানদণ্ডে তৈরি করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে এগুলোর জন্য শারীরিক নিরাপত্তাব্যবস্থাও থাকে।’

ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় ক্ষতি করা কম্পিউটার ওয়ার্ম ‘স্টাক্সনেট’-এর কথাও তিনি উল্লেখ করেন। সেটিকে ওই সিস্টেমে ঢোকানোর জন্য একটি ফিজিক্যাল ইউএসবি ড্রাইভ ব্যবহার করতে হয়েছিল।

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ গবেষক ও গবেষণা ফেলো এবং বুলেটিন অব দ্য অ্যাটমিক সায়েন্টিস্টের বিজ্ঞান ও নিরাপত্তা বোর্ডের সদস্য হারবার্ট লিন বলেন, ‘এআই জগতের খুব অল্পসংখ্যক মানুষই পারমাণবিক অস্ত্র সম্পর্কে আসলে জানেন বা এ নিয়ে চিন্তা করেন।’

তাঁর মতে, এআই পারমাণবিক যুদ্ধের মতো অস্তিত্বের জন্য হুমকিপূর্ণ ঝুঁকিগুলোকে অবশ্যই বাড়িয়ে দিতে পারে। কিন্তু বাস্তব ঝুঁকিটা এখনো মূলত অস্ত্রগুলোর মধ্যেই রয়েছে, ভবিষ্যতের কোনো কল্পিত অবস্থায় নয়।

আসল ভয় কোথায়

সোয়ারেস এবং এআই নিয়ে সবচেয়ে ভয়াবহ ভবিষ্যদ্বাণী করা অন্য গবেষকদের কাছে কীভাবে কম্পিউটার মানবজাতিকে নিশ্চিহ্ন করতে পারে, তার বিস্তারিত ব্যাখ্যাটা আসলে মূল বিষয় নয়।

তাদের যুক্তি হলো, কোনো এআই যদি একসময় ‘রিকর্সিভ সেলফ-ইমপ্রুভমেন্ট’ বা নিজেকে নিজেই উন্নত করার ক্ষমতা অর্জন করে, তাহলে মানুষের সাহায্য ছাড়াই তার সক্ষমতা বাড়তে থাকবে। আর তখন সে এমন কৌশল ও পদ্ধতি তৈরি করতে পারে, যা মানুষের কল্পনারও বাইরে।

সোয়ারেস বলেন, ‘ভয়ের বিষয়টা এটা নয় যে এআই আমাদের পারমাণবিক অস্ত্র দখল করবে। ভয়টা হলো এমন এক ধরনের এআই, যার পারমাণবিক অস্ত্র দখল করারই প্রয়োজন হবে না। এমন এআই, যা প্রায় শূন্য থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত নিজের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারে, কিংবা তার থেকেও উন্নত প্রযুক্তি তৈরি করতে পারে।’

কোনো বিস্তারিত পরিকল্পনা ছাড়াই মৃত্যু

সোয়ারেসের মতে, এমন অতিমানবীয় ক্ষমতাসম্পন্ন এআইকে মানবজাতি ধ্বংস করার জন্য মানুষের প্রতি বিদ্বেষীও হতে হবে না। তিনি বলেন, ‘যদি পালিয়ে যাওয়া এআইগুলোর কোনো একটি লক্ষ্য থাকে, যা পূরণ করতে আরও বেশি কম্পিউটার চালানো দরকার হয়, আর তারা যদি আমাদের নিয়ে চিন্তা না করে এবং মানুষের জন্য নিরাপদ কোনো আবাস তৈরি করার কোনো কারণ না দেখে, তাহলে স্বাভাবিক পরিণতি হতে পারে এমন একটি পৃথিবী তৈরি করা, যেখানে আমরা টিকে থাকতে পারব না।’

এদিকে, এ সপ্তাহে ওপেনএআই জানিয়েছে, তারা তাদের এআই মডেলগুলোতে নতুন কিছু ‘মিসঅ্যালাইনমেন্ট’ বা লক্ষ্যচ্যুত আচরণের ঘটনা শনাক্ত করেছে। এর মধ্যে এমন একটি ঘটনাও রয়েছে, যেখানে প্রকাশ না করা একটি মডেল নিজেকে তার স্বাভাবিক সীমাবদ্ধতাগুলো ‘উপেক্ষা করার’ নির্দেশ দিয়েছিল।

তবে এরিক শিংয়ের মতে, ভবিষ্যতের এক অজানা ও অতিমানবীয় বুদ্ধিমত্তার শক্তির ওপর নির্ভর করে এআইয়ের ভয়াবহ হুমকিগুলো ব্যাখ্যা করা অনেকটা ‘হাত নেড়ে’ বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার মতো।

তিনি বলেন, ‘সাধারণ আলাপ বা হয়তো কোনো বিতর্কে এটা ঠিক আছে। কিন্তু যখন নীতি, আইন বা নিয়ন্ত্রণের কথা আসে, তখন আমাদের বাস্তব প্রমাণের একটি ধারাবাহিকতা প্রতিষ্ঠা করতে হবে—শারীরিক প্রমাণ, পরিমাপযোগ্য ফলাফল এবং বাস্তব ভিত্তিসম্পন্ন পরিমাপযোগ্য তথ্য।’

লারসেনও সম্ভাব্য ধ্বংসের কিছু দৃশ্যপট বিস্তারিতভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। ‘এআই ২০২৭’ এবং ‘এআই ২০৪০’ নামে দুটি প্রতিবেদনে তিনি ভবিষ্যতে এআইয়ের বিকাশ কোন পথে যেতে পারে, তার বিভিন্ন সম্ভাব্য চিত্র তুলে ধরেছেন।

বর্তমান পথ শেষ পর্যন্ত সুপারইন্টেলিজেন্সের দিকে নিয়ে যাবে—এই ভবিষ্যদ্বাণী নিয়ে তাঁর কোনো সন্দেহ আছে কি না, জানতে চাইলে লারসেন বলেন, ‘এটা ঘটবেই। আমরা যদি ইচ্ছাকৃতভাবে তা থামানোর জন্য পদক্ষেপ না নিই, তাহলে এটা ঘটবেই।’

প্রযুক্তি নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য

লিনের মতে, এআই নিয়ে সর্বনাশের ভবিষ্যদ্বাণী করা মানুষ এবং তাদের সংশয়বাদী সমালোচকদের মধ্যে এই দূরত্বের পেছনে প্রযুক্তি সম্পর্কে তাদের ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিও কাজ করে। তিনি বলেন, ‘কম্পিউটারে প্রোগ্রাম লিখে সেটিকে হঠাৎ জীবন্ত হয়ে উঠতে দেখার মধ্যে এক ধরনের আকর্ষণ আছে।’

‘মনে হয়, আপনি যেন এই মূল্যহীন মাটির স্তূপের মধ্যে প্রাণ ঢুকিয়ে দিতে পেরেছেন। মেশিন যখন শেষ পর্যন্ত আপনার চাওয়া মতো কাজ করতে শুরু করে, সেটি সত্যিই গভীর এক অভিজ্ঞতা।’

লিনের মতে, এআইয়ের দ্রুত ও নাটকীয় উন্নতি দেখার পর মানুষ সহজেই ধরে নিতে পারে যে সামনে উন্নতির সীমাও হয়তো থাকবে না। এমনকি সেই উন্নতি ভয়াবহ পরিণতিও ডেকে আনতে পারে।

তিনি বলেন, ‘আপনি এমন কিছু করতে পেরেছেন, যা এর আগে কেউ করতে পারেনি। তাই এরপর কী ঘটতে পারে, তা নিয়ে সীমাহীন সম্ভাবনা দেখতে পাওয়া সহজ। কেন এসব মানুষ এভাবে আকৃষ্ট হয়েছেন, সেটা বোঝা কঠিন নয়।’

(সিএনএন থেকে নেওয়া। ইংরেজি থেকে অনুবাদ করেছেন মাহজাবিন নাফিসা)

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত