মাহবুবুল আলম তারেক

দুই বছর আগেও বাংলাদেশের অর্থনীতির সবচেয়ে বড় উদ্বেগ ছিল বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, ডলারের সংকট এবং আমদানি ব্যয়। এখন সেই তালিকার শীর্ষে রয়েছে মূল্যস্ফীতি। দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে, অন্যদিকে উচ্চ সুদহারের কারণে নতুন বিনিয়োগে আগ্রহ হারিয়েছে ব্যবসায়ীরা। অর্থাৎ একদিকে ভোক্তা, অন্যদিকে উদ্যোক্তা—দুই পক্ষই চাপে।
এই বাস্তবতায় বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথমার্ধের (জুলাই-ডিসেম্বর) নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে। নতুন নীতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একদিকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে, অন্যদিকে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়াতে ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ প্রণোদনা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। অর্থাৎ এক হাত দিয়ে অর্থনীতিকে কিছুটা ‘ব্রেক’ করা হচ্ছে, আবার অন্য হাত দিয়ে ‘অ্যাক্সিলারেটর’ও চাপা হচ্ছে।
কিন্তু প্রশ্ন হলো—এই দুই লক্ষ্য কি একসঙ্গে অর্জন করা সম্ভব? নতুন মুদ্রানীতি কি মূল্যস্ফীতি কমাবে, নাকি উচ্চ সুদহার অর্থনীতির পুনরুদ্ধারকে আরও ধীর করে দেবে?
সহজ ভাষায় বললে, একটি দেশের অর্থনীতিতে কত টাকা প্রবাহিত হবে, ব্যাংক কত সুদে ঋণ দেবে, সরকার ও বেসরকারি খাতে ঋণ কতটা বাড়বে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে—এসবের রূপরেখাই হলো মুদ্রানীতি।
বাংলাদেশ ব্যাংক বছরে দুইবার এই নীতি ঘোষণা করে। এর মূল উদ্দেশ্য দুটি—মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগে সহায়তা করা। কিন্তু বাস্তবে এই দুই লক্ষ্য প্রায়ই পরস্পরের বিপরীতমুখী হয়ে দাঁড়ায়।
কারণ মূল্যস্ফীতি কমাতে সুদের হার বাড়াতে হয়। এতে ঋণ নেওয়া ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে। ফলে ব্যবসায়ীরা কম বিনিয়োগ করেন। আবার সুদের হার কমালে বিনিয়োগ বাড়ে, কিন্তু বাজারে টাকার প্রবাহও বাড়ে, যা মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দিতে পারে। অর্থাৎ কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সব সময় দুই বিপরীতমুখী লক্ষ্য সামলাতে হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, বর্তমান মূল্যস্ফীতি কেবল অতিরিক্ত চাহিদার কারণে হয়নি। বরং এর পেছনে রয়েছে একাধিক দেশীয় ও আন্তর্জাতিক কারণ।
এর মধ্যে রয়েছে—রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, জ্বালানি তেলের উচ্চ মূল্য, টাকার অবমূল্যায়ন, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা, বাজারে সিন্ডিকেট ও অদক্ষ বাজার ব্যবস্থাপনা।
অর্থাৎ মূল্যস্ফীতির বড় অংশই সাপ্লাই সাইড ইনফ্লেশন বা সরবরাহজনিত।
এ কারণেই বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, শুধু সুদের হার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। বাজার ব্যবস্থাপনা, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং সরকারের নীতিগত উদ্যোগও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের যুক্তি হলো, মূল্যস্ফীতি এখনও ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ। এই পরিস্থিতিতে নীতিসুদ কমালে বাজারে টাকার সরবরাহ আরও বাড়বে। এতে মূল্যস্ফীতি আবারও ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, বর্তমান ১০ শতাংশ নীতিসুদ অন্তত মূল্যস্ফীতিকে আরও বাড়তে দেয়নি। একই সঙ্গে এটি বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতেও ভূমিকা রেখেছে। অর্থাৎ বাংলাদেশ ব্যাংক এখনো মূল্যস্ফীতিকে অর্থনীতির সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখছে।
এই প্রশ্নের উত্তর অনেকটাই ‘হ্যাঁ’। উচ্চ সুদহারের কারণে নতুন শিল্প স্থাপন, কারখানা সম্প্রসারণ কিংবা বড় বিনিয়োগের খরচ বেড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজের তথ্যই বলছে, চলতি বছরের মে মাস শেষে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে মাত্র ৫ শতাংশে, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে অন্যতম সর্বনিম্ন। অর্থাৎ উদ্যোক্তারা নতুন ঋণ নিচ্ছেন না, আবার ব্যাংকগুলোও ঝুঁকি নিয়ে ঋণ দিতে আগ্রহী নয়। ফলে ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত অর্থ উৎপাদনশীল খাতে না গিয়ে সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ হচ্ছে। এ কারণেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক বেসরকারি ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ নির্ধারণ করেছে।
প্রথম দেখায় বিষয়টি কিছুটা পরস্পরবিরোধী মনে হতে পারে। একদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, মূল্যস্ফীতি কমাতে টাকার সরবরাহ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। তাই নীতিসুদ ১০ শতাংশেই রাখা হয়েছে। অন্যদিকে আবার ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি বিশাল প্রণোদনা তহবিল ঘোষণা করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাখ্যা হলো, এই অর্থ সাধারণ ভোগব্যয়ের জন্য নয়। এটি সরাসরি উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ হবে। অর্থাৎ শিল্প, কৃষি এবং কুটির, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (সিএমএসএমই) কাছে ঋণ হিসেবে যাবে। এসব খাতে উৎপাদন বাড়লে বাজারে পণ্যের সরবরাহও বাড়বে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে মূল্যস্ফীতির চাপ কমতে পারে।
এ ছাড়া এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় ২৫ লাখ মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো, এই ঋণ বাজারদরের সুদে দেওয়া হবে না। ডেপুটি গভর্নর ড. হাবিবুর রহমান জানান, ভর্তুকিযুক্ত বা তুলনামূলক কম সুদে ঋণ দেওয়া হবে, যাতে উদ্যোক্তাদের উৎপাদন ব্যয় কমে এবং শিল্প খাত দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারে।
নতুন মুদ্রানীতির পরপরই সবচেয়ে কঠোর প্রতিক্রিয়া এসেছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) থেকে। ডিসিসিআইর মতে, গত চার বছর ধরে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অনুসরণ করেও মূল্যস্ফীতি কমেনি। তাই উচ্চ নীতিসুদের কারণে ব্যবসায়িক ঋণের ব্যয় বাড়ছে এবং জাতীয় বাজটে দেওয়া বিনিয়োগ-প্রণোদনার সুফলও সীমিত হয়ে পড়তে পারে।
ডিসিসিআই আরও বলেছে, শুধু তহবিল ঘোষণা করলেই হবে না; এর বাস্তবায়নই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ অতীতের অনেক পুনঃঅর্থায়ন তহবিল কাগজে-কলমে থাকলেও প্রকৃত ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা সেগুলোর সুবিধা পাননি। তাই এবার সহজ শর্ত, কম কাগজপত্র এবং দ্রুত অনুমোদনের মাধ্যমে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তাদের কাছে অর্থ পৌঁছাতে হবে।
ব্যবসায়ী সংগঠনটির মতে, ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরুজ্জীবিত করা যেমন জরুরি, তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো যেসব প্রতিষ্ঠান এখনও টিকে আছে কিন্তু বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া। তাদের ভাষায়, আর্থিক ও মুদ্রানীতির মধ্যে আরও সমন্বয় প্রয়োজন।
নতুন মুদ্রানীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হলো বাজারনির্ধারিত বিনিময় হার ব্যবস্থা বহাল রাখা। একসময় বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিত ডলারের দাম নিয়ন্ত্রণ করত। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধীরে ধীরে বাজারভিত্তিক ব্যবস্থায় এসেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, কৃত্রিমভাবে বিনিময় হার ধরে রাখলে রপ্তানিকারকরা ক্ষতিগ্রস্ত হন, প্রবাসীরা বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে নিরুৎসাহিত হন এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ বাড়ে।
তাই এখন লক্ষ্য হলো—বাজারের চাহিদা ও জোগানের ভিত্তিতে বিনিময় হার নির্ধারিত হবে। এতে রপ্তানি প্রতিযোগিতা বাড়বে, বৈধ পথে রেমিট্যান্স আসবে এবং বৈদেশিক খাত আরও স্থিতিশীল হবে।
তবে এর ঝুঁকিও আছে। টাকার মান আরও কমে গেলে আমদানি ব্যয় বাড়তে পারে, যা আবার মূল্যস্ফীতিতে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। ফলে বাংলাদেশ ব্যাংককে একদিকে বিনিময় হার, অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি—দুই দিকেই সতর্ক নজর রাখতে হবে।
নতুন মুদ্রানীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ব্যাংক খাতের সংস্কার। গত কয়েক বছরে খেলাপি ঋণ, দুর্বল ব্যাংকের সংখ্যা বৃদ্ধি, আমানতকারীদের আস্থার সংকট এবং আর্থিক অনিয়ম ব্যাংকিং খাতকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
এ কারণে নতুন মুদ্রানীতিতে খেলাপি ঋণ কমাতে আগামী ১৮ মাসের একটি কর্মপরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। এর অংশ হিসেবে প্রথম ছয় মাসে বিশেষ 'বুলেট পেমেন্ট এক্সিট পলিসি' বাস্তবায়নের মাধ্যমে খেলাপি ঋণ পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ডিপোজিট প্রোটেকশন আইন, ডিস্ট্রেসড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট আইন (ডিএএমএ) এবং অর্থঋণ আদালত আইনের সংস্কারের মাধ্যমে ঋণ আদায় দ্রুততর করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানায়, পাচার করা অর্থ উদ্ধারে গঠিত টাস্কফোর্স কাজ করছে এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খেলাপি ঋণ ও আর্থিক অনিয়মের ক্ষেত্রে বিশেষ নিরীক্ষা জোরদার করা হয়েছে এবং অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে আশাবাদী হলেও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা, টাকার অবমূল্যায়ন, দুর্বল বিনিয়োগ এবং উচ্চ খেলাপি ঋণকে আগামী দিনের প্রধান ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। একই সঙ্গে উচ্চ সুদহার ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তার কারণে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জনও চ্যালেঞ্জিং হবে বলে মনে করছে। ফলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই হবে নতুন মুদ্রানীতির সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
মুদ্রানীতির অনেক বিষয়ই সাধারণ মানুষের কাছে জটিল মনে হতে পারে। কিন্তু এর প্রভাব পড়ে প্রায় প্রতিটি পরিবারে।
নতুন মুদ্রানীতির মাধ্যমে যদি মূল্যস্ফীতি ধীরে ধীরে কমে আসে, তাহলে চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে সুদের হার ভবিষ্যতে কমার পরিবেশ তৈরি হতে পারে।
আবার ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা যদি সত্যিই উৎপাদনমুখী খাতে পৌঁছে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়, তাহলে শিল্প ও কৃষিতে গতি ফিরতে পারে। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে কর্মসংস্থান, রপ্তানি এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে।
শেষ পর্যন্ত এই মুদ্রানীতির সফলতা নির্ভর করবে তিনটি বিষয়ের ওপর—মূল্যস্ফীতি কতটা কমে, প্রণোদনার অর্থ প্রকৃত উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছায় কি না এবং ব্যাংক খাতের সংস্কার কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়। এই তিন ক্ষেত্রেই সাফল্য এলে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসা, উভয়ই এর সুফল পাবে।

দুই বছর আগেও বাংলাদেশের অর্থনীতির সবচেয়ে বড় উদ্বেগ ছিল বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, ডলারের সংকট এবং আমদানি ব্যয়। এখন সেই তালিকার শীর্ষে রয়েছে মূল্যস্ফীতি। দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে, অন্যদিকে উচ্চ সুদহারের কারণে নতুন বিনিয়োগে আগ্রহ হারিয়েছে ব্যবসায়ীরা। অর্থাৎ একদিকে ভোক্তা, অন্যদিকে উদ্যোক্তা—দুই পক্ষই চাপে।
এই বাস্তবতায় বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথমার্ধের (জুলাই-ডিসেম্বর) নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে। নতুন নীতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একদিকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে, অন্যদিকে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়াতে ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ প্রণোদনা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। অর্থাৎ এক হাত দিয়ে অর্থনীতিকে কিছুটা ‘ব্রেক’ করা হচ্ছে, আবার অন্য হাত দিয়ে ‘অ্যাক্সিলারেটর’ও চাপা হচ্ছে।
কিন্তু প্রশ্ন হলো—এই দুই লক্ষ্য কি একসঙ্গে অর্জন করা সম্ভব? নতুন মুদ্রানীতি কি মূল্যস্ফীতি কমাবে, নাকি উচ্চ সুদহার অর্থনীতির পুনরুদ্ধারকে আরও ধীর করে দেবে?
সহজ ভাষায় বললে, একটি দেশের অর্থনীতিতে কত টাকা প্রবাহিত হবে, ব্যাংক কত সুদে ঋণ দেবে, সরকার ও বেসরকারি খাতে ঋণ কতটা বাড়বে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে—এসবের রূপরেখাই হলো মুদ্রানীতি।
বাংলাদেশ ব্যাংক বছরে দুইবার এই নীতি ঘোষণা করে। এর মূল উদ্দেশ্য দুটি—মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগে সহায়তা করা। কিন্তু বাস্তবে এই দুই লক্ষ্য প্রায়ই পরস্পরের বিপরীতমুখী হয়ে দাঁড়ায়।
কারণ মূল্যস্ফীতি কমাতে সুদের হার বাড়াতে হয়। এতে ঋণ নেওয়া ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে। ফলে ব্যবসায়ীরা কম বিনিয়োগ করেন। আবার সুদের হার কমালে বিনিয়োগ বাড়ে, কিন্তু বাজারে টাকার প্রবাহও বাড়ে, যা মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দিতে পারে। অর্থাৎ কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সব সময় দুই বিপরীতমুখী লক্ষ্য সামলাতে হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, বর্তমান মূল্যস্ফীতি কেবল অতিরিক্ত চাহিদার কারণে হয়নি। বরং এর পেছনে রয়েছে একাধিক দেশীয় ও আন্তর্জাতিক কারণ।
এর মধ্যে রয়েছে—রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, জ্বালানি তেলের উচ্চ মূল্য, টাকার অবমূল্যায়ন, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা, বাজারে সিন্ডিকেট ও অদক্ষ বাজার ব্যবস্থাপনা।
অর্থাৎ মূল্যস্ফীতির বড় অংশই সাপ্লাই সাইড ইনফ্লেশন বা সরবরাহজনিত।
এ কারণেই বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, শুধু সুদের হার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। বাজার ব্যবস্থাপনা, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং সরকারের নীতিগত উদ্যোগও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের যুক্তি হলো, মূল্যস্ফীতি এখনও ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ। এই পরিস্থিতিতে নীতিসুদ কমালে বাজারে টাকার সরবরাহ আরও বাড়বে। এতে মূল্যস্ফীতি আবারও ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, বর্তমান ১০ শতাংশ নীতিসুদ অন্তত মূল্যস্ফীতিকে আরও বাড়তে দেয়নি। একই সঙ্গে এটি বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতেও ভূমিকা রেখেছে। অর্থাৎ বাংলাদেশ ব্যাংক এখনো মূল্যস্ফীতিকে অর্থনীতির সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখছে।
এই প্রশ্নের উত্তর অনেকটাই ‘হ্যাঁ’। উচ্চ সুদহারের কারণে নতুন শিল্প স্থাপন, কারখানা সম্প্রসারণ কিংবা বড় বিনিয়োগের খরচ বেড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজের তথ্যই বলছে, চলতি বছরের মে মাস শেষে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে মাত্র ৫ শতাংশে, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে অন্যতম সর্বনিম্ন। অর্থাৎ উদ্যোক্তারা নতুন ঋণ নিচ্ছেন না, আবার ব্যাংকগুলোও ঝুঁকি নিয়ে ঋণ দিতে আগ্রহী নয়। ফলে ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত অর্থ উৎপাদনশীল খাতে না গিয়ে সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ হচ্ছে। এ কারণেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক বেসরকারি ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ নির্ধারণ করেছে।
প্রথম দেখায় বিষয়টি কিছুটা পরস্পরবিরোধী মনে হতে পারে। একদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, মূল্যস্ফীতি কমাতে টাকার সরবরাহ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। তাই নীতিসুদ ১০ শতাংশেই রাখা হয়েছে। অন্যদিকে আবার ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি বিশাল প্রণোদনা তহবিল ঘোষণা করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাখ্যা হলো, এই অর্থ সাধারণ ভোগব্যয়ের জন্য নয়। এটি সরাসরি উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ হবে। অর্থাৎ শিল্প, কৃষি এবং কুটির, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (সিএমএসএমই) কাছে ঋণ হিসেবে যাবে। এসব খাতে উৎপাদন বাড়লে বাজারে পণ্যের সরবরাহও বাড়বে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে মূল্যস্ফীতির চাপ কমতে পারে।
এ ছাড়া এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় ২৫ লাখ মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো, এই ঋণ বাজারদরের সুদে দেওয়া হবে না। ডেপুটি গভর্নর ড. হাবিবুর রহমান জানান, ভর্তুকিযুক্ত বা তুলনামূলক কম সুদে ঋণ দেওয়া হবে, যাতে উদ্যোক্তাদের উৎপাদন ব্যয় কমে এবং শিল্প খাত দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারে।
নতুন মুদ্রানীতির পরপরই সবচেয়ে কঠোর প্রতিক্রিয়া এসেছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) থেকে। ডিসিসিআইর মতে, গত চার বছর ধরে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অনুসরণ করেও মূল্যস্ফীতি কমেনি। তাই উচ্চ নীতিসুদের কারণে ব্যবসায়িক ঋণের ব্যয় বাড়ছে এবং জাতীয় বাজটে দেওয়া বিনিয়োগ-প্রণোদনার সুফলও সীমিত হয়ে পড়তে পারে।
ডিসিসিআই আরও বলেছে, শুধু তহবিল ঘোষণা করলেই হবে না; এর বাস্তবায়নই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ অতীতের অনেক পুনঃঅর্থায়ন তহবিল কাগজে-কলমে থাকলেও প্রকৃত ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা সেগুলোর সুবিধা পাননি। তাই এবার সহজ শর্ত, কম কাগজপত্র এবং দ্রুত অনুমোদনের মাধ্যমে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তাদের কাছে অর্থ পৌঁছাতে হবে।
ব্যবসায়ী সংগঠনটির মতে, ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরুজ্জীবিত করা যেমন জরুরি, তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো যেসব প্রতিষ্ঠান এখনও টিকে আছে কিন্তু বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া। তাদের ভাষায়, আর্থিক ও মুদ্রানীতির মধ্যে আরও সমন্বয় প্রয়োজন।
নতুন মুদ্রানীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হলো বাজারনির্ধারিত বিনিময় হার ব্যবস্থা বহাল রাখা। একসময় বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিত ডলারের দাম নিয়ন্ত্রণ করত। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধীরে ধীরে বাজারভিত্তিক ব্যবস্থায় এসেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, কৃত্রিমভাবে বিনিময় হার ধরে রাখলে রপ্তানিকারকরা ক্ষতিগ্রস্ত হন, প্রবাসীরা বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে নিরুৎসাহিত হন এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ বাড়ে।
তাই এখন লক্ষ্য হলো—বাজারের চাহিদা ও জোগানের ভিত্তিতে বিনিময় হার নির্ধারিত হবে। এতে রপ্তানি প্রতিযোগিতা বাড়বে, বৈধ পথে রেমিট্যান্স আসবে এবং বৈদেশিক খাত আরও স্থিতিশীল হবে।
তবে এর ঝুঁকিও আছে। টাকার মান আরও কমে গেলে আমদানি ব্যয় বাড়তে পারে, যা আবার মূল্যস্ফীতিতে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। ফলে বাংলাদেশ ব্যাংককে একদিকে বিনিময় হার, অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি—দুই দিকেই সতর্ক নজর রাখতে হবে।
নতুন মুদ্রানীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ব্যাংক খাতের সংস্কার। গত কয়েক বছরে খেলাপি ঋণ, দুর্বল ব্যাংকের সংখ্যা বৃদ্ধি, আমানতকারীদের আস্থার সংকট এবং আর্থিক অনিয়ম ব্যাংকিং খাতকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
এ কারণে নতুন মুদ্রানীতিতে খেলাপি ঋণ কমাতে আগামী ১৮ মাসের একটি কর্মপরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। এর অংশ হিসেবে প্রথম ছয় মাসে বিশেষ 'বুলেট পেমেন্ট এক্সিট পলিসি' বাস্তবায়নের মাধ্যমে খেলাপি ঋণ পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ডিপোজিট প্রোটেকশন আইন, ডিস্ট্রেসড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট আইন (ডিএএমএ) এবং অর্থঋণ আদালত আইনের সংস্কারের মাধ্যমে ঋণ আদায় দ্রুততর করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানায়, পাচার করা অর্থ উদ্ধারে গঠিত টাস্কফোর্স কাজ করছে এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খেলাপি ঋণ ও আর্থিক অনিয়মের ক্ষেত্রে বিশেষ নিরীক্ষা জোরদার করা হয়েছে এবং অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে আশাবাদী হলেও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা, টাকার অবমূল্যায়ন, দুর্বল বিনিয়োগ এবং উচ্চ খেলাপি ঋণকে আগামী দিনের প্রধান ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। একই সঙ্গে উচ্চ সুদহার ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তার কারণে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জনও চ্যালেঞ্জিং হবে বলে মনে করছে। ফলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই হবে নতুন মুদ্রানীতির সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
মুদ্রানীতির অনেক বিষয়ই সাধারণ মানুষের কাছে জটিল মনে হতে পারে। কিন্তু এর প্রভাব পড়ে প্রায় প্রতিটি পরিবারে।
নতুন মুদ্রানীতির মাধ্যমে যদি মূল্যস্ফীতি ধীরে ধীরে কমে আসে, তাহলে চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে সুদের হার ভবিষ্যতে কমার পরিবেশ তৈরি হতে পারে।
আবার ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা যদি সত্যিই উৎপাদনমুখী খাতে পৌঁছে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়, তাহলে শিল্প ও কৃষিতে গতি ফিরতে পারে। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে কর্মসংস্থান, রপ্তানি এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে।
শেষ পর্যন্ত এই মুদ্রানীতির সফলতা নির্ভর করবে তিনটি বিষয়ের ওপর—মূল্যস্ফীতি কতটা কমে, প্রণোদনার অর্থ প্রকৃত উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছায় কি না এবং ব্যাংক খাতের সংস্কার কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়। এই তিন ক্ষেত্রেই সাফল্য এলে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসা, উভয়ই এর সুফল পাবে।
.png)

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির দক্ষিণাঞ্চলের একটি জরাজীর্ণ বস্তিতে তীব্র গরমের মধ্যে দুই নারী বাড়ি বাড়ি ঘুরে তথ্য সংগ্রহ করছিলেন। বিকেলের তাপমাত্রা তখন প্রায় ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। খোলা নর্দমার পাশ দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে তারা ঘাম মুছছিলেন এবং রোদ ও দুর্গন্ধ থেকে বাঁচতে পাতলা ওড়না ব্যবহার করছিলেন।
১ ঘণ্টা আগে
বিশ্বব্যাংক তাদের দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক শ্রেণিবিন্যাসে বড় পরিবর্তন এনেছে। ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়া এই পুনর্বিন্যাসে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানকে দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চল থেকে সরিয়ে ‘মিডল ইস্ট, নর্থ আফ্রিকা, আফগানিস্তান অ্যান্ড পাকিস্তান (মেনাপ)’ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
৩ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বহাল রেখেছে। দীর্ঘদিনের এই সাংবিধানিক অধিকার অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া প্রায় সব শিশুই স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
৪ ঘণ্টা আগে
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিকে ঘিরে শুরু হয়েছে এক নতুন স্নায়ুযুদ্ধ, যেখানে মুখোমুখি বিশ্বের দুই পরাশক্তি—যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। প্রথম নজরে এটি উন্নত চ্যাটবট বা আরও স্মার্ট সফটওয়্যার তৈরির প্রতিযোগিতা বলে মনে হতে পারে। কিন্তু বাস্তবতা অনেক গভীর।
২১ ঘণ্টা আগে