যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল-ইরান যুদ্ধে কে জিতল

প্রকাশ : ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৩: ২৮
স্ট্রিম গ্রাফিক

প্রায় ছয় সপ্তাহের তীব্র সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি শর্তসাপেক্ষ দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। এই সংঘাতে হাজারো মানুষের প্রাণহানি ঘটে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়।

এই যুদ্ধবিরতি হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা এবং ভবিষ্যৎ আলোচনার সঙ্গে সম্পর্কিত। এর ফলে সরাসরি সামরিক সংঘর্ষ আপাতত বন্ধ হয়েছে। পরবর্তী আলোচনা পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ১০ এপ্রিলের মধ্যেই শুরু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে যুদ্ধের মূল প্রশ্ন—এই সংঘাতে প্রকৃত বিজয়ী কে, তা এখনো অনির্ধারিত রয়ে গেছে। দুপক্ষই বিজয় দাবি করলেও বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত উত্তর হলো—কোনো পক্ষই স্পষ্টভাবে বিজয় অর্জন করতে পারেনি। কারণ বিষয়টি আরও জটিল ও বহুমাত্রিক।

বিশ্লেষকদের অধিকাংশের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা, নৌবাহিনী এবং পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর উল্লেখযোগ্য সামরিক ক্ষতি করতে সক্ষম হয়েছে। তবে তারা শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে পারেনি এবং ইরানকে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণে বাধ্য করতেও ব্যর্থ হয়েছে।

অন্যদিকে, ইরান এই আক্রমণ সহ্য করেছে এবং অসম যুদ্ধ কৌশল ও হরমুজ প্রণালি অবরোধের মাধ্যমে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে দেশটি তাদের শাসনব্যবস্থা অক্ষুণ্ন রেখেছে এবং কূটনৈতিক দরকষাকষির সক্ষমতা অর্জন করেছে।

এই সংঘাতের বৈশ্বিক প্রভাব ও অর্থনৈতিক ধাক্কা ছিল ব্যাপক। তাই বিশ্লেষকদের মতে, যদি কোনো পক্ষকে স্পষ্টভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বলতেই হয়, তবে তা হলো বৈশ্বিক ব্যবস্থা নিজেই। যুদ্ধের ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে। তেল, গ্যাস এবং সারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হয়।

যুদ্ধক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সামরিক প্রাধান্য

যুদ্ধক্ষেত্রের দৃষ্টিকোণ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সামরিকভাবে এগিয়ে ছিল। প্রচলিত সামরিক মূল্যায়নে দেখা যায়, এই জোট সংঘাতে প্রাধান্য বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছে।

সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) বিশ্লেষণ অনুযায়ী, হামলার পর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ প্রায় ৯০ শতাংশ কমে যায়। একই সঙ্গে ২৫০ জনের বেশি ইরানি নেতা নিহত হন এবং দেশটির সামরিক অবকাঠামোর বড় অংশ ধ্বংস হয়ে যায়।

সিএসআইএস-এর মূল্যায়নে বলা হয়েছে, প্রচলিত সামরিক পরিমাপে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ভালো অবস্থানে রয়েছে। এছাড়া ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং তাদের নৌ ও আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রচলিত যুদ্ধের দৃষ্টিকোণ থেকে এই পরিস্থিতিকে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের জন্য একটি কৌশলগত বিজয় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই ফলাফলকে ‘সম্পূর্ণ এবং পূর্ণাঙ্গ বিজয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক লক্ষ্য পূরণ হয়েছে এবং এই চুক্তি ভবিষ্যতে একটি বৃহত্তর শান্তি চুক্তির পথ তৈরি করেছে।

তবে, কুইন্সি ইনস্টিটিউটের ট্রিটা পারসি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে কার্যকর বিকল্প ছিল না এবং বৃহত্তর যুদ্ধ শুরু হলে তা তার প্রেসিডেন্সির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতো। তিনি আরও উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পূর্বের চুক্তি লঙ্ঘনের ইতিহাস বিবেচনায় ইরানের জন্য যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়া সহজ ছিল না। তার মতে, বর্তমান আলোচনা ইরানের তুলনামূলকভাবে ‘আরও গ্রহণযোগ্য’ ১০ দফা পরিকল্পনার ভিত্তিতে এগোচ্ছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জন্যও বর্তমান যুদ্ধবিরতি একটি রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইসরায়েলের বিরোধীদলীয় নেতা ইয়াইর লাপিদ বলেছেন, ‘আমাদের ইতিহাসে এমন কূটনৈতিক বিপর্যয় আর কখনো ঘটেনি।’

বিবিসির নর্থ আমেরিকা প্রতিবেদক অ্যান্থনি জুরখার সতর্ক করে বলেছেন, এই দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি স্থায়ী শান্তিতে রূপ নিলেও এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ভিন্ন হতে পারে। তার মতে, ইরান যুদ্ধ এবং ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে যুক্তরাষ্ট্রকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি মৌলিকভাবে বদলে দিতে পারে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, একসময় যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করত। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই অবস্থান পরিবর্তিত হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র এখন এমন এক ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ভিত্তিকেই নাড়িয়ে দিচ্ছে।

ইরান এই ফলাফলকে ‘ঐতিহাসিক বিজয়’ হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য এটিকে ‘চূড়ান্ত পরাজয়’ বলে দাবি করেছে। ইরানি কর্মকর্তারা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ১০ দফা পরিকল্পনাকে আলোচনার ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছে।

কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনে সীমাবদ্ধতা

তবে যুদ্ধের ফলাফল নির্ধারণে শুধু সামরিক ক্ষয়ক্ষতি বিবেচ্য নয়; রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এই দৃষ্টিকোণ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বেশ কিছু লক্ষ্য পূরণ হয়নি।

এই দুই দেশ যুদ্ধ শুরু করেছিল বৃহত্তর কৌশলগত উদ্দেশ্য নিয়ে। তাদের লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি স্থায়ীভাবে বন্ধ করা, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরানের আঞ্চলিক প্রক্সি নেটওয়ার্কগুলো দুর্বল করা এবং ইসলামি শাসনব্যবস্থা উৎখাত করা।

কিন্তু এসব লক্ষ্য এখনো অনেকাংশে অপূর্ণ রয়ে গেছে। সিএসআইএস স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে যে ইরানে শাসনব্যবস্থা ও সরকার পরিবর্তন ঘটেনি।

যুদ্ধের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব হারানোর পরও ইরানের রাজনৈতিক কাঠামো টিকে আছে এবং ইসলামি রিপাবলিকের রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

বর্তমান যুদ্ধবিরতিকেও এই সীমাবদ্ধতার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে পারেনি। বরং ইরানের প্রস্তাবিত কাঠামোর ভিত্তিতে আলোচনার মাধ্যমে একটি বিরতিতে সম্মত হতে হয়েছে।

ইরান এই ফলাফলকে ‘ঐতিহাসিক বিজয়’ হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য এটিকে ‘চূড়ান্ত পরাজয়’ বলে দাবি করেছে। ইরানি কর্মকর্তারা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ১০ দফা পরিকল্পনাকে আলোচনার ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছে।

ইরানের ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফ ঘোষণা দিয়েছেন যে, ‘ইরানের যুগ শুরু হয়েছে।’ একই সঙ্গে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা শাসনব্যবস্থার টিকে থাকা এবং ইরানের শর্তে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু হওয়াকে উদযাপন করেছেন। তেহরানে সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদযাপনের দৃশ্য দেখা গেছে।

জার্মান সামরিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক কার্লো মাসালা মনে করেন, যুদ্ধবিরতির শর্তগুলো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি কৌশলগত পরাজয় নির্দেশ করে। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সর্বোচ্চ দাবিগুলো থেকে সরে এসেছে, কিন্তু ইরানের পারমাণবিক বা ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে স্থায়ী কোনো ছাড় আদায় করতে পারেনি।

ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের আঞ্চলিক পরিচালক প্রতিভা ঠাকের বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিকে কোনো স্থায়ী সমাধান হিসেবে দেখা উচিত নয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো উভয় পক্ষের মধ্যে গভীর আস্থার সংকট বিদ্যমান। তার ভাষায়, এই ‘ডিপ ট্রাস্ট ডেফিসিট’ বা গভীর বিশ্বাসের ঘাটতি ভবিষ্যৎ আলোচনাকে জটিল করে তুলতে পারে। এই আস্থার অভাব ভবিষ্যতে স্থায়ী সমাধানের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

ইরানের কৌশলগত টিকে থাকা

সংঘাতে ইরান সামরিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হলেও পুরোপুরি পরাজিত হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের কৌশল ছিল সরাসরি বিজয় অর্জন নয়; বরং টিকে থাকা, প্রতিপক্ষকে ক্ষতির মুখে ফেলা এবং দীর্ঘমেয়াদে চাপ সহ্য করা। এই কৌশল সফল হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ইরান সংঘাতের মধ্যেও তাদের শাসনব্যবস্থার স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটি তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির কিছু অংশ সংরক্ষণ করেছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে কৌশলগত প্রভাব বজায় রেখেছে।

নীতিনির্ধারণী আলোচনায় উদ্ধৃত এক মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ এই পরিস্থিতিকে এমনভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যে, ইরানের লক্ষ্য ছিল বোমা হামলার মধ্যেও টিকে থাকা এবং প্রতিরোধ ক্ষমতা পুনর্গঠন করা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ইরান বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব বিস্তারের সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করে দেশটি তেলের দামে বড় ধরনের ঊর্ধ্বগতি সৃষ্টি করে এবং আন্তর্জাতিক অস্থিরতা বাড়িয়ে তোলে। এর ফলে সামরিক ক্ষতির পরও তেহরান কৌশলগত দরকষাকষির ক্ষমতা অর্জন করে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে আলোচনার টেবিলে আসতে বাধ্য করে।

চ্যাথাম হাউসসহ বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান শুরু থেকেই উল্লেখ করেছে যে ইরানের জন্য এই সংঘাতে টিকে থাকাই এক ধরনের বিজয় হিসেবে বিবেচিত। অন্য বিশ্লেষকরা মনে করেন, ইরানের ভৌগোলিক অবস্থান, অসম যুদ্ধ কৌশল এবং দীর্ঘমেয়াদি চাপ সহ্য করার সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে কঠিন করে তুলেছে।

নাজুক যুদ্ধবিরতি ও পরস্পরবিরোধী দাবি

বর্তমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিকে বিশ্লেষকরা সাময়িক ও শর্তসাপেক্ষ হিসেবে দেখছেন। এটি ইরানের হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর ওপর নির্ভরশীল। একই সঙ্গে পারমাণবিক নীতিসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে।

কিছু অঞ্চলে ইতিমধ্যে সহিংসতা পুনরায় শুরু হওয়ার ঘটনাও লক্ষ করা গেছে। ইসরায়েল লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে স্থল অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ফলে এই যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।

বিজনেস ইনসাইডারের এক ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই যুদ্ধবিরতি মূলত একটি কৌশলগত বিরতি, স্থায়ী শান্তি নয়। অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয়ের জেসিকা জেনাওয়ার বলেছেন, এই চুক্তি কেবল সংঘাতের সাময়িক বিরতি দিয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়।

আরেক বিশেষজ্ঞ সতর্ক করে বলেছেন, যদি আলোচনায় অগ্রগতি না হয়, তবে এই বিরতি উভয় পক্ষকে পুনরায় শক্তি সঞ্চয়ের সুযোগ করে দিতে পারে। শেষ পর্যন্ত, এই যুদ্ধবিরতি স্থায়ী সমাধানের পথে এগোবে নাকি ভবিষ্যতের আরেকটি সংঘাতের আগে সাময়িক বিরতি হিসেবে কাজ করবে, তা নির্ধারিত হবে আসন্ন কূটনৈতিক আলোচনার ফলাফলের ওপর।

ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের আঞ্চলিক পরিচালক প্রতিভা ঠাকের বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিকে কোনো স্থায়ী সমাধান হিসেবে দেখা উচিত নয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো উভয় পক্ষের মধ্যে গভীর আস্থার সংকট বিদ্যমান। তার ভাষায়, এই ‘ডিপ ট্রাস্ট ডেফিসিট’ বা গভীর বিশ্বাসের ঘাটতি ভবিষ্যৎ আলোচনাকে জটিল করে তুলতে পারে। এই আস্থার অভাব ভবিষ্যতে স্থায়ী সমাধানের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

অধিকাংশ বিশেষজ্ঞ এই পরিস্থিতিকে কৌশলগত অচলাবস্থা বা সীমিত সামরিক সাফল্যের বিনিময়ে অর্জিত একটি ব্যয়বহুল ফলাফল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এই বিবেচনায় বলা যায়, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত আপাতত কোনো স্পষ্ট বিজয় নয়; বরং একটি নাজুক যুদ্ধবিরতির মধ্যে অচলাবস্থায় শেষ হয়েছে।

তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা, বিবিসি, রয়টার্স, দ্য গার্ডিয়ান, নিউইয়র্ক টাইমস, ফরেইন পলিসি, ফরেইন অ্যাফেয়ার্স, এপি, চ্যাথাম হাউস

সম্পর্কিত