গল্প
অলাত এহ্সান

খরগোশটা নদীর পাড়ে দাঁড়াতেই জলপাই রঙের একটি মাথা টুক করে ডুবে গেল। পানিতে তরঙ্গও হলো না। বনের পাশে বহতা নদী। সে এপাশে-ওপাশে তাকিয়ে কাউকে দেখতে পেল না। জ্যৈষ্ঠের শেষের দিনগুলো চলছে। বৃষ্টির পরে প্রকৃতির মতোই শান্ত ছিল তার মন। মাটির দিকে তাকাতেই চোখ গেল একটা শামুকের দিকে। নদী পাড়ে কিছুটা খুঁড়ে ডিম ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাকে দেখেই মনটা হঠাৎ বিগড়ে গেল খরগোশের—এর চলার গতি তো কচ্ছপের চেয়েও কম! আস্ত ঘর নিয়েই ঘুরে বেড়ায়। যেখানে রাত-সেখানেই কাত! এবার কি বিশ-পঞ্চাশটি ডিম ছেড়ে যাবে এখানে! বিরাট হইচই বাঁধিয়ে দিলো তার সাথে।
শামুক কিচ্ছুটি বলছে না! নিজের মতো একটু একটু খুঁড়েই যাচ্ছে। তারপর ডিম ছাড়তে শুরু করল। খরগোশ নাছোড়বান্দা। কিছুতেই মানবে না। এই ডিমের খোঁজে এবার সেখানে শেয়াল আসবে, তার পেছনে তাড়া করে আসবে কুকুর। তার জীবন একেবারে অতিষ্ঠ করে তুলবে! তার অবস্থাও তো ‘আপনা মাঁসে শশক বৈরী’।
চেঁচামেচি শুনে বনের বুড়ো শিম্পাঞ্জিটার দুপুরের ঘুম ভেঙে গেল। সে এসে খরগোশকে শান্ত করার চেষ্টা করল। কিন্তু সে কিছুতেই বুঝ মানবে না। নিজের দৌড়ের জন্য গর্ব তো ছিলই। এবার কথায় যুক্তিও ছিল— শামুক চাইলে নদীর ওপাড়ে গিয়ে ডিম ছাড়তে পারে। বনের শেয়ালগুলোও তার ডিমগুলো খেয়ে ফেলতে পারবে না।
শিম্পাঞ্জি বলল— প্রকৃতি সবাইকে তার জীবনধারণের মতো গতি ও সুরক্ষা কৌশল দিয়েই গড়েছে। কিন্তু খরগোশ অনড়। নিশ্চয়ই সে নিজের জীবন বিপন্ন করে শামুককে জায়গা করে দিতে পারে না। শিম্পাঞ্জি বোঝাতে চেষ্টা করল— সে না হয় দৌড়াতে পারে ঘণ্টায় সত্তর কিলোমিটার পর্যন্ত, শামুক তো পাঁচ মিটারও পারে না। দুজনের চলার পথও আলাদা। তাই কচ্ছপের মতো তাদের মধ্যে রেস করা ইনসাফ হবে না।
তর্ক বেড়েই যাচ্ছিল। শেষে একটা উপায় হলো— গতির সমতা ভেদেই দৌড়ের সীমানা ঠিক হবে। পথও হবে আলাদা। শিম্পাঞ্জিই ঠিক করে দিল— ওই যে বহু বহু দূরে, বনের প্রান্তে একটা বাঁকে নদীর দুই পাড় মিলে গেছে। সেখান ঘুরে তাঁকে ঠিক ওপাড়ে জাম গাছ থেকে দুটো পাতা ছিঁড়ে আনতে হবে। এই সময়ের মধ্যে শামুকটা একবার নদী এপার-ওপার করবে।
কিন্তু শামুক যে ফাঁকি দিচ্ছে না, তা বোঝা যাবে কী করে?
ওপাড়ে গিয়ে শামুককে জাম গাছের গোড়ায় ডিম ছাড়তে হবে, আর তত দিনে এপাড়ে রেখে যাওয়া ডিমগুলো থেকে বাচ্চা বেরিয়ে যাবে!
খরগোশ তবুও খুশি— সে যে উদাসীন হয়ে বা কাউকে তুচ্ছ ভেবে কাজে অবহেলা করে না, তা প্রমাণ করা যাবে। জীবনটাও বাঁচে। সন্ধি ঠিক হতেই দৌড় শুরু করল সে। ওদিকে শামুকও ধীরে নদীর দিকে নেমে যেতে শুরু করল। একবার পানিতে ডুবে গেলে আর তার খোঁজ রাখা সম্ভব হলো না। দেখা হতে পারে ওপাড়ে।
খরগোশ দৌড়াচ্ছিল নদীর পাড় দিয়ে। আন্তরিকতায় কোনো ঘাটতি নেই। বর্ষা আসন্ন দিনগুলোতে পাড়ে ঘাসপাতার কোনো অভাব পড়ছিল না। যতটুকু সময় খাওয়া, তারপরই দৌড়ে যাচ্ছিল উদয়াস্ত। রাতের সময়টা কোনো রকম গাছের আড়ালে আর গর্তে কাটিয়ে দিচ্ছিল সে। কোনো কোনো খরগোশ তাকে ছুটতে দেখে কারণ জানতে চাইত। কিন্তু তার তো থেমে থাকার সুযোগ নাই। তাই দু-দণ্ড তার পাশে দৌড়ে জানতে হলো— সেই যে আদি পাপের মতো খরগোশকূলের বিরুদ্ধে কর্তব্যে অবহেলার বদনাম জুড়ে দিয়েছে লোকেরা, সে তার বিরুদ্ধেই লড়ছে। শুনে কেউ বাহবা দিচ্ছে, কেউ ডেকে নিজেদের ডেরায় থাকতে দিচ্ছে রাতে। কেউ যে দিনের নিশ্চিন্ত ঘাসটুকু চিবুতে চিবুতে এই ব্যাপারে খুব উদাসীনতা দেখালো না, তাও কিন্তু নয়।
দিন চলে যাচ্ছিল দ্রুত। খরগোশও দৌড়ে পেরিয়ে এসেছিল বহু পথ। দূর থেকে দেখা নদীর বাঁক ছাড়াও গোটাকয় ছোট বাঁক পেরিয়ে গেছে। দুই পাড় এক হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই কোথাও! তারপরই সে খেয়াল করল, সামনে আরও একটা বাঁক দেখা যায়, তবে সেটা আরও অনেক দূরে। নদী এপার-ওপার করতে যদি এক মাসও লাগে, ইতিমধ্যে সে বিশ দিন পেরিয়ে এসেছে। শামুকের তো কোনো বাধা নেই! নানা দ্বন্দ্ব তোলপাড়া হতো শুরু করেছে খরগোশের মনের ভেতর।
দৌড়ে যেতে যেতে বনের ভেতর একটা পরিষ্কার পথ দেখে পা হড়কে থামল খরগোশ! একটু দূরে আড়াল থেকে দেখল কিছু লোকে ঢাল, সুরকি, দা, বন্দুক, জাল নিয়ে একদিকে যাচ্ছেন! দূরে নদীতে পারাপারের একটা নৌকাও দেখা যাচ্ছে। তাতে মাঝির সঙ্গে তাঁরাও বৈঠা চালালেন। লোকগুলো নদী পার হয়ে ওপাড়ের বনের ভেতর হারিয়ে গেলেন। তারপর পাড় ঘেঁষে নৌকাটা উজানের দিকে এগিয়ে নিয়ে গেলেন মাঝি। তারপর অনায়াসে বৈঠা বাইতে লাগলেন।
খরগোশের বিস্ময় যেন কাটে না! অনেকক্ষণ পর মাঝি পুরোনো ঘাটেই ফেরত এলেন। কিছুক্ষণ তাঁকে পর্যবেক্ষণ করল সে। মনে হলো— নিতান্তই সাধারণ লোক, বিপজ্জনক কেউ নন। তাই কাঁচুমাচু হয়ে তাঁকে জিজ্ঞেস করল— নদীর দুই পাড় কোথায় মিলেছে তিনি বলতে পারেন? সে পার হতে চায়।
মাঝি তো হেসেই কুটপাট! বললেন— ওরে খরগোশ, তুমি এখনো যথেষ্ট বোকা আছো। বহতা নদীর দুই পাড় এক হয় কখনো! তাহলে তো স্রোতই থেমে যেত! বাঁক দেখলেই পাড় এক হয়ে গেছে ভাবা কেবল খরগোশের পক্ষেই সম্ভব। কারণ কোনো দিন তারা নদী সাঁতরে এপাড় থেকে ওপাড়ে যায়নি। যেমন বোকা মানুষগুলো ভাবতে পারেন— দূরে গ্রামের ওপাশে বুঝি আকাশ নেমে পড়েছে! আর সেদিকে ছুটে।
মাঝিকে পুরো ঘটনা খুলে বলল খরগোশ। জানতে চাইল— তাকে কষ্ট করে নদী পার করে দিবেন কি না? মাঝি আরও একবার হাসলেন। তার অদম্যতার তারিফও করলেন। বললেন— ঘোর বর্ষা মৌসুম শুরু হয়ে গেছে। বৃষ্টি-বাদলও হচ্ছে। নদী এখন টইটম্বুর। তবু পাহাড়ি ঢলে তীব্র স্রোত বইছে। অবশ্য নদীর ওপরের চেয়ে নিচে স্রোত বেশি। সেখানে একটা শামুক কি করে এপার-ওপার করবে? খেরগোশটা শুধু বোকা হয়েছে।
খরগোশের একবার মনে হয়েছিল, সাঁতরেই নদী পার হবে কি না! কিন্তু বর্ষার জোর বৃষ্টিপাত শুরু হয়ে গেছে তত দিনে। নদীর যে প্রশস্ততা দেখে সে দৌড় শুরু করেছিল, পানি উপচে তা দুই-তিনগুণ বেড়েছে। স্রোতও বইছে বেশ। এর মধ্যে তার পক্ষে সাঁতরে পার হওয়ার কথা চিন্তাও করা যায় না। তাছাড়া বন তীরবর্তী নদীতে কুমির থিক থিক করছে। কিন্তু তা তো শামুকের বাধা নয়। তাই সে অনুনয় করল— তবু মাঝি তাকে পারাপার করবেন কি না!
মাঝি জানালেন— উজানের লোকেরা নদীতে বাঁধ না দিলে এতদিনে পানিতে দুই কূল ছাপিয়ে যেত। বেশি বৃষ্টিপাত হলে সেটা ধসেও যেতে পারে। তখন ভাটির সব ভেসে যাবে। এর মধ্যে তিনি একা কোনোভাবেই নৌকা ধরতেই সাহস করেন না।
মাঝি প্রায় ধমকে বললেন— খানিক আগেই তিনি বেশ কিছু শিকারিকে পার করে এসেছেন। তারা কয়েকদিনের মধ্যে বিস্তর শিকার শেষে কাঁধে মৃত হরিণ-খরগোশ নিয়ে যাবে। সঙ্গে পাখপাখালিও থাকবে বেশ। এখন সে ওপাড়ে গেলে আর প্রাণে ফিরে আসবে না। তাকে দ্রুত সরে যেতে বলল, নইলে অন্য দলের হাতেও পড়তে পারে।
খরগোশ প্রায় ভরকে গেল। শেয়াল-কুকুর আসার ভয়ে সে দৌড়েছিল, এবার তো নির্ঘাত মৃত্যুর দিকেই এগোচ্ছে। এর চেয়ে তার ফিরে যাওয়া ভালো। কিন্তু বন্ধুদের মুখ দেখাবে কী করে!
মাঝি বলল, চাইলে তাকে একটা গল্প বানিয়ে দিতে পারেন তিনি। তাতে কেউ তাকে আর দোষারোপ করতে পারবে না, উল্টো তাকে বীর বানিয়ে রাখবে। কিন্তু কৌশলটা খরগোশের ভালো লাগল না। নদীর পাড়ে বসে অনেকক্ষণ বিষয়টা ভাবল। তারপর ফিরতি পথ ধরল। সেই নদী, ঘাস, ঘন বন, গাছের ছায়া পেরিয়ে ছুটতে লাগল পুরোনো পরিচিত এলাকার দিকে। ফিরতি পথে সেই সব খরগোশদের সঙ্গে দেখা হলো, যারা তার পাশে দৌঁড়ে ছিল, রাতে থাকতে দিয়েছিল। তারা খুব করে জানতে চাইছিল— ওপাড়ে গিয়ে সে কি দেখেছে? অভিযান কতটা দুঃসাহসিক ছিল? কী কী মজার অভিজ্ঞতা হলো, সেটাই জানতে চাইছিল অনেকে।
কিন্তু খরগোশ যখনই বলল— ওপাড়ে যেতে পারেনি, তবে কয়েকটি জরুরি বিষয়ে জানতে পেরেছে, সেটা ওপাড় যাওয়ার চেয়ে সবার জানা জরুরি— তখন সবাই তার পাশ ছেড়ে গেল। বিশ্বাসঘাতকতা করেছে বলে তাকে সাব্যস্ত করা হলো। তিরস্কার করল অনেকে। কেউ কেউ তো তাকে নিজেদের সীমানায় ঘাসপাতাও আহার করতে পর্যন্ত দিল না, রাত যাপন তো নয়ই।
ক্ষুধা-অনাহারে দুরন্ত খরগোশের শরীর-মন মিইয়ে যাচ্ছিল ক্রমে। দৌড়ের গতি কমে হাঁটতে শুরু করল। তখনই তাঁর একটু ভাবার সুযোগ হলো— যারা তাকে তিরস্কার করছে, তারা কখনোই ওপাড়ে যায়নি। নিজেদের নিশ্চিন্ত সীমানা আর ঘাস ছেড়ে যায়নি। তবে সে অনেকটা পথ ছুটেছে। সে চাইলেই একটা বীরত্বের গল্প বানিয়ে ফেলতে পারে। গল্পই তাকে বীরের খ্যাতি এনে দিতে পারত। তাতে কাজে অবহেলার অপবাদও বদলে যেত। কিন্তু মিথ্যেটা বহন করতে তার ইচ্ছে করল না।
কয়েক মাস পর খরগোশ তার পরিচিত ঠিকানায় ফিরল। তত দিনে আশ্বিন মাস শুরু হয়ে গেছে। তীব্র গরম। নদীর পানি অনেক নিচে নেমে গেছে। পাড়ের জমি শুকিয়ে একেবারেই খড়খড়ে। পথে তার অনেক অভিজ্ঞতা হয়েছে।
খরগোশ দেখল, যেখান থেকে সে দৌড় শুরু করেছিল, সেখানেই দাঁড়িয়ে আছে শিম্পাঞ্জিটা। বহুদিন সে শিম্পাঞ্জিকে শিকারি আসার খবর দিয়ে সাহায্য করেছে। খরগোশকে দেখে সে অনুশোচনার সুরে বলল— সে খুবই দুঃখিত। সেদিন দুপুরে শান্তিতে একটু ঘুমের জন্য শামুকের সঙ্গে সে দৌড়পাল্লা লাগিয়ে দিয়েছিল। এজন্য সে খুবই লজ্জিত।
কিছুই বলল না খরগোশটা। তার মনটা অনেক শান্ত। কিন্তু সে ফিরতেই আশপাশের বেজি, গিরগিটি, ছোট প্রাণীরা এগিয়ে এসেছে তাকে দেখে। তারস্বরে মাটির যে ঝিঁঝিঁ পোকা তার কানে তালা লাগিয়ে দিত, সেও এসেছে। সবাই উপহাস করছে তাকে নিয়ে যে, সে এবারও ব্যর্থ হয়েছে, তাও কি না একটা শামুকের সঙ্গে! মা শামুকটা ঠিকই বাজি করে স্রোত পেরিয়ে ওপাড় থেকে ফিরেছিল। বাচ্চা ফুটে বেরুনো পর তাদের পানিতে ডেকে নিয়ে গেছে।
খরগোশটা বুঝতে পারল না, কোনো দিন পানিতে না নেমেই তারা কী করে নদী পেরুনোর গল্পটা বলছে? শুধু ভাবতে পারল— শামুক ছানাগুলো পাড় ছেড়ে যাওয়ার আগে তারা হয়তো মা শামুকটাকে দেখেছিল। কিন্তু কেউ সে কথাও বলছে না। তবু বীরত্বের একটি কাহিনি ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু খরগোশ তো জানে, অপবাদের চেয়ে মিথ্যে বীরত্ব বহন করা আরও কঠিন। যে কারণে কচ্ছপটা আজও ডুবে ডুবে থাকে। আজকের পর শামুকও ডুবে ডুবে থাকবে।
বিষয়টা বুঝতে চেষ্টা করছিল খরগোশ। স্থলচরগুলো দমে যাওয়ার পাত্র নয়। তারা কচ্ছপের নাম করে বলল— শামুককে সে নদী পেরুতে দেখেছে। তারা খরগোশকে এবার এলাকা ছাড়া করতে চাইছে। শামুক বলল— ওপাড়ে না গেলেও সে দুটি জিনিস শিখেছে, তা সবার জন্য জরুরি। তা হলো— বহতা নদীর পাড় কখনোই একসঙ্গে জুড়ে না, আর বর্ষায় নদীতে ওপরের চেয়ে নিচে স্রোত বেশি থাকে। তাই শামুকের পক্ষে কোনোভাবেই তা পার হওয়া সম্ভব নয়। ঘোলাপানিতে কচ্ছপ তাকে দেখবেই বা কী করে! দীর্ঘ পথ ছুটে সে এটা শিখেছে।
শিম্পাঞ্জিটা তখনও চুপচাপ দাঁড়িয়ে। পাড়ের প্রাণীদের কাণ্ড দেখছে। তারা কেউ খরগোশের কথা শুনতে রাজি না। শুধু একটা শর্তে তাকে তৃণভূমিতে মানা যেতে পারে— যদি যাত্রা পথে তার কোনো বীরত্বের গল্প বলতে পারে। খরগোশ খুবই বিরক্ত হলো, সবাই কেন বিরত্বের গল্প শুনতে চাইছে। সে বলল সেই ভয়ংকর কথাটা— নদীর বহু উজানে একটা শক্ত বাঁধ আছে, সেটা খুলে গেলে সবাই ভেসে যেতে পারে। বাঁধের কারণেই নদীটা শুকিয়ে যায়।
স্থলচর প্রাণীগুলো কোনোমতেই যুক্তি মানতে চাইছে না। এসব কথার জন্য তাকে সমাদর নয়, বরং অপবাদ দিল। খরগোশ দেখল, যেখানে শামুকের ডিম পেরেছিল, সেখানে শুষ্ক মৌসুমে কচ্ছপ ডিম ছেড়ে গেছে। তার সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে এ সব গল্পেরও বিস্তার হবে। সে চুপ করে থাকে, আর শিম্পাঞ্জিটা বনে ফিরে যায়।

খরগোশটা নদীর পাড়ে দাঁড়াতেই জলপাই রঙের একটি মাথা টুক করে ডুবে গেল। পানিতে তরঙ্গও হলো না। বনের পাশে বহতা নদী। সে এপাশে-ওপাশে তাকিয়ে কাউকে দেখতে পেল না। জ্যৈষ্ঠের শেষের দিনগুলো চলছে। বৃষ্টির পরে প্রকৃতির মতোই শান্ত ছিল তার মন। মাটির দিকে তাকাতেই চোখ গেল একটা শামুকের দিকে। নদী পাড়ে কিছুটা খুঁড়ে ডিম ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাকে দেখেই মনটা হঠাৎ বিগড়ে গেল খরগোশের—এর চলার গতি তো কচ্ছপের চেয়েও কম! আস্ত ঘর নিয়েই ঘুরে বেড়ায়। যেখানে রাত-সেখানেই কাত! এবার কি বিশ-পঞ্চাশটি ডিম ছেড়ে যাবে এখানে! বিরাট হইচই বাঁধিয়ে দিলো তার সাথে।
শামুক কিচ্ছুটি বলছে না! নিজের মতো একটু একটু খুঁড়েই যাচ্ছে। তারপর ডিম ছাড়তে শুরু করল। খরগোশ নাছোড়বান্দা। কিছুতেই মানবে না। এই ডিমের খোঁজে এবার সেখানে শেয়াল আসবে, তার পেছনে তাড়া করে আসবে কুকুর। তার জীবন একেবারে অতিষ্ঠ করে তুলবে! তার অবস্থাও তো ‘আপনা মাঁসে শশক বৈরী’।
চেঁচামেচি শুনে বনের বুড়ো শিম্পাঞ্জিটার দুপুরের ঘুম ভেঙে গেল। সে এসে খরগোশকে শান্ত করার চেষ্টা করল। কিন্তু সে কিছুতেই বুঝ মানবে না। নিজের দৌড়ের জন্য গর্ব তো ছিলই। এবার কথায় যুক্তিও ছিল— শামুক চাইলে নদীর ওপাড়ে গিয়ে ডিম ছাড়তে পারে। বনের শেয়ালগুলোও তার ডিমগুলো খেয়ে ফেলতে পারবে না।
শিম্পাঞ্জি বলল— প্রকৃতি সবাইকে তার জীবনধারণের মতো গতি ও সুরক্ষা কৌশল দিয়েই গড়েছে। কিন্তু খরগোশ অনড়। নিশ্চয়ই সে নিজের জীবন বিপন্ন করে শামুককে জায়গা করে দিতে পারে না। শিম্পাঞ্জি বোঝাতে চেষ্টা করল— সে না হয় দৌড়াতে পারে ঘণ্টায় সত্তর কিলোমিটার পর্যন্ত, শামুক তো পাঁচ মিটারও পারে না। দুজনের চলার পথও আলাদা। তাই কচ্ছপের মতো তাদের মধ্যে রেস করা ইনসাফ হবে না।
তর্ক বেড়েই যাচ্ছিল। শেষে একটা উপায় হলো— গতির সমতা ভেদেই দৌড়ের সীমানা ঠিক হবে। পথও হবে আলাদা। শিম্পাঞ্জিই ঠিক করে দিল— ওই যে বহু বহু দূরে, বনের প্রান্তে একটা বাঁকে নদীর দুই পাড় মিলে গেছে। সেখান ঘুরে তাঁকে ঠিক ওপাড়ে জাম গাছ থেকে দুটো পাতা ছিঁড়ে আনতে হবে। এই সময়ের মধ্যে শামুকটা একবার নদী এপার-ওপার করবে।
কিন্তু শামুক যে ফাঁকি দিচ্ছে না, তা বোঝা যাবে কী করে?
ওপাড়ে গিয়ে শামুককে জাম গাছের গোড়ায় ডিম ছাড়তে হবে, আর তত দিনে এপাড়ে রেখে যাওয়া ডিমগুলো থেকে বাচ্চা বেরিয়ে যাবে!
খরগোশ তবুও খুশি— সে যে উদাসীন হয়ে বা কাউকে তুচ্ছ ভেবে কাজে অবহেলা করে না, তা প্রমাণ করা যাবে। জীবনটাও বাঁচে। সন্ধি ঠিক হতেই দৌড় শুরু করল সে। ওদিকে শামুকও ধীরে নদীর দিকে নেমে যেতে শুরু করল। একবার পানিতে ডুবে গেলে আর তার খোঁজ রাখা সম্ভব হলো না। দেখা হতে পারে ওপাড়ে।
খরগোশ দৌড়াচ্ছিল নদীর পাড় দিয়ে। আন্তরিকতায় কোনো ঘাটতি নেই। বর্ষা আসন্ন দিনগুলোতে পাড়ে ঘাসপাতার কোনো অভাব পড়ছিল না। যতটুকু সময় খাওয়া, তারপরই দৌড়ে যাচ্ছিল উদয়াস্ত। রাতের সময়টা কোনো রকম গাছের আড়ালে আর গর্তে কাটিয়ে দিচ্ছিল সে। কোনো কোনো খরগোশ তাকে ছুটতে দেখে কারণ জানতে চাইত। কিন্তু তার তো থেমে থাকার সুযোগ নাই। তাই দু-দণ্ড তার পাশে দৌড়ে জানতে হলো— সেই যে আদি পাপের মতো খরগোশকূলের বিরুদ্ধে কর্তব্যে অবহেলার বদনাম জুড়ে দিয়েছে লোকেরা, সে তার বিরুদ্ধেই লড়ছে। শুনে কেউ বাহবা দিচ্ছে, কেউ ডেকে নিজেদের ডেরায় থাকতে দিচ্ছে রাতে। কেউ যে দিনের নিশ্চিন্ত ঘাসটুকু চিবুতে চিবুতে এই ব্যাপারে খুব উদাসীনতা দেখালো না, তাও কিন্তু নয়।
দিন চলে যাচ্ছিল দ্রুত। খরগোশও দৌড়ে পেরিয়ে এসেছিল বহু পথ। দূর থেকে দেখা নদীর বাঁক ছাড়াও গোটাকয় ছোট বাঁক পেরিয়ে গেছে। দুই পাড় এক হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই কোথাও! তারপরই সে খেয়াল করল, সামনে আরও একটা বাঁক দেখা যায়, তবে সেটা আরও অনেক দূরে। নদী এপার-ওপার করতে যদি এক মাসও লাগে, ইতিমধ্যে সে বিশ দিন পেরিয়ে এসেছে। শামুকের তো কোনো বাধা নেই! নানা দ্বন্দ্ব তোলপাড়া হতো শুরু করেছে খরগোশের মনের ভেতর।
দৌড়ে যেতে যেতে বনের ভেতর একটা পরিষ্কার পথ দেখে পা হড়কে থামল খরগোশ! একটু দূরে আড়াল থেকে দেখল কিছু লোকে ঢাল, সুরকি, দা, বন্দুক, জাল নিয়ে একদিকে যাচ্ছেন! দূরে নদীতে পারাপারের একটা নৌকাও দেখা যাচ্ছে। তাতে মাঝির সঙ্গে তাঁরাও বৈঠা চালালেন। লোকগুলো নদী পার হয়ে ওপাড়ের বনের ভেতর হারিয়ে গেলেন। তারপর পাড় ঘেঁষে নৌকাটা উজানের দিকে এগিয়ে নিয়ে গেলেন মাঝি। তারপর অনায়াসে বৈঠা বাইতে লাগলেন।
খরগোশের বিস্ময় যেন কাটে না! অনেকক্ষণ পর মাঝি পুরোনো ঘাটেই ফেরত এলেন। কিছুক্ষণ তাঁকে পর্যবেক্ষণ করল সে। মনে হলো— নিতান্তই সাধারণ লোক, বিপজ্জনক কেউ নন। তাই কাঁচুমাচু হয়ে তাঁকে জিজ্ঞেস করল— নদীর দুই পাড় কোথায় মিলেছে তিনি বলতে পারেন? সে পার হতে চায়।
মাঝি তো হেসেই কুটপাট! বললেন— ওরে খরগোশ, তুমি এখনো যথেষ্ট বোকা আছো। বহতা নদীর দুই পাড় এক হয় কখনো! তাহলে তো স্রোতই থেমে যেত! বাঁক দেখলেই পাড় এক হয়ে গেছে ভাবা কেবল খরগোশের পক্ষেই সম্ভব। কারণ কোনো দিন তারা নদী সাঁতরে এপাড় থেকে ওপাড়ে যায়নি। যেমন বোকা মানুষগুলো ভাবতে পারেন— দূরে গ্রামের ওপাশে বুঝি আকাশ নেমে পড়েছে! আর সেদিকে ছুটে।
মাঝিকে পুরো ঘটনা খুলে বলল খরগোশ। জানতে চাইল— তাকে কষ্ট করে নদী পার করে দিবেন কি না? মাঝি আরও একবার হাসলেন। তার অদম্যতার তারিফও করলেন। বললেন— ঘোর বর্ষা মৌসুম শুরু হয়ে গেছে। বৃষ্টি-বাদলও হচ্ছে। নদী এখন টইটম্বুর। তবু পাহাড়ি ঢলে তীব্র স্রোত বইছে। অবশ্য নদীর ওপরের চেয়ে নিচে স্রোত বেশি। সেখানে একটা শামুক কি করে এপার-ওপার করবে? খেরগোশটা শুধু বোকা হয়েছে।
খরগোশের একবার মনে হয়েছিল, সাঁতরেই নদী পার হবে কি না! কিন্তু বর্ষার জোর বৃষ্টিপাত শুরু হয়ে গেছে তত দিনে। নদীর যে প্রশস্ততা দেখে সে দৌড় শুরু করেছিল, পানি উপচে তা দুই-তিনগুণ বেড়েছে। স্রোতও বইছে বেশ। এর মধ্যে তার পক্ষে সাঁতরে পার হওয়ার কথা চিন্তাও করা যায় না। তাছাড়া বন তীরবর্তী নদীতে কুমির থিক থিক করছে। কিন্তু তা তো শামুকের বাধা নয়। তাই সে অনুনয় করল— তবু মাঝি তাকে পারাপার করবেন কি না!
মাঝি জানালেন— উজানের লোকেরা নদীতে বাঁধ না দিলে এতদিনে পানিতে দুই কূল ছাপিয়ে যেত। বেশি বৃষ্টিপাত হলে সেটা ধসেও যেতে পারে। তখন ভাটির সব ভেসে যাবে। এর মধ্যে তিনি একা কোনোভাবেই নৌকা ধরতেই সাহস করেন না।
মাঝি প্রায় ধমকে বললেন— খানিক আগেই তিনি বেশ কিছু শিকারিকে পার করে এসেছেন। তারা কয়েকদিনের মধ্যে বিস্তর শিকার শেষে কাঁধে মৃত হরিণ-খরগোশ নিয়ে যাবে। সঙ্গে পাখপাখালিও থাকবে বেশ। এখন সে ওপাড়ে গেলে আর প্রাণে ফিরে আসবে না। তাকে দ্রুত সরে যেতে বলল, নইলে অন্য দলের হাতেও পড়তে পারে।
খরগোশ প্রায় ভরকে গেল। শেয়াল-কুকুর আসার ভয়ে সে দৌড়েছিল, এবার তো নির্ঘাত মৃত্যুর দিকেই এগোচ্ছে। এর চেয়ে তার ফিরে যাওয়া ভালো। কিন্তু বন্ধুদের মুখ দেখাবে কী করে!
মাঝি বলল, চাইলে তাকে একটা গল্প বানিয়ে দিতে পারেন তিনি। তাতে কেউ তাকে আর দোষারোপ করতে পারবে না, উল্টো তাকে বীর বানিয়ে রাখবে। কিন্তু কৌশলটা খরগোশের ভালো লাগল না। নদীর পাড়ে বসে অনেকক্ষণ বিষয়টা ভাবল। তারপর ফিরতি পথ ধরল। সেই নদী, ঘাস, ঘন বন, গাছের ছায়া পেরিয়ে ছুটতে লাগল পুরোনো পরিচিত এলাকার দিকে। ফিরতি পথে সেই সব খরগোশদের সঙ্গে দেখা হলো, যারা তার পাশে দৌঁড়ে ছিল, রাতে থাকতে দিয়েছিল। তারা খুব করে জানতে চাইছিল— ওপাড়ে গিয়ে সে কি দেখেছে? অভিযান কতটা দুঃসাহসিক ছিল? কী কী মজার অভিজ্ঞতা হলো, সেটাই জানতে চাইছিল অনেকে।
কিন্তু খরগোশ যখনই বলল— ওপাড়ে যেতে পারেনি, তবে কয়েকটি জরুরি বিষয়ে জানতে পেরেছে, সেটা ওপাড় যাওয়ার চেয়ে সবার জানা জরুরি— তখন সবাই তার পাশ ছেড়ে গেল। বিশ্বাসঘাতকতা করেছে বলে তাকে সাব্যস্ত করা হলো। তিরস্কার করল অনেকে। কেউ কেউ তো তাকে নিজেদের সীমানায় ঘাসপাতাও আহার করতে পর্যন্ত দিল না, রাত যাপন তো নয়ই।
ক্ষুধা-অনাহারে দুরন্ত খরগোশের শরীর-মন মিইয়ে যাচ্ছিল ক্রমে। দৌড়ের গতি কমে হাঁটতে শুরু করল। তখনই তাঁর একটু ভাবার সুযোগ হলো— যারা তাকে তিরস্কার করছে, তারা কখনোই ওপাড়ে যায়নি। নিজেদের নিশ্চিন্ত সীমানা আর ঘাস ছেড়ে যায়নি। তবে সে অনেকটা পথ ছুটেছে। সে চাইলেই একটা বীরত্বের গল্প বানিয়ে ফেলতে পারে। গল্পই তাকে বীরের খ্যাতি এনে দিতে পারত। তাতে কাজে অবহেলার অপবাদও বদলে যেত। কিন্তু মিথ্যেটা বহন করতে তার ইচ্ছে করল না।
কয়েক মাস পর খরগোশ তার পরিচিত ঠিকানায় ফিরল। তত দিনে আশ্বিন মাস শুরু হয়ে গেছে। তীব্র গরম। নদীর পানি অনেক নিচে নেমে গেছে। পাড়ের জমি শুকিয়ে একেবারেই খড়খড়ে। পথে তার অনেক অভিজ্ঞতা হয়েছে।
খরগোশ দেখল, যেখান থেকে সে দৌড় শুরু করেছিল, সেখানেই দাঁড়িয়ে আছে শিম্পাঞ্জিটা। বহুদিন সে শিম্পাঞ্জিকে শিকারি আসার খবর দিয়ে সাহায্য করেছে। খরগোশকে দেখে সে অনুশোচনার সুরে বলল— সে খুবই দুঃখিত। সেদিন দুপুরে শান্তিতে একটু ঘুমের জন্য শামুকের সঙ্গে সে দৌড়পাল্লা লাগিয়ে দিয়েছিল। এজন্য সে খুবই লজ্জিত।
কিছুই বলল না খরগোশটা। তার মনটা অনেক শান্ত। কিন্তু সে ফিরতেই আশপাশের বেজি, গিরগিটি, ছোট প্রাণীরা এগিয়ে এসেছে তাকে দেখে। তারস্বরে মাটির যে ঝিঁঝিঁ পোকা তার কানে তালা লাগিয়ে দিত, সেও এসেছে। সবাই উপহাস করছে তাকে নিয়ে যে, সে এবারও ব্যর্থ হয়েছে, তাও কি না একটা শামুকের সঙ্গে! মা শামুকটা ঠিকই বাজি করে স্রোত পেরিয়ে ওপাড় থেকে ফিরেছিল। বাচ্চা ফুটে বেরুনো পর তাদের পানিতে ডেকে নিয়ে গেছে।
খরগোশটা বুঝতে পারল না, কোনো দিন পানিতে না নেমেই তারা কী করে নদী পেরুনোর গল্পটা বলছে? শুধু ভাবতে পারল— শামুক ছানাগুলো পাড় ছেড়ে যাওয়ার আগে তারা হয়তো মা শামুকটাকে দেখেছিল। কিন্তু কেউ সে কথাও বলছে না। তবু বীরত্বের একটি কাহিনি ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু খরগোশ তো জানে, অপবাদের চেয়ে মিথ্যে বীরত্ব বহন করা আরও কঠিন। যে কারণে কচ্ছপটা আজও ডুবে ডুবে থাকে। আজকের পর শামুকও ডুবে ডুবে থাকবে।
বিষয়টা বুঝতে চেষ্টা করছিল খরগোশ। স্থলচরগুলো দমে যাওয়ার পাত্র নয়। তারা কচ্ছপের নাম করে বলল— শামুককে সে নদী পেরুতে দেখেছে। তারা খরগোশকে এবার এলাকা ছাড়া করতে চাইছে। শামুক বলল— ওপাড়ে না গেলেও সে দুটি জিনিস শিখেছে, তা সবার জন্য জরুরি। তা হলো— বহতা নদীর পাড় কখনোই একসঙ্গে জুড়ে না, আর বর্ষায় নদীতে ওপরের চেয়ে নিচে স্রোত বেশি থাকে। তাই শামুকের পক্ষে কোনোভাবেই তা পার হওয়া সম্ভব নয়। ঘোলাপানিতে কচ্ছপ তাকে দেখবেই বা কী করে! দীর্ঘ পথ ছুটে সে এটা শিখেছে।
শিম্পাঞ্জিটা তখনও চুপচাপ দাঁড়িয়ে। পাড়ের প্রাণীদের কাণ্ড দেখছে। তারা কেউ খরগোশের কথা শুনতে রাজি না। শুধু একটা শর্তে তাকে তৃণভূমিতে মানা যেতে পারে— যদি যাত্রা পথে তার কোনো বীরত্বের গল্প বলতে পারে। খরগোশ খুবই বিরক্ত হলো, সবাই কেন বিরত্বের গল্প শুনতে চাইছে। সে বলল সেই ভয়ংকর কথাটা— নদীর বহু উজানে একটা শক্ত বাঁধ আছে, সেটা খুলে গেলে সবাই ভেসে যেতে পারে। বাঁধের কারণেই নদীটা শুকিয়ে যায়।
স্থলচর প্রাণীগুলো কোনোমতেই যুক্তি মানতে চাইছে না। এসব কথার জন্য তাকে সমাদর নয়, বরং অপবাদ দিল। খরগোশ দেখল, যেখানে শামুকের ডিম পেরেছিল, সেখানে শুষ্ক মৌসুমে কচ্ছপ ডিম ছেড়ে গেছে। তার সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে এ সব গল্পেরও বিস্তার হবে। সে চুপ করে থাকে, আর শিম্পাঞ্জিটা বনে ফিরে যায়।

মাত্রই বিদায় নিয়েছে কোরবানি ঈদ। তবে উৎসবের আমেজ রয়ে গেছে এখনো। ফেসবুকে ঢুকলেই দেখা যাচ্ছে ঈদকে ঘিরে নানা রঙে-ঢঙে পোস্ট করা ছবি, রিলস, ভিডিও। কেউ কোরবানি দেওয়ার আগে গরুর সঙ্গে দাঁড়িয়ে ছবি তুলেছেন। কেউ কোরবানি দেওয়ার পরে মাংস কাটাকাটির ভিডিও পোস্ট করেছেন।
৩৬ মিনিট আগে
এখন বাড়িতে বাড়িতে ফ্রিজ-ডিপফ্রিজ থাকলেও, নব্বই দশক পর্যন্তও অধিকাংশ বাড়িতে কোনো ফ্রিজ ছিল না, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে। কখনো কি ভেবে দেখেছেন ফ্রিজ আসার আগে কীভাবে কোরবানির মাংস সংরক্ষণ করা হতো?
৩ ঘণ্টা আগে
এ ছাড়া সালাদ খাওয়ার সময় অতিরিক্ত কাঁচা মরিচ বা ঝাল এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ মাংসে এমনিতেই প্রচুর মসলা থাকে। সালাদ সবসময় খাওয়ার ঠিক আগে কাটা উচিত, যেন এর ভেতরের পুষ্টিগুণ ও ভিটামিন নষ্ট না হয়।
১৮ ঘণ্টা আগে
১৯৫৩ সালের ২৯ মের সেই সকালে, যখন তেনজিং নোরগে ও আমি প্রথমবারের মতো পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ আরোহণ করলাম, তখন থেকেই আমাকে এক মহান অভিযাত্রী হিসেবে বর্ণনা করা হতে থাকে। কিন্তু আমি আসলে স্রেফ এক পোড় খাওয়া কিউয়ী, যে জীবনের বহু প্রতিকূলতাকে উপভোগ করেছে মনে-প্রাণে।
১ দিন আগে