আমেরিকায় প্রবেশ নিষেধ—১
ভূ-পর্যটক তারেক অণু পৃথিবীর নানা প্রান্তে ঘুরে বেড়িয়েছেন। আমেরিকা রোডট্রিপে তিনি অতিক্রম করেছেন প্রায় ৪০ হাজার কিলোমিটার। সেই অভিজ্ঞতার ঝুলি থেকে স্ট্রিমের পাঠকদের জন্য এবার তিনি মেলে ধরছেন তাঁর বেড়ানোর গল্প। নতুন ধারাবাহিক ভ্রমণ-কাহিনি ‘আমেরিকায় প্রবেশ নিষেধ’-এর দ্বিতীয় পর্ব প্রকাশিত হলো আজ। প্রতি বুধবার চোখ রাখুন বাংলা স্ট্রিমের ফিচার পাতায়।
তারেক অণু

‘কী চাকরি করেন?’ নিউইয়র্ক ইমিগ্রেশন কর্মকর্তার জলদ-গম্ভীর গলার প্রশ্ন।
আমি বললাম, ‘চাকরি করি না আপাতত, ছুটিতে আছি।’
তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, কী চাকরি?
বললাম, চাকরি না করে ছুটিতে আছি, পৃথিবী দেখার চেষ্টা করছি। পাখিদের নিয়ে পরিবেশ রক্ষার কিছু কাজ করি, কিন্তু সেগুলো স্বেচ্ছাসেবী কাজ।
আরেকটা প্রশ্ন এল, ‘আমেরিকায় কোথায় ঘুরবেন?’
আমি বললাম, ‘মূলত ন্যাশনাল পার্কগুলোতে। ইয়েলোষ্টোন, ইয়েসোমিটি, জায়ান্ট সিকোয়া, গ্রেট স্মোকি—এই সব।’

‘ওয়েলকাম টু আমেরিকা।’ তিনি আর কিছু বললেন না। পাসপোর্টে সিল বসিয়ে দিলেন দুম করে। বিমানবন্দর থেকে বের হতে ২০ মিনিট লাগল। লাগেজ নিয়ে বের হতেই বন্ধু তমোরি আর তাঁর ছোট ভাই অরিত্রর সঙ্গে দেখা। সেখান থেকে সরাসরি কুইন্সের জ্যামাইকায় তাঁদের বাসায়। আন্টি–আংকেলের সঙ্গে দেখা হলো অনেক বছর পর।
আমরা সবাই বুনো জীবজন্তু পছন্দ করি। তাই প্রথমেই আড্ডা জুড়ে থাকল এই বাসায় ও আশেপাশে দেখা যায় এমন পশু-পাখিদের কথা। আমাকে অবাক করে আনন্দে ভাসিয়ে আন্টি জানালেন, তাঁদের বাসার মূল ফটকে প্রতিরাতে এক জোড়া র্যাকুন আসে। বেড়ালের জন্য রাখা খাবার খেয়ে যায়। ইদানীং আবার তাদের দুই ছানা হয়েছে, তারাও আসে সেই নৈশভোজে।

র্যাকুন আমার অতি আগ্রহের প্রাণী। ফ্রেড জিপসনের ‘দ্য হাউন্ড-ডগ ম্যান'’ (সেবা প্রকাশনীর অনুবাদে শিকারি পুরুষ) পড়ে তাদের নিয়ে আগ্রহ জন্মেছিল। শুনেছি তারা খাবার আগে খাবার ধুয়ে নেয়, এবং খাওয়া শেষে দুই হাত (সামনের দুই পা) ধুয়ে নেয়! এমন আজব বৈশিষ্ট্যের কারণ অবশ্য জানা নেই!
আন্টির মোবাইলে তোলা র্যাকুন দম্পতির দারুণ ছবি দেখেই বললাম, জীবনে বুনো র্যাকুন দেখিনি। আমেরিকায় এসে প্রথম রাতেই র্যাকুন দেখার চেয়ে আনন্দের আর কী হতে পারে! (আমেরিকায় একসময় কৃষ্ণাঙ্গ মানুষদের ‘কুন’ বলে বর্ণবাদী গালি দেওয়া হতো, সেটা কেন কে জানে!)।
তখন রাত প্রায় একটা। আংকেল বললেন, ‘এখনো ওদের আসতে দেরি আছে। চলো, তোমাকে আমার বিড়ালগুলো দেখাই।’ তিনি এই এলাকার নানা রাস্তায় অন্তত ২০টা বিড়ালকে নিয়ম করে খাওয়ান। প্রতি রাতে নির্দিষ্ট জায়গায় গেলেই তাদের দেখা যায়।

তাঁদের নিজের বাসায়ও তিনটা বেড়াল—ছাই, পুচকা আর টাইগার। তিনজনের স্বভাব তিন রকম। একজন লাজুক, আরেকজন বেশ সংবেদনশীল আরেকজন বেশ টম-মাস্তান টাইপ, যে বেড়াল হয়েও পাড়ার কুকুরদের কামড় দিয়ে আসে নিয়মিত!
রাতের শহর ধরে আমরা হাঁটলাম। নদীর মতো রাস্তাগুলো আস্তে আস্তে ঘুরে নানা মোড়ে বিড়ালদের খাবার দিয়ে, নির্জন দ্বীপের মতো পার্কগুলো দেখে রাত তিনটায় বাসায় ফিরলাম। এসে জানা গেল র্যাকুনেরা এসে খাবার খেয়ে চলে গেছে আমাদের দেরি দেখে। ভোর চারটার দিকে খুব শোরগোল শুনে জানালায় গিয়ে দেখি স্টারলিং পাখির ঝাঁক কিচির-মিচির করে যেন সূর্য ডেকে আনছে।
জেট ল্যাগে কয়েক ঘণ্টা পরেই ঘুম ভাঙল। সেই সঙ্গে রাস্তার রাস্তার ওপাশের খেলার মাঠ থেকে কানে এল বাস্কেটবল খেলার থপথপ আওয়াজ। বিশ্ব যতই ফুটবল নিয়ে ব্যস্ত থাকুক, ওয়েলকাম টু আমেরিকা!
‘আহারে
আহারে
কোথায় পাবো তাহারে’

গান শুনতে শুনতে ছোট এক কাজে ব্রুকলিন গেলাম। যাওয়ার পথে সবচেয়ে বেশী চোখে পড়ল রাস্তার দুই ধারের কবরস্থান আর সুউচ্চ গির্জাগুলো! ফেরার পথে ‘ফরেস্ট হিলস’-এ তমোরির প্রিয় ক্যাফেতে কফি খেলাম। এখানে প্রায়ই তাঁর বন্ধুরা জ্যাজ আর ব্লুজ গায়! এই ‘রেড পাইপ ক্যাফে’তে কাগজের কাপের পরিবর্তে কাচের পেয়ালায় কফি দেওয়া হয় বলে গ্রাহকদের বেশ তৃপ্ত দেখা গেল।
এরপর সাবওয়ে বা পাতালরেলে করে গ্যান্ট্রি প্লাজা ষ্টেট পার্কে যাওয়ার সময় খেয়াল করে দেখলাম, সবাই মোবাইল নিয়েই ব্যস্ত, শুধু এক কোণে নির্জনতায় মোড়া জায়গায় এক কৃষ্ণাঙ্গ ভদ্রলোক একটা বইয়ের শেষ ক’টা পাতা পড়ে, পরম যত্নে গুছিয়ে রেখে আরেকটা বই পড়া শুরু করলেন! ফাইন্ডিং ফরেস্টার সিনেমার লেখক চরিত্রে শন কনারি হয়ত এই বইপোকাকে দেখলে বিমুগ্ধ হয়ে আবারও বলতেন, ‘ইউ রাইট ওয়েল অ্যান্ড ইউ আর ব্ল্যাক!’
লং আইল্যান্ড ডকে নামতেই চোখে পড়ল ইস্ট রিভারের ওপারে আলো-ঝলমলে ম্যানহাটন। অথচ কোনো কোলাহল নেই এপারে। এত ব্যস্ত নগরীর এ এক অন্যরকম অনিন্দ্য রূপ, কান পেতে শোনা বাতাসের সরসর আর সাইপ্রেস গাছের পাতার মর্মর কেবল নেরুদার শব্দমালার কথা মনে করিয়ে চলল—
"I like you calm, as if you were absent:
distant and saddened, as if you were dead.
One word at that moment, a smile, is sufficient.
And I thrill, then, I thrill: that it cannot be so."
সেখান থেকে জ্যাকসন হাইটে যেতে যেতেই মধ্যরাত। সেই গল্প আগামী বুধবারে।

‘কী চাকরি করেন?’ নিউইয়র্ক ইমিগ্রেশন কর্মকর্তার জলদ-গম্ভীর গলার প্রশ্ন।
আমি বললাম, ‘চাকরি করি না আপাতত, ছুটিতে আছি।’
তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, কী চাকরি?
বললাম, চাকরি না করে ছুটিতে আছি, পৃথিবী দেখার চেষ্টা করছি। পাখিদের নিয়ে পরিবেশ রক্ষার কিছু কাজ করি, কিন্তু সেগুলো স্বেচ্ছাসেবী কাজ।
আরেকটা প্রশ্ন এল, ‘আমেরিকায় কোথায় ঘুরবেন?’
আমি বললাম, ‘মূলত ন্যাশনাল পার্কগুলোতে। ইয়েলোষ্টোন, ইয়েসোমিটি, জায়ান্ট সিকোয়া, গ্রেট স্মোকি—এই সব।’

‘ওয়েলকাম টু আমেরিকা।’ তিনি আর কিছু বললেন না। পাসপোর্টে সিল বসিয়ে দিলেন দুম করে। বিমানবন্দর থেকে বের হতে ২০ মিনিট লাগল। লাগেজ নিয়ে বের হতেই বন্ধু তমোরি আর তাঁর ছোট ভাই অরিত্রর সঙ্গে দেখা। সেখান থেকে সরাসরি কুইন্সের জ্যামাইকায় তাঁদের বাসায়। আন্টি–আংকেলের সঙ্গে দেখা হলো অনেক বছর পর।
আমরা সবাই বুনো জীবজন্তু পছন্দ করি। তাই প্রথমেই আড্ডা জুড়ে থাকল এই বাসায় ও আশেপাশে দেখা যায় এমন পশু-পাখিদের কথা। আমাকে অবাক করে আনন্দে ভাসিয়ে আন্টি জানালেন, তাঁদের বাসার মূল ফটকে প্রতিরাতে এক জোড়া র্যাকুন আসে। বেড়ালের জন্য রাখা খাবার খেয়ে যায়। ইদানীং আবার তাদের দুই ছানা হয়েছে, তারাও আসে সেই নৈশভোজে।

র্যাকুন আমার অতি আগ্রহের প্রাণী। ফ্রেড জিপসনের ‘দ্য হাউন্ড-ডগ ম্যান'’ (সেবা প্রকাশনীর অনুবাদে শিকারি পুরুষ) পড়ে তাদের নিয়ে আগ্রহ জন্মেছিল। শুনেছি তারা খাবার আগে খাবার ধুয়ে নেয়, এবং খাওয়া শেষে দুই হাত (সামনের দুই পা) ধুয়ে নেয়! এমন আজব বৈশিষ্ট্যের কারণ অবশ্য জানা নেই!
আন্টির মোবাইলে তোলা র্যাকুন দম্পতির দারুণ ছবি দেখেই বললাম, জীবনে বুনো র্যাকুন দেখিনি। আমেরিকায় এসে প্রথম রাতেই র্যাকুন দেখার চেয়ে আনন্দের আর কী হতে পারে! (আমেরিকায় একসময় কৃষ্ণাঙ্গ মানুষদের ‘কুন’ বলে বর্ণবাদী গালি দেওয়া হতো, সেটা কেন কে জানে!)।
তখন রাত প্রায় একটা। আংকেল বললেন, ‘এখনো ওদের আসতে দেরি আছে। চলো, তোমাকে আমার বিড়ালগুলো দেখাই।’ তিনি এই এলাকার নানা রাস্তায় অন্তত ২০টা বিড়ালকে নিয়ম করে খাওয়ান। প্রতি রাতে নির্দিষ্ট জায়গায় গেলেই তাদের দেখা যায়।

তাঁদের নিজের বাসায়ও তিনটা বেড়াল—ছাই, পুচকা আর টাইগার। তিনজনের স্বভাব তিন রকম। একজন লাজুক, আরেকজন বেশ সংবেদনশীল আরেকজন বেশ টম-মাস্তান টাইপ, যে বেড়াল হয়েও পাড়ার কুকুরদের কামড় দিয়ে আসে নিয়মিত!
রাতের শহর ধরে আমরা হাঁটলাম। নদীর মতো রাস্তাগুলো আস্তে আস্তে ঘুরে নানা মোড়ে বিড়ালদের খাবার দিয়ে, নির্জন দ্বীপের মতো পার্কগুলো দেখে রাত তিনটায় বাসায় ফিরলাম। এসে জানা গেল র্যাকুনেরা এসে খাবার খেয়ে চলে গেছে আমাদের দেরি দেখে। ভোর চারটার দিকে খুব শোরগোল শুনে জানালায় গিয়ে দেখি স্টারলিং পাখির ঝাঁক কিচির-মিচির করে যেন সূর্য ডেকে আনছে।
জেট ল্যাগে কয়েক ঘণ্টা পরেই ঘুম ভাঙল। সেই সঙ্গে রাস্তার রাস্তার ওপাশের খেলার মাঠ থেকে কানে এল বাস্কেটবল খেলার থপথপ আওয়াজ। বিশ্ব যতই ফুটবল নিয়ে ব্যস্ত থাকুক, ওয়েলকাম টু আমেরিকা!
‘আহারে
আহারে
কোথায় পাবো তাহারে’

গান শুনতে শুনতে ছোট এক কাজে ব্রুকলিন গেলাম। যাওয়ার পথে সবচেয়ে বেশী চোখে পড়ল রাস্তার দুই ধারের কবরস্থান আর সুউচ্চ গির্জাগুলো! ফেরার পথে ‘ফরেস্ট হিলস’-এ তমোরির প্রিয় ক্যাফেতে কফি খেলাম। এখানে প্রায়ই তাঁর বন্ধুরা জ্যাজ আর ব্লুজ গায়! এই ‘রেড পাইপ ক্যাফে’তে কাগজের কাপের পরিবর্তে কাচের পেয়ালায় কফি দেওয়া হয় বলে গ্রাহকদের বেশ তৃপ্ত দেখা গেল।
এরপর সাবওয়ে বা পাতালরেলে করে গ্যান্ট্রি প্লাজা ষ্টেট পার্কে যাওয়ার সময় খেয়াল করে দেখলাম, সবাই মোবাইল নিয়েই ব্যস্ত, শুধু এক কোণে নির্জনতায় মোড়া জায়গায় এক কৃষ্ণাঙ্গ ভদ্রলোক একটা বইয়ের শেষ ক’টা পাতা পড়ে, পরম যত্নে গুছিয়ে রেখে আরেকটা বই পড়া শুরু করলেন! ফাইন্ডিং ফরেস্টার সিনেমার লেখক চরিত্রে শন কনারি হয়ত এই বইপোকাকে দেখলে বিমুগ্ধ হয়ে আবারও বলতেন, ‘ইউ রাইট ওয়েল অ্যান্ড ইউ আর ব্ল্যাক!’
লং আইল্যান্ড ডকে নামতেই চোখে পড়ল ইস্ট রিভারের ওপারে আলো-ঝলমলে ম্যানহাটন। অথচ কোনো কোলাহল নেই এপারে। এত ব্যস্ত নগরীর এ এক অন্যরকম অনিন্দ্য রূপ, কান পেতে শোনা বাতাসের সরসর আর সাইপ্রেস গাছের পাতার মর্মর কেবল নেরুদার শব্দমালার কথা মনে করিয়ে চলল—
"I like you calm, as if you were absent:
distant and saddened, as if you were dead.
One word at that moment, a smile, is sufficient.
And I thrill, then, I thrill: that it cannot be so."
সেখান থেকে জ্যাকসন হাইটে যেতে যেতেই মধ্যরাত। সেই গল্প আগামী বুধবারে।
.png)

ইন্টারনেটের হাজারো নেতিবাচকতার ভিড়ে প্রাণীদের ‘কিউট’ ভিডিও ছিল এক চিলতে স্বস্তি। কিন্তু এআই-এর যুগে সেই নির্ভেজাল বিশ্বাসে এখন ফাটল ধরেছে। কোনো ভিডিও দেখে হাসার বদলে আমাদের মনে আগে প্রশ্ন জাগছে, এটি কি আসল নাকি এআই দিয়ে তৈরি? অবিশ্বাসের এই ডিজিটাল চোরাবালিতে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন উঠছে, আমাদের ছোট ছোট আনন্দ
২০ ঘণ্টা আগে
সমকালীন বাংলাদেশের বুদ্ধিবৃত্তিক জগতে এক অসাধারণ ব্যক্তিত্ব আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। জনপ্রিয়তা ও মননশীলতার মেলবন্ধনের দুর্লভ উদাহরণ তিনি। সৃজনশীল ব্যক্তিত্বের পাশাপাশি তিনি একজন কর্মবীর। আজ তিনি সাতাশি বছর পূর্ণ করলেন।
২১ ঘণ্টা আগে
এইতো কিছুদিন আগে কথা। অফিস থেকে বেরিয়ে বিশেষ একটি কাজে শাহবাগের উদ্দেশ্যে রিকশায় উঠেছিলাম। বিকেলের ব্যস্ত ঢাকার চিরচেনা যানজটে রিকশাটি একসময় থেমে গেল। চারপাশে শুধু হর্নের শব্দ, মানুষের কোলাহল আর অসংখ্য গাড়ির সারি। ঠিক সেই মুহূর্তেই কানে ভেসে এলো এক পরিচিত সুর ‘আলো আমার আলো ওগো, আলো ভুবনভরা’…!
২৫ জুলাই ২০২৬
প্রাক-আধুনিক যুগের আদর্শবাদী তারুণ্য থেকে শুরু করে আধুনিক যুগের টেক-স্যাভি ‘জেন জি’ প্রজন্ম—প্রতিটি যুগের তারুণ্যের রক্তস্রোত প্রমাণ করেছে যে বন্দুকের নল বা রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন দিয়ে মানুষের মুক্তির স্পৃহাকে চিরতরে বন্দি করা যায় না। আর এই প্রতিটি রক্তঝরা লড়াইয়ে নারীর সক্রিয়, সমান্তরাল, আপসহীন ও বীরত্বপূ
২৫ জুলাই ২০২৬