ঘাম শরীরের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ। গরমে একটু বেশি ঘাম হলে আর বিরক্ত হবেন না। ঘামলে শরীর একটু চটচটে লাগে ঠিকই। কিন্তু এই বিরক্তিকর ঘামই আপনাকে অনেক সম্ভাব্য বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারে।
তামান্না আনজুম

কাঠফাটা রোদে রাস্তায় একটু বের হলেই শরীর ঘামে ভিজে যায়। অদ্ভুত অস্বস্তি কাজ করে। কেউ কেউ অল্প গরমেই দরদর করে ঘামতে শুরু করেন। আবার কারও কারও ঘাম তুলনামুলক কম হয়। ঘাম যতই বিরক্তিকর হোক না কেন, এটা কিন্তু আমাদের শরীরকে শীতল রাখতে সাহায্যও করে।
মানবদেহে প্রায় ২০ থেকে ৪০ লাখ ঘামগ্রন্থি আছে। এসব গ্রন্থিতে তৈরি হয় লবণাক্ত তরল। একেই আমরা ঘাম বলি। একজন মানুষ সাধারণ অবস্থায় দিনে প্রায় এক লিটার পর্যন্ত ঘামতে পারে, যা বছরে প্রায় ১৮০–৪০০ লিটারের মধ্যে হতে পারে। গরম বা শারীরিক পরিশ্রমে এই পরিমাণ ৪-৮ লিটার পর্যন্ত হতে পারে। কিন্তু গরমে ঘাম না হওয়াকেও অস্বাভাবিক বলে সতর্ক করেন চিকিৎসকরা।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ঘাম স্বাভাবিকের চেয়ে কম হওয়াকে ‘হাইপোহাইড্রোসিস’ বলে। আর ঘাম তৈরি হওয়া বন্ধ হয়ে গেলে তাকে ‘অ্যানহাইড্রোসিস’ বলা হয়। আমাদের অনেকের শারীরিক গঠনের কারণেই ঘাম কম হয়। অর্থাৎ ছোটবেলা থেকেই খুব একটা ঘামেন না তাঁরা। এই কম ঘামার বিষয়টি নিয়ে তেমন দুশ্চিন্তার কিছু নেই।
সমস্যা অন্য জায়গায়।
ধরুন, আগে আপনি স্বাভাবিকভাবেই ঘামতেন। কিন্তু ইদানীং প্রচণ্ড গরমেও আপনার ঘাম হচ্ছে না। কিংবা হঠাৎ করেই ঘাম হওয়া একদম কমে গেছে। এটা ভালো লক্ষণ নয়।
সাধারণত কড়া রোদে হাঁটলে বা কোনো শারীরিক পরিশ্রম করলে আমাদের শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা দ্রুত বেড়ে যায়। অতিরিক্ত তাপে যেন ভেতরের অঙ্গগুলোর কোনো ক্ষতি না হয়, সেজন্য শরীর দ্রুত নিজেকে ঠান্ডা করার চেষ্টা করে। আর ঘামের মাধ্যমে শরীর এই কাজ করে থাকে। ঘাম যখন আমাদের ত্বক দিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসে এবং বাতাসে শুকিয়ে বাষ্পীভূত হয়ে যায়, তখন আমাদের শরীর প্রাকৃতিকভাবেই আবার আগের মতো স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ফিরে আসে। অর্থাৎ, শরীরকে অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচাতেই আমাদের ঘাম হয়।
এখন শরীর যদি না ঘামে, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রথমে আপনার অতিরিক্ত গরম লাগতে শুরু করবে। হাঁটাচলা করা বা সাধারণ কাজে শরীরের তাপমাত্রা অনেক বেড়ে যাবে। এর সঙ্গে চারপাশের তাপমাত্রাও বেশি থাকলে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যাবে আরও দ্রুত।
দেহের তাপমাত্রা আরও বাড়তে থাকলে একধরনের ক্লান্তি অনুভূত হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় তাপীয় ক্লান্তি বা ‘হিট এক্সজশন’। এ সময় শরীর প্রচণ্ড দুর্বল হয়ে পড়ে, বমি বমি ভাব হতে পারে। সঙ্গে হৃৎপিণ্ডের গতিও অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেতে পারে। শরীরের তাপমাত্রা বাড়তে বাড়তে একসময় হিট স্ট্রোক পর্যন্ত হতে পারে।

মানুষের শরীরের তাপমাত্রা ১০৩ ডিগ্রি ফারেনহাইটের ওপরে গেলে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি শুরু হতে পারে। হিট স্ট্রোকে মস্তিষ্কের কার্যকারিতা ব্যাহত হয় এবং কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। হতে পারে মস্তিষ্কের ভয়াবহ ক্ষতি। এমনকি মস্তিষ্কের কোষও মারা পড়তে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘাম কমে যাওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হলো পানিশূন্যতা। আপনি সারাদিন পর্যাপ্ত পানি পান না করলে শরীরের ঘাম তৈরির উপাদান থাকে না। এ ছাড়া বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকের ঘাম গ্রন্থিগুলোর কর্মক্ষমতাও কমে আসে। ফলে বয়স্ক মানুষদের ঘাম কম হয়। ডায়াবেটিসের মতো রোগে শরীরের স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তখন মস্তিষ্কের সংকেত ঘাম গ্রন্থি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না।
কিছু নির্দিষ্ট ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেও ঘাম কমে যায়। ত্বক পুড়ে যাওয়ার গভীর ক্ষত বা চর্মরোগ থাকলেও ঘাম বের হওয়ার ছিদ্রগুলো বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
ঘাম শরীরের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ। গরমে একটু বেশি ঘাম হলে আর বিরক্ত হবেন না। ঘামলে শরীর একটু চটচটে লাগে ঠিকই। কিন্তু এই বিরক্তিকর ঘামই আপনাকে অনেক সম্ভাব্য বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারে। গরমে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। বিভিন্ন ফলের শরবত বা ডাবের পানি খান। শরীরকে তার প্রয়োজনীয় ঘাম তৈরি করার রসদ দিন। ঘাম কম হওয়ার সমস্যাকে কখনই ছোট করে দেখবেন না। কারণ, সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে শরীরের নিজস্ব সংকেত বোঝা ভীষণ জরুরি।

কাঠফাটা রোদে রাস্তায় একটু বের হলেই শরীর ঘামে ভিজে যায়। অদ্ভুত অস্বস্তি কাজ করে। কেউ কেউ অল্প গরমেই দরদর করে ঘামতে শুরু করেন। আবার কারও কারও ঘাম তুলনামুলক কম হয়। ঘাম যতই বিরক্তিকর হোক না কেন, এটা কিন্তু আমাদের শরীরকে শীতল রাখতে সাহায্যও করে।
মানবদেহে প্রায় ২০ থেকে ৪০ লাখ ঘামগ্রন্থি আছে। এসব গ্রন্থিতে তৈরি হয় লবণাক্ত তরল। একেই আমরা ঘাম বলি। একজন মানুষ সাধারণ অবস্থায় দিনে প্রায় এক লিটার পর্যন্ত ঘামতে পারে, যা বছরে প্রায় ১৮০–৪০০ লিটারের মধ্যে হতে পারে। গরম বা শারীরিক পরিশ্রমে এই পরিমাণ ৪-৮ লিটার পর্যন্ত হতে পারে। কিন্তু গরমে ঘাম না হওয়াকেও অস্বাভাবিক বলে সতর্ক করেন চিকিৎসকরা।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ঘাম স্বাভাবিকের চেয়ে কম হওয়াকে ‘হাইপোহাইড্রোসিস’ বলে। আর ঘাম তৈরি হওয়া বন্ধ হয়ে গেলে তাকে ‘অ্যানহাইড্রোসিস’ বলা হয়। আমাদের অনেকের শারীরিক গঠনের কারণেই ঘাম কম হয়। অর্থাৎ ছোটবেলা থেকেই খুব একটা ঘামেন না তাঁরা। এই কম ঘামার বিষয়টি নিয়ে তেমন দুশ্চিন্তার কিছু নেই।
সমস্যা অন্য জায়গায়।
ধরুন, আগে আপনি স্বাভাবিকভাবেই ঘামতেন। কিন্তু ইদানীং প্রচণ্ড গরমেও আপনার ঘাম হচ্ছে না। কিংবা হঠাৎ করেই ঘাম হওয়া একদম কমে গেছে। এটা ভালো লক্ষণ নয়।
সাধারণত কড়া রোদে হাঁটলে বা কোনো শারীরিক পরিশ্রম করলে আমাদের শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা দ্রুত বেড়ে যায়। অতিরিক্ত তাপে যেন ভেতরের অঙ্গগুলোর কোনো ক্ষতি না হয়, সেজন্য শরীর দ্রুত নিজেকে ঠান্ডা করার চেষ্টা করে। আর ঘামের মাধ্যমে শরীর এই কাজ করে থাকে। ঘাম যখন আমাদের ত্বক দিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসে এবং বাতাসে শুকিয়ে বাষ্পীভূত হয়ে যায়, তখন আমাদের শরীর প্রাকৃতিকভাবেই আবার আগের মতো স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ফিরে আসে। অর্থাৎ, শরীরকে অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচাতেই আমাদের ঘাম হয়।
এখন শরীর যদি না ঘামে, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রথমে আপনার অতিরিক্ত গরম লাগতে শুরু করবে। হাঁটাচলা করা বা সাধারণ কাজে শরীরের তাপমাত্রা অনেক বেড়ে যাবে। এর সঙ্গে চারপাশের তাপমাত্রাও বেশি থাকলে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যাবে আরও দ্রুত।
দেহের তাপমাত্রা আরও বাড়তে থাকলে একধরনের ক্লান্তি অনুভূত হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় তাপীয় ক্লান্তি বা ‘হিট এক্সজশন’। এ সময় শরীর প্রচণ্ড দুর্বল হয়ে পড়ে, বমি বমি ভাব হতে পারে। সঙ্গে হৃৎপিণ্ডের গতিও অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেতে পারে। শরীরের তাপমাত্রা বাড়তে বাড়তে একসময় হিট স্ট্রোক পর্যন্ত হতে পারে।

মানুষের শরীরের তাপমাত্রা ১০৩ ডিগ্রি ফারেনহাইটের ওপরে গেলে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি শুরু হতে পারে। হিট স্ট্রোকে মস্তিষ্কের কার্যকারিতা ব্যাহত হয় এবং কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। হতে পারে মস্তিষ্কের ভয়াবহ ক্ষতি। এমনকি মস্তিষ্কের কোষও মারা পড়তে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘাম কমে যাওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হলো পানিশূন্যতা। আপনি সারাদিন পর্যাপ্ত পানি পান না করলে শরীরের ঘাম তৈরির উপাদান থাকে না। এ ছাড়া বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকের ঘাম গ্রন্থিগুলোর কর্মক্ষমতাও কমে আসে। ফলে বয়স্ক মানুষদের ঘাম কম হয়। ডায়াবেটিসের মতো রোগে শরীরের স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তখন মস্তিষ্কের সংকেত ঘাম গ্রন্থি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না।
কিছু নির্দিষ্ট ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেও ঘাম কমে যায়। ত্বক পুড়ে যাওয়ার গভীর ক্ষত বা চর্মরোগ থাকলেও ঘাম বের হওয়ার ছিদ্রগুলো বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
ঘাম শরীরের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ। গরমে একটু বেশি ঘাম হলে আর বিরক্ত হবেন না। ঘামলে শরীর একটু চটচটে লাগে ঠিকই। কিন্তু এই বিরক্তিকর ঘামই আপনাকে অনেক সম্ভাব্য বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারে। গরমে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। বিভিন্ন ফলের শরবত বা ডাবের পানি খান। শরীরকে তার প্রয়োজনীয় ঘাম তৈরি করার রসদ দিন। ঘাম কম হওয়ার সমস্যাকে কখনই ছোট করে দেখবেন না। কারণ, সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে শরীরের নিজস্ব সংকেত বোঝা ভীষণ জরুরি।

কেনিয়ার প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক শহর হলো নাকুরু। রাজধানী নাইরোবি থেকে আমাদের যাত্রা শুরু হলো সাতসকালে। তখন ভোরের প্রথম আলো শহরের কংক্রিটের ভবনগুলোতে সোনালি আভা ছড়িয়ে দিচ্ছিল। রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় চোখে পড়ল গ্রামীণ জীবনের চমৎকার সব দৃশ্য। কেউ গরুর চামড়া মাথায় নিয়ে বাজারে যাচ্ছে, কারও হাতে সবজিভর্তি ব
৪ ঘণ্টা আগে
ভারতের আলোকচিত্রকলার অন্যতম পথিকৃৎ এবং লেন্সের জাদুকর রঘু রাই আর নেই। গত দুই বছর ধরে তিনি প্রোস্টেট এবং পাকস্থলীর ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি ক্যানসার তাঁর মস্তিষ্কে ছড়িয়ে পড়ে। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি সক্রিয় ছিলেন এবং মৃত্যুর কয়েক সপ্তাহ আগে পর্যন্তও তিনি তাঁর প
৬ ঘণ্টা আগে
আমাদের রান্নাঘরের অনেক জিনিসই প্লাস্টিকের তৈরি। তাই সহজেই এগুলো খাবারে মিশে যেতে পারে। তবে আমরা চাইলেই খাবারে প্লাস্টিকের উপস্থিতি কমানো সম্ভব। রান্নাঘরে কিছু ছোট ছোট পরিবর্তনের মাধ্যমে আমরা নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে পারি।
১০ ঘণ্টা আগে
দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় মেলবোর্ন শহর থেকে ১৪০ কিলোমিটার দূরে ‘ফিলিপ আইল্যান্ড’ নামের এক অপূর্ব নৈসর্গিক জায়গায় আমরা এসেছি পেঙ্গুইনের খোঁজে! জি হ্যাঁ, পেঙ্গুইন! পেঙ্গুইন মানেই তো সেই কোট পরা ‘ভদ্রলোক’ পাখি! এর নাম শুনলেই আমাদের চোখে ভাসে, বরফ মহাদেশে হেঁটে যাচ্ছে গুটি গুটি পায়ে।
১ দিন আগে