জাগতিক চাহিদা আর ভোগবিলাস থেকে বেরিয়ে আসার একটি চমৎকার ও যুগোপযোগী উপায় হতে পারে মিনিমালিস্ট রমজানের চর্চা। মিনিমালিজম মানে বিলাসিতা যথাসম্ভব কমিয়ে আনা। চলুন জেনে নিই, এই রমজানে কীভাবে আড়ম্বর কমিয়ে আত্মশুদ্ধির পথে হাঁটা যায়।
ফাবিহা বিনতে হক

আমাদের বাড়িতে রমজানের একটি সাধারণ বিকেল কেমন হয় ভেবে দেখুন তো? ঘড়ির কাঁটা আসরের ঘর পেরোতেই রান্নাঘরে শুরু হয় তুমুল ব্যস্ততা। পেঁয়াজু, আলুর চপ, বেগুনি, জিলাপি, হালিম—কমপক্ষে আট-দশ পদের আয়োজন না হলে যেন ইফতারের টেবিলটাই বেমানান লাগে।
এরপর ইফতারে খাবারগুলো তৃপ্তি ভরে খাওয়া। মাঝে মাঝে তো ইফতার শেষ করতে গিয়ে মাগরিবের নামাজের সময়টাও শেষের দিকে চলে যায়। ইফতার করে তারাবির নামাজে দাঁড়ানোর শক্তিটুকুও আর শরীরে অবশিষ্ট থাকে না।
এদিকে ঈদের শপিং-এর চিন্তা তো আছেই। ফেসবুক খুললেই কে কত টাকা বাজেট নিয়ে শপিং করতে নেমেছে, এর একটা প্রতিযোগিতা চলে রীতিমত।
অথচ রমজান মাসকে আমরা বলি সংযমের মাস, আত্মশুদ্ধির মাস। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় একটু খেয়াল করলেই দেখা যায়, এই মাসটি অনেকের কাছে আড়ম্বরের মাসে পরিণত হয়েছে। কিন্তু এই ভোগবিলাস কী আমাদের অন্তরে স্থায়ী প্রশান্তি দিতে পারছে?
জাগতিক চাহিদা আর ভোগবিলাস থেকে বেরিয়ে আসার একটি চমৎকার ও যুগোপযোগী উপায় হতে পারে মিনিমালিস্ট রমজানের চর্চা। মিনিমালিজম মানে বিলাসিতা যথাসম্ভব কমিয়ে আনা। চলুন জেনে নিই, এই রমজানে কীভাবে আড়ম্বর কমিয়ে আত্মশুদ্ধির পথে হাঁটা যায়।
মিনিমালিজমের প্রথম শর্ত হলো প্রয়োজন আর নিছক শখের মধ্যে পার্থক্য করতে শেখা। সারাদিন রোজা রাখার পর টেবিলভর্তি খাবার না থাকলে যেন আমাদের ইফতারই অসম্পূর্ণ থেকে যায়। এই মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে ইফতার ও সেহরির মেনু একদম সাধারণ রাখুন।
ভাজাপোড়া ও বাহারি খাবারের বদলে খেজুর, পানি ও যেকোনো একটি বা দুটি পুষ্টিকর খাবার বেছে নিন। মাঝে মাঝে নিয়মের কিছুটা হেরফের করতে পারেন। তবে রোজার বেশিরভাগ দিনগুলোতেই প্রয়োজন বুঝে স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করুন। রান্নার পেছনে কম সময় দিলে সেই বেঁচে যাওয়া সময়টুকু অনায়াসেই ইবাদতে কাজে লাগানো যায়। এর পাশাপাশি অর্থ সাশ্রয় তো হচ্ছেই।
রমজানের শেষ দিনগুলোতে যখন আমাদের ইবাদতে সবচেয়ে বেশি মশগুল থাকার কথা, তখন আমরা মেতে উঠি ঈদের কেনাকাটায়। মার্কেট থেকে মার্কেটে ঘুরে ক্লান্ত হয়ে আমরা অনেকেই ইবাদতের শক্তি হারিয়ে ফেলি। ঈদের শপিং যদি করতেই হয়, তবে তা রমজান শুরুর আগেই বা প্রথম দশ দিনেই সেরে ফেলার চেষ্টা করুন।
কেনাকাটার বেলাতেও বিলাসিতা পরিহার করে যতটুকু প্রয়োজন ততোটুকু কিনুন। অহেতুক লোকদেখানো প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে শপিং-এর বাজেট না বাড়ানোই ভালো।
বর্তমানে জীবনের অপ্রয়োজনীয় আড়ম্বরের একটি বড় অংশ জুড়ে আছে স্ক্রিন টাইম। সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যজনের ইফতারের ছবি বা চেক-ইন দেখতে দেখতে আমাদের মূল্যবান সময় নষ্ট হয়ে যায়, যা মনের অস্থিরতা বাড়িয়ে দেয়। রমজান মাসকে একটি ‘ডিজিটাল ডিটক্স’ হিসেবে গ্রহণ করুন।
একান্ত প্রয়োজন ছাড়া সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে থাকুন। স্মার্টফোনে স্ক্রিন টাইম লিমিট সেট করে দিন এবং এই বেঁচে যাওয়া সময়টুকু পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত বা ধর্মীয় জ্ঞান বৃদ্ধির কাজে ব্যয় করতে পারেন।
ইবাদতের ক্ষেত্রেও আমরা অনেক সময় সংখ্যার দিকে বেশি নজর দিই। ভাবছেন কীভাবে?
আমরা অনেক সময়ই তাড়াহুড়ো করে কত রাকাত নামাজ পড়লাম বা কত খতম পবিত্র কোরআন পড়লাম, তা নিয়ে বেশি ব্যস্ত থাকি। অথচ এর চেয়ে বেশি জরুরি হলো নামাজে কতটুকু মন দিতে পারলাম বা কুরআনে যা পড়লাম তা কতটুকু বুঝলাম। ইবাদতের জন্য আপনি শুধুমাত্র সৃষ্টিকর্তার প্রতি দায়বদ্ধ। তাই সৃষ্টিকর্তার প্রতি সংযোগ স্থাপনে বেশি মনোযোগী হোন।
রাতে বা সেহরির আগে কিছুটা সময় নিরিবিলিতে কাটান, নিজের কাজের হিসাব নিন এবং একাগ্রচিত্তে মোনাজাত করুন। এই চর্চা আপনাকে প্রকৃত আত্মশুদ্ধি এনে দিতে পারে।
মিনিমালিস্ট জীবনযাপনের সবচেয়ে সুন্দর দিক হলো, এটি আপনাকে অন্যের কথা ভাবার সুযোগ করে দেয়। পরিমিত খাবার গ্রহণ, কেনাকাটায় বিলাসিতা আর আড়ম্বর কমিয়ে যে অর্থ ও সময় আপনার বাঁচবে, তা অভাবী মানুষের কল্যাণে ব্যয় করুন।
এছাড়া ইসলাম ধর্মে রোজার ঈদে অভাবীদেরকে যাকাতের বিধান আছে যা কোনো দয়াদাক্ষিণ্য বা করুণা নয়। এটি সমাজের সুবিধাবঞ্চিত অভাবী মানুষদের হক বা অধিকার।
বিলাসবহুল ইফতার পার্টিতে টাকা খরচ না করে, সেই টাকায় কয়েকটি অসহায় পরিবারের ইফতার বা সেহরির ব্যবস্থা করে দেওয়াটাই হতে পারে রমজানের প্রকৃত শিক্ষা।

আমাদের বাড়িতে রমজানের একটি সাধারণ বিকেল কেমন হয় ভেবে দেখুন তো? ঘড়ির কাঁটা আসরের ঘর পেরোতেই রান্নাঘরে শুরু হয় তুমুল ব্যস্ততা। পেঁয়াজু, আলুর চপ, বেগুনি, জিলাপি, হালিম—কমপক্ষে আট-দশ পদের আয়োজন না হলে যেন ইফতারের টেবিলটাই বেমানান লাগে।
এরপর ইফতারে খাবারগুলো তৃপ্তি ভরে খাওয়া। মাঝে মাঝে তো ইফতার শেষ করতে গিয়ে মাগরিবের নামাজের সময়টাও শেষের দিকে চলে যায়। ইফতার করে তারাবির নামাজে দাঁড়ানোর শক্তিটুকুও আর শরীরে অবশিষ্ট থাকে না।
এদিকে ঈদের শপিং-এর চিন্তা তো আছেই। ফেসবুক খুললেই কে কত টাকা বাজেট নিয়ে শপিং করতে নেমেছে, এর একটা প্রতিযোগিতা চলে রীতিমত।
অথচ রমজান মাসকে আমরা বলি সংযমের মাস, আত্মশুদ্ধির মাস। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় একটু খেয়াল করলেই দেখা যায়, এই মাসটি অনেকের কাছে আড়ম্বরের মাসে পরিণত হয়েছে। কিন্তু এই ভোগবিলাস কী আমাদের অন্তরে স্থায়ী প্রশান্তি দিতে পারছে?
জাগতিক চাহিদা আর ভোগবিলাস থেকে বেরিয়ে আসার একটি চমৎকার ও যুগোপযোগী উপায় হতে পারে মিনিমালিস্ট রমজানের চর্চা। মিনিমালিজম মানে বিলাসিতা যথাসম্ভব কমিয়ে আনা। চলুন জেনে নিই, এই রমজানে কীভাবে আড়ম্বর কমিয়ে আত্মশুদ্ধির পথে হাঁটা যায়।
মিনিমালিজমের প্রথম শর্ত হলো প্রয়োজন আর নিছক শখের মধ্যে পার্থক্য করতে শেখা। সারাদিন রোজা রাখার পর টেবিলভর্তি খাবার না থাকলে যেন আমাদের ইফতারই অসম্পূর্ণ থেকে যায়। এই মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে ইফতার ও সেহরির মেনু একদম সাধারণ রাখুন।
ভাজাপোড়া ও বাহারি খাবারের বদলে খেজুর, পানি ও যেকোনো একটি বা দুটি পুষ্টিকর খাবার বেছে নিন। মাঝে মাঝে নিয়মের কিছুটা হেরফের করতে পারেন। তবে রোজার বেশিরভাগ দিনগুলোতেই প্রয়োজন বুঝে স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করুন। রান্নার পেছনে কম সময় দিলে সেই বেঁচে যাওয়া সময়টুকু অনায়াসেই ইবাদতে কাজে লাগানো যায়। এর পাশাপাশি অর্থ সাশ্রয় তো হচ্ছেই।
রমজানের শেষ দিনগুলোতে যখন আমাদের ইবাদতে সবচেয়ে বেশি মশগুল থাকার কথা, তখন আমরা মেতে উঠি ঈদের কেনাকাটায়। মার্কেট থেকে মার্কেটে ঘুরে ক্লান্ত হয়ে আমরা অনেকেই ইবাদতের শক্তি হারিয়ে ফেলি। ঈদের শপিং যদি করতেই হয়, তবে তা রমজান শুরুর আগেই বা প্রথম দশ দিনেই সেরে ফেলার চেষ্টা করুন।
কেনাকাটার বেলাতেও বিলাসিতা পরিহার করে যতটুকু প্রয়োজন ততোটুকু কিনুন। অহেতুক লোকদেখানো প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে শপিং-এর বাজেট না বাড়ানোই ভালো।
বর্তমানে জীবনের অপ্রয়োজনীয় আড়ম্বরের একটি বড় অংশ জুড়ে আছে স্ক্রিন টাইম। সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যজনের ইফতারের ছবি বা চেক-ইন দেখতে দেখতে আমাদের মূল্যবান সময় নষ্ট হয়ে যায়, যা মনের অস্থিরতা বাড়িয়ে দেয়। রমজান মাসকে একটি ‘ডিজিটাল ডিটক্স’ হিসেবে গ্রহণ করুন।
একান্ত প্রয়োজন ছাড়া সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে থাকুন। স্মার্টফোনে স্ক্রিন টাইম লিমিট সেট করে দিন এবং এই বেঁচে যাওয়া সময়টুকু পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত বা ধর্মীয় জ্ঞান বৃদ্ধির কাজে ব্যয় করতে পারেন।
ইবাদতের ক্ষেত্রেও আমরা অনেক সময় সংখ্যার দিকে বেশি নজর দিই। ভাবছেন কীভাবে?
আমরা অনেক সময়ই তাড়াহুড়ো করে কত রাকাত নামাজ পড়লাম বা কত খতম পবিত্র কোরআন পড়লাম, তা নিয়ে বেশি ব্যস্ত থাকি। অথচ এর চেয়ে বেশি জরুরি হলো নামাজে কতটুকু মন দিতে পারলাম বা কুরআনে যা পড়লাম তা কতটুকু বুঝলাম। ইবাদতের জন্য আপনি শুধুমাত্র সৃষ্টিকর্তার প্রতি দায়বদ্ধ। তাই সৃষ্টিকর্তার প্রতি সংযোগ স্থাপনে বেশি মনোযোগী হোন।
রাতে বা সেহরির আগে কিছুটা সময় নিরিবিলিতে কাটান, নিজের কাজের হিসাব নিন এবং একাগ্রচিত্তে মোনাজাত করুন। এই চর্চা আপনাকে প্রকৃত আত্মশুদ্ধি এনে দিতে পারে।
মিনিমালিস্ট জীবনযাপনের সবচেয়ে সুন্দর দিক হলো, এটি আপনাকে অন্যের কথা ভাবার সুযোগ করে দেয়। পরিমিত খাবার গ্রহণ, কেনাকাটায় বিলাসিতা আর আড়ম্বর কমিয়ে যে অর্থ ও সময় আপনার বাঁচবে, তা অভাবী মানুষের কল্যাণে ব্যয় করুন।
এছাড়া ইসলাম ধর্মে রোজার ঈদে অভাবীদেরকে যাকাতের বিধান আছে যা কোনো দয়াদাক্ষিণ্য বা করুণা নয়। এটি সমাজের সুবিধাবঞ্চিত অভাবী মানুষদের হক বা অধিকার।
বিলাসবহুল ইফতার পার্টিতে টাকা খরচ না করে, সেই টাকায় কয়েকটি অসহায় পরিবারের ইফতার বা সেহরির ব্যবস্থা করে দেওয়াটাই হতে পারে রমজানের প্রকৃত শিক্ষা।

আনোয়ার পাশার (১৯২৮-৭১) ‘রাইফেল রোটি আওরাত’ (১৯৭৩ প্রকাশকাল) উপন্যাস বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন চিত্রের এক অনন্য দলিল। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ওপর যে-নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালায় পাকিস্তানি সামরিক বাহিনি, এর নজির পাওয়া যায় এই উপন্যাসে।
১২ ঘণ্টা আগে
সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন অনেকেই কন্টেন্ট ক্রিয়েটর। কিন্তু সবাই কি সফল হতে পারছে? এর উত্তর কেবল ভালো এডিটিং, আকর্ষণীয় রঙ বা ঝকঝকে গ্রাফিক্সে লুকিয়ে নেই। এর পেছনে কাজ করে মানুষের মন, আবেগ, অভ্যাস, কৌতূহল এবং সামাজিক আচরণ। সোশ্যাল মিডিয়ার এই যুগে কন্টেন্ট তৈরি করা আসলে শুধু প্রযুক্তির কাজ নয়, মানুষের মন বোঝ
১৫ ঘণ্টা আগে
ভূ-পর্যটক তারেক অণুর ধারাবাহিক ভ্রমণ-কাহিনি ‘আমেরিকায় প্রবেশ নিষেধ’-এর দশম পর্ব প্রকাশিত হলো আজ। প্রতি বুধবার চোখ রাখুন বাংলা স্ট্রিমের ফিচার পাতায়।
১৭ ঘণ্টা আগে
অনেকের ক্ষেত্রে ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা এতটাই বেড়ে যায় যে তা চিকিৎসার প্রয়োজনও তৈরি করে। তবে একটু সচেতন হলে এই গরমেও শরীরকে সতেজ, কর্মক্ষম ও সুস্থ রাখা সম্ভব।
২১ ঘণ্টা আগে