মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে জাতিসংঘ কেন ব্যর্থ

প্রকাশ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৫: ০৮
স্ট্রিম গ্রাফিক

মধ্যপ্রাচ্য বিশ্বের এমন একটি অঞ্চল যেখানে ধর্ম, সম্পদ, ভূ-রাজনীতি ও ঔপনিবেশিক উত্তরাধিকার একসাথে মিলে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের চারণভূমি তৈরি করেছে। ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে ফিলিস্তিন প্রশ্ন, ১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লব, ইরাক যুদ্ধ, সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ এবং সর্বশেষ ২০২৬ সালের ইরান যুদ্ধ, প্রতিটি সংকটে জাতিসংঘ হয় নীরব দর্শক ছিল, নয়তো নিরর্থক প্রস্তাব পাসের মধ্যে নিজেকে সীমাবদ্ধ রেখেছে।

বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে দুটি বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা মানবসভ্যতার অস্তিত্বকে সংকটের মুখে দাঁড় করিয়েছিল। ১৯৪৫ সালে হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমার বীভৎসতা প্রমাণ করেছিল যে, আধুনিক যুদ্ধ মানেই জাতিগত নিশ্চিহ্নকরণ। এই ধ্বংসলীলার ভস্মস্তূপ থেকে শান্তি ও নিরাপত্তার অঙ্গীকার নিয়ে ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর আত্মপ্রকাশ করে ‘জাতিসংঘ’। সনদের প্রস্তাবনায় লেখা হয়েছিল, ‘আগামী প্রজন্মকে যুদ্ধের অভিশাপ থেকে রক্ষা করতে এবং মৌলিক মানবাধিকারে আস্থা পুনঃস্থাপন করতে আমরা সংকল্পবদ্ধ।’

জাতিসংঘের আদর্শিক ভিত্তি চারটি স্তম্ভের উপর প্রতিষ্ঠিত: আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা; রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক উন্নয়ন; আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সমস্যার সমাধান; এবং মানবাধিকারের সর্বজনীন সম্মান নিশ্চিত করা। প্রতিষ্ঠার পর এই বিশ্ব সংঘটি কোরিয়া যুদ্ধ (১৯৫০), কম্বোডিয়া (১৯৯১-১৯৯৩), পূর্ব তিমুর (১৯৯৯), সিয়েরা লিওন এবং লাইবেরিয়ায় শান্তিরক্ষা মিশনসহ বেশ কিছু ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রেখেছে।

১৯৬২ সালের কিউবা ক্ষেপণাস্ত্র সংকটে জাতিসংঘের কূটনৈতিক চ্যানেল পারমাণবিক যুদ্ধ এড়াতে সহায়তা করেছিল। নামিবিয়া, মোজাম্বিক, এল সালভাদর ও গুয়াতেমালায় শান্তিচুক্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের মধ্যস্থতা প্রশংসাযোগ্য। তবে এই আংশিক সাফল্যের আড়ালে সংস্থাটির কাঠামোগত দুর্বলতা আজ ২০২৬ সালে ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষিতে আরও প্রকটভাবে উন্মোচিত হয়েছে। আট দশক পর ইরানের পারমাণবিক সংকট, মধ্য প্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও বৈশ্বিক মেরুকরণ প্রমাণ করছে যে, জাতিসংঘ তার মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়ে পরাশক্তিগুলোর স্বার্থ রক্ষার হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।

ভেটো ব্যবস্থার কাঠামোগত অচলাবস্থা

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচটি স্থায়ী সদস্য আমেরিকা, ব্রিটেন, ফ্রান্স, রাশিয়া ও চীন। প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্র যেকোনো প্রস্তাবে ভেটো দেওয়ার অধিকার রাখে। এই ব্যবস্থা ১৯৪৫ সালে বিজয়ী শক্তিগুলোর স্বার্থ রক্ষার জন্য তৈরি হয়েছিল। মধ্যপ্রাচ্যের প্রেক্ষিতে এটি হয়ে উঠেছে শান্তির সবচেয়ে বড় বাধা।

ফিলিস্তিন সংকটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৯৭২ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলের পক্ষে ৪০ এরও বেশি বার ভেটো দিয়েছে। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে ২০১১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত রাশিয়া ও চীন মিলে ১৬টিরও বেশি প্রস্তাব আটকে দিয়েছে, ফলে দেড় কোটিরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ইয়েমেনে সৌদি-নেতৃত্বাধীন জোটের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি কারণ পশ্চিমা শক্তিগুলোর কৌশলগত স্বার্থ সেখানে জড়িত। এই ব্যর্থতা নিরাপত্তা পরিষদের বিশ্বাসযোগ্যতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ভেটো ব্যবস্থা তাই শান্তির হাতিয়ার নয়, এটি পরাশক্তিগুলোর পারস্পরিক জিম্মি করার হাতিয়ার।

পরাশক্তির স্বার্থের দ্বন্দ্ব

মধ্যপ্রাচ্যে জাতিসংঘের নিষ্ক্রিয়তার মূল কারণ হলো তিনটি পরাশক্তির পরস্পরবিরোধী কৌশলগত স্বার্থ এবং এই স্বার্থগুলো এতটাই গভীর যে শান্তির প্রশ্নটি সেখানে সবসময় গৌণ হয়ে পড়ে। আমেরিকার কৌশলগত অবস্থানের মূল লক্ষ্য হলো ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহের উপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা এবং ইরান ও রাশিয়ার আঞ্চলিক প্রভাব ঠেকানো। এই তিনটি লক্ষ্য পূরণে জাতিসংঘ যখনই বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে, আমেরিকা ভেটোকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে।

রাশিয়ার কৌশলগত স্বার্থ ভিন্ন কিন্তু একই ভাবে তার স্বার্থের অনুকূলে। সিরিয়ার তারতুস বন্দরে রাশিয়ার একমাত্র ভূমধ্যসাগরীয় নৌঘাঁটি অবস্থিত। এই ঘাঁটি হারানো রাশিয়ার জন্য কৌশলগতভাবে বিপর্যয়কর হবে। তাই সিরিয়ায় আসাদ সরকারকে টিকিয়ে রাখতে রাশিয়া জাতিসংঘে বারবার ভেটো দিয়েছে। কিন্তু ২০২৬ সালের ইরান যুদ্ধে রাশিয়ার ভূমিকা আরও জটিল। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের (আইসিজি)-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, রাশিয়া ইরানের পক্ষে দাঁড়িয়েছে কিন্তু ইরানকে বাঁচাতে নয়, বরং আমেরিকাকে কূটনৈতিকভাবে বিব্রত করতে এবং পশ্চিমা জোটকে দুর্বল করতে। এটি রাশিয়ার দীর্ঘমেয়াদী ‘মাল্টিপোলার ওয়ার্ল্ড’ কৌশলের অংশ, যেখানে যেকোনো মার্কিন উদ্যোগকে বাধা দেওয়াই মূল লক্ষ্য।

চীনের কৌশলগত হিসাব আরও সরল। হরমুজ প্রণালি দিয়ে চীনের তেল আমদানির বিশাল অংশ আসে। কিন্তু পশ্চিমা নেতৃত্বাধীন কোনো সামরিক উদ্যোগকে সমর্থন করলে তা বিপজ্জনক নজির তৈরি করবে যা ভবিষ্যতে তাইওয়ান প্রশ্নে চীনের বিরুদ্ধেও ব্যবহার হতে পারে। তাই চীন একই সাথে হরমুজ খোলা রাখতে চায় এবং জাতিসংঘের সামরিক হস্তক্ষেপের নজির তৈরি হতে দিতে চায় না। চ্যাথাম হাউজের বিশ্লেষক ইউ ঝি এর মতে, ‘চীনের জাতিসংঘ নীতি মূলত একটি নেতিবাচক কৌশল, কী চায় তা নয়, কী হতে দিতে চায় না তা নির্ধারণ করেই চীন ভোট দেয়।’

এই ত্রিমুখী স্বার্থের দ্বন্দ্ব ৭ এপ্রিল ২০২৬-এ সবচেয়ে নাটকীয়ভাবে প্রকাশ পায়। এই মাসে নিরাপত্তা পরিষদের আবর্তনশীল সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারি দেশ বাহরাইন, জিসিসি রাষ্ট্রগুলো ও জর্ডানের সমর্থনে একটি প্রস্তাব উপস্থাপন করে। প্রস্তাবটির মূল লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ করা, কারণ ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের অবরোধে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের ২০ শতাংশ আটকে গিয়ে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট তীব্র হয়ে উঠেছিল।

প্রস্তাবটি প্রথমে অনেক শক্তিশালী ছিল, সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে প্রণালী রক্ষায় ‘সকল প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ’ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, যার অর্থ সামরিক ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু রাশিয়া, চীন এমনকি ফ্রান্সের আপত্তিতে প্রস্তাবটি ধাপে ধাপে দুর্বল করা হয়, প্রথমে ‘সকল প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ’ থেকে ‘শুধু প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা’, তারপর ‘প্রতিরক্ষামূলক প্রচেষ্টার সমন্বয়’—এ নামিয়ে আনা হয়। এমনকি জাতিসংঘ সনদের ৭ম অধ্যায়ের উল্লেখিত বাধ্যবাধকতা বাদ দেওয়া হয়, যা মূলত প্রস্তাবটিকে বাধ্যতামূলক থেকে কেবল আহ্বানমূলকে পরিণত করে।

জাতিসংঘ সনদের ৭ম অধ্যায় হলো সংস্থাটির সবচেয়ে শক্তিশালী আইনি হাতিয়ার। এই অধ্যায়ের অধীনে পাস হওয়া প্রস্তাব সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জন্য আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক এবং অমান্য করলে নিষেধাজ্ঞা বা সামরিক ব্যবস্থার বিধান রাখে। ১৯৯০ সালে ইরাকের কুয়েত আক্রমণের পর ঠিক এই ৭ম অধ্যায়ের অধীনেই প্রস্তাব পাস হয়েছিল, যার ভিত্তিতে গালফ যুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিকভাবে বৈধতা পেয়েছিল। পক্ষান্তরে, ৭ম অধ্যায়ের উল্লেখ বাদ দিলে প্রস্তাবটি কেবল একটি আহ্বান বা পরামর্শে পরিণত হয়, যা মানা বা না মানা সম্পূর্ণ রাষ্ট্রের ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল এবং অমান্য করলে কোনো আইনগত পরিণতি নেই।

ইয়েল ল স্কুলের আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ ওনা হাতাওয়ে এর ভাষায়, ‘জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ৭ম অধ্যায় বাদ দেওয়া মানে একটি আদালতের রায় থেকে দণ্ডের বিধান বাদ দেওয়া যেকখানে কাঠামো থাকে, কিন্তু শক্তি থাকে না।’ এতকিছুর পরেও ১৫ সদস্যের পরিষদে ১১টি দেশের সমর্থন পাওয়া সত্ত্বেও রাশিয়া ও চীন ভেটো দেয়, কলম্বিয়া ও পাকিস্তান ভোট প্রদানে বিরত থাকে।

আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী রাশিয়ার জাতিসংঘ রাষ্ট্রদূত ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া ভেটোর পর বলেন, এই প্রস্তাবে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে চলমান মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার কোনো উল্লেখ নেই। কেবল ইরানের পাল্টা পদক্ষেপকে একতরফাভাবে দোষারোপ করা হয়েছে। তিনি বলেন এটি ‘অসম্পূর্ণ, অসংগত ও উসকানিমূলক’ এবং এর উদ্দেশ্য ‘সুস্পষ্ট’, মার্কিন আগ্রাসনকে আইনি বৈধতা দেওয়া। চীনের রাষ্ট্রদূত ফু কং আল জাজিরার বরাতে বলেন, এই প্রস্তাব ‘সংঘাতের মূল কারণ ও সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে’ এবং যুদ্ধ চলাকালীন এ ধরনের প্রস্তাব পাস করা উত্তেজনা কমানোর বদলে বাড়াবে।

বিবিসির বিশ্লেষণে উঠে আসে এই ভেটোর আসল রাজনৈতিক বার্তা। রাশিয়া ও চীন ইরানের ন্যায়বিচারের পক্ষে নয়, তারা আমেরিকার একক কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করছে। অর্থাৎ ইরানের মানুষের জীবন ও কষ্ট এখানে মুখ্য নয়, মুখ্য হলো বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষার দাবা খেলা। এটি শান্তির যুক্তি নয়, এটি ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান রক্ষার কৌশল মাত্র। জাতিসংঘ এই খেলার মাঠ, কিন্তু রেফারি নয়।

জাতিসংঘের উপর যুক্তরাষ্ট্রের একক আধিপত্য

জাতিসংঘের ব্যর্থতার পেছনে সবচেয়ে গভীর কারণটি হলো মার্কিন আর্থিক ও রাজনৈতিক আধিপত্য। কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনস-এর তথ্য অনুযায়ী, আমেরিকা জাতিসংঘের নিয়মিত বাজেটের ২২ শতাংশ এবং শান্তিরক্ষা বাজেটের প্রায় ২৬ শতাংশ বহন করে। ২০২৫ সালে এই অবদান ছিল ৮২০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি। মার্কিন থিংক ট্যাংক সেন্টার ফর স্ট্রাটেজিক এন্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস)-এর বিশ্লেষণ দেখায় আমেরিকা বৈশ্বিক মানবিক সহায়তার প্রায় ৪০ শতাংশ প্রদান করত।

এই আর্থিক নির্ভরতা জাতিসংঘকে আমেরিকার বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ ভূমিকা নিতে অক্ষম করে তোলে। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ডব্লিউএইচও, ইউনোস্ক ও ইউএনএইচআরসি থেকে প্রত্যাহার এবং বাজেট ব্যাপকভাবে কাটছাঁটের ফলে জাতিসংঘ ইতোমধ্যে গভীর আর্থিক সংকটে পড়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিব গুতেরেস সতর্ক করেছেন যে সংস্থাটি ‘দেউলিয়াত্বের দিকে ছুটছে।’ এই পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ কীভাবে আমেরিকার যুদ্ধকে চ্যালেঞ্জ করবে, যে দেশ তার বাজেটের সবচেয়ে বড় অংশ দেয় এবং যেকোনো প্রস্তাব ভেটো দিতে পারে? এই কাঠামোগত পঙ্গুত্ব জাতিসংঘের নিরপেক্ষতাকে কার্যত অসম্ভব করে তুলেছে।

কাঠামোগত ও আর্থিক দুর্বলতা

জাতিসংঘের নিজস্ব কোনো স্থায়ী সামরিক বাহিনী নেই। শান্তিরক্ষা মিশনের জন্য সদস্য দেশগুলোর সৈন্য ধার করতে হয়, যা মূলত স্বেচ্ছামূলক অবদানের উপর নির্ভরশীল। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিচার্স ইন্সটিটিউট (এসআইপিআরআই)এর ২০২৪ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনগুলো কার্যকরভাবে পরিচালিত হয় কেবল তখনই যখন বড় শক্তিগুলোর সরাসরি কোনো স্বার্থ সংঘাতে জড়িত থাকে না। কিন্তু ২০২৬ সালে আমেরিকা সরাসরি ইরানে যুদ্ধ করায় এই ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অকার্যকর হয়ে পড়েছে। কারণ যে দেশগুলো সৈন্য দেওয়ার সক্ষমতা রাখে, তারা হয় সংঘাতের পক্ষে অথবা নিরপেক্ষ থাকতে বাধ্য। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের (আইসিজি)-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কাঠামো মূলত দুর্বল ও ছোট রাষ্ট্রগুলোর সংঘাত সামলাতে পারে,বড় শক্তির যুদ্ধে সে কাঠামোগতভাবেই নিষ্ক্রিয়।

বিচারিক অক্ষমতা

আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) রায় মানতে কোনো রাষ্ট্রকে বাধ্য করার কোনো প্রয়োগযোগ্য মেকানিজম নেই। ২০২৪ সালে আইসিজে গাজায় গণহত্যা রোধে ইসরায়েলকে ব্যবস্থা নিতে বললেও তা কার্যকর হয়নি। চ্যাথাম হাউসের ২০২৩ সালের একটি গবেষণাপত্রে বলা হয়, ‘আন্তর্জাতিক আইনের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো এর প্রয়োগব্যবস্থা। আইন আছে, কিন্তু আইন ভাঙলে শাস্তি দেওয়ার শক্তি নেই।’ আমেরিকা ও ইসরায়েল কোনোটাই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) এর সদস্য নয়, রাশিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে সরে গেছে। কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনস (সিএফআর)-এর মতে, এই তিনটি দেশই বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সামরিক শক্তি পরিচালনা করে এবং তারাই আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার বাইরে।

গণতন্ত্রহীন কাঠামো

জাতিসংঘের সবচেয়ে মৌলিক সমস্যা হলো এটি গণতান্ত্রিক কাঠামো দ্বারা পরিচালিত নয়, এটি ১৯৪৫ সালের বিজয়ীদের তৈরি একটি অভিজাততান্ত্রিক ব্যবস্থা। এই গণতন্ত্রহীনতা কয়েকটি স্তরে বিদ্যমান। প্রথমত, সাধারণ পরিষদের অসারতা। সাধারণ পরিষদে ১৯৩টি দেশ ভোট দেয়, কিন্তু সেই ভোটের কোনো বাধ্যতামূলক কার্যকারিতা নেই। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ইয়ান হার্ড এর মতে, ‘জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ হলো বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিতর্ক ক্লাব, যেখানে সবাই কথা বলতে পারে, কিন্তু কেউ সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।’ বিশ্বের ১৮৮টি ছোট ও মাঝারি রাষ্ট্রের সম্মিলিত ভোট মাত্র পাঁচটি দেশের ভেটোর কাছে অর্থহীন হয়ে যায়।

দ্বিতীয়ত, প্রতিনিধিত্বের সংকট। নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচটি স্থায়ী সদস্যের মধ্যে আফ্রিকার কোনো প্রতিনিধিত্ব নেই। অথচ ব্রুকিংস ইনস্টিটিউট এর ২০২৩ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী বিশ্বের সক্রিয় সংঘাতের ৬০ শতাংশেরও বেশি আফ্রিকায় ঘটছে। লাতিন আমেরিকা ও মুসলিম বিশ্বেরও কোনো স্থায়ী আসন নেই। ইউনাইটেড নেশনস ইউনিভার্সিটি (ইউএনইউ) এর গবেষণায় বলা হয়েছে, ১৯৪৫ সালে বিশ্বের জনসংখ্যা ছিল ২৪০ কোটি, আজ তা ৮০০ কোটিরও বেশি, কিন্তু ক্ষমতার কাঠামো একই রয়ে গেছে। ভারত, ব্রাজিল, নাইজেরিয়া বা ইন্দোনেশিয়ার মতো বিশাল জনগোষ্ঠীর দেশগুলো স্থায়ী আসন পায়নি, অথচ তারা বিশ্বের সামষ্টিক জনসংখ্যার বিশাল অংশের প্রতিনিধিত্ব করে।

তৃতীয়ত, সংস্কারের দুষ্টচক্র। জাতিসংঘের কাঠামো পরিবর্তন করতে হলে সনদ সংশোধন দরকার, যার জন্য প্রয়োজন নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচটি স্থায়ী সদস্যের অনুমোদন। কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের সিনিয়র ফেলো স্টুয়ার্ট পেট্রিক ২০২৩ সালে লিখেছেন, ‘জাতিসংঘ সংস্কারের সমস্যাটি মূলত একটি রাজনৈতিক প্যারাডক্স, যারা সংস্কার থেকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তারাই সেই সংস্কারের একমাত্র অনুমোদনকারী।’ এটি একটি নিখুঁত দুষ্টচক্র যেখানে সংস্কারের চাবিকাঠি সংস্কারবিরোধীদের হাতে।

চতুর্থত, আর্থিক নির্ভরতার। যে দেশ বেশি অর্থ দেয়, সে দেশের অঘোষিত প্রভাব বেশি। সেন্টার ফর স্ট্রাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) গবেষক ক্যাথলিন হিক্স বলেছেন, ‘যখন একটি দেশ জাতিসংঘের বাজেটের এত বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে, তখন সংস্থাটির নিরপেক্ষতা কাঠামোগতভাবেই প্রশ্নবিদ্ধ।’ ট্রাম্প প্রশাসন অর্থ কাটছাঁট করলে জাতিসংঘ কর্মসূচি গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়, তা তখন আর গণতন্ত্র থাকে না, হয়ে ওঠে আর্থিক ক্ষমতার আধিপত্য। গ্লোবাল পলিসি ফোরামের দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, জাতিসংঘ কার্যকরভাবে একটি ‘দ্বি-স্তরীয় আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা’ তৈরি করেছে, যেখানে পাঁচটি দেশ আইনের ঊর্ধ্বে এবং বাকি ১৮৮টি দেশ সেই আইনের অধীনে। ৮০ বছর পরেও এই কাঠামো অপরিবর্তিত থাকা প্রমাণ করে যে এই ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখাই পরাশক্তিগুলোর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য।

মধ্যপ্রাচ্যে জাতিসংঘের ব্যর্থতার উদাহরণ

ফিলিস্তিন সংকট জাতিসংঘের ব্যর্থতার এক বড় উদাহরণ। ১৯৪৭ সালে জাতিসংঘের বিভাজন পরিকল্পনা থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত ফিলিস্তিন সমস্যার কোনো সমাধান হয়নি। শত শত প্রস্তাব পাস হয়েছে, কিন্তু মার্কিন ভেটোর দেয়ালে সব থেমে গেছে। ২০১১ থেকে চলমান গৃহযুদ্ধে পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে সিরিয়ায়। রুয়ান্ডায় ১৯৯৪ সালে ১০০ দিনে আট লাখ মানুষ হত্যার সময় জাতিসংঘ সক্রিয় পদক্ষেপ নিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়।

২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে শুরু হওয়া যুদ্ধে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী মাত্র ১২ ঘণ্টায় প্রায় ৯০০টি হামলা চালায় ইরানে। এই বিমান হামলায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সিস্টেম, বিমান প্রতিরক্ষা, সামরিক অবকাঠামো এবং নেতৃত্বকে লক্ষ্য করা হয়। প্রাথমিক হামলায় সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা নিহত হন। একটি বালিকা বিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে প্রায় ১৭০ জন নিহত হওয়ার ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র নিন্দার সৃষ্টি করে। গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলমান এ যুদ্ধে হতাহতের সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাঁচ সপ্তাহের যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মানুষ নিহত হয়।

এই পুরো সময়ে জাতিসংঘ একটিও কার্যকর যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব পাস করতে পারেনি। আইএইএ মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি সতর্ক করেন বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মাত্র ২৫০ ফুট দূরে হামলা হয়েছে এবং চলমান বোমাবর্ষণ ‘মারাত্মক তেজস্ক্রিয় বিপর্যয়’ ঘটাতে পারে। ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থার প্রধান মোহাম্মাদ ইসলামি আইএইএ মহাপরিচালককে এক চিঠিতে জানান যে কেন্দ্রটিকে চারবার হামলার শিকার হতে হয়েছে, যার মধ্যে সর্বশেষ ৪ এপ্রিল, এবং একজন নিরাপত্তাকর্মী নিহত হয়েছেন। তিনি সতর্ক করেন যে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি একটি ‘অপারেশনাল রিঅ্যাক্টর’ এবং এখানে হামলা তেজস্ক্রিয় পদার্থের বিস্তৃত বিস্তার ঘটাতে পারে যার ‘অপূরণীয় পরিণতি’ হবে। ইসলামি আইএইএকে ‘নিষ্ক্রিয়তার’ জন্য কঠোর সমালোচনা করেন এবং বলেন, কেবল ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করে সংস্থাটি তার দায়িত্ব পালন করছে না।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ হলো যুদ্ধবিরতির প্রসঙ্গ। গত ৭-৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়, তবে তা জাতিসংঘের মাধ্যমে নয়, একটি আঞ্চলিক মুসলিম রাষ্ট্র পাকিস্তানের কূটনৈতিক উদ্যোগে। সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই শান্তি আলোচনা বাস্তবায়নে মূল ভূমিকা রাখেন। এটি কেবল জাতিসংঘের অপ্রাসঙ্গিকতার প্রমাণ নয়, এটি জাতিসংঘের জীবন্ত ব্যর্থতার সার্টিফিকেট। পরাশক্তিগুলো শান্তি চায় না, তারা চায় কৌশলগত ভারসাম্য, এটিই এই ঘটনা প্রমাণ করে।

জাতিসংঘের নৈতিক বিচ্যুতি

এটি জাতিসংঘের সবচেয়ে গভীর নৈতিক সংকটকে স্মরণ করিয়ে দেয়। সংস্থাটি ইরান সংঘাতকে পারমাণবিক যুদ্ধ পর্যন্ত যাওয়া ঠেকাতে কোনো সক্রিয় উদ্যোগ না নিয়ে বরং পারমাণবিক বিপর্যয়-পরবর্তী পরিস্থিতি সামলানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ইন্ডিয়ান ডিফেন্স রিভিউয়ের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন ই-ফোর বি নাইটওয়াচ যাকে ‘ডুমসডে প্লেন’ বলা হয়, ৬ এপ্রিল ২০২৬-এ নেব্রাস্কার অফুট এয়ার ফোর্স বেসের উপর কমপক্ষে ছয়টি লুপ মহড়া সম্পন্ন করে। এই বেসটি মার্কিন স্ট্র্যাটেজিক কমান্ডের সদর দপ্তর, যে সংস্থাটি সরাসরি পারমাণবিক বাহিনী নিয়ন্ত্রণ করে। আমেরিকা পারমাণবিক যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে, আর জাতিসংঘ নীরব দর্শক হয়ে বসে আছে।

গত ৭ এপ্রিল ট্রাম্প হুমকি দেন ‘সমগ্র সভ্যতা আজ রাতে মরবে।’ আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স ইঙ্গিত দেন, এমন হাতিয়ার ব্যবহার হতে পারে যা ‘এখন পর্যন্ত ব্যবহার করা হয়নি।’ এই বক্তব্য কংগ্রেসম্যান হোয়াকিন কাস্ত্রোসহ অনেক মার্কিন আইনপ্রণেতার উদ্বেগ বাড়িয়েছিল। তারা ট্রাম্পকে স্পষ্টভাবে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা নাকচ করতে বলেন। হোয়াইট হাউস পরে স্পষ্ট করে যে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের কোনো পরিকল্পনা নেই। কিন্তু যে ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে তা আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিকোণ থেকে বেআইনি হুমকির পর্যায়ে পড়ে এবং বৈশ্বিক আতঙ্কের পারদ সর্বোচ্চ সীমায় নিয়ে যায়।

আমেরিকার এই অ্যাপোক্যালিপটিক ভাষার বিরুদ্ধে জাতিসংঘ মহাসচিবের কোনো জরুরি বিবৃতি বা বিশেষ অধিবেশন ডাকার উদ্যোগ দেখা যায়নি। এটি সনদের ১ নং অনুচ্ছেদের সঙ্গে সরাসরি বিরোধিতা। যে সংস্থার কাজ আগুন নেভানো, সে পোড়া মানুষের চিকিৎসার প্রস্তুতি নিচ্ছে, এই নৈতিক বিচ্যুতি জাতিসংঘের অস্তিত্বের যৌক্তিকতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।

জাতিসংঘকে কার্যকর করতে হলে কাঠামোগত সংস্কার অপরিহার্য। প্রথমত, ভেটো ব্যবস্থার সংস্কার দরকার। একক ভেটোর বদলে কমপক্ষে তিনটি স্থায়ী সদস্যের একমত ছাড়া ভেটো কার্যকর না হওয়ার বিধান আনা যেতে পারে। দ্বিতীয়ত, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও মুসলিম বিশ্বকে স্থায়ী আসন দিয়ে নিরাপত্তা পরিষদকে প্রকৃত অর্থে প্রতিনিধিত্বশীল করতে হবে। তৃতীয়ত, জাতিসংঘকে স্বায়ত্তশাসিত অর্থায়নের ব্যবস্থা করতে হবে যাতে কোনো একটি দেশের অর্থনৈতিক চাপে সংস্থাটি পঙ্গু না হয়।

তবে সংস্কারের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হলো যে সংস্কারের জন্যও নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের অনুমোদন দরকার অর্থাৎ যারা সুবিধাভোগী তারাই সংস্কারের দ্বাররক্ষী।

২০২৬ সালের ইরান যুদ্ধ বিশ্বকে একটি নির্মম সত্যের মুখোমুখি করেছে, জাতিসংঘ যখন যুদ্ধ থামাতে পারে না, পারমাণবিক হুমকিতে নীরব থাকে এবং একটি আঞ্চলিক রাষ্ট্রের কূটনীতির কাছে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ে, তখন প্রশ্ন ওঠে, এই সংস্থাটি কি আর বিশ্বশান্তির অভিভাবক, নাকি পরাশক্তিগুলোর কৌশলগত খেলার একটি আলংকারিক মঞ্চ মাত্র?

এখনই সময় একটি ‘নতুন বৈশ্বিক ব্যবস্থা’ গড়ে তোলার, যেখানে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের একক আধিপত্য বা ভেটো ক্ষমতার অপব্যবহার থাকবে না। পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণকে বাস্তবে রূপ দিতে বিশ্বের সব রাষ্ট্রকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। অন্যথায়, ইতিহাসের পাতায় জাতিসংঘ কেবল একটি ‘ব্যর্থ এবং পক্ষপাতদুষ্ট সংস্থা’ হিসেবেই চিহ্নিত হয়ে থাকবে।

লেখক: গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক

সম্পর্কিত