ঢাকায় আজ শীত পড়েছে। এই মৌসুমে প্রথমবার। দুপুর দুইটা বাজে, কিন্তু রোদ নেই। রাস্তায় গাড়ি চলছে, মানুষ হাঁটছে, অফিসের জানালা খোলা। সবই স্বাভাবিক। তবু কোথাও একটা অস্বাভাবিকতা আছে। কী সেটা!
গৌতম কে শুভ

ঢাকায় আজ শীত পড়েছে। এই মৌসুমে প্রথমবার। দুপুর দুইটা বাজে, কিন্তু রোদ নেই। এরই মধ্যে মানুষের গায়ে উঠেছে গরম কাপড়। এমন সব দিনে ঢাকাকে একটু থমকে থাকা শহর মনে হয়। রাস্তায় গাড়ি চলছে, মানুষ হাঁটছে, অফিসের জানালা খোলা। সবই স্বাভাবিক। তবু কোথাও একটা অস্বাভাবিকতা আছে। কী সেটা!
ঢাকার শীত কখনোই খুব নাটকীয় নয়। এখানে তুষার পড়ে না, নিশ্বাস থেকে ধোঁয়া বের হয় না। তবু এই শহরের শীতকে চাইলেই একটু আলাদা করে চেনা যায়। ভোরবেলা কুয়াশা নামলে গাছগুলো ঝাপসা হয়ে যায়, দিনের বেলা রিকশাওয়ালারা গামছা গায়ে দেয়, আর চায়ের দোকানগুলোতে ভিড় একটু বাড়ে। অফিসে যাওয়ার তাড়া থাকে, কিন্তু হাঁটার গতিটা একটু কমে যায়। পত্রিকা আর টেলিভিশনের পর্দায় ঘন ঘন চোখে পড়ে পেট্রোলিয়াম জেলি, বডি লোশন, ময়েশ্চারাইজারের বিজ্ঞাপন। বিকেলে ফুটপাতে দেদার বিক্রি হয় শীতের পোশাক।
এই ডিসেম্বরেই হঠাৎ করে মনে পড়ে যায় কলকাতার অরিত্র সেনগুপ্তের লেখা আর সৌরভ সাহার গাওয়া ‘ডিসেম্বরের শহর’ গানটি। গানটা আসলে শীতের বর্ণনা দেয় না, দেয় একটা শহরে যে কত রকম গল্প থাকে, সেসব।
‘তাঁরা জানে না তোমার অতীতটাকে
সেই বিষণ্ণ কার্ডিগান
তাঁরা জানে না প্রতি ডিসেম্বরে
কুয়াশায় লেখো ছদ্মনাম’
এই গানে ডিসেম্বরের শহরকে একটি আবেগী মানসিক ভূগোল হিসেবে দেখানো হয়েছে। চেনা বন্ধু, চেনা আড্ডা হলেও ভেতরে ভেতরে কোথাও গিয়ে তা যেন খানিকটা একাকী। অতীত, না-পাঠানো মেসেজ, পুরোনো গান, কুয়াশায় লেখা ছদ্মনাম মিলিয়ে ডিসেম্বর হয়ে ওঠে নস্টালজিয়ার ঋতু।
শীত এলেই ঢাকায় শুরু হয় পিঠার মৌসুম। আমাদের দেশে বছরজুড়েই নানা উপলক্ষে পিঠা বানানো হয়। তবে শীতকালে পিঠার বৈচিত্র্য চোখে পড়ে সবচেয়ে বেশি। কারণটা লুকিয়ে আছে ঐতিহ্যের ভেতর। শীতের ঠিক আগে আগেই শুরু হয় হেমন্তের নবান্ন উৎসব। কৃষকের গোলাঘর ভরে ওঠে সোনালী ধানে। সেই আমন ধান থেকে আসে নতুন চাল। তাই শীত এলেই শহরের পথে-ঘাটে দেখা যায় ছোট ছোট পিঠার দোকান। ভাপা, চিতই, পাটিসাপটা, পুলি, দুধ চিতই, মালপোয়া, নকশিপিঠা—কী নেই তালিকায়!
গ্রামের শীতের সংস্কৃতি শহরে এসে একটু বদলে যায়, কিন্তু হারিয়ে যায় না। পিঠা খাওয়া মূলত শীতকে উদ্যাপন করার একটা ভাষা। আবার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও আয়োজন করে পিঠামেলা, যেখানে পাওয়া যায় নানা ধরনের পিঠা। আবার ব্যস্ততার মধ্যেই কেউ কেউ ঘরে তৈরি করেন পিঠা, ছুটির দিনে পরিবার নিয়ে উপভোগ করেন সেই উষ্ণ সময়।
তবে ঢাকার শীত শুধু উৎসবের-কনসার্টের না। এই শীতের সঙ্গে এক ধরনের মনখারাপও আসে। ডিসেম্বর এলেই মনে হয়, বছরটা শেষের দিকে। কী পেলাম, কী হারালাম, এই হিসাবটা মাথায় ঘুরতে থাকে। পুরোনো সম্পর্ক, ফেলে আসা মানুষ, বলা হয়নি এমন কথা—সবকিছু এই ডিসেম্বরে একটু বেশি মনে পড়ে কেন যেন! ঢাকার শীত মানে অনেকের জন্য নস্টালজিয়ার সময়। আর দিনের আলো কমে গেলে মনও যেন একটু ভারী হয়ে ওঠে। কারণ আলো কমে গেলে মস্তিষ্কে মেলাটোনিন নামের হরমোনের উৎপাদন মাত্রা বেড়ে যায়, যা ঘুম ও অবসন্নতাকে বাড়িয়ে দেয়। একই সময়ে কমে যায় মুড ভালো রাখার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক সেরোটোনিন। এর ফলে মানুষ স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা নিস্তেজ, দুর্বল ও বিষণ্ন অনুভব করে।
কিন্তু এই ছবিটা সম্পূর্ণ না, যদি আমরা ঢাকার শীতের আরেকটা দিক না দেখি। এই শহরে এমন অনেক মানুষ আছেন, যাদের জন্য শীত মানে রাতে ঠিকমতো ঘুম না হওয়া। ফুটপাতে শুয়ে থাকা মানুষ, বস্তির শিশুরা, দিনমজুর—তাঁদের জন্য এই ঠান্ডা রাত ভয়ংকর হয়ে ওঠে। আমাদের যে হালকা শীত, সেটাই তাঁদের শরীর কাঁপিয়ে দেয়।
ডিসেম্বর এলেই শহরের এই বৈপরীত্যটা আরও স্পষ্ট হয়। একদিকে আমরা সোয়েটার পরে, কম্বলের ভেতর ঢুকে শীত উপভোগ করি; অন্যদিকে কেউ গরম কাপড় না পেয়ে রাত পার করে। ঢাকার শীত তাই শুধু রোমান্টিক না, প্রশ্নও তোলে। এই শহরে শীত এলেই মানবিক হওয়ার ডাকটা একটু জোরে শোনা যায়। তবু এই শহরের শীত মানুষকে কাছে টানে। হয়তো তাই ডিসেম্বরের ঢাকায় রোদ না উঠলেও মন চায় জানালার পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে। বাইরে তাকিয়ে শহরটাকে দেখতে, ভেতরে ভেতরে কোনো এক পুরোনো গান বাজতে দিতে।

ঢাকায় আজ শীত পড়েছে। এই মৌসুমে প্রথমবার। দুপুর দুইটা বাজে, কিন্তু রোদ নেই। এরই মধ্যে মানুষের গায়ে উঠেছে গরম কাপড়। এমন সব দিনে ঢাকাকে একটু থমকে থাকা শহর মনে হয়। রাস্তায় গাড়ি চলছে, মানুষ হাঁটছে, অফিসের জানালা খোলা। সবই স্বাভাবিক। তবু কোথাও একটা অস্বাভাবিকতা আছে। কী সেটা!
ঢাকার শীত কখনোই খুব নাটকীয় নয়। এখানে তুষার পড়ে না, নিশ্বাস থেকে ধোঁয়া বের হয় না। তবু এই শহরের শীতকে চাইলেই একটু আলাদা করে চেনা যায়। ভোরবেলা কুয়াশা নামলে গাছগুলো ঝাপসা হয়ে যায়, দিনের বেলা রিকশাওয়ালারা গামছা গায়ে দেয়, আর চায়ের দোকানগুলোতে ভিড় একটু বাড়ে। অফিসে যাওয়ার তাড়া থাকে, কিন্তু হাঁটার গতিটা একটু কমে যায়। পত্রিকা আর টেলিভিশনের পর্দায় ঘন ঘন চোখে পড়ে পেট্রোলিয়াম জেলি, বডি লোশন, ময়েশ্চারাইজারের বিজ্ঞাপন। বিকেলে ফুটপাতে দেদার বিক্রি হয় শীতের পোশাক।
এই ডিসেম্বরেই হঠাৎ করে মনে পড়ে যায় কলকাতার অরিত্র সেনগুপ্তের লেখা আর সৌরভ সাহার গাওয়া ‘ডিসেম্বরের শহর’ গানটি। গানটা আসলে শীতের বর্ণনা দেয় না, দেয় একটা শহরে যে কত রকম গল্প থাকে, সেসব।
‘তাঁরা জানে না তোমার অতীতটাকে
সেই বিষণ্ণ কার্ডিগান
তাঁরা জানে না প্রতি ডিসেম্বরে
কুয়াশায় লেখো ছদ্মনাম’
এই গানে ডিসেম্বরের শহরকে একটি আবেগী মানসিক ভূগোল হিসেবে দেখানো হয়েছে। চেনা বন্ধু, চেনা আড্ডা হলেও ভেতরে ভেতরে কোথাও গিয়ে তা যেন খানিকটা একাকী। অতীত, না-পাঠানো মেসেজ, পুরোনো গান, কুয়াশায় লেখা ছদ্মনাম মিলিয়ে ডিসেম্বর হয়ে ওঠে নস্টালজিয়ার ঋতু।
শীত এলেই ঢাকায় শুরু হয় পিঠার মৌসুম। আমাদের দেশে বছরজুড়েই নানা উপলক্ষে পিঠা বানানো হয়। তবে শীতকালে পিঠার বৈচিত্র্য চোখে পড়ে সবচেয়ে বেশি। কারণটা লুকিয়ে আছে ঐতিহ্যের ভেতর। শীতের ঠিক আগে আগেই শুরু হয় হেমন্তের নবান্ন উৎসব। কৃষকের গোলাঘর ভরে ওঠে সোনালী ধানে। সেই আমন ধান থেকে আসে নতুন চাল। তাই শীত এলেই শহরের পথে-ঘাটে দেখা যায় ছোট ছোট পিঠার দোকান। ভাপা, চিতই, পাটিসাপটা, পুলি, দুধ চিতই, মালপোয়া, নকশিপিঠা—কী নেই তালিকায়!
গ্রামের শীতের সংস্কৃতি শহরে এসে একটু বদলে যায়, কিন্তু হারিয়ে যায় না। পিঠা খাওয়া মূলত শীতকে উদ্যাপন করার একটা ভাষা। আবার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও আয়োজন করে পিঠামেলা, যেখানে পাওয়া যায় নানা ধরনের পিঠা। আবার ব্যস্ততার মধ্যেই কেউ কেউ ঘরে তৈরি করেন পিঠা, ছুটির দিনে পরিবার নিয়ে উপভোগ করেন সেই উষ্ণ সময়।
তবে ঢাকার শীত শুধু উৎসবের-কনসার্টের না। এই শীতের সঙ্গে এক ধরনের মনখারাপও আসে। ডিসেম্বর এলেই মনে হয়, বছরটা শেষের দিকে। কী পেলাম, কী হারালাম, এই হিসাবটা মাথায় ঘুরতে থাকে। পুরোনো সম্পর্ক, ফেলে আসা মানুষ, বলা হয়নি এমন কথা—সবকিছু এই ডিসেম্বরে একটু বেশি মনে পড়ে কেন যেন! ঢাকার শীত মানে অনেকের জন্য নস্টালজিয়ার সময়। আর দিনের আলো কমে গেলে মনও যেন একটু ভারী হয়ে ওঠে। কারণ আলো কমে গেলে মস্তিষ্কে মেলাটোনিন নামের হরমোনের উৎপাদন মাত্রা বেড়ে যায়, যা ঘুম ও অবসন্নতাকে বাড়িয়ে দেয়। একই সময়ে কমে যায় মুড ভালো রাখার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক সেরোটোনিন। এর ফলে মানুষ স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা নিস্তেজ, দুর্বল ও বিষণ্ন অনুভব করে।
কিন্তু এই ছবিটা সম্পূর্ণ না, যদি আমরা ঢাকার শীতের আরেকটা দিক না দেখি। এই শহরে এমন অনেক মানুষ আছেন, যাদের জন্য শীত মানে রাতে ঠিকমতো ঘুম না হওয়া। ফুটপাতে শুয়ে থাকা মানুষ, বস্তির শিশুরা, দিনমজুর—তাঁদের জন্য এই ঠান্ডা রাত ভয়ংকর হয়ে ওঠে। আমাদের যে হালকা শীত, সেটাই তাঁদের শরীর কাঁপিয়ে দেয়।
ডিসেম্বর এলেই শহরের এই বৈপরীত্যটা আরও স্পষ্ট হয়। একদিকে আমরা সোয়েটার পরে, কম্বলের ভেতর ঢুকে শীত উপভোগ করি; অন্যদিকে কেউ গরম কাপড় না পেয়ে রাত পার করে। ঢাকার শীত তাই শুধু রোমান্টিক না, প্রশ্নও তোলে। এই শহরে শীত এলেই মানবিক হওয়ার ডাকটা একটু জোরে শোনা যায়। তবু এই শহরের শীত মানুষকে কাছে টানে। হয়তো তাই ডিসেম্বরের ঢাকায় রোদ না উঠলেও মন চায় জানালার পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে। বাইরে তাকিয়ে শহরটাকে দেখতে, ভেতরে ভেতরে কোনো এক পুরোনো গান বাজতে দিতে।

প্রযুক্তির ইতিহাসে ১৯২৬ সালের ২৬ জানুয়ারি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। বর্তমান যুগে আমরা যে টেলিভিশনকে দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে ধরে নিয়েছি, তার যাত্রা শুরু হয়েছিল এই দিনটিতেই। স্কটিশ প্রকৌশলী জন লগি বেয়ার্ড সেদিন প্রথমবারের মতো ‘রিয়েল টেলিভিশন’ বা প্রকৃত টেলিভিশন জনসমক্ষে প্রদর্শন কর
৩১ মিনিট আগে
দোহারের ইকরাশি গ্রামের শান্তি রানী পাল। বয়স ৯২ বছর। বয়সের ভারে অনেকটাই নুয়ে পড়েছেন। চোখের আলো কমে গেছে, গলার স্বরও ভেঙে গেছে; তবু সংসারের চাকাকে সচল রাখতে আদি পেশা হিসেবে কুমারের কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।
২০ ঘণ্টা আগে
জেনে অবাক হবেন যে শত বছর আগে বৃহত্তর বগুড়া অঞ্চলে বন্যপ্রাণী বাস করত। কোন কোন বন্যপ্রাণী ও পাখি সেখানে ছিল? নদী, জলাভূমি ও পুকুরে কী কী মাছ পাওয়া যেত? ১৯১০ সালে প্রকাশিত জে এন গুপ্ত-এর পূর্ববঙ্গ ও আসামের ডিস্ট্রিক্ট গেজেটিয়ার (বগুড়া) থেকে অনুবাদ করেছেন ভূ-পর্যটক তারেক অণু।
১ দিন আগে
আজ ২৫ জানুয়ারি মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্মদিন। সাহিত্যিক হিসেবে সাহিত্য-পরিসরে শতবর্ষ পরেও তিনি বেঁচে আছেন সক্রিয়তার ভেতর দিয়েই। এও সত্য যে, তাঁকে নিয়ে তাঁর কালেই তো বেশ জোরজারের সাথে চর্চা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে ধুন্ধুমারভাবে প্রভাবিত করে গেছেন বিচিত্র ধারার সাহিত্যের লোকজনকে। এসবের পরও সেইকালে মধুসূদন
১ দিন আগে