স্ট্রিম ডেস্ক

কোরবানির ইতিহাস বেশ পুরোনো ও তাৎপর্যপূর্ণ। প্রতি বছর আরবি জিলহজ্জ মাসের ১০ তারিখ সারাবিশ্বে ঈদুল আজহা পালিত হয়। আরবি কুরবান শব্দ থেকে কোরবানি শব্দটি এসেছে। যার অর্থ ত্যাগ করা বা উৎসর্গ করা।
ধর্মীয় তাৎপর্যের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি, খাদ্যাভ্যাস, ভৌগোলিক পরিবেশ ও অর্থনীতির ওপর ভিত্তি করে একেক দেশে কোরবানির পশু একেক রকম হয়। কোথাও গরু সবচেয়ে জনপ্রিয়, কোথাও ভেড়া বা দুম্বা, আবার কোথাও উট ছাড়া ঈদ যেন কল্পনাই করা যায় না।
বাংলাদেশে কোরবানির ঈদ মানেই গরুর বিশাল হাট। গরুর সহজলভ্যতা, শরিকে কোরবানি দেওয়া ও তুলনামূলক বেশি মাংসের জন্য দেশের শহর থেকে গ্রাম সব জায়গায় গরুই সবচেয়ে বেশি কোরবানি হয়। বিশেষ করে পরিবারভিত্তিক বা অংশীদারিতে বড় গরু কেনার প্রবণতা বেশি দেখা যায়।
এখানে ছাগল কোরবানিও জনপ্রিয়। তবে সেটি তুলনামূলকভাবে ছোট পরিবার বা ব্যক্তিগত কোরবানিতে বেশি দেখা যায়। গ্রামাঞ্চলে অনেক পরিবার সারা বছর ধরে নিজে গরু বা ছাগল লালন-পালন করে ঈদের সময় কোরবানি দেয়।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে ভেড়া ও উটের কোরবানি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। মরুভূমি অঞ্চলে শত শত বছর ধরে উট আরব সংস্কৃতির অংশ। তাই সামর্থ্যবান অনেক পরিবার উট কোরবানি দেয়, যদিও সংখ্যার দিক থেকে ভেড়া বেশি জনপ্রিয়।
হজ্জ পালনকারীদের বড় অংশও সৌদি আরবে কোরবানি সম্পন্ন করেন। এ কারণে ঈদের সময় দেশটিতে বিপুল সংখ্যক ভেড়া, দুম্বা ও উটের চাহিদা তৈরি হয়। অস্ট্রেলিয়া, সুদান ও সোমালিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে পশু আমদানি করা হয়।
পাকিস্তানে গরুর পাশাপাশি ছাগলের কোরবানি ব্যাপক জনপ্রিয়। দেশটির শহরগুলোতে ঈদের আগে পশু সাজানোর এক বিশেষ সংস্কৃতি রয়েছে। গরুর শিং রঙ করা, গলায় অলংকার পরানো কিংবা উটকে বিশেষ সাজে উপস্থাপন করা সেখানে উৎসবের অংশ হয়ে উঠেছে।
করাচি, লাহোর কিংবা ইসলামাবাদের বড় পশুর হাটগুলোতে লাখ লাখ পশু বিক্রি হয়। পাকিস্তানের কিছু অঞ্চলে উটের কোরবানিও দেখা যায়, বিশেষ করে বেলুচিস্তান ও সিন্ধু অঞ্চলে।
ভারতে মুসলমান জনগোষ্ঠীর বড় অংশ কোরবানিতে ছাগলকে প্রাধান্য দেয়। যদিও গরু কোরবানি কিছু রাজ্যে হয়, তবে দেশটির বিভিন্ন রাজ্যে গরু জবাই নিয়ে আইনি বিধিনিষেধ থাকায় ছাগল ও ভেড়া কোরবানি বেশি দেখা যায়।
বিশেষ করে উত্তর প্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, কেরালা ও জম্মু-কাশ্মীরে ছাগলের চাহিদা অনেক বেশি থাকে। অনেক জায়গায় ‘বকরিদ’ নামটিও এসেছে ‘বকরা’ বা ছাগল শব্দ থেকে।
তুরস্কে ভেড়া ও দুম্বার কোরবানি সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। দেশটির গ্রামীণ অর্থনীতি ও পাহাড়ি অঞ্চলে ভেড়া পালনের দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে।
ঈদের সময় তুরস্কের শহরগুলোতে নির্দিষ্ট কোরবানি কেন্দ্র তৈরি করা হয়। সেখানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পশু জবাই ও মাংস বিতরণ করা হয়। অনেক পরিবার সরাসরি পশু না কিনে বিভিন্ন দাতব্য সংস্থার মাধ্যমে কোরবানি দেয়।
আফ্রিকার মুসলিমপ্রধান দেশগুলোতে ছাগল ও ভেড়ার কোরবানি বেশি দেখা যায়। নাইজেরিয়া, সুদান, সোমালিয়া বা মালি এসব দেশে তুলনামূলকভাবে ছোট পশুর চাহিদা বেশি।
তবে সুদান ও মৌরিতানিয়ার মতো কিছু দেশে উটের কোরবানিও গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্য। মরুভূমি অঞ্চলে উট শুধু বাহন নয়, সামাজিক মর্যাদার প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হয়।
ইন্দোনেশিয়ায় গরু ও ছাগল দুই ধরনের পশুর কোরবানি জনপ্রিয়। শহরাঞ্চলে গরুর কোরবানি বেশি হলেও গ্রামাঞ্চলে ছাগল বেশি দেখা যায়।
মালয়েশিয়াতেও একই প্রবণতা দেখা যায়। সেখানে মসজিদ ও কমিউনিটি ভিত্তিক কোরবানির ব্যবস্থা বেশ জনপ্রিয়। অনেকে যৌথভাবে গরু কোরবানি দেন।
যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি কিংবা কানাডার মতো দেশে মুসলমানরা মূলত ভেড়া, ছাগল ও গরু কোরবানি দেন। তবে সেখানে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি ও পশু জবাইয়ের আইন মেনে নির্ধারিত স্লটারহাউসে কোরবানি করতে হয়।
পশ্চিমা বিশ্বে অনেকে সরাসরি পশু না কিনে বিভিন্ন ইসলামিক চ্যারিটি বা আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে আফ্রিকা ও এশিয়ার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য কোরবানির ব্যবস্থা করেন।
বিশ্বজুড়ে কোরবানির পশুতে পার্থক্য থাকলেও মূল বার্তা একই—ত্যাগ, সামর্থ্য ভাগাভাগি এবং মানবিকতা। একেক দেশের মানুষ তাদের পরিবেশ, ইতিহাস ও সংস্কৃতির আলোকে কোরবানির পশু নির্বাচন করে। আর সেই বৈচিত্র্যই মুসলিম বিশ্বের কোরবানির ঈদকে করেছে আরও বর্ণিল ও বৈচিত্র্যময়।

কোরবানির ইতিহাস বেশ পুরোনো ও তাৎপর্যপূর্ণ। প্রতি বছর আরবি জিলহজ্জ মাসের ১০ তারিখ সারাবিশ্বে ঈদুল আজহা পালিত হয়। আরবি কুরবান শব্দ থেকে কোরবানি শব্দটি এসেছে। যার অর্থ ত্যাগ করা বা উৎসর্গ করা।
ধর্মীয় তাৎপর্যের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি, খাদ্যাভ্যাস, ভৌগোলিক পরিবেশ ও অর্থনীতির ওপর ভিত্তি করে একেক দেশে কোরবানির পশু একেক রকম হয়। কোথাও গরু সবচেয়ে জনপ্রিয়, কোথাও ভেড়া বা দুম্বা, আবার কোথাও উট ছাড়া ঈদ যেন কল্পনাই করা যায় না।
বাংলাদেশে কোরবানির ঈদ মানেই গরুর বিশাল হাট। গরুর সহজলভ্যতা, শরিকে কোরবানি দেওয়া ও তুলনামূলক বেশি মাংসের জন্য দেশের শহর থেকে গ্রাম সব জায়গায় গরুই সবচেয়ে বেশি কোরবানি হয়। বিশেষ করে পরিবারভিত্তিক বা অংশীদারিতে বড় গরু কেনার প্রবণতা বেশি দেখা যায়।
এখানে ছাগল কোরবানিও জনপ্রিয়। তবে সেটি তুলনামূলকভাবে ছোট পরিবার বা ব্যক্তিগত কোরবানিতে বেশি দেখা যায়। গ্রামাঞ্চলে অনেক পরিবার সারা বছর ধরে নিজে গরু বা ছাগল লালন-পালন করে ঈদের সময় কোরবানি দেয়।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে ভেড়া ও উটের কোরবানি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। মরুভূমি অঞ্চলে শত শত বছর ধরে উট আরব সংস্কৃতির অংশ। তাই সামর্থ্যবান অনেক পরিবার উট কোরবানি দেয়, যদিও সংখ্যার দিক থেকে ভেড়া বেশি জনপ্রিয়।
হজ্জ পালনকারীদের বড় অংশও সৌদি আরবে কোরবানি সম্পন্ন করেন। এ কারণে ঈদের সময় দেশটিতে বিপুল সংখ্যক ভেড়া, দুম্বা ও উটের চাহিদা তৈরি হয়। অস্ট্রেলিয়া, সুদান ও সোমালিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে পশু আমদানি করা হয়।
পাকিস্তানে গরুর পাশাপাশি ছাগলের কোরবানি ব্যাপক জনপ্রিয়। দেশটির শহরগুলোতে ঈদের আগে পশু সাজানোর এক বিশেষ সংস্কৃতি রয়েছে। গরুর শিং রঙ করা, গলায় অলংকার পরানো কিংবা উটকে বিশেষ সাজে উপস্থাপন করা সেখানে উৎসবের অংশ হয়ে উঠেছে।
করাচি, লাহোর কিংবা ইসলামাবাদের বড় পশুর হাটগুলোতে লাখ লাখ পশু বিক্রি হয়। পাকিস্তানের কিছু অঞ্চলে উটের কোরবানিও দেখা যায়, বিশেষ করে বেলুচিস্তান ও সিন্ধু অঞ্চলে।
ভারতে মুসলমান জনগোষ্ঠীর বড় অংশ কোরবানিতে ছাগলকে প্রাধান্য দেয়। যদিও গরু কোরবানি কিছু রাজ্যে হয়, তবে দেশটির বিভিন্ন রাজ্যে গরু জবাই নিয়ে আইনি বিধিনিষেধ থাকায় ছাগল ও ভেড়া কোরবানি বেশি দেখা যায়।
বিশেষ করে উত্তর প্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, কেরালা ও জম্মু-কাশ্মীরে ছাগলের চাহিদা অনেক বেশি থাকে। অনেক জায়গায় ‘বকরিদ’ নামটিও এসেছে ‘বকরা’ বা ছাগল শব্দ থেকে।
তুরস্কে ভেড়া ও দুম্বার কোরবানি সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। দেশটির গ্রামীণ অর্থনীতি ও পাহাড়ি অঞ্চলে ভেড়া পালনের দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে।
ঈদের সময় তুরস্কের শহরগুলোতে নির্দিষ্ট কোরবানি কেন্দ্র তৈরি করা হয়। সেখানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পশু জবাই ও মাংস বিতরণ করা হয়। অনেক পরিবার সরাসরি পশু না কিনে বিভিন্ন দাতব্য সংস্থার মাধ্যমে কোরবানি দেয়।
আফ্রিকার মুসলিমপ্রধান দেশগুলোতে ছাগল ও ভেড়ার কোরবানি বেশি দেখা যায়। নাইজেরিয়া, সুদান, সোমালিয়া বা মালি এসব দেশে তুলনামূলকভাবে ছোট পশুর চাহিদা বেশি।
তবে সুদান ও মৌরিতানিয়ার মতো কিছু দেশে উটের কোরবানিও গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্য। মরুভূমি অঞ্চলে উট শুধু বাহন নয়, সামাজিক মর্যাদার প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হয়।
ইন্দোনেশিয়ায় গরু ও ছাগল দুই ধরনের পশুর কোরবানি জনপ্রিয়। শহরাঞ্চলে গরুর কোরবানি বেশি হলেও গ্রামাঞ্চলে ছাগল বেশি দেখা যায়।
মালয়েশিয়াতেও একই প্রবণতা দেখা যায়। সেখানে মসজিদ ও কমিউনিটি ভিত্তিক কোরবানির ব্যবস্থা বেশ জনপ্রিয়। অনেকে যৌথভাবে গরু কোরবানি দেন।
যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি কিংবা কানাডার মতো দেশে মুসলমানরা মূলত ভেড়া, ছাগল ও গরু কোরবানি দেন। তবে সেখানে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি ও পশু জবাইয়ের আইন মেনে নির্ধারিত স্লটারহাউসে কোরবানি করতে হয়।
পশ্চিমা বিশ্বে অনেকে সরাসরি পশু না কিনে বিভিন্ন ইসলামিক চ্যারিটি বা আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে আফ্রিকা ও এশিয়ার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য কোরবানির ব্যবস্থা করেন।
বিশ্বজুড়ে কোরবানির পশুতে পার্থক্য থাকলেও মূল বার্তা একই—ত্যাগ, সামর্থ্য ভাগাভাগি এবং মানবিকতা। একেক দেশের মানুষ তাদের পরিবেশ, ইতিহাস ও সংস্কৃতির আলোকে কোরবানির পশু নির্বাচন করে। আর সেই বৈচিত্র্যই মুসলিম বিশ্বের কোরবানির ঈদকে করেছে আরও বর্ণিল ও বৈচিত্র্যময়।
.png)

ইন্টারনেটের হাজারো নেতিবাচকতার ভিড়ে প্রাণীদের ‘কিউট’ ভিডিও ছিল এক চিলতে স্বস্তি। কিন্তু এআই-এর যুগে সেই নির্ভেজাল বিশ্বাসে এখন ফাটল ধরেছে। কোনো ভিডিও দেখে হাসার বদলে আমাদের মনে আগে প্রশ্ন জাগছে, এটি কি আসল নাকি এআই দিয়ে তৈরি? অবিশ্বাসের এই ডিজিটাল চোরাবালিতে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন উঠছে, আমাদের ছোট ছোট আনন্দ
১০ ঘণ্টা আগে
সমকালীন বাংলাদেশের বুদ্ধিবৃত্তিক জগতে এক অসাধারণ ব্যক্তিত্ব আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। জনপ্রিয়তা ও মননশীলতার মেলবন্ধনের দুর্লভ উদাহরণ তিনি। সৃজনশীল ব্যক্তিত্বের পাশাপাশি তিনি একজন কর্মবীর। আজ তিনি সাতাশি বছর পূর্ণ করলেন।
১১ ঘণ্টা আগে
এইতো কিছুদিন আগে কথা। অফিস থেকে বেরিয়ে বিশেষ একটি কাজে শাহবাগের উদ্দেশ্যে রিকশায় উঠেছিলাম। বিকেলের ব্যস্ত ঢাকার চিরচেনা যানজটে রিকশাটি একসময় থেমে গেল। চারপাশে শুধু হর্নের শব্দ, মানুষের কোলাহল আর অসংখ্য গাড়ির সারি। ঠিক সেই মুহূর্তেই কানে ভেসে এলো এক পরিচিত সুর ‘আলো আমার আলো ওগো, আলো ভুবনভরা’…!
১৩ ঘণ্টা আগে
প্রাক-আধুনিক যুগের আদর্শবাদী তারুণ্য থেকে শুরু করে আধুনিক যুগের টেক-স্যাভি ‘জেন জি’ প্রজন্ম—প্রতিটি যুগের তারুণ্যের রক্তস্রোত প্রমাণ করেছে যে বন্দুকের নল বা রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন দিয়ে মানুষের মুক্তির স্পৃহাকে চিরতরে বন্দি করা যায় না। আর এই প্রতিটি রক্তঝরা লড়াইয়ে নারীর সক্রিয়, সমান্তরাল, আপসহীন ও বীরত্বপূ
১৪ ঘণ্টা আগে