ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে আজ শুরু হয়েছে বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। কীভাবে শুরু হলো এই দুর্গাপূজা? কত খরচ হয়েছিল সেকালের পূজায়?
রক্তিম দে

ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে আজ শুরু হলো বাংঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। দুর্গাপূজার কথা বললে দুই ধরনের পূজার কথা মাথায় আসে। বাড়ির পূজা এবং বারোয়ারি পূজা। যদিও প্রথমেই দুই ধরনের পূজা, অর্থাৎ বারোয়ারি আরবাড়িতে দুর্গাপূজার সূচনা হয়নি।
আশ্বিন মাসে দুর্গাপূজা অথবা দুর্গা দেবীর অকালবোধনের কথা প্রথম রামায়ণে পাওয়া গেলেও বঙ্গে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গাপূজার সূচনার সঙ্গে জুড়ে রয়েছে অন্য এক রাজার নাম। কথিত আছে যে পশ্চিমবাংলার বলীপুরের রাজা সুরথ ৫৫০ সাল নাগাদ যুদ্ধে নিজের সাম্রাজ্য হারানোর পরে মেধাস মুনির নির্দেশে দেবী মহিষাসুরমর্দিনীর পূজা করেছিলেন।
এই পূজার ফলস্বরূপ দেবীর আশীর্বাদে তিনি আবার তাঁর সাম্রাজ্য ফিরে পেয়েছিলেন। সনাতন ধর্মের মার্কণ্ডেয় পুরাণে এই ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায়। সুরথের সাম্রাজ্যের কিছু অবশিষ্ট না থাকলেও পশ্চিমবাংলার দুর্গাপুরের কাছে গড় জঙ্গলে আজও মেধাস মুনির আশ্রম এই ঘটনার সাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। আছে। এই মত অনুসারে, এই আশ্রমেই বাংলার প্রথম দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছিল।

বাংলায় হিন্দু বাড়িতে দুর্গাপূজার সূচনা নিয়ে একটা বিতর্ক থেকেই যায়। যদিও বিভিন্ন নথি ও জনশ্রুতি পশ্চিমবাংলার নদীয়া জেলার তাহেরপুরের জমিদার কংসনারায়ণ অথবা মুর্শিদাবাদের ভবানন্দ মজুমদারের মধ্যেই কাউকে বাংলায় বাড়িতে দুর্গাপূজার সূচনার কৃতিত্ব দিয়ে থাকে। কংসনারায়ণের আয়োজিত প্রথম দুর্গাপূজার সময় নিয়ে নানা মুনির নানা মত। কথিত আছে যে, কংসনারায়ণ দুর্গাপূজাতে প্রায় আট লাখ টাকা খরচ করেছিলেন।
কংসনারায়ণ এবং ভবানন্দের দুর্গাপূজার আয়োজনের আগে বাংলায় বাসন্তী পূজার প্রচলন ছিল। কংসনারায়ণ হঠাৎ বাসন্তী পূজার বদলে দুর্গাপূজার প্রচলন কেন করেছিলেন, সেই বিষয়ে কোনো সঠিক তথ্য পাওয়া যায় না। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা অকালবোধনের কথা রামায়ণে পড়ে থাকলেও নিজের চোখে বাড়িতে আয়োজিত দুর্গাপূজা সম্ভবত সেই আমলেই প্রথম দেখেছিল।
১৭৮৯ সাল, মতান্তরে ১৭৯০ সালে পশ্চিমবাংলার গুপ্তিপাড়ার এক বাড়ির দুর্গাপূজাতে এলাকার বেশ কিছু মানুষকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। কারণ, তাঁরা পূজাতে নিমন্ত্রিত ছিলেন না। সেই ঘটনার ফলে তাঁরা সবাই একসঙ্গে একটি দুর্গাপূজার আয়োজন করেন।
এই দুর্গাপূজায় সকলের প্রবেশ ছিল অবাধ। এই পূজার আয়োজক বারো জন ছিলেন বন্ধু। আর তাই এই সম্মিলিত দুর্গাপূজার নাম হয় বারোইয়ারি বা বারোয়ারি দুর্গাপূজা। তখন এই বারোইয়ারি পূজা সর্বজনীন পূজা নামেও পরিচিত হয়। কারণ, এই পূজায় সবারই নিমন্ত্রণ থাকত। সবাই মণ্ডপে যেতে পারতেন।
যদিও অন্য এক জনশ্রুতি অনুযায়ী, গুপ্তিপাড়ায় ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় একটি দুর্গাপূজার আয়োজন হত। ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় এই দুর্গাপূজা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব না হওয়ার কারণে বারো জন মানুষ এই পূজার দায়িত্ব নিয়েছিলেন।
গুপ্তিপাড়ার এই নতুন ধরনের পূজার কথা সেই সময়ের বিভিন্ন নথি থেকেও জানা যায়। এই দুর্গাপূজায় দেবীকে বিন্ধ্যবাসিনীরূপে পূজা করা হয়। দেবীর এই রূপে পূজার কারণে নাম হয় বিন্ধ্যবাসিনীতলা। যদিও বর্তমানে গুপ্তিপাড়ার রথযাত্রা উৎসব দুর্গাপূজার তুলনায় অনেক বেশি জনপ্রিয়। গুপ্তিপাড়ার বারোয়ারি পূজার ধারণা তখন দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়েছিল।

ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে আজ শুরু হলো বাংঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। দুর্গাপূজার কথা বললে দুই ধরনের পূজার কথা মাথায় আসে। বাড়ির পূজা এবং বারোয়ারি পূজা। যদিও প্রথমেই দুই ধরনের পূজা, অর্থাৎ বারোয়ারি আরবাড়িতে দুর্গাপূজার সূচনা হয়নি।
আশ্বিন মাসে দুর্গাপূজা অথবা দুর্গা দেবীর অকালবোধনের কথা প্রথম রামায়ণে পাওয়া গেলেও বঙ্গে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গাপূজার সূচনার সঙ্গে জুড়ে রয়েছে অন্য এক রাজার নাম। কথিত আছে যে পশ্চিমবাংলার বলীপুরের রাজা সুরথ ৫৫০ সাল নাগাদ যুদ্ধে নিজের সাম্রাজ্য হারানোর পরে মেধাস মুনির নির্দেশে দেবী মহিষাসুরমর্দিনীর পূজা করেছিলেন।
এই পূজার ফলস্বরূপ দেবীর আশীর্বাদে তিনি আবার তাঁর সাম্রাজ্য ফিরে পেয়েছিলেন। সনাতন ধর্মের মার্কণ্ডেয় পুরাণে এই ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায়। সুরথের সাম্রাজ্যের কিছু অবশিষ্ট না থাকলেও পশ্চিমবাংলার দুর্গাপুরের কাছে গড় জঙ্গলে আজও মেধাস মুনির আশ্রম এই ঘটনার সাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। আছে। এই মত অনুসারে, এই আশ্রমেই বাংলার প্রথম দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছিল।

বাংলায় হিন্দু বাড়িতে দুর্গাপূজার সূচনা নিয়ে একটা বিতর্ক থেকেই যায়। যদিও বিভিন্ন নথি ও জনশ্রুতি পশ্চিমবাংলার নদীয়া জেলার তাহেরপুরের জমিদার কংসনারায়ণ অথবা মুর্শিদাবাদের ভবানন্দ মজুমদারের মধ্যেই কাউকে বাংলায় বাড়িতে দুর্গাপূজার সূচনার কৃতিত্ব দিয়ে থাকে। কংসনারায়ণের আয়োজিত প্রথম দুর্গাপূজার সময় নিয়ে নানা মুনির নানা মত। কথিত আছে যে, কংসনারায়ণ দুর্গাপূজাতে প্রায় আট লাখ টাকা খরচ করেছিলেন।
কংসনারায়ণ এবং ভবানন্দের দুর্গাপূজার আয়োজনের আগে বাংলায় বাসন্তী পূজার প্রচলন ছিল। কংসনারায়ণ হঠাৎ বাসন্তী পূজার বদলে দুর্গাপূজার প্রচলন কেন করেছিলেন, সেই বিষয়ে কোনো সঠিক তথ্য পাওয়া যায় না। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা অকালবোধনের কথা রামায়ণে পড়ে থাকলেও নিজের চোখে বাড়িতে আয়োজিত দুর্গাপূজা সম্ভবত সেই আমলেই প্রথম দেখেছিল।
১৭৮৯ সাল, মতান্তরে ১৭৯০ সালে পশ্চিমবাংলার গুপ্তিপাড়ার এক বাড়ির দুর্গাপূজাতে এলাকার বেশ কিছু মানুষকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। কারণ, তাঁরা পূজাতে নিমন্ত্রিত ছিলেন না। সেই ঘটনার ফলে তাঁরা সবাই একসঙ্গে একটি দুর্গাপূজার আয়োজন করেন।
এই দুর্গাপূজায় সকলের প্রবেশ ছিল অবাধ। এই পূজার আয়োজক বারো জন ছিলেন বন্ধু। আর তাই এই সম্মিলিত দুর্গাপূজার নাম হয় বারোইয়ারি বা বারোয়ারি দুর্গাপূজা। তখন এই বারোইয়ারি পূজা সর্বজনীন পূজা নামেও পরিচিত হয়। কারণ, এই পূজায় সবারই নিমন্ত্রণ থাকত। সবাই মণ্ডপে যেতে পারতেন।
যদিও অন্য এক জনশ্রুতি অনুযায়ী, গুপ্তিপাড়ায় ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় একটি দুর্গাপূজার আয়োজন হত। ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় এই দুর্গাপূজা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব না হওয়ার কারণে বারো জন মানুষ এই পূজার দায়িত্ব নিয়েছিলেন।
গুপ্তিপাড়ার এই নতুন ধরনের পূজার কথা সেই সময়ের বিভিন্ন নথি থেকেও জানা যায়। এই দুর্গাপূজায় দেবীকে বিন্ধ্যবাসিনীরূপে পূজা করা হয়। দেবীর এই রূপে পূজার কারণে নাম হয় বিন্ধ্যবাসিনীতলা। যদিও বর্তমানে গুপ্তিপাড়ার রথযাত্রা উৎসব দুর্গাপূজার তুলনায় অনেক বেশি জনপ্রিয়। গুপ্তিপাড়ার বারোয়ারি পূজার ধারণা তখন দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়েছিল।

সাহিত্য সমালোচকদের মতে, ফররুখ আহমদ কাব্যের মাধ্যমে ইসলামি ভাবধারাকে এ দেশে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন। এজন্য তিনি রাষ্ট্রের কোনো আনুকূল্য পাননি। বরং তাঁকে শিকার হতে হয়েছে তীব্র প্রতিরোধ ও প্রতিহিংসার। তবুও ক্ষুরধার কলম থেমে থাকেনি।
১৮ ঘণ্টা আগে
বরফভাঙা জাহাজে টানা আট দিনের এই রোমাঞ্চকর যাত্রায় তাঁরা ৮২ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ অতিক্রম করেন। উত্তাল সমুদ্র আর কনকনে ঠান্ডার মাঝে ‘বরফের জঙ্গল’ পেরিয়ে তাঁরা বিরল অভিজ্ঞতার সাক্ষী হয়েছেন।
২১ ঘণ্টা আগে
আজ ৯ জুন, আন্তর্জাতিক আর্কাইভস দিবস। ইতিহাস ও ঐতিহ্যের স্মারকগুলো সংরক্ষণের গুরুত্ব সাধারণ মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালন করা হয়। মূলত প্রাচীন নথি, দলিলাদি এবং আমাদের জাতীয় ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো যাতে হারিয়ে না যায়, তা নিশ্চিত করাই এই দিবসটির মূল লক্ষ্য।
২ দিন আগে
বাংলাদেশের মানুষের কাছে রাজনীতি অত্যন্ত আকর্ষণীয় বিষয়। রাষ্ট্রের বিন্যাস আর গঠনকাঠামো বুঝতে চাওয়া পাঠকের সংখ্যা প্রচুর। এ ধরনের বিষয়কে কেন্দ্র করে প্রতি বছর বেশ কিছু বই প্রকাশিত হয়। তবে বিগত কয়েক দশকে রাজনীতিকে কেন্দ্র করেই বিশেষ বিষয়কেন্দ্রিক বই প্রকাশের প্রবণতা বেড়েছে। এই ধারাবাহিকতায় সাম্প্রতিক স
২ দিন আগে