তাহলে কি সত্যিই ক্যাফেইন কমালে এমন স্বপ্ন দেখা শুরু হয়? অস্ট্রেলিয়ার সেন্ট্রাল কুইন্সল্যান্ড ইউনিভার্সিটির গবেষক শার্লট গুপ্তা এবং অস্ট্রেলিয়ান ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটির গবেষক কারিসা গার্ডিনার এই বিষয়ে কিছু ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
তামান্না আনজুম

চা-কফি খাওয়ার অভ্যাস নেই এমন মানুষের সংখ্যা খুব বেশি পাওয়া যাবে না। কর্মব্যস্ত জীবনে নিজেকে চাঙ্গা রাখতে কিংবা ঘুম ঘুম ভাব কাটাতে আমরা অনেকেই চা-কফি পান করে থাকি। কারণ এ ধরনের পানীয়তে ক্যাফেইনের মতো উপাদান রয়েছে।
ক্যাফেইনের প্রভাবে আমাদের ঘুম বা ক্লান্তি দূর হয়, কাজের প্রতি মনোযোগ বাড়ে এবং শরীর সাময়িকভাবে বেশ সতেজ ও চনমনে হয়ে ওঠে। তবে এর কিছু নেতিবাচক দিকও রয়েছে। যেমন অতিরিক্ত মাত্রায় ক্যাফেইন গ্রহণের ফলে অনিদ্রা, হৃৎস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, পেটের সমস্যা এবং স্নায়বিক অস্থিরতার মতো সমস্যা তৈরি হতে পারে।
এই কারণেই অনেকে মানুষ ক্যাফেইন কমানোর বা ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ক্যাফেইন কমালে কিছু উপকারও পাওয়া যায়। এর মধ্যে দাঁতের হলদে ভাব দূর হওয়া কিংবা বারবার বাথরুমে যাওয়ার প্রবণতা কমে যাওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
তবে অনেকেই একটি অদ্ভুত অভিজ্ঞতার কথা বলেন। যারা ক্যাফেইন কমান বা ছেড়ে দেন, তাঁরা নাকি হঠাৎ করে খুব স্পষ্ট ও বাস্তবের মতো স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। কখনো কখনো সেই স্বপ্নগুলো ভয়ংকরও হতে পারে। অনেকের মতে, ক্যাফেইন কমানোর কয়েক দিনের মধ্যেই এই পরিবর্তন টের পাওয়া যায়।
তাহলে কি সত্যিই ক্যাফেইন কমালে এমন স্বপ্ন দেখা শুরু হয়? অস্ট্রেলিয়ার সেন্ট্রাল কুইন্সল্যান্ড ইউনিভার্সিটির গবেষক শার্লট গুপ্তা এবং অস্ট্রেলিয়ান ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটির গবেষক কারিসা গার্ডিনার এই বিষয়ে কিছু ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
প্রথমে বোঝা দরকার, ক্যাফেইন আমাদের ঘুমকে কীভাবে প্রভাবিত করে। আমাদের মস্তিষ্কে ‘অ্যাডেনোসিন’ নামের একটি রাসায়নিক পদার্থ সারাদিন কাজ করার ফলে ধীরে ধীরে এই অ্যাডেনোসিন জমা হয়। সন্ধ্যার দিকে এর পরিমাণ বাড়লে আমাদের ঘুম পেতে শুরু করে। ঘুমের সময় শরীর স্বাভাবিকভাবেই এই অ্যাডেনোসিন পরিষ্কার করে ফেলে, তাই সকালে আমরা সতেজ অনুভব করি।
কিন্তু যখন আমরা কফি বা ক্যাফেইন জাতীয় কিছু পান করি, তখন তা অ্যাডেনোসিনের সংকেতকে বাধা দেয়। ফলে শরীরে অ্যাডেনোসিন থাকলেও আমরা ক্লান্তি বা ঘুম অনুভব করি না। কিন্তু যখন ক্যাফেইনের প্রভাব শেষ হয়ে যায়, তখন আমাদের ঘুমের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়, যাকে বলা হয় ‘ক্যাফেইন ক্র্যাশ’।
ক্যাফেইনের অর্ধায়ু বা হাফ–লাইফ প্রায় তিন থেকে ছয় ঘণ্টা। অর্থাৎ কফি খাওয়ার তিন থেকে ছয় ঘণ্টা পরও এর অর্ধেক প্রভাব শরীরে থেকে যায়। এজন্য বিকেল বা সন্ধ্যায় ক্যাফেইন খেলে রাতে ঘুমাতে দেরি হতে পারে। ক্যাফেইন আমাদের ঘুমের গভীর এবং বিশ্রামদায়ক স্তরটিকে (এনআরইএম ঘুম) সবচেয়ে বেশি বাধাগ্রস্ত করে।
ভিভিড ড্রিম হলো এমন স্বপ্ন, যা ঘুমের মধ্যেও একদম বাস্তব মনে হয়। এই স্বপ্নগুলো খুব বিস্তারিত ও স্পষ্ট হয় এবং অনেক সময় তীব্র আবেগে ভরা থাকে। ঘুম থেকে ওঠার অনেকক্ষণ পরও এগুলো মনে থাকে।
মূলত আমাদের ঘুমের একটি বিশেষ পর্যায় রয়েছে, যাকে বলা হয় ‘র্যাপিড আই মুভমেন্ট’ বা রেম। এই পর্যায়ে আমাদের শরীর পুরোপুরি শিথিল থাকলেও মস্তিষ্ক ভীষণ সক্রিয় থাকে। আর স্বপ্নের সবচেয়ে বড় অংশটি আমরা এই রেম ঘুমের স্তরেই দেখে থাকি। মস্তিষ্কে যত বেশি রেম ঘুম হবে, তত বেশি স্পষ্ট ও জীবন্ত স্বপ্ন দেখার সম্ভাবনা বাড়ে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সেনাসদস্যদের ওপর করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের রেম ঘুমের পরিমাণ বেশি, তাঁরাই মূলত বেশি ভিভিড ড্রিম দেখার কথা জানিয়েছেন। আবার রেম ঘুমের সময় যদি হঠাৎ ঘুম ভেঙে যায়, তাহলে সেই স্বপ্নগুলো আরও পরিষ্কারভাবে মনে থাকে।
ক্যাফেইন কমানোর সঙ্গে জীবন্ত স্বপ্ন দেখার সরাসরি বৈজ্ঞানিক প্রমাণ না থাকলেও, এই দুইয়ের মধ্যে বিজ্ঞানীরা কিছু যোগসূত্র বের করেছেন। ক্যাফেইন আমাদের ঘুমকে প্রভাবিত করে, আর ঘুম প্রভাবিত করে আমাদের স্বপ্নকে।
বেশিরভাগ গবেষণাতেই ক্যাফেইনের কারণে ঘুমের কী ক্ষতি হয় সে ব্যাপারে বেশি মনযোগ দিয়েছে। তবে এর সঙ্গে স্বপ্নের একটি যোগসূত্র বের করেছেন গবেষকগণ। যেহেতু ক্যাফেইন আমাদের মোট ঘুমের পরিমাণ কমিয়ে দেয় কিংবা গভীর রাতে বারবার ঘুম ভাঙিয়ে দেয়, তাই ক্যাফেইন কমিয়ে দিলে আমাদের শরীর এক ধরনের ‘রিবাইন্ড’ বা পুনরুদ্ধারের সুযোগ পায়।
এই সময় শরীর তুলনামূলকভাবে দীর্ঘ ও নিরবচ্ছিন্ন ঘুম পায়। ফলে ঘুমের চক্রে রেম ঘুমের পরিমাণও বেড়ে যায়। আর রেম ঘুম বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই বেশি স্বপ্ন দেখা যায়। সহজ কথায়, ক্যাফেইন ছাড়ার ফলে আমাদের ঘুম গভীর হয়, রেম স্তরের মেয়াদ বাড়ে এবং এর ফলে আমরা বেশি বেশি জীবন্ত স্বপ্ন দেখতে শুরু করি।
ক্যাফেইনের বাধা ছাড়া শরীর যখন বেশি সময় ধরে একটানা ঘুমানোর সুযোগ পায়, তখন আমাদের ঘুমের চক্রে রেম ঘুমের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যায়। আর রেম ঘুম বেড়ে যাওয়ার অর্থই হলো মস্তিষ্ক আগের চেয়ে অনেক বেশি স্বপ্ন দেখার সুযোগ পাচ্ছে। সহজ কথায়, ক্যাফেইন ছাড়ার ফলে আমাদের ঘুম গভীর হয়, রেম স্তরের মেয়াদ বাড়ে এবং এর ফলে আমরা বেশি বেশি জীবন্ত স্বপ্ন দেখতে শুরু করি।
আরেকটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। ক্যাফেইন শুধু চা বা কফিতেই থাকে না। অনেক কোমল পানীয়, চকলেট, কিছু সাপ্লিমেন্ট এবং কিছু ওষুধেও ক্যাফেইন থাকতে পারে।
তবে ক্যাফেইনের সব দিকই খারাপ নয়। পরিমিত মাত্রায় ক্যাফেইন গ্রহণ করলে মনোযোগ ও কগনিটিভ ফাংশন উন্নত হতে পারে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত কফি পানকারীদের মধ্যে বিষণ্ণতার ঝুঁকি তুলনামূলক কম হতে পারে। এটি পারকিনসনসের মতো স্নায়বিক রোগের ঝুঁকিও কমাতে সাহায্য করতে পারে। কফিতে ভিটামিন বি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টও থাকে, যা স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে।
বিশেষ করে যারা নাইট শিফটে কাজ করেন, তাঁদেরকে সারা রাতভর জাগিয়ে রাখার পাশাপাশি তাঁদের মস্তিষ্ককে কর্মক্ষম রাখতে ক্যাফেইন দারুণ কার্যকর।
তবে আপনি যদি চা বা কফি পুরোপুরি ছাড়তে না চান, তবুও ঘুমের মান ভালো রাখতে সময়ের দিকে নজর দেওয়া জরুরি। ঘুমাতে যাওয়ার অন্তত আট ঘণ্টা আগে ক্যাফেইন না খাওয়ার চেষ্টা করা ভালো। আর ঘুমানোর আগের ১২ ঘণ্টার মধ্যে অতিরিক্ত ক্যাফেইন এড়িয়ে চলা সবচেয়ে নিরাপদ।

চা-কফি খাওয়ার অভ্যাস নেই এমন মানুষের সংখ্যা খুব বেশি পাওয়া যাবে না। কর্মব্যস্ত জীবনে নিজেকে চাঙ্গা রাখতে কিংবা ঘুম ঘুম ভাব কাটাতে আমরা অনেকেই চা-কফি পান করে থাকি। কারণ এ ধরনের পানীয়তে ক্যাফেইনের মতো উপাদান রয়েছে।
ক্যাফেইনের প্রভাবে আমাদের ঘুম বা ক্লান্তি দূর হয়, কাজের প্রতি মনোযোগ বাড়ে এবং শরীর সাময়িকভাবে বেশ সতেজ ও চনমনে হয়ে ওঠে। তবে এর কিছু নেতিবাচক দিকও রয়েছে। যেমন অতিরিক্ত মাত্রায় ক্যাফেইন গ্রহণের ফলে অনিদ্রা, হৃৎস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, পেটের সমস্যা এবং স্নায়বিক অস্থিরতার মতো সমস্যা তৈরি হতে পারে।
এই কারণেই অনেকে মানুষ ক্যাফেইন কমানোর বা ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ক্যাফেইন কমালে কিছু উপকারও পাওয়া যায়। এর মধ্যে দাঁতের হলদে ভাব দূর হওয়া কিংবা বারবার বাথরুমে যাওয়ার প্রবণতা কমে যাওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
তবে অনেকেই একটি অদ্ভুত অভিজ্ঞতার কথা বলেন। যারা ক্যাফেইন কমান বা ছেড়ে দেন, তাঁরা নাকি হঠাৎ করে খুব স্পষ্ট ও বাস্তবের মতো স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। কখনো কখনো সেই স্বপ্নগুলো ভয়ংকরও হতে পারে। অনেকের মতে, ক্যাফেইন কমানোর কয়েক দিনের মধ্যেই এই পরিবর্তন টের পাওয়া যায়।
তাহলে কি সত্যিই ক্যাফেইন কমালে এমন স্বপ্ন দেখা শুরু হয়? অস্ট্রেলিয়ার সেন্ট্রাল কুইন্সল্যান্ড ইউনিভার্সিটির গবেষক শার্লট গুপ্তা এবং অস্ট্রেলিয়ান ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটির গবেষক কারিসা গার্ডিনার এই বিষয়ে কিছু ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
প্রথমে বোঝা দরকার, ক্যাফেইন আমাদের ঘুমকে কীভাবে প্রভাবিত করে। আমাদের মস্তিষ্কে ‘অ্যাডেনোসিন’ নামের একটি রাসায়নিক পদার্থ সারাদিন কাজ করার ফলে ধীরে ধীরে এই অ্যাডেনোসিন জমা হয়। সন্ধ্যার দিকে এর পরিমাণ বাড়লে আমাদের ঘুম পেতে শুরু করে। ঘুমের সময় শরীর স্বাভাবিকভাবেই এই অ্যাডেনোসিন পরিষ্কার করে ফেলে, তাই সকালে আমরা সতেজ অনুভব করি।
কিন্তু যখন আমরা কফি বা ক্যাফেইন জাতীয় কিছু পান করি, তখন তা অ্যাডেনোসিনের সংকেতকে বাধা দেয়। ফলে শরীরে অ্যাডেনোসিন থাকলেও আমরা ক্লান্তি বা ঘুম অনুভব করি না। কিন্তু যখন ক্যাফেইনের প্রভাব শেষ হয়ে যায়, তখন আমাদের ঘুমের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়, যাকে বলা হয় ‘ক্যাফেইন ক্র্যাশ’।
ক্যাফেইনের অর্ধায়ু বা হাফ–লাইফ প্রায় তিন থেকে ছয় ঘণ্টা। অর্থাৎ কফি খাওয়ার তিন থেকে ছয় ঘণ্টা পরও এর অর্ধেক প্রভাব শরীরে থেকে যায়। এজন্য বিকেল বা সন্ধ্যায় ক্যাফেইন খেলে রাতে ঘুমাতে দেরি হতে পারে। ক্যাফেইন আমাদের ঘুমের গভীর এবং বিশ্রামদায়ক স্তরটিকে (এনআরইএম ঘুম) সবচেয়ে বেশি বাধাগ্রস্ত করে।
ভিভিড ড্রিম হলো এমন স্বপ্ন, যা ঘুমের মধ্যেও একদম বাস্তব মনে হয়। এই স্বপ্নগুলো খুব বিস্তারিত ও স্পষ্ট হয় এবং অনেক সময় তীব্র আবেগে ভরা থাকে। ঘুম থেকে ওঠার অনেকক্ষণ পরও এগুলো মনে থাকে।
মূলত আমাদের ঘুমের একটি বিশেষ পর্যায় রয়েছে, যাকে বলা হয় ‘র্যাপিড আই মুভমেন্ট’ বা রেম। এই পর্যায়ে আমাদের শরীর পুরোপুরি শিথিল থাকলেও মস্তিষ্ক ভীষণ সক্রিয় থাকে। আর স্বপ্নের সবচেয়ে বড় অংশটি আমরা এই রেম ঘুমের স্তরেই দেখে থাকি। মস্তিষ্কে যত বেশি রেম ঘুম হবে, তত বেশি স্পষ্ট ও জীবন্ত স্বপ্ন দেখার সম্ভাবনা বাড়ে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সেনাসদস্যদের ওপর করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের রেম ঘুমের পরিমাণ বেশি, তাঁরাই মূলত বেশি ভিভিড ড্রিম দেখার কথা জানিয়েছেন। আবার রেম ঘুমের সময় যদি হঠাৎ ঘুম ভেঙে যায়, তাহলে সেই স্বপ্নগুলো আরও পরিষ্কারভাবে মনে থাকে।
ক্যাফেইন কমানোর সঙ্গে জীবন্ত স্বপ্ন দেখার সরাসরি বৈজ্ঞানিক প্রমাণ না থাকলেও, এই দুইয়ের মধ্যে বিজ্ঞানীরা কিছু যোগসূত্র বের করেছেন। ক্যাফেইন আমাদের ঘুমকে প্রভাবিত করে, আর ঘুম প্রভাবিত করে আমাদের স্বপ্নকে।
বেশিরভাগ গবেষণাতেই ক্যাফেইনের কারণে ঘুমের কী ক্ষতি হয় সে ব্যাপারে বেশি মনযোগ দিয়েছে। তবে এর সঙ্গে স্বপ্নের একটি যোগসূত্র বের করেছেন গবেষকগণ। যেহেতু ক্যাফেইন আমাদের মোট ঘুমের পরিমাণ কমিয়ে দেয় কিংবা গভীর রাতে বারবার ঘুম ভাঙিয়ে দেয়, তাই ক্যাফেইন কমিয়ে দিলে আমাদের শরীর এক ধরনের ‘রিবাইন্ড’ বা পুনরুদ্ধারের সুযোগ পায়।
এই সময় শরীর তুলনামূলকভাবে দীর্ঘ ও নিরবচ্ছিন্ন ঘুম পায়। ফলে ঘুমের চক্রে রেম ঘুমের পরিমাণও বেড়ে যায়। আর রেম ঘুম বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই বেশি স্বপ্ন দেখা যায়। সহজ কথায়, ক্যাফেইন ছাড়ার ফলে আমাদের ঘুম গভীর হয়, রেম স্তরের মেয়াদ বাড়ে এবং এর ফলে আমরা বেশি বেশি জীবন্ত স্বপ্ন দেখতে শুরু করি।
ক্যাফেইনের বাধা ছাড়া শরীর যখন বেশি সময় ধরে একটানা ঘুমানোর সুযোগ পায়, তখন আমাদের ঘুমের চক্রে রেম ঘুমের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যায়। আর রেম ঘুম বেড়ে যাওয়ার অর্থই হলো মস্তিষ্ক আগের চেয়ে অনেক বেশি স্বপ্ন দেখার সুযোগ পাচ্ছে। সহজ কথায়, ক্যাফেইন ছাড়ার ফলে আমাদের ঘুম গভীর হয়, রেম স্তরের মেয়াদ বাড়ে এবং এর ফলে আমরা বেশি বেশি জীবন্ত স্বপ্ন দেখতে শুরু করি।
আরেকটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। ক্যাফেইন শুধু চা বা কফিতেই থাকে না। অনেক কোমল পানীয়, চকলেট, কিছু সাপ্লিমেন্ট এবং কিছু ওষুধেও ক্যাফেইন থাকতে পারে।
তবে ক্যাফেইনের সব দিকই খারাপ নয়। পরিমিত মাত্রায় ক্যাফেইন গ্রহণ করলে মনোযোগ ও কগনিটিভ ফাংশন উন্নত হতে পারে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত কফি পানকারীদের মধ্যে বিষণ্ণতার ঝুঁকি তুলনামূলক কম হতে পারে। এটি পারকিনসনসের মতো স্নায়বিক রোগের ঝুঁকিও কমাতে সাহায্য করতে পারে। কফিতে ভিটামিন বি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টও থাকে, যা স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে।
বিশেষ করে যারা নাইট শিফটে কাজ করেন, তাঁদেরকে সারা রাতভর জাগিয়ে রাখার পাশাপাশি তাঁদের মস্তিষ্ককে কর্মক্ষম রাখতে ক্যাফেইন দারুণ কার্যকর।
তবে আপনি যদি চা বা কফি পুরোপুরি ছাড়তে না চান, তবুও ঘুমের মান ভালো রাখতে সময়ের দিকে নজর দেওয়া জরুরি। ঘুমাতে যাওয়ার অন্তত আট ঘণ্টা আগে ক্যাফেইন না খাওয়ার চেষ্টা করা ভালো। আর ঘুমানোর আগের ১২ ঘণ্টার মধ্যে অতিরিক্ত ক্যাফেইন এড়িয়ে চলা সবচেয়ে নিরাপদ।

কেনিয়ার প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক শহর হলো নাকুরু। রাজধানী নাইরোবি থেকে আমাদের যাত্রা শুরু হলো সাতসকালে। তখন ভোরের প্রথম আলো শহরের কংক্রিটের ভবনগুলোতে সোনালি আভা ছড়িয়ে দিচ্ছিল। রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় চোখে পড়ল গ্রামীণ জীবনের চমৎকার সব দৃশ্য। কেউ গরুর চামড়া মাথায় নিয়ে বাজারে যাচ্ছে, কারও হাতে সবজিভর্তি ব
৪ ঘণ্টা আগে
ভারতের আলোকচিত্রকলার অন্যতম পথিকৃৎ এবং লেন্সের জাদুকর রঘু রাই আর নেই। গত দুই বছর ধরে তিনি প্রোস্টেট এবং পাকস্থলীর ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি ক্যানসার তাঁর মস্তিষ্কে ছড়িয়ে পড়ে। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি সক্রিয় ছিলেন এবং মৃত্যুর কয়েক সপ্তাহ আগে পর্যন্তও তিনি তাঁর প
৬ ঘণ্টা আগে
আমাদের রান্নাঘরের অনেক জিনিসই প্লাস্টিকের তৈরি। তাই সহজেই এগুলো খাবারে মিশে যেতে পারে। তবে আমরা চাইলেই খাবারে প্লাস্টিকের উপস্থিতি কমানো সম্ভব। রান্নাঘরে কিছু ছোট ছোট পরিবর্তনের মাধ্যমে আমরা নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে পারি।
১০ ঘণ্টা আগে
দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় মেলবোর্ন শহর থেকে ১৪০ কিলোমিটার দূরে ‘ফিলিপ আইল্যান্ড’ নামের এক অপূর্ব নৈসর্গিক জায়গায় আমরা এসেছি পেঙ্গুইনের খোঁজে! জি হ্যাঁ, পেঙ্গুইন! পেঙ্গুইন মানেই তো সেই কোট পরা ‘ভদ্রলোক’ পাখি! এর নাম শুনলেই আমাদের চোখে ভাসে, বরফ মহাদেশে হেঁটে যাচ্ছে গুটি গুটি পায়ে।
১ দিন আগে