জলবসন্ত মূলত ‘ভ্যারিসেলা জস্টার’ নামক এক ধরণের ভাইরাসের কারণে হয়ে থাকে। এই রোগ অত্যন্ত সংক্রামক। যখন কোনো আক্রান্ত ব্যক্তি হাঁচি বা কাশি দেন, তখন বাতাসের মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে এবং আশেপাশে থাকা সুস্থ মানুষের শরীরে প্রবেশ করে।
ফাবিহা বিনতে হক

ইদানীং দেশে জলবসন্ত বা চিকেন পক্সের প্রাদুর্ভাব দেখা যাচ্ছে। এই রোগটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে একটি রোগ, যা খুব দ্রুত একজন থেকে আরেকজনের শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। জলবসন্ত রোগে আক্রান্ত হলে শরীরে চুলকানি, ফুসকুড়ি, সঙ্গে জ্বর—এসব উপসর্গ নিয়ে কয়েক দিন খুব ভোগান্তি পোহাতে হয়। তবে ঘাবড়ানোর কিছু নেই।
জলবসন্ত মূলত ‘ভ্যারিসেলা জস্টার’ নামক এক ধরণের ভাইরাসের কারণে হয়ে থাকে। এই রোগ অত্যন্ত সংক্রামক। যখন কোনো আক্রান্ত ব্যক্তি হাঁচি বা কাশি দেন, তখন বাতাসের মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে এবং আশেপাশে থাকা সুস্থ মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। এ ছাড়া আক্রান্ত রোগীর ফোসকা বা ফুসকুড়ির সরাসরি সংস্পর্শে এলেও এই রোগ হতে পারে। এমনকি রোগীর ব্যবহৃত পোশাক, তোয়ালে বা গামছা ব্যবহার করলেও ভাইরাসটি অন্যদের আক্রান্ত করতে পারে। ভাইরাস দিয়ে আক্রান্ত হওয়ার ১৪ থেকে ২১ দিনের মধ্যে লক্ষণ প্রকাশ পায়।
শুরুর দিকে শরীর ম্যাজম্যাজ করা, মাথাব্যথা করা, গা-হাত-পা ব্যথা করা, এমনকি পিঠেও ব্যথা হতে পারে। এর সঙ্গে একটু সর্দি-কাশি ও জ্বর জ্বর ভাব থাকতে পারে। এগুলো রোগের পূর্বলক্ষণ। এরপর শরীরে ঘামাচির মতো কিছু উঠতে দেখা যায়। তারপর সেটা একটু পর বড় হতে থাকে এবং ভেতরে পানি জমতে থাকে। খুব দ্রুতই শরীর বেশ দুর্বল হয়ে যায়। জলবসন্ত হয়ে গেলে শরীরে জ্বর ও ব্যথা হবে আর সঙ্গে সর্দি-কাশিও থাকবে।
সাধারণত ১০ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে এই রোগ বেশি দেখা যায়। তবে বড়দেরও এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। যাদের ছোটবেলায় জলবসন্ত হয়নি কিংবা যারা এর টিকা নেননি, পরিণত বয়সে তাঁদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
এছাড়া যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, যেমন-ক্যানসার বা ডায়াবেটিস রোগী, এবং গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে জলবসন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
যেহেতু এটি একটি ভাইরাসজনিত রোগ, তাই এর জন্য কোনো বিশেষ অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন হয় না। কিন্তু যদি ফুসকুড়িতে ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন হয়, তখন ডাক্তারের পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিক লাগতে পারে।
জলবসন্ত সাধারণত ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে এমনিতেই সেরে যায়। চাঁদপুর কচুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. আয়েশা আমিন বলছেন, জলবসন্তের সময়ে রোগীর প্রচুর বিশ্রামের প্রয়োজন। জ্বর ও শরীর ব্যথার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ খাওয়া যেতে পারে, তবে কোনোভাবেই এসপিরিন জাতীয় ওষুধ খাওয়া যাবে না। শরীরে চুলকানি কমানোর জন্য চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টিহিস্টামিন জাতীয় ওষুধ বা ক্যালামাইন লোশন ব্যবহার করা যায়।
রোগীকে প্রচুর পরিমাণে পানি ও তরল খাবার খাওয়াতে হবে যাতে শরীর পানিশূন্য না হয়। আমাদের সমাজে একটি ভুল ধারণা আছে যে জলবসন্ত হলে মাছ-মাংস বা ডিম খাওয়া যাবে না। এটি ভুল ধারণা। বরং দ্রুত সুস্থ হওয়ার জন্য রোগীকে পুষ্টিকর খাবার, বিশেষ করে প্রোটিন ও ভিটামিন সি যুক্ত খাবার দেওয়া উচিত।
নিম পাতা সেদ্ধ পানি দিয়ে গোসল করলে বা শরীর মুছলে চুলকানি কমে এবং জীবাণু দূর হয়। এছাড়া রোগীকে সবসময় পরিষ্কার সুতির ঢিলেঢালা পোশাক পরানো উচিত যাতে ফোসকায় ঘষা না লাগে।
শিশুদের বেলায় জলবসন্ত হলে বাড়তি কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। প্রথমেই আক্রান্ত শিশুকে স্কুল বা বাইরে খেলতে যাওয়া থেকে বিরত রাখতে হবে, যাতে অন্য শিশুদের মধ্যে রোগটি না ছড়ায়। শিশুদের নখ ছোট করে কেটে দিতে হবে। কারণ, জলবসন্তের ফোসকায় প্রচণ্ড চুলকানি হয় এবং শিশুরা নখ দিয়ে চুলকালে সেখানে নখের আঁচড় লেগে ঘা বা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হতে পারে। এতে মুখে বা শরীরে স্থায়ী দাগ বসে যাওয়ার ভয় থাকে।
শিশুকে আলাদা ঘরে রাখা এবং তার ব্যবহারের থালা-বাসন, বিছানা ও তোয়ালে আলাদা করা উচিত। যদি শিশুর শ্বাসকষ্ট হয়, জ্বর খুব বেশি হয় বা ফোসকা থেকে রক্তপাত হয়, তবে দেরি না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। আর সঠিক সময়ে জলবসন্তের টিকা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
সাধারণত একবার জলবসন্ত হয়ে গেলে একই ব্যক্তি আবার এই রোগে আক্রান্ত হন না। কারণ, শরীর এই রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। তাই পরে আবার জলবসন্ত হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। যদিও জলবসন্ত সাধারণত জীবনকালে একবার হয়, তবে খুব কম ক্ষেত্রে একই ব্যক্তি দু’বার এই রোগে আক্রান্ত হতে পারেন।
খুব ছোট বয়সে জলবসন্ত হলে শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা পুরোপুরি তৈরি না হওয়ায় দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অর্থাৎ যদি প্রথমবার ভাইরাসের আক্রমণ খুব কম হয় তাহলে শরীর পর্যাপ্ত পরিমাণে অ্যান্টিবডি তৈরি করতে পারে না। ফলে দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

ইদানীং দেশে জলবসন্ত বা চিকেন পক্সের প্রাদুর্ভাব দেখা যাচ্ছে। এই রোগটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে একটি রোগ, যা খুব দ্রুত একজন থেকে আরেকজনের শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। জলবসন্ত রোগে আক্রান্ত হলে শরীরে চুলকানি, ফুসকুড়ি, সঙ্গে জ্বর—এসব উপসর্গ নিয়ে কয়েক দিন খুব ভোগান্তি পোহাতে হয়। তবে ঘাবড়ানোর কিছু নেই।
জলবসন্ত মূলত ‘ভ্যারিসেলা জস্টার’ নামক এক ধরণের ভাইরাসের কারণে হয়ে থাকে। এই রোগ অত্যন্ত সংক্রামক। যখন কোনো আক্রান্ত ব্যক্তি হাঁচি বা কাশি দেন, তখন বাতাসের মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে এবং আশেপাশে থাকা সুস্থ মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। এ ছাড়া আক্রান্ত রোগীর ফোসকা বা ফুসকুড়ির সরাসরি সংস্পর্শে এলেও এই রোগ হতে পারে। এমনকি রোগীর ব্যবহৃত পোশাক, তোয়ালে বা গামছা ব্যবহার করলেও ভাইরাসটি অন্যদের আক্রান্ত করতে পারে। ভাইরাস দিয়ে আক্রান্ত হওয়ার ১৪ থেকে ২১ দিনের মধ্যে লক্ষণ প্রকাশ পায়।
শুরুর দিকে শরীর ম্যাজম্যাজ করা, মাথাব্যথা করা, গা-হাত-পা ব্যথা করা, এমনকি পিঠেও ব্যথা হতে পারে। এর সঙ্গে একটু সর্দি-কাশি ও জ্বর জ্বর ভাব থাকতে পারে। এগুলো রোগের পূর্বলক্ষণ। এরপর শরীরে ঘামাচির মতো কিছু উঠতে দেখা যায়। তারপর সেটা একটু পর বড় হতে থাকে এবং ভেতরে পানি জমতে থাকে। খুব দ্রুতই শরীর বেশ দুর্বল হয়ে যায়। জলবসন্ত হয়ে গেলে শরীরে জ্বর ও ব্যথা হবে আর সঙ্গে সর্দি-কাশিও থাকবে।
সাধারণত ১০ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে এই রোগ বেশি দেখা যায়। তবে বড়দেরও এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। যাদের ছোটবেলায় জলবসন্ত হয়নি কিংবা যারা এর টিকা নেননি, পরিণত বয়সে তাঁদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
এছাড়া যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, যেমন-ক্যানসার বা ডায়াবেটিস রোগী, এবং গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে জলবসন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
যেহেতু এটি একটি ভাইরাসজনিত রোগ, তাই এর জন্য কোনো বিশেষ অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন হয় না। কিন্তু যদি ফুসকুড়িতে ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন হয়, তখন ডাক্তারের পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিক লাগতে পারে।
জলবসন্ত সাধারণত ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে এমনিতেই সেরে যায়। চাঁদপুর কচুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. আয়েশা আমিন বলছেন, জলবসন্তের সময়ে রোগীর প্রচুর বিশ্রামের প্রয়োজন। জ্বর ও শরীর ব্যথার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ খাওয়া যেতে পারে, তবে কোনোভাবেই এসপিরিন জাতীয় ওষুধ খাওয়া যাবে না। শরীরে চুলকানি কমানোর জন্য চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টিহিস্টামিন জাতীয় ওষুধ বা ক্যালামাইন লোশন ব্যবহার করা যায়।
রোগীকে প্রচুর পরিমাণে পানি ও তরল খাবার খাওয়াতে হবে যাতে শরীর পানিশূন্য না হয়। আমাদের সমাজে একটি ভুল ধারণা আছে যে জলবসন্ত হলে মাছ-মাংস বা ডিম খাওয়া যাবে না। এটি ভুল ধারণা। বরং দ্রুত সুস্থ হওয়ার জন্য রোগীকে পুষ্টিকর খাবার, বিশেষ করে প্রোটিন ও ভিটামিন সি যুক্ত খাবার দেওয়া উচিত।
নিম পাতা সেদ্ধ পানি দিয়ে গোসল করলে বা শরীর মুছলে চুলকানি কমে এবং জীবাণু দূর হয়। এছাড়া রোগীকে সবসময় পরিষ্কার সুতির ঢিলেঢালা পোশাক পরানো উচিত যাতে ফোসকায় ঘষা না লাগে।
শিশুদের বেলায় জলবসন্ত হলে বাড়তি কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। প্রথমেই আক্রান্ত শিশুকে স্কুল বা বাইরে খেলতে যাওয়া থেকে বিরত রাখতে হবে, যাতে অন্য শিশুদের মধ্যে রোগটি না ছড়ায়। শিশুদের নখ ছোট করে কেটে দিতে হবে। কারণ, জলবসন্তের ফোসকায় প্রচণ্ড চুলকানি হয় এবং শিশুরা নখ দিয়ে চুলকালে সেখানে নখের আঁচড় লেগে ঘা বা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হতে পারে। এতে মুখে বা শরীরে স্থায়ী দাগ বসে যাওয়ার ভয় থাকে।
শিশুকে আলাদা ঘরে রাখা এবং তার ব্যবহারের থালা-বাসন, বিছানা ও তোয়ালে আলাদা করা উচিত। যদি শিশুর শ্বাসকষ্ট হয়, জ্বর খুব বেশি হয় বা ফোসকা থেকে রক্তপাত হয়, তবে দেরি না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। আর সঠিক সময়ে জলবসন্তের টিকা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
সাধারণত একবার জলবসন্ত হয়ে গেলে একই ব্যক্তি আবার এই রোগে আক্রান্ত হন না। কারণ, শরীর এই রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। তাই পরে আবার জলবসন্ত হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। যদিও জলবসন্ত সাধারণত জীবনকালে একবার হয়, তবে খুব কম ক্ষেত্রে একই ব্যক্তি দু’বার এই রোগে আক্রান্ত হতে পারেন।
খুব ছোট বয়সে জলবসন্ত হলে শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা পুরোপুরি তৈরি না হওয়ায় দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অর্থাৎ যদি প্রথমবার ভাইরাসের আক্রমণ খুব কম হয় তাহলে শরীর পর্যাপ্ত পরিমাণে অ্যান্টিবডি তৈরি করতে পারে না। ফলে দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

সিনেমায় শাবানার চরিত্র মানেই ছিল আদর্শ স্ত্রী, জনম দুঃখী মা কিংবা প্রিয় ভাবী বা ত্যাগী বোন। অথচ ৩৬ বছরের ক্যারিয়ারের দিকে তাকালে বোঝা যায়, এইসব ছকবাঁধা চরিত্রের বাইরেও তাঁর অনেক বৈচিত্র্যময় ‘ক্যারেক্টার’ রয়েছে।
১২ ঘণ্টা আগে
সভ্যতার চাকা সচল রাখতে মানুষের পাশে সবসময় ছিল বিভিন্ন প্রাণী। মানুষ যখন যাযাবর জীবন ছেড়ে চাষবাস শুরু করল, তখন থেকেই প্রাণীদের ব্যবহার বাড়তে থাকে। জমি চাষ থেকে শুরু করে পণ্য পরিবহন, এমনকি দুর্গম পথে যোগাযোগ রক্ষায় প্রাণীরা ছিল মানুষের প্রধান ভরসা।
১৪ ঘণ্টা আগে
নিজের ওয়ার্ডে নিরাপদ পানির বিষয়ে কাজ করতে ‘পানি আপা’ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। কনকলতার কণ্ঠে এখন আত্মবিশ্বাসের সুর।
১৮ ঘণ্টা আগে
কৌতূহল আর খটকা থেকেই মশিউর ‘বাঁধন’-এর একজন হয়ে ওঠেন। এরপর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডক্টর মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ হল ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এক পর্যায়ে তিনি বাঁধন কেন্দ্রীয় পরিষদের সভাপতি হিসেবেও নেতৃত্ব দেন।
১ দিন আগে