কেমিক্যাল মেশানো তরমুজ খাচ্ছেন না তো? চিনবেন যেভাবে

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১১: ৩২
কেমিক্যাল মেশানো তরমুজ খাচ্ছেন কিনা, পরীক্ষা করুন। ছবি: সংগৃহীত

বাজার তো বটেই, রাস্তার মোড়ে মোড়ে এবার বিক্রি হচ্ছে তরমুজ। উৎপাদন বেশি হওয়ার দামও এবার কিছুটা কম। গ্রীষ্মের এই ফল সবার কাছেই প্রিয়। এতে থাকে প্রচুর পানি, যা শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে এমন অভিযোগ উঠেছে যে, তরমুজকে দেখতে বেশি লাল ও আকর্ষণীয় করতে কৃত্রিম রং মেশানো হচ্ছে। এমনকি মিষ্টি বাড়াতে তরমুজের ভেতরে ক্ষতিকর রাসায়নিক ইনজেকশন আকারে দেওয়া হচ্ছে।

চিকিৎসকেরা বলছেন, এটি মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হতে পারে। তাই ফল কেনার সময় সতর্ক থাকা অত্যন্ত জরুরি।

অনেকে মনে করেন কেমিক্যাল মেশানো তরমুজ পরীক্ষা করা কঠিন। কিন্তু ঘরোয়া কিছু সহজ উপায়েই আপনি বুঝতে পারবেন আপনার কেনা তরমুজটি প্রাকৃতিক নাকি রাসায়নিক মেশানো।

রং ও বাহ্যিক রূপ পর্যবেক্ষণ

আসল তরমুজ এবং কেমিক্যাল মেশানো তরমুজের মধ্যে পার্থক্য করার একটি সহজ উপায় হলো এর রং দেখা। প্রাকৃতিক তরমুজের ভেতরের রং খুব বেশি নিখুঁত বা অতিরিক্ত উজ্জ্বল হয় না, বরং লালচে রঙের মধ্যে কিছুটা অমসৃণ ভাব থাকে। যদি দেখেন তরমুজের ভেতরের অংশটি অস্বাভাবিকভাবে লাল এবং দেখতে ‘বেশি সুন্দর’, তবে এতে ভেজাল থাকার সম্ভাবনা প্রবল।

কটন বল বা তুলার পরীক্ষা

তরমুজটি কাটার পর এক টুকরো তুলা বা টিস্যু পেপার নিয়ে তরমুজের লাল অংশে ঘষুন। যদি তুলা বা টিস্যুর রং লাল হয়ে যায়, তবে বুঝবেন এতে কৃত্রিম রং (ডাই) ব্যবহার করা হয়েছে। আর যদি তুলা সাদা থাকে, তবে তরমুজটি প্রাকৃতিক।

পানি পরীক্ষা

তরমুজের ছোট একটি টুকরো নিয়ে এক গ্লাস পরিষ্কার পানিতে ছেড়ে দিন। যদি পানি সঙ্গে সঙ্গে গাঢ় লাল হয়ে যায়, তবে নিশ্চিতভাবেই এতে কৃত্রিম রং মেশানো হয়েছে। প্রাকৃতিক তরমুজের ক্ষেত্রে পানি সহজে লাল হবে না।

বীজ পর্যবেক্ষণ

তরমুজ আসল কি না, তা এর বীজ দেখেও বোঝা যায়। প্রাকৃতিক তরমুজের বীজ সাধারণত কালো বা গাঢ় খয়েরি রঙের হয়। কিন্তু ইনজেকশন দেওয়া তরমুজের ক্ষেত্রে অনেক সময় দেখা যায় তরমুজটি খুব লাল কিন্তু এর বীজগুলো সাদা বা ফ্যাকাশে। বীজের রং লালচে বা বিবর্ণ মনে হলে সেই ফল এড়িয়ে চলাই ভালো।

গঠন ও দৃঢ়তা পরীক্ষা

কেমিক্যাল ইনজেকশন দেওয়া তরমুজের গঠন সব জায়গায় সমান থাকে না। ফলটির এক অংশ খুব নরম আর অন্য অংশ শক্ত মনে হলে বুঝতে হবে এটি প্রাকৃতিক নয়। স্বাভাবিক তরমুজের ভেতরের গঠন সাধারণত সুষম ও দৃঢ় হয়।

ইনজেকশনের চিহ্ন বা ছিদ্র

তরমুজ কেনার আগে এর বাইরে ভালো করে লক্ষ্য করুন। যদি কোথাও ছোট ছিদ্র, ফাটল বা অস্বাভাবিক দাগ দেখা যায়, তবে সেটি রাসায়নিক ঢোকানোর সুঁইয়ের দাগ হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা এমন অদ্ভুত দাগযুক্ত ফল কেনা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন।

কেন রাসায়নিক মেশানো তরমুজ ক্ষতিকর

ফলের উজ্জ্বলতা বাড়াতে ব্যবহৃত রাসায়নিকগুলো মানবশরীরের জন্য বিষাক্ত। এগুলো খাওয়ার ফলে হজমের সমস্যা, পেটে ব্যথা, বমি ভাব এমনকি মারাত্মক অ্যালার্জি হতে পারে। দীর্ঘ মেয়াদে এগুলো আরও বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।

সামান্য সচেতন থাকলেই আপনি সঠিক ফলটি বেছে নিতে পারেন। কেনার সময় এই বিষয়গুলো খেয়াল রাখলে আপনি তরমুজের আসল পুষ্টি ও উপকারিতা পুরোপুরি উপভোগ করতে পারবেন।

টাইমস অব ইন্ডিয়া অবলম্বনে লেখা

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত