শীতকালে শিশুদের সুস্থ রাখতে প্রয়োজন বিশেষ যত্ন ও বাড়তি সতর্কতা। চলুন দেখে নেওয়া যাক, শীতে শিশুদের সুরক্ষিত রাখতে কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
স্ট্রিম ডেস্ক

হাড়কাঁপানো শীতে কাঁপছে পুরো দেশ। বিভিন্ন এলাকায় কুয়াশার কারণে রোদের দেখা পাওয়া যাচ্ছে না। শীতের তীব্রতায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। এই সময়ে সবারই একটু বাড়তি যত্ন দরকার হয়।
তবে বড়দের তুলনায় শিশুরা শীতের সঙ্গে মানিয়ে নিতে বেশি কষ্ট পায়। তাই শীতকালে শিশুদের সুস্থ রাখতে প্রয়োজন বিশেষ যত্ন ও বাড়তি সতর্কতা। চলুন দেখে নেওয়া যাক, শীতে শিশুদের সুরক্ষিত রাখতে কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
শীতে শিশুকে উষ্ণ রাখা খুব জরুরি। তবে তাই বলে তাকে অতিরিক্ত মোটা কাপড়ে মুড়িয়ে ফেলাও ঠিক নয়। এতে শিশুর অস্বস্তি হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত শিশু হাসপাতাল ‘জনস হপকিন্স অল চিলড্রেনস হসপিটাল’-এর বিশেষজ্ঞরা বলেন, শিশুকে একটি মোটা সোয়েটার পরানোর চেয়ে পাতলা কাপড়ের কয়েকটি স্তর বা ‘লেয়ারিং’ পদ্ধতিতে পোশাক পরানো অনেক বেশি কার্যকর। কারণ, কাপড়ের স্তরগুলোর মাঝখানে বাতাস আটকে থাকে, যা শরীরকে স্বাভাবিকভাবে উষ্ণ রাখে।

এদিকে ‘আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিক্স’-এর গাইডলাইন অনুযায়ী, আপনি নিজে যতটা শীত অনুভব করছেন এবং যতটা কাপড় পরেছেন, শিশুকে তার চেয়ে অন্তত এক স্তর বেশি কাপড় পরানো যেতে পারে। তবে খেয়াল রাখতে হবে, শিশুর শরীর যেন ঘেমে না যায়। তাই মাঝেমধ্যে শিশুর ঘাড় বা পিঠ স্পর্শ করে দেখুন সে ঘামছে কি না।
শীতকালে অনেক অভিভাবকই শিশুকে গোসল করাতে ভয় পান। লন্ডনের ‘গ্রেট অরমন্ড স্ট্রিট হাসপাতাল’-এর চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীতে শিশুকে প্রতিদিন গোসল করানো বাধ্যতামূলক নয়, কিন্তু পরিষ্কার রাখা খুব জরুরি। কুসুম গরম পানি দিয়ে হাত-পা ও শরীর মুছে দিতে হবে। গোসল করালে খুব বেশি সময় শিশুকে পানিতে রাখা ঠিক নয়। কারণ এতে ত্বকের প্রাকৃতিক তেল ও আর্দ্রতা নষ্ট হয়ে যায়, যা ত্বককে আরও শুষ্ক করে তোলে।
চিকিৎসকেরা আরও পরামর্শ দেন, গোসলের পর শরীর ভেজা থাকা অবস্থাতেই তোয়ালে দিয়ে মোছার তিন মিনিটের মধ্যে ময়েশ্চারাইজার বা লোশন লাগানোর। তে ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখা যায় এবং একজিমা বা চুলকানির মতো সমস্যা থেকে শিশুকে রক্ষা করা সম্ভব হয়।
শীতের সময় শিশুদের সর্দি-কাশি হওয়া খুবই স্বাভাবিক। এ নিয়ে বেশি আতঙ্কিত হওয়ার দরকার নেই। তবে ওষুধ দেওয়ার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ‘ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ)’ এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো বারবার প্রচার করছে যে, চার বছরের কম বয়সী শিশুদের চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ধরনের কফ সিরাপ বা সর্দির ওষুধ খাওয়ানো উচিত নয়। এসব ওষুধ শিশুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই চিকিৎসকেরা এই সময়ে ওষুধের বদলে ঘরোয়া যত্নের ওপর জোর দিচ্ছেন—যেমন উষ্ণ রাখা, পর্যাপ্ত তরল খাবার দেওয়া এবং বিশ্রাম।
তবে কিছু লক্ষণ দেখা দিলে দেরি করা ঠিক নয়। যদি শিশুর শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, বুকের পাঁজর দেবে যেতে দেখা যায়, বা জ্বর তিন দিনের বেশি স্থায়ী হয়, তাহলে দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব লক্ষণ নিউমোনিয়ার ইঙ্গিত হতে পারে।
শীতের মিষ্টি রোদ শিশুর শরীরের জন্য খুব উপকারী। এতে শিশুর হাড় শক্ত হয় এবং ভিটামিন ডি-এর ঘাটতিও কিছুটা পূরণ হয়। তবে কড়া রোদে বা যেখানে সরাসরি ঠান্ডা বাতাস লাগে, এমন জায়গায় শিশুকে রাখা ঠিক নয়। হালকা রোদ আর বাতাস কম এমন স্থানই সবচেয়ে ভালো।

শীতকালে ঘরের পরিবেশ যেন খুব বেশি বদ্ধ না হয় সেদিকেও খেয়াল রাখা জরুরি। দিনের বেলা অন্তত কিছুক্ষণ জানালা খুলে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে খেয়াল রাখবেন, জানালা খোলা অবস্থায় শিশুর যেন ঠান্ডা না লাগে।
শীতকালে ভাইরাসজনিত ডায়রিয়া এবং ফ্লু-এর প্রকোপ বাড়ে। ‘মায়ো ক্লিনিক’-এর শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সময়ে শিশুদের নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা খুবই জরুরি। বাইরে থেকে এলে, খাওয়ার আগে ও টয়লেট ব্যবহারের পর হাত পরিষ্কার রাখা সংক্রমণ প্রতিরোধে বড় ভূমিকা রাখে।
এছাড়া শিশুকে মানুষের ভিড় এবং সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শ থেকে দূরে রাখলে ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।
শীতকালে অনেক শিশুরই খাওয়ার আগ্রহ কমে যায়। তাই একবারে বেশি না খাইয়ে অল্প অল্প করে বারবার পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানো ভালো। খাদ্য তালিকায় ডিমের কুসুম, সবজির স্যুপ, ফলের রস রাখতে পারেন। বিভিন্ন ধরনের সবজি দিয়ে নরম করে খিচুড়ি রান্না করেও শিশুকে খাওয়ানো যেতে পারে। তবে যেসব খাবারে শিশুর অ্যালার্জি হওয়ার আশঙ্কা আছে, সেগুলো অবশ্যই এড়িয়ে চলতে হবে।

হাড়কাঁপানো শীতে কাঁপছে পুরো দেশ। বিভিন্ন এলাকায় কুয়াশার কারণে রোদের দেখা পাওয়া যাচ্ছে না। শীতের তীব্রতায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। এই সময়ে সবারই একটু বাড়তি যত্ন দরকার হয়।
তবে বড়দের তুলনায় শিশুরা শীতের সঙ্গে মানিয়ে নিতে বেশি কষ্ট পায়। তাই শীতকালে শিশুদের সুস্থ রাখতে প্রয়োজন বিশেষ যত্ন ও বাড়তি সতর্কতা। চলুন দেখে নেওয়া যাক, শীতে শিশুদের সুরক্ষিত রাখতে কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
শীতে শিশুকে উষ্ণ রাখা খুব জরুরি। তবে তাই বলে তাকে অতিরিক্ত মোটা কাপড়ে মুড়িয়ে ফেলাও ঠিক নয়। এতে শিশুর অস্বস্তি হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত শিশু হাসপাতাল ‘জনস হপকিন্স অল চিলড্রেনস হসপিটাল’-এর বিশেষজ্ঞরা বলেন, শিশুকে একটি মোটা সোয়েটার পরানোর চেয়ে পাতলা কাপড়ের কয়েকটি স্তর বা ‘লেয়ারিং’ পদ্ধতিতে পোশাক পরানো অনেক বেশি কার্যকর। কারণ, কাপড়ের স্তরগুলোর মাঝখানে বাতাস আটকে থাকে, যা শরীরকে স্বাভাবিকভাবে উষ্ণ রাখে।

এদিকে ‘আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিক্স’-এর গাইডলাইন অনুযায়ী, আপনি নিজে যতটা শীত অনুভব করছেন এবং যতটা কাপড় পরেছেন, শিশুকে তার চেয়ে অন্তত এক স্তর বেশি কাপড় পরানো যেতে পারে। তবে খেয়াল রাখতে হবে, শিশুর শরীর যেন ঘেমে না যায়। তাই মাঝেমধ্যে শিশুর ঘাড় বা পিঠ স্পর্শ করে দেখুন সে ঘামছে কি না।
শীতকালে অনেক অভিভাবকই শিশুকে গোসল করাতে ভয় পান। লন্ডনের ‘গ্রেট অরমন্ড স্ট্রিট হাসপাতাল’-এর চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীতে শিশুকে প্রতিদিন গোসল করানো বাধ্যতামূলক নয়, কিন্তু পরিষ্কার রাখা খুব জরুরি। কুসুম গরম পানি দিয়ে হাত-পা ও শরীর মুছে দিতে হবে। গোসল করালে খুব বেশি সময় শিশুকে পানিতে রাখা ঠিক নয়। কারণ এতে ত্বকের প্রাকৃতিক তেল ও আর্দ্রতা নষ্ট হয়ে যায়, যা ত্বককে আরও শুষ্ক করে তোলে।
চিকিৎসকেরা আরও পরামর্শ দেন, গোসলের পর শরীর ভেজা থাকা অবস্থাতেই তোয়ালে দিয়ে মোছার তিন মিনিটের মধ্যে ময়েশ্চারাইজার বা লোশন লাগানোর। তে ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখা যায় এবং একজিমা বা চুলকানির মতো সমস্যা থেকে শিশুকে রক্ষা করা সম্ভব হয়।
শীতের সময় শিশুদের সর্দি-কাশি হওয়া খুবই স্বাভাবিক। এ নিয়ে বেশি আতঙ্কিত হওয়ার দরকার নেই। তবে ওষুধ দেওয়ার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ‘ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ)’ এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো বারবার প্রচার করছে যে, চার বছরের কম বয়সী শিশুদের চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ধরনের কফ সিরাপ বা সর্দির ওষুধ খাওয়ানো উচিত নয়। এসব ওষুধ শিশুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই চিকিৎসকেরা এই সময়ে ওষুধের বদলে ঘরোয়া যত্নের ওপর জোর দিচ্ছেন—যেমন উষ্ণ রাখা, পর্যাপ্ত তরল খাবার দেওয়া এবং বিশ্রাম।
তবে কিছু লক্ষণ দেখা দিলে দেরি করা ঠিক নয়। যদি শিশুর শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, বুকের পাঁজর দেবে যেতে দেখা যায়, বা জ্বর তিন দিনের বেশি স্থায়ী হয়, তাহলে দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব লক্ষণ নিউমোনিয়ার ইঙ্গিত হতে পারে।
শীতের মিষ্টি রোদ শিশুর শরীরের জন্য খুব উপকারী। এতে শিশুর হাড় শক্ত হয় এবং ভিটামিন ডি-এর ঘাটতিও কিছুটা পূরণ হয়। তবে কড়া রোদে বা যেখানে সরাসরি ঠান্ডা বাতাস লাগে, এমন জায়গায় শিশুকে রাখা ঠিক নয়। হালকা রোদ আর বাতাস কম এমন স্থানই সবচেয়ে ভালো।

শীতকালে ঘরের পরিবেশ যেন খুব বেশি বদ্ধ না হয় সেদিকেও খেয়াল রাখা জরুরি। দিনের বেলা অন্তত কিছুক্ষণ জানালা খুলে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে খেয়াল রাখবেন, জানালা খোলা অবস্থায় শিশুর যেন ঠান্ডা না লাগে।
শীতকালে ভাইরাসজনিত ডায়রিয়া এবং ফ্লু-এর প্রকোপ বাড়ে। ‘মায়ো ক্লিনিক’-এর শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সময়ে শিশুদের নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা খুবই জরুরি। বাইরে থেকে এলে, খাওয়ার আগে ও টয়লেট ব্যবহারের পর হাত পরিষ্কার রাখা সংক্রমণ প্রতিরোধে বড় ভূমিকা রাখে।
এছাড়া শিশুকে মানুষের ভিড় এবং সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শ থেকে দূরে রাখলে ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।
শীতকালে অনেক শিশুরই খাওয়ার আগ্রহ কমে যায়। তাই একবারে বেশি না খাইয়ে অল্প অল্প করে বারবার পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানো ভালো। খাদ্য তালিকায় ডিমের কুসুম, সবজির স্যুপ, ফলের রস রাখতে পারেন। বিভিন্ন ধরনের সবজি দিয়ে নরম করে খিচুড়ি রান্না করেও শিশুকে খাওয়ানো যেতে পারে। তবে যেসব খাবারে শিশুর অ্যালার্জি হওয়ার আশঙ্কা আছে, সেগুলো অবশ্যই এড়িয়ে চলতে হবে।

পাশ্চাত্য থেকে প্রাচ্য, সর্বত্র রয়েছে শরবতের চাহিদা। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন শরবত খাওয়ার রেওয়াজ শুরু হলো কবে থেকে?
৪ ঘণ্টা আগে
একটা বইয়ের দোকান হতে পারে শহরের চিন্তার আড্ডাখানা, তরুণদের বিতর্কের জায়গা, লেখকদের মিলনস্থল কিংবা কোনো বিপ্লবের নীরব সূচনা। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে এমন কিছু বইয়ের দোকান আছে, যেগুলো শত বছর ধরে টিকে আছে ঝড়, যুদ্ধ, ভূমিকম্প আর সময়ের পরিবর্তনের মাঝেও। চলুন, ঘুরে আসি বিশ্বের পুরোনো ছয়টি বইয়ের দোকান থেকে
৯ ঘণ্টা আগে
১৯৭১ সালের ২ মার্চ। বাঙালির দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন। এদিনই প্রথম তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের আকাশে উড়েছিল স্বাধীন বাংলার জাতীয় পতাকা, যা ছিল পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙার এক বলিষ্ঠ ঘোষণা।
৯ ঘণ্টা আগে
জাতীয় পতাকা কেবল নির্দিষ্ট অনুপাতের একখণ্ড রঞ্জিত কাপড় নয়, জাতীয় পতাকা একটি জনপদের সামষ্টিক আকাঙ্ক্ষা, দীর্ঘ লড়াইয়ের নির্যাস এবং আত্মপরিচয়ের এক দৃশ্যমান ইশতেহার। ১৯৭১ সালের ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের বটতলায় প্রথম উত্তোলিত পতাকাটি ছিল এক রাষ্ট্রদ্রোহী বিদ্রোহের প্রকাশ, যা সময়ের পরিক্রমায়
১০ ঘণ্টা আগে