স্ট্রিম ডেস্ক

রমজান মাস মুসলমানদের জন্য আত্মশুদ্ধি ও আত্মসংযম চর্চার মাস। সারাবিশ্বের মুসলিমরা ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সব ধরনের আহার থেকে বিরত থাকেন। রোজা রাখার ধর্মীয় দিকগুলো আমরা সবাই জানি, কিন্তু পুরো এক মাস টানা রোজা রাখলে আমাদের শরীরে ঠিক কী কী পরিবর্তন ঘটতে পারে, তা কি আমরা জানি?
সৌদি আরবের কিং ফাহাদ স্পেশালিস্ট হসপিটাল রিসার্চ সেন্টারের গবেষক মোহাম্মদ মাহরুসের মতে, এই এক মাসের রোজা আমাদের শরীরকে ভেতর থেকে পরিবর্তন করতে পারে। এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কথা বলেছেন সৌদি আরবের গণমাধ্যম আরব নিউজের সঙ্গে।
সারা বছর ধরে আমাদের পাকস্থলী অবিরাম কাজ করে চলে। রোজায় দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার ফলে খাবার হজম ও পরিপাকের সঙ্গে জড়িত এই অঙ্গগুলো একটু বিশ্রামের সুযোগ পায়। যার ফলে শরীর তার পুরোনো ও ক্ষতিগ্রস্ত কোষগুলো সারিয়ে তুলতে কাজ শুরু করে। সারাদিন রোজা রাখার ফলে রক্তে গ্লুকোজ ও ইনসুলিন কমে যায়। এ কারণে শরীর জমানো চর্বি পুড়িয়ে তার প্রয়োজনীয় শক্তি জোগাড় করে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলে ‘কিটোসিস’।
২০১৯ সালে বিখ্যাত ‘নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিন’-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা যায়, ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং বা সারাদিন না খেয়ে থাকলে শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া বা মেটাবলিজম বৃদ্ধি পায়। এটি শরীরে ইনসুলিনের কাজ করার ক্ষমতা বাড়িয়ে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
শুধু তাই নয়, ২০১৬ সালে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেলজয়ী জাপানি বিজ্ঞানী ইয়োশিনোরি ওহসুমি দেখিয়েছেন, রোজা রাখলে বা উপবাস করলে শরীর তার নষ্ট বা মৃত কোষগুলোকে ধ্বংস করে ফেলে। ‘অটোফেজি’ নামের এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বহুগুণ বেড়ে যায় বলে এই বিজ্ঞানী তাঁর গবেষণায় দেখিয়েছেন।
তবে এক বা দুই দিন না খেয়ে থাকার চেয়ে, টানা ৩০ দিন রোজা রাখার প্রভাবটা শরীরের জন্য অনেকটাই আলাদা। যেমন রোজার প্রথম কয়েক দিন শরীর একটু ক্লান্ত লাগলেও, পরবর্তীতে শরীর এই নতুন রুটিনে মানিয়ে নেয়।
২০১৪ সালে ‘সেল স্টেম সেল’ জার্নালের একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি এই উপবাস শরীরে শ্বেত রক্তকণিকা উতপাদন বৃদ্ধি করতে পারে।
রোজার প্রভাব শুধু শরীরেই আটকে থাকে না, মনকেও প্রশান্ত করতে সাহায্য করে। ড. মাহরুসের মতে, দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকার ফলে মানুষের মধ্যে যে সংযমের অভ্যাস তৈরি হয় তা ব্যক্তির রাগ, জেদ ও অন্যান্য আবেগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা বাড়িয়ে আত্মশুদ্ধির পথ তৈরি করতে পারে।
রোজার এত এত উপকারের কথা শুনে নিশ্চয়ই আপনি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন। কিন্তু এই সব উপকার নির্ভর করে ইফতার ও সেহরিতে আপনি কী খাচ্ছেন তার ওপর। গবেষক মাহরুস সতর্ক করে বলেন, সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতারে যদি আপনি অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার, অস্বাস্থ্যকর ফ্যাট বা প্রচুর ফাস্টফুড খান, তবে রোজার উপকারিতা নষ্ট হয়ে যাবে। উল্টো ওজন বেড়ে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। আর নিয়ম করে পানি না খেলে দেখা দিতে পারে পানিশূন্যতা। আর যাঁদের ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের মতো দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা রয়েছে, রোজা শুরু করার আগে অবশ্যই তাঁদের চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

রমজান মাস মুসলমানদের জন্য আত্মশুদ্ধি ও আত্মসংযম চর্চার মাস। সারাবিশ্বের মুসলিমরা ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সব ধরনের আহার থেকে বিরত থাকেন। রোজা রাখার ধর্মীয় দিকগুলো আমরা সবাই জানি, কিন্তু পুরো এক মাস টানা রোজা রাখলে আমাদের শরীরে ঠিক কী কী পরিবর্তন ঘটতে পারে, তা কি আমরা জানি?
সৌদি আরবের কিং ফাহাদ স্পেশালিস্ট হসপিটাল রিসার্চ সেন্টারের গবেষক মোহাম্মদ মাহরুসের মতে, এই এক মাসের রোজা আমাদের শরীরকে ভেতর থেকে পরিবর্তন করতে পারে। এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কথা বলেছেন সৌদি আরবের গণমাধ্যম আরব নিউজের সঙ্গে।
সারা বছর ধরে আমাদের পাকস্থলী অবিরাম কাজ করে চলে। রোজায় দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার ফলে খাবার হজম ও পরিপাকের সঙ্গে জড়িত এই অঙ্গগুলো একটু বিশ্রামের সুযোগ পায়। যার ফলে শরীর তার পুরোনো ও ক্ষতিগ্রস্ত কোষগুলো সারিয়ে তুলতে কাজ শুরু করে। সারাদিন রোজা রাখার ফলে রক্তে গ্লুকোজ ও ইনসুলিন কমে যায়। এ কারণে শরীর জমানো চর্বি পুড়িয়ে তার প্রয়োজনীয় শক্তি জোগাড় করে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলে ‘কিটোসিস’।
২০১৯ সালে বিখ্যাত ‘নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিন’-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা যায়, ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং বা সারাদিন না খেয়ে থাকলে শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া বা মেটাবলিজম বৃদ্ধি পায়। এটি শরীরে ইনসুলিনের কাজ করার ক্ষমতা বাড়িয়ে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
শুধু তাই নয়, ২০১৬ সালে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেলজয়ী জাপানি বিজ্ঞানী ইয়োশিনোরি ওহসুমি দেখিয়েছেন, রোজা রাখলে বা উপবাস করলে শরীর তার নষ্ট বা মৃত কোষগুলোকে ধ্বংস করে ফেলে। ‘অটোফেজি’ নামের এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বহুগুণ বেড়ে যায় বলে এই বিজ্ঞানী তাঁর গবেষণায় দেখিয়েছেন।
তবে এক বা দুই দিন না খেয়ে থাকার চেয়ে, টানা ৩০ দিন রোজা রাখার প্রভাবটা শরীরের জন্য অনেকটাই আলাদা। যেমন রোজার প্রথম কয়েক দিন শরীর একটু ক্লান্ত লাগলেও, পরবর্তীতে শরীর এই নতুন রুটিনে মানিয়ে নেয়।
২০১৪ সালে ‘সেল স্টেম সেল’ জার্নালের একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি এই উপবাস শরীরে শ্বেত রক্তকণিকা উতপাদন বৃদ্ধি করতে পারে।
রোজার প্রভাব শুধু শরীরেই আটকে থাকে না, মনকেও প্রশান্ত করতে সাহায্য করে। ড. মাহরুসের মতে, দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকার ফলে মানুষের মধ্যে যে সংযমের অভ্যাস তৈরি হয় তা ব্যক্তির রাগ, জেদ ও অন্যান্য আবেগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা বাড়িয়ে আত্মশুদ্ধির পথ তৈরি করতে পারে।
রোজার এত এত উপকারের কথা শুনে নিশ্চয়ই আপনি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন। কিন্তু এই সব উপকার নির্ভর করে ইফতার ও সেহরিতে আপনি কী খাচ্ছেন তার ওপর। গবেষক মাহরুস সতর্ক করে বলেন, সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতারে যদি আপনি অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার, অস্বাস্থ্যকর ফ্যাট বা প্রচুর ফাস্টফুড খান, তবে রোজার উপকারিতা নষ্ট হয়ে যাবে। উল্টো ওজন বেড়ে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। আর নিয়ম করে পানি না খেলে দেখা দিতে পারে পানিশূন্যতা। আর যাঁদের ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের মতো দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা রয়েছে, রোজা শুরু করার আগে অবশ্যই তাঁদের চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

পাশ্চাত্য থেকে প্রাচ্য, সর্বত্র রয়েছে শরবতের চাহিদা। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন শরবত খাওয়ার রেওয়াজ শুরু হলো কবে থেকে?
২১ ঘণ্টা আগে
একটা বইয়ের দোকান হতে পারে শহরের চিন্তার আড্ডাখানা, তরুণদের বিতর্কের জায়গা, লেখকদের মিলনস্থল কিংবা কোনো বিপ্লবের নীরব সূচনা। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে এমন কিছু বইয়ের দোকান আছে, যেগুলো শত বছর ধরে টিকে আছে ঝড়, যুদ্ধ, ভূমিকম্প আর সময়ের পরিবর্তনের মাঝেও। চলুন, ঘুরে আসি বিশ্বের পুরোনো ছয়টি বইয়ের দোকান থেকে
১ দিন আগে
১৯৭১ সালের ২ মার্চ। বাঙালির দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন। এদিনই প্রথম তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের আকাশে উড়েছিল স্বাধীন বাংলার জাতীয় পতাকা, যা ছিল পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙার এক বলিষ্ঠ ঘোষণা।
১ দিন আগে
জাতীয় পতাকা কেবল নির্দিষ্ট অনুপাতের একখণ্ড রঞ্জিত কাপড় নয়, জাতীয় পতাকা একটি জনপদের সামষ্টিক আকাঙ্ক্ষা, দীর্ঘ লড়াইয়ের নির্যাস এবং আত্মপরিচয়ের এক দৃশ্যমান ইশতেহার। ১৯৭১ সালের ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের বটতলায় প্রথম উত্তোলিত পতাকাটি ছিল এক রাষ্ট্রদ্রোহী বিদ্রোহের প্রকাশ, যা সময়ের পরিক্রমায়
১ দিন আগে