গ্রীষ্মকাল মানেই তরমুজের মৌসুম। লাল টুকটুকে মিষ্টি এই ফল খেতে পছন্দ করেন না এমন মানুষ কমই আছে। তরমুজ খাওয়ার ক্ষেত্রে ডায়াবেটিস রোগীরা কী করবেন তা নিয়ে অনেকের মনেই দ্বিধা কাজ করে। তরমুজের অনেক পুষ্টিগুণ থাকলেও এটা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাবে কি না, সেই চিন্তায় অনেকে তরমুজ খাওয়া বাদ দেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়াবেটিস রোগীরাও তরমুজ খেতে পারবেন। তবে এর জন্য কিছু নিয়ম মানতে হবে।
তরমুজের পুষ্টিগুণ
তরমুজের প্রায় ৯২ শতাংশই পানি। এই পানি আমাদের শরীরকে আর্দ্র রাখে। এ কারণেই প্রচণ্ড গরমে তরমুজ খেলে শীতল অনুভূতি হয়। এ ছাড়া এতে ক্যালরি অনেক কম থাকে। তরমুজে আছে ভিটামিন এ, বি ও সি। পটাসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের মতো প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান তরমুজে পাওয়া যায়।
তরমুজে ‘লাইকোপেন’ নামের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। এই উপাদানটি হৃৎপিণ্ড সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। এতে ফাইবার বা আঁশ খুব কম থাকে।
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য পরামর্শ
প্রায় ২৮৬ গ্রামের একটা মাঝারি তরমুজে চিনি থাকে প্রায় ১৭ দশমিক ৭ গ্রাম। উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে, এক কাপ তরমুজ থেকে একজন ব্যক্তি প্রায় ৯ দশমিক ৫ গ্রাম চিনি গ্রহণ করেন বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
রক্তে শর্করার মাত্রা কতটা নিয়ন্ত্রণে থাকবে তা নির্ভর করে খাবারের গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের মাত্রার ওপর। সহজ করে বললে, খাবারে গ্লাইসেমিক সূচক যত কম হবে, তত ধীরে ধীরে এটি রক্তে শোষিত হবে। গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের (জিআই) মাত্রা শূন্য থেকে একশ পর্যন্ত হয়ে থাকে। এই জিআই-এর মাত্রা যত বেশি হবে চিনি রক্তে তত দ্রুত প্রবেশ করবে। ১০০ গ্রাম তরমুজে জিআই ৭২।
তাই পরিমিত পরিমাণে খেলে রক্তে শর্করা হঠাৎ খুব বেশি বাড়ে না।
পুষ্টিবিদদের মতে, ডায়াবেটিস রোগীরা তরমুজ খেতে পারবেন। তবে একসঙ্গে অনেক বেশি খাওয়া যাবে না। দিনে ১০০ বা ১৫০ গ্রামের বেশি তরমুজ না খাওয়াই ভালো। তরমুজের রস বা জুস করে খাওয়া উচিত নয়। জুস তৈরি করলে এর ফাইবার নষ্ট হয়ে যায়। তখন শর্করা খুব দ্রুত রক্তে মিশে যায়। তাই চিবিয়ে আস্ত ফল হিসেবে তরমুজ খাওয়া সবচেয়ে ভালো।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খালি পেটে শুধু তরমুজ খাওয়া ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ঠিক নয়। এতে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়তে পারে। তরমুজের সঙ্গে প্রোটিন বা স্বাস্থ্যকর ফ্যাট যুক্ত খাবার খেলে ভালো হয়। এতে শর্করা রক্তে মেশার গতি কমে যায়।
এ ছাড়া মূল খাবারের পরপরই মিষ্টি ফল খাওয়া ঠিক নয়। দুই বেলার খাবারের মধ্যে হালকা নাশতা হিসেবে তরমুজ খাওয়া যেতে পারে। দিনের বেলা খেলেও রাতে তরমুজ এড়িয়ে চলুন। সবচেয়ে ভালো হয় সকালে তরমুজ খেলে। কারণ এ সময় বিপাক হার বেশি থাকে।
তবে একটি বিষয় মনে রাখবেন, প্রত্যেক মানুষের শরীরের গঠন আলাদা। তরমুজ খাওয়ার পর আপনার শরীর কেমন প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে তা খেয়াল রাখা জরুরি। তরমুজ খাওয়ার কিছুক্ষণ পর রক্তের শর্করা মেপে দেখতে পারেন। যদি শর্করা খুব বেশি বেড়ে যায়, তবে পরিমাণ আরও কমিয়ে দেওয়া উচিত।