বিজয় এবারে তামিল রাজনীতির ‘সেনাপতি’ হতে চলেছেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, তাঁর দল ১২৫ টি আসনে এগিয়ে আছে। তামিলনাড়ু এখন আর জিজ্ঞেস করছে না যে বিজয় ভিড় জমাতে পারবেন কি না; তারা জানতে চাচ্ছে তিনি ক্ষমতার মানচিত্র বদলে দিতে পারবেন কি না।
স্ট্রিম ডেস্ক

তামিলনাড়ুর একটি বিশেষ গুণ হলো, তারা মানুষকে অনেক উঁচুতে বসাতে পারে। এটা ভারতের আর কোথাও দেখা যায় না। এখানে তারকাদের প্রতি ভালোবাসা উপাসনার পর্যায়ে চলে যায়। সাধারণ মানুষ কাউকে একবার আপন করে নিলে তিনি দেবতার সমান হয়ে যান। তবুও এমন জায়গাতেও একজন অভিনেতার পক্ষে রাজনীতিতে এসেই নিজের জায়গা করে নেওয়া খুব কঠিন। তামিলনাড়ুতে একমাত্র এম. জি. রামচন্দ্রনই (এমজিআর) সত্যিকার অর্থে এই কঠিন পথ পাড়ি দিতে পেরেছিলেন
তবে এমজিআরের অনেক সময় লেগেছিল। তিনি ১৯৫০-এর দশকে ডিএমকে-তে যোগ দেন। সিনেমাকে সামাজিক ন্যায়বিচারের রাজনীতির প্রচারক হিসেবে ব্যবহার করে দশকের পর দশক ধরে বিশাল জনভিত্তি তৈরি করেন। তারপর ১৯৭২ সালে করুণানিধির সঙ্গে বিচ্ছেদের পর এআইএডিএমকে দল গঠন করেন। পাঁচ বছর পর ১৯৭৭ সালে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হন।
পাশের রাজ্য অন্ধ্রপ্রদেশে এন. টি. রামা রাও আরও দ্রুত এই সাফল্য পেয়েছিলেন। তিনি তেলুগু দেশম পার্টি গড়ার কয়েক মাসের মধ্যেই সিনেমার জনপ্রিয়তা নিয়ে ক্ষমতায় আসেন। তবে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এখনো এমজিআর-এর পথকেই আদর্শ মানা হয়। আজ বিজয়ের দল টিভিকের ফলাফল সবাইকে অবাক করে দিচ্ছে। কিন্তু কে এই বিজয়, যিনি হয়তো তামিল রাজনীতির নতুন ‘থালাপথি’ বা সেনাপতি হতে চলেছেন?
বিজয়ের পুরো নাম জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর। ১৯৭৪ সালে চেন্নাইয়ে চলচ্চিত্র পরিচালক এস. এ. চন্দ্রশেখর এবং গায়িকা শোভার ঘরে তাঁর জন্ম। প্রথমে শিশুশিল্পী হিসেবে কাজ শুরু করেন এবং ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে নায়ক হিসেবে পর্দায় অভিষেক হয়। শুরুর দিকে অনেক সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। কিন্তু ধীরে ধীরে তিনি নিজেকে ‘থালাপতি বিজয়’ হিসেবে গড়ে তোলেন।

বিজয়ের শুরুর দিকটা ছিল খুব সাধারণ। তিনি রজনীকান্তের মতো স্টাইলিশ বা কমল হাসানের মতো গম্ভীর অভিনয়ের ধারায় আসেননি। তাঁকে দেখলে মনে হতো পাশের বাড়ির কোনো ছেলে, যাকে বাস স্টপে বা বিয়ের অনুষ্ঠানে নাচতে দেখা যায়।
এই সাধারণ ভাবটাই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তামিল সিনেমা তাঁকে বড় নায়ক বানানোর আগে ঘরের মানুষের মতো পরিচিত করে তুলেছিল। শুরুর দিকের পারিবারিক সিনেমায় তাঁর কাজ ছিল নায়িকা, পরিবার এবং দর্শকদের মন জয় করা। মহাতারকা হওয়া তখনো অনেক দূরে ছিল, কিন্তু তার ভিত্তি তৈরি হচ্ছিল।
‘গিলি’ সিনেমাটি বিজয়ের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। পরবর্তী সময়ে বিজয়ের সিনেমার একটি নির্দিষ্ট কাঠামো তৈরি হয়।
সিনেমা শুরু হলে প্রেক্ষাগৃহ যেন উৎসবের ময়দান হয়ে ওঠে। সিনেমায় থাকে গান, কৌতুক এবং দুর্নীতিগ্রস্থ ভিলেন। আর বিজয় সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি হয়ে সেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ান। করপোরেট লোভ, শিক্ষা বা স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি কিংবা ব্যবস্থার ত্রুটির বিরুদ্ধে সিনেমায় তার এই লড়াই দর্শকদের মনে জায়গা করে নেয়। সিনেমাগুলো বার্তা দেয়, সাধারণ মানুষের পক্ষেও সম্মান ফিরে পাওয়া সম্ভব।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পর্দার সেই প্রেমিক বিজয় হয়ে যান ত্রাণকর্তা। অনেক সিনেমার সংলাপ নির্বাচনী প্রচারণার বক্তৃতার মতো শোনাত। কৃষক, দুর্নীতি এবং ভোটের অধিকার নিয়ে সিনেমার সংলাপে বলা কথাগুলো মানুষের মনে গেঁথে যায়। তামিল সিনেমা সব সময় নৈতিকতার কথা বলে, আর বিজয় সেই আস্থার জায়গাটি দখল করেন। আবার তিনি দর্শকদের সঙ্গে নিজেও বড় হয়েছেন। নব্বইয়ের দশকের শিশুরা এখন তাঁকে রাজনৈতিক নেতা হিসেবে দেখছে, যা আগে দেখত পর্দায়।
বিজয়ের রাজনীতির সফর হুট করে শুরু হয়নি। শুরুটা ছিল তাঁর ফ্যান ক্লাব, রক্তদান শিবির এবং সমাজসেবামূলক কাজের মাধ্যমে। রাজনীতি কেবল হাততালিতে চলে না, এর জন্য মাঠপর্যায়ের কর্মী লাগে যারা রোদে দাঁড়িয়ে কাজ করতে পারে। ২০২৪ সালে তিনি যখন নিজের দল ‘তামিলগা ভেট্টি কাঝাগাম’ চালু করেন, তখন সিনেমা ছেড়ে রাজনীতিতে পুরোপুরি মনোযোগ দেওয়ার ঘোষণা দেন। এতে তামিলনাড়ুর মানুষ বুঝতে পেরেছিলেন, তিনি কতটা সিরিয়াস।
এই লেখা যখন লিখছি, তখন নির্বাচনের ফল গণনা চলছে। ভোটে এগিয়ে থাকার প্রবণতা দেখে মনে হচ্ছে, বিজয় এবারে তামিল রাজনীতির ‘সেনাপতি’ হতে চলেছেন। তাঁর দল ১২৫ টি আসনে এগিয়ে আছে। তামিলনাড়ু এখন আর জিজ্ঞেস করছে না যে বিজয় ভিড় জমাতে পারবেন কি না; তারা জানতে চাচ্ছে তিনি ক্ষমতার মানচিত্র বদলে দিতে পারবেন কি না। এটাই বিজয়ের গল্পের সারসংক্ষেপ।

তামিলনাড়ুর একটি বিশেষ গুণ হলো, তারা মানুষকে অনেক উঁচুতে বসাতে পারে। এটা ভারতের আর কোথাও দেখা যায় না। এখানে তারকাদের প্রতি ভালোবাসা উপাসনার পর্যায়ে চলে যায়। সাধারণ মানুষ কাউকে একবার আপন করে নিলে তিনি দেবতার সমান হয়ে যান। তবুও এমন জায়গাতেও একজন অভিনেতার পক্ষে রাজনীতিতে এসেই নিজের জায়গা করে নেওয়া খুব কঠিন। তামিলনাড়ুতে একমাত্র এম. জি. রামচন্দ্রনই (এমজিআর) সত্যিকার অর্থে এই কঠিন পথ পাড়ি দিতে পেরেছিলেন
তবে এমজিআরের অনেক সময় লেগেছিল। তিনি ১৯৫০-এর দশকে ডিএমকে-তে যোগ দেন। সিনেমাকে সামাজিক ন্যায়বিচারের রাজনীতির প্রচারক হিসেবে ব্যবহার করে দশকের পর দশক ধরে বিশাল জনভিত্তি তৈরি করেন। তারপর ১৯৭২ সালে করুণানিধির সঙ্গে বিচ্ছেদের পর এআইএডিএমকে দল গঠন করেন। পাঁচ বছর পর ১৯৭৭ সালে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হন।
পাশের রাজ্য অন্ধ্রপ্রদেশে এন. টি. রামা রাও আরও দ্রুত এই সাফল্য পেয়েছিলেন। তিনি তেলুগু দেশম পার্টি গড়ার কয়েক মাসের মধ্যেই সিনেমার জনপ্রিয়তা নিয়ে ক্ষমতায় আসেন। তবে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এখনো এমজিআর-এর পথকেই আদর্শ মানা হয়। আজ বিজয়ের দল টিভিকের ফলাফল সবাইকে অবাক করে দিচ্ছে। কিন্তু কে এই বিজয়, যিনি হয়তো তামিল রাজনীতির নতুন ‘থালাপথি’ বা সেনাপতি হতে চলেছেন?
বিজয়ের পুরো নাম জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর। ১৯৭৪ সালে চেন্নাইয়ে চলচ্চিত্র পরিচালক এস. এ. চন্দ্রশেখর এবং গায়িকা শোভার ঘরে তাঁর জন্ম। প্রথমে শিশুশিল্পী হিসেবে কাজ শুরু করেন এবং ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে নায়ক হিসেবে পর্দায় অভিষেক হয়। শুরুর দিকে অনেক সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। কিন্তু ধীরে ধীরে তিনি নিজেকে ‘থালাপতি বিজয়’ হিসেবে গড়ে তোলেন।

বিজয়ের শুরুর দিকটা ছিল খুব সাধারণ। তিনি রজনীকান্তের মতো স্টাইলিশ বা কমল হাসানের মতো গম্ভীর অভিনয়ের ধারায় আসেননি। তাঁকে দেখলে মনে হতো পাশের বাড়ির কোনো ছেলে, যাকে বাস স্টপে বা বিয়ের অনুষ্ঠানে নাচতে দেখা যায়।
এই সাধারণ ভাবটাই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তামিল সিনেমা তাঁকে বড় নায়ক বানানোর আগে ঘরের মানুষের মতো পরিচিত করে তুলেছিল। শুরুর দিকের পারিবারিক সিনেমায় তাঁর কাজ ছিল নায়িকা, পরিবার এবং দর্শকদের মন জয় করা। মহাতারকা হওয়া তখনো অনেক দূরে ছিল, কিন্তু তার ভিত্তি তৈরি হচ্ছিল।
‘গিলি’ সিনেমাটি বিজয়ের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। পরবর্তী সময়ে বিজয়ের সিনেমার একটি নির্দিষ্ট কাঠামো তৈরি হয়।
সিনেমা শুরু হলে প্রেক্ষাগৃহ যেন উৎসবের ময়দান হয়ে ওঠে। সিনেমায় থাকে গান, কৌতুক এবং দুর্নীতিগ্রস্থ ভিলেন। আর বিজয় সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি হয়ে সেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ান। করপোরেট লোভ, শিক্ষা বা স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি কিংবা ব্যবস্থার ত্রুটির বিরুদ্ধে সিনেমায় তার এই লড়াই দর্শকদের মনে জায়গা করে নেয়। সিনেমাগুলো বার্তা দেয়, সাধারণ মানুষের পক্ষেও সম্মান ফিরে পাওয়া সম্ভব।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পর্দার সেই প্রেমিক বিজয় হয়ে যান ত্রাণকর্তা। অনেক সিনেমার সংলাপ নির্বাচনী প্রচারণার বক্তৃতার মতো শোনাত। কৃষক, দুর্নীতি এবং ভোটের অধিকার নিয়ে সিনেমার সংলাপে বলা কথাগুলো মানুষের মনে গেঁথে যায়। তামিল সিনেমা সব সময় নৈতিকতার কথা বলে, আর বিজয় সেই আস্থার জায়গাটি দখল করেন। আবার তিনি দর্শকদের সঙ্গে নিজেও বড় হয়েছেন। নব্বইয়ের দশকের শিশুরা এখন তাঁকে রাজনৈতিক নেতা হিসেবে দেখছে, যা আগে দেখত পর্দায়।
বিজয়ের রাজনীতির সফর হুট করে শুরু হয়নি। শুরুটা ছিল তাঁর ফ্যান ক্লাব, রক্তদান শিবির এবং সমাজসেবামূলক কাজের মাধ্যমে। রাজনীতি কেবল হাততালিতে চলে না, এর জন্য মাঠপর্যায়ের কর্মী লাগে যারা রোদে দাঁড়িয়ে কাজ করতে পারে। ২০২৪ সালে তিনি যখন নিজের দল ‘তামিলগা ভেট্টি কাঝাগাম’ চালু করেন, তখন সিনেমা ছেড়ে রাজনীতিতে পুরোপুরি মনোযোগ দেওয়ার ঘোষণা দেন। এতে তামিলনাড়ুর মানুষ বুঝতে পেরেছিলেন, তিনি কতটা সিরিয়াস।
এই লেখা যখন লিখছি, তখন নির্বাচনের ফল গণনা চলছে। ভোটে এগিয়ে থাকার প্রবণতা দেখে মনে হচ্ছে, বিজয় এবারে তামিল রাজনীতির ‘সেনাপতি’ হতে চলেছেন। তাঁর দল ১২৫ টি আসনে এগিয়ে আছে। তামিলনাড়ু এখন আর জিজ্ঞেস করছে না যে বিজয় ভিড় জমাতে পারবেন কি না; তারা জানতে চাচ্ছে তিনি ক্ষমতার মানচিত্র বদলে দিতে পারবেন কি না। এটাই বিজয়ের গল্পের সারসংক্ষেপ।
.png)

আন্তর্জাতিক বিধবা দিবসের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো বিশ্বজুড়ে বিধবাদের বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা। বিশ্বের অনেক দেশে এখনো বিধবাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়। কিছু অঞ্চলে তাদের অশুভ বা জাদুবিদ্যার সঙ্গে জড়িত বলেও মনে করা হয়।
৩ ঘণ্টা আগে
বাংলা ভাষায় এমন নাম খুব কমই আছে যেগুলো নিজেই একেকটি বিশেষণে পরিণত হয়েছে। আমরা যখন কাউকে ব্যতিক্রমী মেধাবী বলতে চাই, তখন তাকে ‘আইনস্টাইন’ বলি। কেউ যখন প্রেমে মগ্ন থাকে, তাকে ‘রোমিও’ বলি। কিন্তু মীর জাফরের চেয়ে বড় উদাহরণ আর কেউ হতে পারে না, যার নাম ভারতীয় উপমহাদেশে ‘বিশ্বাসঘাতকতার’ সমার্থক হয়ে দাঁড়িয়ে
৭ ঘণ্টা আগে
নবাব সিরাজউদ্দৌলার সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাঙালির আত্মপরিচয়, স্বাধীনতা রক্ষা এবং ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রথম বড় প্রতিরোধের মহাকাব্য। বর্তমান বাংলাদেশের সঙ্গে সিরাজউদ্দৌলার সম্পর্ক অতি গভীর এবং অবিচ্ছেদ্য।
৭ ঘণ্টা আগে
একজন তরুণ ডাক্তার, যিনি বেছে নিয়েছিলেন মানুষের মুক্তির পথ। প্রথাগত পেশায় ক্যারিয়ার গড়ার বদলে তিনি আমৃত্যু সংগ্রাম করে গেছেন মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য। আর তা দেশ, কাল আর সীমানার গণ্ডি ছাড়িয়ে। আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরে জন্ম নেওয়া, কিউবা বিপ্লবের অন্যতম মহানায়ক, আর কঙ্গো ও বলিভিয়ায় বিপ্লবের অগ্নিস্ফুল
৮ ঘণ্টা আগে