অনন্ত রায়হান

কোরবানির পশুর হাটে ভিড় বাড়ছে। চারদিকে শোরগোল। বেশ মোটাতাজা গরুর পাশে দাঁড়িয়ে মোবাইল উঁচিয়ে ধরেছেন এক তরুণ। মুখে তাঁর চওড়া হাসি। গরুর গলায় ঝোলানো রঙিন মালাটা ঠিকমতো ফ্রেমে আসছে কি না, সেটাই তখন তাঁর সবচেয়ে বড় চিন্তা। ক্যামেরায় বেশ কয়েকটি ক্লিক করার পর অবশেষে মুখে স্বস্তির হাসি ফুটল! পাশ থেকে তাঁর বাবা বললেন, ‘দামাদামি না করে ছবি তুলছিস কেন?’
তরুণের চটজলদি উত্তর, ‘বাবা, দাম পরে হবে। আগে ফেসবুকে একটা চেক-ইন দেই। বন্ধুদের দেখাতে হবে তো!’ আজকাল কোরবানির পশুর হাটে গেলে এমন দৃশ্য প্রায়ই চোখে পড়ে।
আগেকার দিনে মানুষ হাটে গেলে দেখতেন, গরুটি সুস্থ কি না, দাঁত ঠিক আছে কি না, কিংবা প্রাকৃতিকভাবে বড় হয়েছে কি না। কিন্তু এখন? গরুর গায়ের রং ধবধবে সাদা, নাকি কুচকুচে কালো, নাকি গাঢ় লাল তা নিয়ে অনেক তরুণ ক্রেতা চিন্তায় পড়ে যান। সহজ কথায়, গরুটি ক্যামেরায় দেখতে ‘পিকচার পারফেক্ট’ হবে কি না, এটাও অনেকের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার।
এদিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় গরুর ছবি আপলোডের পর কোন রঙে লাইক-কমেন্ট বেশি আসবে, তা নিয়েও কনটেন্ট ক্রিয়েটর-ইউটিউবাররা আগে থেকেই হিসাব কষে রাখেন। খামারিরাও এই সুযোগ হাতছাড়া করেন না। তাঁরাও গরুর গা ঘষে-মেজে চকচকে করে রাখেন। শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে, শিংয়ে তেল মাখিয়ে গরুকে একদম ‘রেডি ফর ক্যামেরা’ করে হাটে আনেন।
কোরবানির হাটে নির্দিষ্ট রঙের পশুর প্রতি ক্রেতাদের আলাদা ঝোঁক আছে। যেমন গরুর গায়ের রং লাল হলে শুধুই লাল, কিংবা সম্পূর্ণ কালো বা ধবধবে সাদা। আবার অনেকের কাছে কালো-সাদা ছোপ ছোপ দাগের গরুর প্রতি বিশেষ আকর্ষণ রয়েছে।
কেউ মনে করেন লাল গরুর মাংসের স্বাদ ভালো, আবার কারও ধারণা কালো গরুর মাংস বেশি সুস্বাদু। এসব ভাবনার কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নেই, আছে শুধু বিশ্বাস। তবে শুধু মাংস ভালো হলেই চলবে না, গরুটাকেও দেখতে হতে হবে নজরকাড়া।
এমনই একজন ক্রেতা মাহফুজুল হক। তিনি স্ট্রিমকে বলেন, ‘কোরবানি ঈদের জন্য সাদা গরু আমার বেশি পছন্দ। এমন না যে এর মাংস ভালো বা অন্য কিছু, স্রেফ দেখতে ভালো লাগে। ছবি তুললে ধবধবে সাদা গরু দেখতে সুন্দর লাগে।’
এ ছাড়া হাটে গরুর সৌন্দর্য বাড়াতে মাথায় ও গলায় রঙিন ঝালর দেওয়া মালা পরিয়ে রাখা হয়। এই জমকালো সাজের গরুর প্রতি মানুষের আগ্রহ ও কৌতূহল স্বভাবতই একটু বেশি থাকে।
কে কত টাকা দিয়ে গরু কিনল, কার গরুটা এলাকার মধ্যে সবচেয়ে দামি, এ নিয়েও যেন চলে অলিখিত প্রতিযোগিতা। তবে এই ঘটনা কিন্তু নতুন কিছু নয়। যার গরু যত বেশি দামে কেনা হয়, পাড়া-মহল্লায় তাঁকে নিয়ে আলোচনা হয়। পাড়ার ছেলেমেয়েরা লাইন বেঁধে সেই গরু দেখতে যায়।
কোরবানি দেওয়া উচিত আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। কিন্তু বেশি দামে গরু কিনতে পারাকে অনেকে সামাজিক মর্যাদার মাপকাঠি বানিয়ে ফেলেছেন। যার গরু যত বড় এবং যত চকচকে, সমাজে তাঁর অবস্থান তত শক্তিশালী এমন ধারণা আমাদের চারপাশে প্রচলিত আছে।
নিজের প্রিয় বস্তুকে আল্লাহর রাস্তায় উৎসর্গ করা এবং মনের ভেতরের পশুকে জবাই করাই হলো কোরবানির প্রকৃত শিক্ষা। কিন্তু হালের ‘পিকচার পারফেক্ট’ হওয়ার ফাঁদে পড়ে আমরা অনেকেই সেই মূল ভাবনা হারিয়ে ফেলছি।
কোরবানি শুধু বড় গরু, ঝকঝকে ছবি কিংবা সামাজিক প্রশংসার গল্প নয়। এর ভেতরে আছে ত্যাগের নীরব শিক্ষা। তাই হাটের কোলাহল, ক্যামেরার ফ্ল্যাশ আর ফেসবুকের লাইক–কমেন্টের ভিড়ের মাঝেও হয়তো একবার ভাবা দরকার, আমরা কি কোরবানির মূল বার্তাটা ধরে রাখতে পারছি?
সোশ্যাল মিডিয়া বা প্রযুক্তির ব্যবহার অপরাধ নয়। আনন্দের মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি করে রাখতেই পারেন। কিন্তু এমন অভ্যাস কোরবানির মূল উদ্দেশ্য আর সৃষ্টিকর্তার প্রতি আনুগত্যে বাধা হয়ে দাঁড়ালে বিষয়টি নিয়ে আরও ভাবা উচিত।

কোরবানির পশুর হাটে ভিড় বাড়ছে। চারদিকে শোরগোল। বেশ মোটাতাজা গরুর পাশে দাঁড়িয়ে মোবাইল উঁচিয়ে ধরেছেন এক তরুণ। মুখে তাঁর চওড়া হাসি। গরুর গলায় ঝোলানো রঙিন মালাটা ঠিকমতো ফ্রেমে আসছে কি না, সেটাই তখন তাঁর সবচেয়ে বড় চিন্তা। ক্যামেরায় বেশ কয়েকটি ক্লিক করার পর অবশেষে মুখে স্বস্তির হাসি ফুটল! পাশ থেকে তাঁর বাবা বললেন, ‘দামাদামি না করে ছবি তুলছিস কেন?’
তরুণের চটজলদি উত্তর, ‘বাবা, দাম পরে হবে। আগে ফেসবুকে একটা চেক-ইন দেই। বন্ধুদের দেখাতে হবে তো!’ আজকাল কোরবানির পশুর হাটে গেলে এমন দৃশ্য প্রায়ই চোখে পড়ে।
আগেকার দিনে মানুষ হাটে গেলে দেখতেন, গরুটি সুস্থ কি না, দাঁত ঠিক আছে কি না, কিংবা প্রাকৃতিকভাবে বড় হয়েছে কি না। কিন্তু এখন? গরুর গায়ের রং ধবধবে সাদা, নাকি কুচকুচে কালো, নাকি গাঢ় লাল তা নিয়ে অনেক তরুণ ক্রেতা চিন্তায় পড়ে যান। সহজ কথায়, গরুটি ক্যামেরায় দেখতে ‘পিকচার পারফেক্ট’ হবে কি না, এটাও অনেকের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার।
এদিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় গরুর ছবি আপলোডের পর কোন রঙে লাইক-কমেন্ট বেশি আসবে, তা নিয়েও কনটেন্ট ক্রিয়েটর-ইউটিউবাররা আগে থেকেই হিসাব কষে রাখেন। খামারিরাও এই সুযোগ হাতছাড়া করেন না। তাঁরাও গরুর গা ঘষে-মেজে চকচকে করে রাখেন। শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে, শিংয়ে তেল মাখিয়ে গরুকে একদম ‘রেডি ফর ক্যামেরা’ করে হাটে আনেন।
কোরবানির হাটে নির্দিষ্ট রঙের পশুর প্রতি ক্রেতাদের আলাদা ঝোঁক আছে। যেমন গরুর গায়ের রং লাল হলে শুধুই লাল, কিংবা সম্পূর্ণ কালো বা ধবধবে সাদা। আবার অনেকের কাছে কালো-সাদা ছোপ ছোপ দাগের গরুর প্রতি বিশেষ আকর্ষণ রয়েছে।
কেউ মনে করেন লাল গরুর মাংসের স্বাদ ভালো, আবার কারও ধারণা কালো গরুর মাংস বেশি সুস্বাদু। এসব ভাবনার কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নেই, আছে শুধু বিশ্বাস। তবে শুধু মাংস ভালো হলেই চলবে না, গরুটাকেও দেখতে হতে হবে নজরকাড়া।
এমনই একজন ক্রেতা মাহফুজুল হক। তিনি স্ট্রিমকে বলেন, ‘কোরবানি ঈদের জন্য সাদা গরু আমার বেশি পছন্দ। এমন না যে এর মাংস ভালো বা অন্য কিছু, স্রেফ দেখতে ভালো লাগে। ছবি তুললে ধবধবে সাদা গরু দেখতে সুন্দর লাগে।’
এ ছাড়া হাটে গরুর সৌন্দর্য বাড়াতে মাথায় ও গলায় রঙিন ঝালর দেওয়া মালা পরিয়ে রাখা হয়। এই জমকালো সাজের গরুর প্রতি মানুষের আগ্রহ ও কৌতূহল স্বভাবতই একটু বেশি থাকে।
কে কত টাকা দিয়ে গরু কিনল, কার গরুটা এলাকার মধ্যে সবচেয়ে দামি, এ নিয়েও যেন চলে অলিখিত প্রতিযোগিতা। তবে এই ঘটনা কিন্তু নতুন কিছু নয়। যার গরু যত বেশি দামে কেনা হয়, পাড়া-মহল্লায় তাঁকে নিয়ে আলোচনা হয়। পাড়ার ছেলেমেয়েরা লাইন বেঁধে সেই গরু দেখতে যায়।
কোরবানি দেওয়া উচিত আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। কিন্তু বেশি দামে গরু কিনতে পারাকে অনেকে সামাজিক মর্যাদার মাপকাঠি বানিয়ে ফেলেছেন। যার গরু যত বড় এবং যত চকচকে, সমাজে তাঁর অবস্থান তত শক্তিশালী এমন ধারণা আমাদের চারপাশে প্রচলিত আছে।
নিজের প্রিয় বস্তুকে আল্লাহর রাস্তায় উৎসর্গ করা এবং মনের ভেতরের পশুকে জবাই করাই হলো কোরবানির প্রকৃত শিক্ষা। কিন্তু হালের ‘পিকচার পারফেক্ট’ হওয়ার ফাঁদে পড়ে আমরা অনেকেই সেই মূল ভাবনা হারিয়ে ফেলছি।
কোরবানি শুধু বড় গরু, ঝকঝকে ছবি কিংবা সামাজিক প্রশংসার গল্প নয়। এর ভেতরে আছে ত্যাগের নীরব শিক্ষা। তাই হাটের কোলাহল, ক্যামেরার ফ্ল্যাশ আর ফেসবুকের লাইক–কমেন্টের ভিড়ের মাঝেও হয়তো একবার ভাবা দরকার, আমরা কি কোরবানির মূল বার্তাটা ধরে রাখতে পারছি?
সোশ্যাল মিডিয়া বা প্রযুক্তির ব্যবহার অপরাধ নয়। আনন্দের মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি করে রাখতেই পারেন। কিন্তু এমন অভ্যাস কোরবানির মূল উদ্দেশ্য আর সৃষ্টিকর্তার প্রতি আনুগত্যে বাধা হয়ে দাঁড়ালে বিষয়টি নিয়ে আরও ভাবা উচিত।

বিখ্যাত ব্যক্তিদের ব্যক্তিজীবন ইতিহাসের চেয়ে কম কিছু নয়। তাদের জীবনে ঘটে যাওয়া নানান ঘটনা নিয়ে এত কিংবদন্তির জন্ম হয় যে নির্দিষ্ট সময় পর আর পার্থক্য করা যায় না—কোন ঘটনাটি আসলেই সত্য, আর কোনটি মিথ। বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯-১৯৭৬) সাম্য, প্রেম ও দ্রোহের কবি।
৩ ঘণ্টা আগে
এদিকে এবারে অনলাইনে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট। বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম গরু কেনাবেচার পাশাপাশি হোম ডেলিভারী, কসাইয়ের সুবিধাসহ আরও বিভিন্ন সেবা দিয়ে থাকে।
৩ ঘণ্টা আগে
আজ বব ডিলানের জন্মদিন। ১৯৪১ সালের ২৪ মে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া এই নগরবাউল ছয় দশক ধরে গানে গানে বলেছেন চলতি সময় ও সমাজের কথা। আজ ফিরে তাকানো যাক ১৯৬৫ সালের ২৫ জুলাইয়ের সেই সন্ধ্যায়। যেদিন সবাইকে অবাক করে দিয়ে ‘নিউপোর্ট ফোক ফেস্টিভ্যাল'-এ ইলেকট্রিক গিটার হাতে দেখা মিলেছিল ‘অচেনা’ এক ডিলানের। কী ঘটেছ
৫ ঘণ্টা আগে
কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ও সাহিত্য নিয়ে বহু গবেষণা সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু উপন্যাস? হ্যাঁ, তাও লেখা হয়েছে। নজরুলের বিদ্রোহ, প্রেম, সাম্য, মানবতা ও বেদনা যেন উপন্যাসের আধারেই মুদ্রণযোগ্য। কেননা তাঁর জীবন সংগ্রাম, আবেগ, সম্পর্কের টানাপোড়েন ও ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডিতে সমৃদ্ধ। এ লেখায় নজরুলের জীবনীভিত্তিক পাঁ
৯ ঘণ্টা আগে