সৈকত আমীন

প্রায় ২৫২ মিলিয়ন বছর আগে ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ বিলুপ্তির মুখে পড়েছিল পৃথিবীর প্রাণীজগৎ। নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল পৃথিবীর প্রায় ৯০ শতাংশ প্রাণ। এই গণবিলুপ্তির ঘটনা ‘গ্রেট ডাইং’ নামে পরিচিত।
এরপর পৃথিবী মারাত্মক উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেই ভয়াবহ তাপপ্রবাহ প্রায় ৫০ লাখ বছর ধরে স্থায়ী ছিল। কিন্তু কেন? এত দিন বিজ্ঞানীদের কাছে তা ছিল এক রহস্য।
তবে সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক গবেষক দল বিশাল জীবাশ্মের সংগ্রহের ওপর ভিত্তি করে বলছেন, তাঁরা এই রহস্যের সমাধান করতে পেরেছেন। আর এ রহস্যের কেন্দ্রে রয়েছে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বনাঞ্চল।
তাঁদের গবেষণার ফলাফল বুধবার ‘নেচার’ কমিউনেকেশন্স জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষকদের দাবি, তাঁরা শুধু অতীতের রহস্যই উদ্ঘাটন করেননি, বরং মানবসভ্যতার জন্যও এক গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা সামনে নিয়ে এসেছে। কারণ, আমরা জীবাশ্ম জ্বালানি পুড়িয়ে পৃথিবীকে আবারও বিপজ্জনকভাবে উত্তপ্ত করে তুলছি।
‘গ্রেট ডাইং’ ছিল পৃথিবীর ইতিহাসে ঘটে যাওয়া পাঁচটি বড় গণবিলুপ্তির মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ। এই গণবিলুপ্তি ঘটেছিল পার্মিয়ান ভূতাত্ত্বিক যুগের শেষ প্রান্তে।
এই গণবিলুপ্তির জন্য মূলত দায়ী করা হয় সাইবেরিয়ান ট্র্যাপস নামে পরিচিত একটি অঞ্চলে দীর্ঘ সময় ধরে চলা ব্যাপক আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতকে। তখন অগ্ন্যুৎপাত থেকে বিপুল পরিমাণ কার্বন আর অন্যান্য গ্রিনহাউস গ্যাস বাতাসে ছড়িয়ে পৃথিবীর তাপমাত্রা বিপজ্জনকভাবে বাড়িয়ে তোলে। এর ফলে সমুদ্র ও স্থলভাগের অগণিত গাছপালা ও প্রাণী মারা যায়, বাস্তুতন্ত্র ভেঙে পড়ে এবং সমুদ্রের পানি বিষাক্ত হয়ে যায়।

তবে এত দিন পর্যন্ত স্পষ্টভাবে বোঝা যায়নি, কেন তখন পৃথিবী এত ভয়াবহভাবে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। কেনই বা অগ্ন্যুৎপাত থেমে যাওয়ার পরেও সেই ‘সুপার গ্রীনহাউস’ অবস্থা এত দীর্ঘ সময় ধরে স্থায়ী হয়েছিল।
বিজ্ঞানীদের ধারণা, তীব্র তাপপ্রবাহ সমুদ্রের কার্বন শোষণকারী প্ল্যাঙ্কটন ধ্বংস করে দেয় বা সমুদ্রের রাসায়নিক গঠন এমনভাবে পরিবর্তিত হয় যে সমুদ্র আর অতিরিক্ত কার্বন ধারণ করতে পারে না। ফলে বাতাসে কার্বনের পরিমাণ বিপজ্জনকভাবে বাড়তেই থাকে।
কিন্তু ইংল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব লিডস এবং চায়না ইউনিভার্সিটি অব জিওসায়েন্সেসের বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এর পেছনের উত্তর লুকিয়ে থাকতে পারে একধরনের জলবায়ু ‘টিপিং পয়েন্ট’। আর সেই টিপিং পয়েন্ট হলো গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বনাঞ্চলের বিনাশ।
বিজ্ঞানীদের ধারণা, গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বনভূমি ভেঙে পড়ায় পৃথিবীর প্রাকৃতিক কার্বন শোষণ ক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে যায়। ফলে বিশাল পরিমাণ কার্বন বাতাসে থেকে যায় এবং পৃথিবীর তাপমাত্রা বিপজ্জনক মাত্রায় বেড়ে লাখ লাখ বছর ধরে স্থায়ী হয়।
ইউনিভার্সিটি অব লিডসের আর্থ সিস্টেম ইভোলিউশনের অধ্যাপক ও গবেষণাপত্রের সহলেখক বেঞ্জামিন মিলস বলেন, গ্রেট ডাইং গণবিলুপ্তি বেশ গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। কারণ এটি একমাত্র ঘটনা যেখানে প্রায় সব উদ্ভিদই নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল।
এই তত্ত্ব যাচাই করতে গবেষক দল চীনে সংরক্ষিত এক বিশাল জীবাশ্ম তথ্যভান্ডার ব্যবহার করেছেন। কয়েক দশক ধরে তিন প্রজন্মের চীনা ভূতত্ত্ববিদেরা এই মূল্যবান জীবাশ্ম সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করেছেন। যা পৃথিবীর প্রাচীন বনভূমি ও পরিবেশ পরিবর্তনের ইতিহাস বুঝতে বড় সহায়ক ছিল।
গবেষকেরা প্রাচীন জীবাশ্ম ও শিলাস্তরগুলোর গঠন বিশ্লেষণ করেছেন, যাতে সেই সময়কার জলবায়ুর অবস্থা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। এর মাধ্যমে তাঁরা গণবিলুপ্তির আগে ও পরের পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে কী ধরনের গাছপালা ও বনভূমি ছিল, তার মানচিত্র তৈরি করতে পেরেছেন।
গবেষণার ফলাফলে উঠে এসছে, গণবিলুপ্তির সময় উদ্ভিদ ও বনভূমির ধ্বংস পৃথিবীর প্রাকৃতিক কার্বন সংরক্ষণ ক্ষমতাকে ভীষণভাবে কমিয়ে দেয়। ফলে বিশাল পরিমাণ কার্বন বাতাসে থেকে যায় এবং পৃথিবীর উষ্ণতা বিপজ্জনকভাবে বাড়তে থাকে।
বনভূমি জলবায়ুর জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে কাজ করে। কারণ, এগুলো বাতাস থেকে বিপুল পরিমাণ তাপধারণকারী কার্বন শোষণ করে এবং সংরক্ষণ করে রাখে। শুধু তাই নয়, বনভূমি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায়ও বড় ভূমিকা রাখে। সেটি হলো ‘সিলিকেট ওয়েদারিং’।
সিলিকেট ওয়েদারিং হলো একটি রাসায়নিক প্রক্রিয়া, যেখানে শিলা, বৃষ্টি আর পানির প্রবাহ মিলে বাতাস থেকে কার্বন বের করে শিলার সঙ্গে বন্ধ করে রাখে। গাছপালা ও বৃক্ষের শিকড় শিলাকে ভেঙে দেয়। ফলে শিলার ভেতরে নতুন করে পানি ও বাতাস প্রবেশ করতে পারে। আর তাতেই প্রাকৃতিক কার্বন অপসারণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়।
বেন্টনের মতে, বর্তমানে বিশ্ব রাজনীতি এই ধারণার ওপর ঘুরপাক খাচ্ছে যে যদি কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তাহলে ক্ষতি ফেরানো সম্ভব। কিন্তু একবার কার্বন ডাই-অক্সাইডের চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছালে জীবজগতের পুনরুদ্ধার কঠিন হয়ে পড়ে।
গবেষণটির সহ-লেখক অধ্যাপক মিলসের মতে, দ্রুত গতিতে চলমান গ্লোবাল ওয়ার্মিং যদি ভবিষ্যতে পৃথিবীর রেইন ফরেস্টকে ধ্বংস করে দেয়, তাহলে কী হতে পারে, তার একটি সতর্ক সংকেত হচ্ছে অতীতের সেই ‘টিপিং পয়েন্ট’।
অধ্যাপক মিলস আরও বলেছেন, মানুষ যদি পুরোপুরি গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের জন্য দায়ী হওয়া কার্বন নির্গমন বন্ধ করে দেয়, তবুও পৃথিবী হয়তো দ্রুত ঠান্ডা হবে না। বরং উষ্ণতা আরও বাড়তে পারে।
তবুও এক ধরনের আশার কথা আছে। বর্তমানের গ্রীষ্মমণ্ডলীয় রেইন ফরেস্টগুলো সম্ভবত ‘গ্রেট ডাইং’ এর আগে থাকা বনগুলোর চেয়ে উচ্চ তাপমাত্রার সঙ্গে লড়াই করতে বেশি সক্ষম।
অধ্যাপক মিলস বলেন, একটি ‘টিপিং পয়েন্ট’ আছে। যদি গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বনগুলো অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়, তাহলে আমাদের কাছে এর ইতিহাস খুবই স্পষ্ট এবং তা অত্যন্ত দুঃখজনক।

প্রায় ২৫২ মিলিয়ন বছর আগে ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ বিলুপ্তির মুখে পড়েছিল পৃথিবীর প্রাণীজগৎ। নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল পৃথিবীর প্রায় ৯০ শতাংশ প্রাণ। এই গণবিলুপ্তির ঘটনা ‘গ্রেট ডাইং’ নামে পরিচিত।
এরপর পৃথিবী মারাত্মক উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেই ভয়াবহ তাপপ্রবাহ প্রায় ৫০ লাখ বছর ধরে স্থায়ী ছিল। কিন্তু কেন? এত দিন বিজ্ঞানীদের কাছে তা ছিল এক রহস্য।
তবে সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক গবেষক দল বিশাল জীবাশ্মের সংগ্রহের ওপর ভিত্তি করে বলছেন, তাঁরা এই রহস্যের সমাধান করতে পেরেছেন। আর এ রহস্যের কেন্দ্রে রয়েছে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বনাঞ্চল।
তাঁদের গবেষণার ফলাফল বুধবার ‘নেচার’ কমিউনেকেশন্স জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষকদের দাবি, তাঁরা শুধু অতীতের রহস্যই উদ্ঘাটন করেননি, বরং মানবসভ্যতার জন্যও এক গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা সামনে নিয়ে এসেছে। কারণ, আমরা জীবাশ্ম জ্বালানি পুড়িয়ে পৃথিবীকে আবারও বিপজ্জনকভাবে উত্তপ্ত করে তুলছি।
‘গ্রেট ডাইং’ ছিল পৃথিবীর ইতিহাসে ঘটে যাওয়া পাঁচটি বড় গণবিলুপ্তির মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ। এই গণবিলুপ্তি ঘটেছিল পার্মিয়ান ভূতাত্ত্বিক যুগের শেষ প্রান্তে।
এই গণবিলুপ্তির জন্য মূলত দায়ী করা হয় সাইবেরিয়ান ট্র্যাপস নামে পরিচিত একটি অঞ্চলে দীর্ঘ সময় ধরে চলা ব্যাপক আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতকে। তখন অগ্ন্যুৎপাত থেকে বিপুল পরিমাণ কার্বন আর অন্যান্য গ্রিনহাউস গ্যাস বাতাসে ছড়িয়ে পৃথিবীর তাপমাত্রা বিপজ্জনকভাবে বাড়িয়ে তোলে। এর ফলে সমুদ্র ও স্থলভাগের অগণিত গাছপালা ও প্রাণী মারা যায়, বাস্তুতন্ত্র ভেঙে পড়ে এবং সমুদ্রের পানি বিষাক্ত হয়ে যায়।

তবে এত দিন পর্যন্ত স্পষ্টভাবে বোঝা যায়নি, কেন তখন পৃথিবী এত ভয়াবহভাবে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। কেনই বা অগ্ন্যুৎপাত থেমে যাওয়ার পরেও সেই ‘সুপার গ্রীনহাউস’ অবস্থা এত দীর্ঘ সময় ধরে স্থায়ী হয়েছিল।
বিজ্ঞানীদের ধারণা, তীব্র তাপপ্রবাহ সমুদ্রের কার্বন শোষণকারী প্ল্যাঙ্কটন ধ্বংস করে দেয় বা সমুদ্রের রাসায়নিক গঠন এমনভাবে পরিবর্তিত হয় যে সমুদ্র আর অতিরিক্ত কার্বন ধারণ করতে পারে না। ফলে বাতাসে কার্বনের পরিমাণ বিপজ্জনকভাবে বাড়তেই থাকে।
কিন্তু ইংল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব লিডস এবং চায়না ইউনিভার্সিটি অব জিওসায়েন্সেসের বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এর পেছনের উত্তর লুকিয়ে থাকতে পারে একধরনের জলবায়ু ‘টিপিং পয়েন্ট’। আর সেই টিপিং পয়েন্ট হলো গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বনাঞ্চলের বিনাশ।
বিজ্ঞানীদের ধারণা, গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বনভূমি ভেঙে পড়ায় পৃথিবীর প্রাকৃতিক কার্বন শোষণ ক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে যায়। ফলে বিশাল পরিমাণ কার্বন বাতাসে থেকে যায় এবং পৃথিবীর তাপমাত্রা বিপজ্জনক মাত্রায় বেড়ে লাখ লাখ বছর ধরে স্থায়ী হয়।
ইউনিভার্সিটি অব লিডসের আর্থ সিস্টেম ইভোলিউশনের অধ্যাপক ও গবেষণাপত্রের সহলেখক বেঞ্জামিন মিলস বলেন, গ্রেট ডাইং গণবিলুপ্তি বেশ গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। কারণ এটি একমাত্র ঘটনা যেখানে প্রায় সব উদ্ভিদই নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল।
এই তত্ত্ব যাচাই করতে গবেষক দল চীনে সংরক্ষিত এক বিশাল জীবাশ্ম তথ্যভান্ডার ব্যবহার করেছেন। কয়েক দশক ধরে তিন প্রজন্মের চীনা ভূতত্ত্ববিদেরা এই মূল্যবান জীবাশ্ম সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করেছেন। যা পৃথিবীর প্রাচীন বনভূমি ও পরিবেশ পরিবর্তনের ইতিহাস বুঝতে বড় সহায়ক ছিল।
গবেষকেরা প্রাচীন জীবাশ্ম ও শিলাস্তরগুলোর গঠন বিশ্লেষণ করেছেন, যাতে সেই সময়কার জলবায়ুর অবস্থা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। এর মাধ্যমে তাঁরা গণবিলুপ্তির আগে ও পরের পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে কী ধরনের গাছপালা ও বনভূমি ছিল, তার মানচিত্র তৈরি করতে পেরেছেন।
গবেষণার ফলাফলে উঠে এসছে, গণবিলুপ্তির সময় উদ্ভিদ ও বনভূমির ধ্বংস পৃথিবীর প্রাকৃতিক কার্বন সংরক্ষণ ক্ষমতাকে ভীষণভাবে কমিয়ে দেয়। ফলে বিশাল পরিমাণ কার্বন বাতাসে থেকে যায় এবং পৃথিবীর উষ্ণতা বিপজ্জনকভাবে বাড়তে থাকে।
বনভূমি জলবায়ুর জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে কাজ করে। কারণ, এগুলো বাতাস থেকে বিপুল পরিমাণ তাপধারণকারী কার্বন শোষণ করে এবং সংরক্ষণ করে রাখে। শুধু তাই নয়, বনভূমি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায়ও বড় ভূমিকা রাখে। সেটি হলো ‘সিলিকেট ওয়েদারিং’।
সিলিকেট ওয়েদারিং হলো একটি রাসায়নিক প্রক্রিয়া, যেখানে শিলা, বৃষ্টি আর পানির প্রবাহ মিলে বাতাস থেকে কার্বন বের করে শিলার সঙ্গে বন্ধ করে রাখে। গাছপালা ও বৃক্ষের শিকড় শিলাকে ভেঙে দেয়। ফলে শিলার ভেতরে নতুন করে পানি ও বাতাস প্রবেশ করতে পারে। আর তাতেই প্রাকৃতিক কার্বন অপসারণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়।
বেন্টনের মতে, বর্তমানে বিশ্ব রাজনীতি এই ধারণার ওপর ঘুরপাক খাচ্ছে যে যদি কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তাহলে ক্ষতি ফেরানো সম্ভব। কিন্তু একবার কার্বন ডাই-অক্সাইডের চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছালে জীবজগতের পুনরুদ্ধার কঠিন হয়ে পড়ে।
গবেষণটির সহ-লেখক অধ্যাপক মিলসের মতে, দ্রুত গতিতে চলমান গ্লোবাল ওয়ার্মিং যদি ভবিষ্যতে পৃথিবীর রেইন ফরেস্টকে ধ্বংস করে দেয়, তাহলে কী হতে পারে, তার একটি সতর্ক সংকেত হচ্ছে অতীতের সেই ‘টিপিং পয়েন্ট’।
অধ্যাপক মিলস আরও বলেছেন, মানুষ যদি পুরোপুরি গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের জন্য দায়ী হওয়া কার্বন নির্গমন বন্ধ করে দেয়, তবুও পৃথিবী হয়তো দ্রুত ঠান্ডা হবে না। বরং উষ্ণতা আরও বাড়তে পারে।
তবুও এক ধরনের আশার কথা আছে। বর্তমানের গ্রীষ্মমণ্ডলীয় রেইন ফরেস্টগুলো সম্ভবত ‘গ্রেট ডাইং’ এর আগে থাকা বনগুলোর চেয়ে উচ্চ তাপমাত্রার সঙ্গে লড়াই করতে বেশি সক্ষম।
অধ্যাপক মিলস বলেন, একটি ‘টিপিং পয়েন্ট’ আছে। যদি গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বনগুলো অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়, তাহলে আমাদের কাছে এর ইতিহাস খুবই স্পষ্ট এবং তা অত্যন্ত দুঃখজনক।
.png)

প্রায় ৪০০ বছরের পুরোনো ঢাকা নগরীও এমন অসংখ্য পরিবর্তনের সাক্ষী। একসময় ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নবাব কিংবা সমাজের উচ্চবিত্তরা ঢাকায় আসেন। তাঁদের সঙ্গে আসেন নানা ধরনের কারিগর, শিল্পী ও পেশাজীবীরাও। ফলে কলকাতা ও উত্তর ভারতের অনেক পেশা একসময় ঢাকায় প্রচলিত ছিল। সময়ের আবর্তে সেই পেশাগুলোর অধিকাংশই হারিয়ে
০৯ আগস্ট ২০২৬
‘যুদ্ধ’ শব্দটার সঙ্গে আমাদের পরিচয় অনেক দিনের। টিভি খুললেই যুদ্ধের খবর, ফেসবুকে ঢুকলেই ধ্বংসস্তূপ, আগুন আর মানুষের কান্নার ছবি। এত বেশি দেখতে দেখতে আমরা যেন অভ্যস্ত হয়ে গেছি। নিউজফিড স্ক্রল করতে এখন আর আঙুল থেমে যায় না।
০৬ আগস্ট ২০২৬
চব্বিশের গণ অভ্যুত্থান নিয়ে এরই মধ্যে বেশকিছু গবেষণা হয়েছে। আজকের লেখায় গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী তিনটি গবেষণা নিয়ে আলোচনা করব। গবেষণাগুলোতে এই গণঅভ্যুত্থানকে তিনটি ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে গবেষকরা বিশ্লেষণ করেছেন।
০৫ আগস্ট ২০২৬
১৯৭৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রথম প্রকাশিত হয় মঈদুল হাসানের বই ‘মূলধারা ৭১’। ২০১২ সালের জানুয়ারিতে এর দ্বিতীয় সংস্করণের সপ্তম মুদ্রণ প্রকাশিত হয়। প্রকাশের পর কয়েক দশক পেরিয়ে গেলেও বইটির গুরুত্ব কমেনি। বরং নতুন প্রজন্মের কাছে এটি আরও বেশি প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে।
২৯ জুলাই ২০২৬