ঈদযাত্রায় পথের বিরক্তি কমাতে যা করতে পারেন

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২৫ মে ২০২৬, ১৪: ৩০
ঈদযাত্রায় পথের বিরক্তি কমাতে যা করতে পারেন। স্ট্রিম গ্রাফিক

পরিবারের সঙ্গে ঈদ কাটানোর জন্য আমরা সারা বছর অপেক্ষায় থাকি। কিন্তু স্বপ্ন যত দ্রুতই বাড়ি ফিরতে চাক না কেন, পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় রাস্তার যানজট। ঈদের সময় ঘরমুখো মানুষের যানজটে আটকে থাকা দেশের স্বাভাবিক চিত্র। এই সময়টাকে অন্যভাবে কাজে লাগানো গেলে দীর্ঘ যাত্রার ক্লান্তি কিছুটা হলেও দূর হয়।

‘যানজট হতে পারে’—এই মানসিক প্রস্তুতি নিন

যানজটের কারণে রাগ বা মেজাজ খারাপ হওয়া স্বাভাবিক। তবে এতে পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে না। যানজটের সময় শান্ত থাকার চেষ্টা করুন।

প্রিয় কোনো স্মৃতির কথা ভাবতে পারেন। পরিবারের সবার সঙ্গে দেখা হবে বা বন্ধুদের আড্ডার কথা মনে করলে যানজটের সময়টা কিছুটা হলেও কম ক্লান্তিকর মনে হবে।

সিনেমা-সিরিজ আগেই ডাউনলোড করে রাখুন

এখন প্রায় সবার হাতেই স্মার্টফোন থাকে। জ্যামে বসে থাকার সময় এই স্মার্টফোন হতে পারে আপনার সেরা সঙ্গী। তবে হাইওয়েতে ইন্টারনেটের গতি সবসময় একরকম থাকে না। তাই বাসে ওঠার আগেই পছন্দের কিছু সিনেমা, নাটক বা ওয়েব সিরিজ ডাউনলোড করে রাখা ভালো।

প্রতিদিনের কাজের চাপে আমরা হয়তো নিজেদের নিয়ে ভাবার সময় পাই না। এ সময় জানালার বাইরে তাকিয়ে নিজের ভবিষ্যত পরিকল্পনা গুছিয়ে নিতে পারেন।

হেডফোন কানে লাগিয়ে সিনেমা দেখলে রাস্তার হট্টগোল থেকে দূরে থাকা যায়। এতে করে রাস্তার দিকে মনোযোগ কম যাবে, যানজটের সময়টাও দীর্ঘ মনে হবে না।

পছন্দের গান শুনুন

যাত্রাপথে পছন্দের গান আপনার মন ভালো করে দিতে পারে। চাইলে আগে থেকেই কিছু গান ডাউনলোড করে রাখতে পারেন। এতে ইন্টারনেটের কারণে গান শোনায় কোনো বাধা আসবে না।

তবে মনে করে সঙ্গে একটি পাওয়ার ব্যাংক রাখবেন, যাতে ফোনের চার্জ নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে না হয়।

ব্যাগে বই রাখতে ভুলবেন না

বইপ্রেমীদের জন্য যানজটের বিরক্তি দূর করার বড় ওষুধ বই। তাই ব্যাগে পছন্দের দু-একটি বই নিয়ে নিন। যানজটের অলস সময়ে বসে না থেকে বই পড়ুন। চলন্ত বাসে বই পড়তে গেলে অনেকেরই মাথা ঘোরে বা বমি ভাব হয়। তাঁদের জন্য অডিওবুক বা পডকাস্ট হতে পারে ভালো সমাধান। বর্তমানে অনেক অ্যাপ আছে যেখানে গল্পের বই অডিও আকারে শোনা যায়।

যোগাযোগে থাকুন

এমন অনেক বন্ধু বা আত্মীয় আছে, যাদের সঙ্গে অনেক দিন কথা বলা হয় না। তাঁরাও হয়তো ঈদের সময় বাড়ি ফেরে। কিন্তু যোগাযোগের অভাবে দেখাসাক্ষাৎ হয় না।

যাত্রাপথে পছন্দের গান আপনার মন ভালো করে দিতে পারে। চাইলে আগে থেকেই কিছু গান ডাউনলোড করে রাখতে পারেন। এতে ইন্টারনেটের কারণে গান শোনায় কোনো বাধা আসবে না।

যানজটের সময়টাকেই কাজে লাগান! সেই বন্ধুদের ফোন করুন। তাঁদেরও যদি আপনার মতো সময় থাকে, তবে কথা বলেই অনেকটা সময় চলে যাবে।

হালকা খাবার-দাবার সঙ্গে রাখতে পারেন

যানজটে বসে থাকলে একঘেয়েমি আসাটাই স্বাভাবিক। তখন হালকা কিছু মুখে দিলে মন দ্রুত অন্য দিকে ঘোরানো যায়। তাছাড়া আপনি কখন গন্তব্যে পোঁছাবেন, তারও ঠিক নেই। এজন্য দীর্ঘ ভ্রমণের সময় সঙ্গে কিছু শুকনো খাবার রাখা বুদ্ধিমানের কাজ। যেমন চিনাবাদাম, বিস্কুট, খেজুর, মুড়ি কিংবা অল্প চিপস।

এসব খাওয়ার সময় মুখ সচল থাকায় সময়টাও দ্রুত কেটে যায়। বিশেষ করে বাদাম ছাড়িয়ে খাওয়া বা মুড়ি খাওয়ার মতো কাজ আপনাকে বেশ কিছুক্ষণ ব্যস্ত রাখবে। তবে পেটের অবস্থা বুঝে অল্প অল্প করে খাওয়া ভালো, যাতে ভ্রমণে কোনো অস্বস্তি না হয়।

নিজের কথা ভাবুন

প্রতিদিনের কাজের চাপে আমরা হয়তো নিজেদের নিয়ে ভাবার সময় পাই না। এ সময় জানালার বাইরে তাকিয়ে নিজের ভবিষ্যত পরিকল্পনা গুছিয়ে নিতে পারেন। এবারের ঈদে কার জন্য কী উপহার নিলেন, কার বাসায় আগে ঘুরতে যাবেন কিংবা ঈদের দিন কী কী করবেন তার একটি ছক মনে মনে তৈরি করে ফেলুন।

এ ছাড়া ফোনের নোটপ্যাডে ছোটখাটো কোনো লেখাও লিখতে পারেন। এভাবে সময় কাটালে আপনার মস্তিষ্ক সচল থাকবে। আপনি মানসিকভাবেও সতেজ থাকবেন। যানজটের ক্লান্তি আপনাকে সহজে কাবু করতে পারবে না।

সম্পর্কিত