বাব এল-মান্দেব/বাণিজ্যিক জাহাজ পাহারায় যুদ্ধজাহাজ পাঠাচ্ছে ইতালি
স্ট্রিম ডেস্ক

বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে নিজেদের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে যুদ্ধজাহাজ পাঠাচ্ছে ইতালি। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রোসেত্তো এ কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) যৌথ সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করবে না ইতালি। খবর আল-জাজিরার।
বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখার সক্ষমতা ইতালির রয়েছে বলে জানান ক্রোসেত্তো। এই নৌপথ বন্ধ হয়ে গেলে এর অর্থনৈতিক প্রভাব গুরুতর হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, সিদ্ধান্ত নিতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে দেওয়া উচিত নয়।
বাব এল-মান্দেব লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে যুক্ত করেছে। ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে পণ্য পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ এটি। সুয়েজ খাল দিয়ে ইউরোপে যাওয়া-আসা করা তেল, গ্যাস ও কনটেইনারবাহী জাহাজের জন্যও এই পথ গুরুত্বপূর্ণ।
ঐতিহাসিকভাবে বিশ্বের মোট বাণিজ্যের ১২ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইয়েমেনের সঙ্গে আফ্রিকার জিবুতি ও ইরিত্রিয়ার মাঝখানে অবস্থিত প্রণালিটির সবচেয়ে সরু অংশের প্রস্থ প্রায় ৩০ কিলোমিটার।
সম্প্রতি হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা ও অস্থিরতার কারণে বাব এল-মান্দেবের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। হরমুজ দিয়ে তেল পরিবহনে বাধা তৈরি হওয়ায় উপসাগরীয় দেশগুলো বিকল্প পথে তেল রপ্তানির চেষ্টা করছে। সৌদি আরবও হরমুজ এড়িয়ে পাইপলাইন ও লোহিত সাগরের নৌপথ ব্যবহারের ওপর বেশি নির্ভর করছে।
ইয়েমেনে ২০১৫ সালে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই বাব এল-মান্দেবের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। ইয়েমেনের সরকার, হুতি বিদ্রোহী এবং ওই অঞ্চলের বিভিন্ন বাহিনী বিভিন্ন সময়ে প্রণালির উপকূলের বিভিন্ন অংশ নিয়ন্ত্রণ করেছে।
সম্প্রতি ইরান-সমর্থিত হুতিরা ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলীয় লোহিত সাগর উপকূলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করেছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দ্বীপও তাদের নিয়ন্ত্রণে গেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এর ফলে বাব এল-মান্দেব দিয়ে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অতীতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজে হামলা চালানোর অভিযোগ রয়েছে হুতিদের বিরুদ্ধে।
হুতিদের হামলা থেকে বাণিজ্যিক জাহাজ রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এরই মধ্যে ওই অঞ্চলে সামরিক তৎপরতা চালিয়েছে। তবে ইয়েমেনে সংঘাত বাড়তে থাকায় নৌপথটি পুরোপুরি নিরাপদ করা সম্ভব হয়নি।
.png)


-40e58c.jpeg)



