শুভেন্দু, সমিক নাকি অগ্নিমিত্রা—কে হচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

জয়ী হওয়ার পর একটি নির্বাচনী সনদ প্রদর্শন করছেন শুভেন্দু অধিকারী। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বড় সাফল্য পেয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। এবার রাজ্যটিতে নতুন মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন তা নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। দলীয় সূত্র ও পর্যবেক্ষকদের মতে, শুভেন্দু অধিকারী এখন সবচেয়ে এগিয়ে থাকা মুখ। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও জানায়নি বিজেপি।

২ দফার নির্বাচন শেষে গতকাল সোমবার (৪ মে) ফলাফল প্রকাশ করা হয়। নির্বাচনে ২৯৩টি আসনের মধ্যে বিজেপি ২০৬টিতে জয় পায়। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস ৮১টি আসনে জয়ী হয়।

এই ফলাফলের পর থেকেই বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বে সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। দলীয় নেতাদের একটি অংশ বলছে, শুভেন্দু অধিকারী এখন স্বাভাবিকভাবেই সবচেয়ে শক্তিশালী দাবিদার। তিনি একসময় তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতাদের একজন ছিলেন। ২০২০ সালে দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন।

এরপর থেকেই তিনি পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির অন্যতম প্রধান মুখ হয়ে ওঠেন। ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে পরাজিত করেন তিনি। তারপর থেকেই রাজনৈতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী হয় শুভেন্দুর। এবার মমতা ব্যনার্জীর নিজের আসন ভবানীপুরেও জয় পেয়ে নেতৃত্বের দাবি আরও জোরদার করেছে।

দলীয় একাধিক সূত্র বলছে, ভবানীপুরে তিনি বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। একই সঙ্গে নন্দীগ্রাম আসনেও তিনি উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে জয় পান। এই ধারাবাহিক সাফল্য তাকে রাজ্যের শীর্ষ নেতৃত্বের দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রেখেছে।

তবে বিজেপির শীর্ষ মহল এখনো এককভাবে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি। দলীয় নেতারা জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সভাপতি সমিক ভট্টাচার্য এবং রাজ্য সহসভাপতি অগ্নিমিত্রা পালকেও সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

অগ্নিমিত্রা পাল আসানসোল দক্ষিণ আসন থেকে জয়ী হয়েছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে দলে সক্রিয়। এছাড়া নারী নেতৃত্ব হিসেবে তাকে সামনে আনার বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে সামিক ভট্টাচার্য বর্তমানে রাজ্যসভার সদস্য। দলীয় সংগঠন পরিচালনায় তার ভূমিকার কারণে তাঁকেও গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে। দলের একাংশের মতে, যদি সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও স্থিতিশীল নেতৃত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, তবে তিনিও গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থী হতে পারেন।

বিজেপি নেতারা জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে কলকাতায় নবনির্বাচিত বিধায়কদের বৈঠক হতে পারে। সেই বৈঠকেই সম্ভবত দলীয় নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। তারপরই মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেবেন।

দলীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব একজন পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিতে পারে। তিনি বিধানসভা দলের বৈঠক পরিচালনা করবেন। সেই বৈঠকের পরই রাজ্যে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে।

শুভেন্দু অধিকারী একসময় মমতা বন্দোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। পূর্ব মেদিনীপুরসহ বিভিন্ন জেলায় তৃণমূল কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি। তবে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন।

দলীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, এরপর থেকেই তিনি তৃণমূলের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক রাজনৈতিক অবস্থান নেন। বিজেপির প্রচারণার কেন্দ্রীয় মুখ হয়ে ওঠেন শুভেন্দু। সাম্প্রতিক নির্বাচনী প্রচারে তিনি রাজ্যে হিন্দু ভোট একত্রিত করার ওপর জোর দেন। যা রাজনৈতিকভাবে বিতর্কও তৈরি করে।

বিজেপি নেতারা মনে করছেন, নির্বাচনে বড় জয় অর্জনের পর দল এখন নেতৃত্ব নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। তবে মুখ্যমন্ত্রী পদে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের রাজনৈতিক কৌশলের ওপর নির্ভর করবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

সম্পর্কিত