নেপালে বন্যা-ভূমিধসে মৃত্যু বেড়ে ১৬২, নিখোঁজ ৫ শতাধিক

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

নেপালের নুওয়াকোট জেলার ত্রিশূলীতে আকস্মিক বন্যার পর কাদায় ঢেকে যাওয়া ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা। ছবি: রয়টার্স
নেপালের নুওয়াকোট জেলার ত্রিশূলীতে আকস্মিক বন্যার পর কাদায় ঢেকে যাওয়া ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা। ছবি: রয়টার্স

নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে মৃত্যু বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬২ জনে। বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত এ সংখ্যা জানা গেছে। এখনো শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে নিরাপত্তাকর্মী ও পর্যটক রয়েছেন।

বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে রাজধানী কাঠমান্ডুর উত্তরে রসুয়া ও আশপাশের কয়েকটি জেলায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটে।

নেপাল পুলিশের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে চিতওয়ানে। সেখানে ৬৪টি মরদেহ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ধাদিংয়ে ২৭, নাওয়ালপরাসি পূর্বে ২২, গোরখায় ১৯, নুওয়াকোটে ১৩, তানাহুনে ৯ এবং রসুয়ায় ৩টি মরদেহ পাওয়া গেছে। এখনো ২৮ জন পুলিশ সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন।

নেপাল পুলিশ জানিয়েছে, নিখোঁজ পর্যটকের সংখ্যা ৫৭৯। তাঁদের মধ্যে ২৮টি দেশের ৪৬৬ জন বিদেশি নাগরিক। নিখোঁজ পর্যটকদের মধ্যে ভারতের ১৩৩, যুক্তরাষ্ট্রের ৫৪, অস্ট্রেলিয়ার ৩৪ এবং যুক্তরাজ্যের ৩৩ জন রয়েছেন। নেপালেরও ১০০ জনের বেশি পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন।

দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল জানান, তিমুরে, স্যাফ্রুবেশি, বেত্রাবতী, ত্রিশূলী বাজার ও দেবীঘাটে বন্যায় ‘চরম ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যকে তিনি ‘প্রাথমিক তথ্য’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। নুওয়াকোট, ধাদিং, গোরখা ও চিতওয়ান জেলার ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী নদীর তীরবর্তী এলাকায় সতর্কতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এসব এলাকায় এখনো ঝুঁকি রয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জনসাধারণকে রসুয়ার গালছি-নুওয়াকোট ও স্যাফ্রুবেশি সড়ক এবং মুগলিং-নারায়ণগড় সড়ক এড়িয়ে চলতে বলেছে কর্তৃপক্ষ।

রসুয়া, নুওয়াকোট ও ধাদিংকে ‘দুর্যোগ সংকটপূর্ণ এলাকা’ ঘোষণা করা হয়েছে। এসব এলকা আগামী তিন মাস দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে ধরা হবে।

দেশটির সরকার জানিয়েছে, আহতদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, বাস্তুচ্যুতদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। উদ্ধার ও অনুসন্ধানকাজে সেনাবাহিনী ও বেসরকারি হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, সেনাবাহিনী ও বেসরকারি হেলিকপ্টার পরিচালনাকারীরা এখন পর্যন্ত ১১৪ জনকে আকাশপথে নিরাপদে সরিয়ে নিয়েছেন।

ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটি হেলিকপ্টার ও ড্রোন পরিচালনাকারীদের জেলা প্রশাসন, নিরাপত্তা সংস্থা ও স্থানীয় সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধার ও অনুসন্ধান কাজ চালানোর আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি আটকে পড়া বাসিন্দাদের নিজেদের অবস্থান জানানোর জন্য আগুন জ্বালিয়ে ধোঁয়া তৈরি করার পরামর্শও দিয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভারত, চীন ও বিশ্বব্যাংক দ্রুত আর্থিক সহায়তা সমন্বয়ের উদ্যোগ নিয়েছে।

এদিকে সীমান্তের ওপারে চীনের তিব্বতেও ভূমিধসে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিসিটিভি আজ সকালে জানিয়েছে, তিব্বতের গিরং কাউন্টিতে বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা বেড়ে ৫৫৮ জনে দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে ২৬০ জনই বিদেশি নাগরিক। তবে এখন পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা ৩ জন।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত