মাইদুল ইসলাম

জলবায়ু পরিবর্তনের ঘাতে নিঃস্ব। গ্রাম বা উপকূল থেকে পাড়ি রাজধানীতে। কিন্তু এখানেও নতুন করে চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির শিকার শ্রমজীবী মানুষেরা। তীব্র গরমে থমকে যাচ্ছে তাদের উপার্জনের চাকা।
লন্ডনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইআইইডি) এবং বাংলাদেশের অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রামের (ওকাপ) যৌথ গবেষণায় এমন চিত্র উঠে এসেছে।
এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৮৪.৯ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাত। রিকশাচালক, নির্মাণশ্রমিক, দিনমজুর বা পোশাক কারখানার এসব শ্রমিকের শারীরিক শ্রমই তাঁর জীবিকার একমাত্র পুঁজি। অথচ সেই শ্রমিকের দেহটাই এখন ধ্বংস হচ্ছে তীব্র গরমে।
রাজধানীর ১৭৫টি শ্রমজীবী পরিবারের ওপর এই গবেষণা চালানো হয়েছে। ‘টু হট টু ওয়ার্ক, টু পুওর টু রেস্ট’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে গ্রাম বা উপকূল থেকে সব হারিয়ে শহরে আসা মানুষগুলো নতুন করে চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির শিকার হচ্ছেন।
ষাটোর্ধ্ব সিরাজুল ইসলাম তিন বছর ধরে ঢাকায় প্যাডেল রিকশা চালাচ্ছেন। একটু চালালেই শরীর ঘামে ভিজে যায়। হাঁসফাঁস করেন। গাবতলী থেকে যাত্রী তুলে মিরপুর-১ এসেছেন সিরাজুল। সাতক্ষীরার কালীগঞ্জের এই বাসিন্দা স্ট্রিমকে জানালেন, প্যাডেল রিকশা চালাতে তাঁর খুব কষ্ট হয়। কিন্তু কিছু করার নেই। ব্যাটারি রিকশা নেওয়ার মতো পুঁজি নেই।
দিনের খরচ বাদে হাজার টাকার মতো থাকে। তা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছেলে এবং গ্রামে পরিবারের খরচ জোগান সিরাজুল। তিনি বলেন, ‘সংসারে অনেক খরচ। বইসা থাকার উপায় নেই। সকালে রিকশা নিয়া বাইর হই। রাত ১০টায় ফিরি। গোসলটা দিয়া, স্যালাইন না খাইলে আর টেকা যায় না। এখন পর্যন্ত ঠিক আছি। কিন্তু কতদিন সুস্থ থাকমু জানি না। রাস্তায় যা রইদ, এমনে কাজ কইরা টিকে আছি মনের জোরে।’ মিরপুরে বস্তির ঝুপড়ি ঘরে চারজন গাদাগাদি করে থাকেন। ঠিকমতো ঘুমাতেও পারেন না সিরাজুল।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সহায়-সম্বল হারিয়ে ঢাকায় আশ্রয় নেওয়া শ্রমজীবীরা এখানেও প্রকৃতির কাঠিন্য থেকে রেহাই পাচ্ছেন না।
২০০৯ সালে ঘূর্ণিঝড় আইলার আঘাতে খুলনার দীপকের (৪০) ঘরবাড়ি ধ্বংস্তূপে পরিণত হয়। লবণাক্ত পানি কৃষিজমিতে ঢুকলে থেমে যায় আবাদ। জলবায়ু অভিবাসী হয়ে ঢাকায় আসেন, কাজ নেন নির্মাণশ্রমিকের।
গবেষকদের দীপক বলেছেন, ‘মাঝেমধ্যে আমার শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। তপ্ত কংক্রিটের তাপ চামড়া পুড়িয়ে দেয়। কাজ শেষে ঘরে ফিরেও শান্তি নেই। টিনের চাল থেকে আগুন ঝরে। গরম থেকে বাঁচতে গায়ে পানি ঢেলেও কাজ হয় না।’
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইনডোর শ্রমিকের (স্থাপনার ভেতরে কাজ করেন) ৬৬ শতাংশ এবং আউটডোর শ্রমিকের (উন্মুক্ত আকাশের নিচে কাজ করেন) ৫৪ শতাংশ টিন বা অ্যাসবেস্টসের চালের নিচে বসবাস করেন। এসব ঘর তাপ ধরে রাখে। প্রায় ৯৬ শতাংশ ঘরের চাল ১০ ফুটের কম উচ্চতায়। ফলে বাতাস চলাচলের সুযোগ কম। এতে ঘর থাকে উত্তপ্ত চুল্লির মতো।
পোশাক কারখানার ভেতরেও শ্রমিকেরা প্রায় একই মাত্রায় ‘হিট স্ট্রোক’ অথবা চরম ক্লান্তির শিকার হচ্ছেন। গুমোট পরিবেশ ও বাতাস চলাচলের অপর্যাপ্ত ব্যবস্থার কারণে ইনডোর শ্রমিকদের অবস্থা শোচনীয়।
গবেষণায় অংশ নেওয়া আউটডোর যেমন: রিকশাচালক, নির্মাণশ্রমিকদের ৯০ শতাংশ এবং ইনডোর যেমন: কারখানা শ্রমিকদের প্রায় ৮০ শতাংশ ‘হিট ক্র্যাম্প’ বা পেশীতে টান পড়ার কথা জানিয়েছেন। আউটডোরের ৬৬.৪ শতাংশ এবং ইনডোরের ৬৬ শতাংশ শ্রমিক সরাসরি ‘হিট এগজশন’ বা অতিরিক্ত ক্লান্তির শিকারের তথ্য দিয়েছেন।
গবেষণায় নেতৃত্ব দেওয়া আইআইইডির জলবায়ু সহনশীলতা ও অর্থায়ন বিভাগের পরিচালক রিতু ভরদ্বাজ স্ট্রিমকে বলেন, ‘গবেষণায় স্পষ্ট– বাইরে কাজ করা দিনমজুরের প্রায় সমান ঝুঁকিতে কারখানার ভেতরের শ্রমিকেরা। সরাসরি রোদ হয়তো সেখানে পৌঁছায় না। কিন্তু যন্ত্রপাতি, গাদাগাদি ফ্লোর এবং অপর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের কারণে দিনভর সেখানে ভয়াবহ তাপ তৈরি হয়।’
গাজীপুর চৌরাস্তায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন মাহমুদা আক্তার (৩৪)। তিনি স্ট্রিমকে বলেন, ‘কারখানায় ফ্যান চলে ঠিকই। কিন্তু তাতে গরম কমে না। আমরা একসঙ্গে অনেক মানুষ কাজ করি। এত বেশি গরম থাকে, শীতকালেও শরীর ভিজে যায়।’
কর্মস্থলে পর্যাপ্ত পানি, স্যালাইন ও বিশ্রামের অভাব শ্রমিকদের দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক জটিলতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ঘাম ও পানিশূন্যতার কারণে শ্রমিকদের কিডনিতে প্রভাব পড়ছে। গবেষণায় উঠে এসেছে, প্রতি ১৭ শ্রমিকের মধ্যে অন্তত একজন দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের (সিকেডি) ঝুঁকিতে আছেন। জাতীয় পর্যায়ের হিসাবে প্রায় ৩৫ লাখ ৬০ হাজার অনানুষ্ঠানিক শ্রমিক এই ঝুঁকির মুখে।
তীব্র গরমে দীর্ঘক্ষণ কাজ করা শ্রমিকদের ঘামের মাধ্যমে প্রচুর পানি শরীর থেকে বের হয়ে যায়। পানিশূন্যতা পূরণ না হলে রক্তচাপ কমে যায় এবং কিডনিতে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। কয়েক বছরের এমন তীব্র পানিশূন্যতা একসময় স্থায়ী বা ক্রনিক কিডনি ডিজিজে রূপ নেয়। অনেক সময় তরুণ শ্রমিকদেরও এই ভয়ংকর পরিণতি হয়।
এ ব্যাপারে অ্যালায়েন্স হসপিটাল লিমিটেডের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ নীহার রঞ্জন দাস স্ট্রিমকে বলেন, ‘অনেক শ্রমিক অসুস্থ হওয়ার পরও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান না। কারণ, চিকিৎসার খরচ চালানোর সামর্থ্য তাদের নেই। তাছাড়া কাজ থেকে ছুটি নিলে মজুরি কাটার ভয়ও কাজ করে।’
কারখানার নারী শ্রমিকদের অবস্থা আরও ভয়াবহ। গবেষণায় বলা হয়, নির্দিষ্ট টার্গেট পূরণের চাপ এবং পর্যাপ্ত বা পরিষ্কার শৌচাগার না থাকায় প্রায় অর্ধেক ইনডোর শ্রমিক (৪৭.২ শতাংশ) পানি খাওয়া কমিয়ে দেন। ফলে ছায়ার নিচে থেকেও তারা চরম পানিশূন্যতায় ভোগেন।
শুধু শারীরিক জটিলতাই নয়, রাতে ঘুমাতে না পারা এবং চরম ক্লান্তির কারণে শ্রমিকদের মধ্যে উদ্বেগ, মানসিক চাপ ও খিটখিটে মেজাজ মারাত্মক আকার ধারণ করছে। গবেষণায় শ্রমিকদের মানসিক চাপের একটি সূচক তৈরি করা হয়েছে। দেখা গেছে, গ্রীষ্মকালে মানসিক চাপের মাত্রা অন্যান্য সময়ের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি হয়ে যায়।
গরমের কারণে কাজ হারানো ও অসুস্থতার প্রভাব সরাসরি পড়ছে শ্রমিকদের আয়ে। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, প্রচণ্ড গরমের কারণে বাইরে কাজ করা শ্রমিকরা বছরে গড়ে ২৩.৭ দিন এবং কারখানায় কাজ করা শ্রমিকেরা গড়ে ১৩.৫ দিন কাজ হারান বা তাদের উৎপাদনশীলতা কমে যায়। ফলে বছরে একজন রিকশাচালক বা নির্মাণশ্রমিকের গড়ে প্রায় ১৪৮ ডলার (প্রায় ১৭ হাজার টাকা) এবং কারখানার শ্রমিকের ৮৯ ডলার (প্রায় ১০ হাজার টাকা) আয় কমছে।
রিতু ভরদ্বাজ বলেন, ‘শ্রমিকদের আয় এমনিতেই অনেক কম। ঢাকায় একটি পরিবারের সম্মানজনক জীবন যাপনের (লিভিং ওয়েজ) জন্য বছরে অন্তত ২ হাজার ৯৯৭ ডলার আয় করা প্রয়োজন। সেখানে আউটডোর শ্রমিকরা আয় করেন ১ হাজার ৭৫৫ ডলার। তার ওপর গরমের কারণে এই আয় হারানো তাদের আরও গরিব করছে এবং ঋণের জালে পড়ছেন।’
গবেষণায় বলা হয়, জাতীয় পর্যায়ে হিসাব করলে তীব্র গরমের কারণে শ্রমিকদের কর্মদিবস নষ্ট হওয়ায় সার্বিকভাবে আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে ৬২২ কোটি ডলার, যা দেশের জিডিপির ১.৩৮ শতাংশ। এই হিসাব চিকিৎসা ব্যয় বাইরে রেখেই। এই বিশাল ক্ষতি কোনো জাতীয় দুর্যোগের পরিসংখ্যানে আসে না বলে গবেষণায় উল্লেখ রয়েছে।
দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত বা অতিদরিদ্রদের জন্য সামাজিক সুরক্ষামূলক কর্মসূচি (যেমন: ভিজিএফ, ভিজিডি, ওএমএস) মূলত গ্রামকেন্দ্রিক। আইআইইডির গবেষণায় বলা হয়েছে, শহরের এই ভাসমান বা অনানুষ্ঠানিক শ্রমিকদের ১০ শতাংশের কম মানুষ এসব সুবিধা পান। তা ছাড়া, চিকিৎসা ব্যয় মেটানোর জন্য কোনো স্বাস্থ্যবিমা তাদের নেই। সরকারি স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্মসূচি (এসএসকে) টাঙ্গাইলের মতো কয়েকটি নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ। ফলে গরমে অসুস্থ হলে চিকিৎসার পুরো টাকা শ্রমিককে নিজের পকেট থেকেই দিতে হয়, যা তাদের আরও দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দেয়।
অধিকাংশ শ্রমিক গ্রাম থেকে আসায় জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) স্থায়ী ঠিকানা। ফলে শহরের কোনো সরকারি সহায়তা বা রেশনের সুবিধা তারা সহজে পান না।
এ ব্যাপারে ওকাপের চেয়ারপারসন ও অভিবাসন বিশেষজ্ঞ শাকিরুল ইসলাম স্ট্রিমকে বলেন, ‘দুর্যোগে সব হারিয়ে শহরে আসা এই মানুষদের অভিবাসন অনেকটা বাধ্যতামূলক। কিন্তু গ্রাম ও শহর– উভয় জায়গাতেই তারা সামাজিক সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত। এই জটিলতা এড়াতে আমাদের সুরক্ষা কর্মসূচিগুলোকে ‘পোর্টেবল’ বা বহনযোগ্য করতে হবে, যাতে স্থায়ী ঠিকানার শর্ত ছাড়াই শ্রমিকেরা যেকোনো জায়গায় বসে নাগরিক অধিকার ও সরকারি সুবিধা পাবেন।’
শহরের ভাসমান শ্রমিকদের জন্য বিশেষ নগদ সহায়তা ও জাতীয় স্বাস্থ্যবিমা চালুর তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, ‘সরকারি সেবাকেন্দ্রগুলোর সময়সূচি পরিবর্তন করা দরকার। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কেন্দ্র খোলা থাকায়, ওই সময়ে কাজ ফেলে শ্রমিকের পক্ষে কখনো এসব সেবা নেওয়া সম্ভব হয় না। জাতীয় শ্রম আইনেও চরম তাপমাত্রায় তাদের সুরক্ষার বিষয়টি যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করা দরকার।’
২০২০ সালে মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের টাকা দেওয়া হয়েছিল। সে বছর ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব হয়। ঠিক একইভাবে গরমের সময়ও ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে মনে করেন গবেষকেরা। তাদের মতে, ক্ষতি হওয়ার পর তা মোকাবিলার চেয়ে আগাম পদক্ষেপে ১ ডলার বিনিয়োগ করলে তা ২ থেকে ৫ ডলারের ক্ষতি এড়ানো যায়।
রিতু ভরদ্বাজ স্ট্রিমকে বলেন, ‘বছরে ২৩৪ কোটি ডলার মজুরির ক্ষতি হয়। বিপরীতে আমাদের প্রস্তাবিত নগদ অর্থ সহায়তার পরিমাণ খুবই সামান্য। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সতর্কতার ওপর ভিত্তি করে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে এই সহায়তা দেওয়া সম্ভব।’
তিনি বলেন, ‘অতিরিক্ত গরমে শ্রমিকেরা নিজের শ্রমের ক্ষতি করছেন। এর মাধ্যমে মূল্য চুকলেও, অতিরিক্ত গরম কিন্তু তাদের তৈরি নয়। ফলে শ্রমিকের এই সহায়তার অর্থ “লস অ্যান্ড ড্যামেজ” ফান্ডের মতো জলবায়ু তহবিল থেকে আসা উচিত।’
শ্রম আইনের তৃতীয় তফসিলে হিট স্ট্রোক ও গরমজনিত কিডনি রোগকে ‘পেশাগত রোগ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া প্রয়োজন। এই স্বীকৃতির মাধ্যমে অ্যামপ্লয়মেন্ট ইনজুরি স্কিমের আওতায় আনলে পরিস্থিতি বদলাতে পারে। এর মাধ্যমে শ্রমিকেরা চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণ পাওয়ার আইনি অধিকার পাবেন বলে মনে করেন রিতু ভরদ্বাজ।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ শ্রম আইন ও বিধিমালায় গরমের জন্য নির্দিষ্ট কোনো তাপসীমা নেই। আইনে এটি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তাপমাত্রা ওই সীমার ওপরে গেলে বাধ্যতামূলকভাবে শ্রমিকদের বিশ্রাম, ছায়া ও ঠান্ডা পানির ব্যবস্থা করতে হবে। এ ব্যাপারে আইআইইডির গবেষণায় আরও দুটি সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
ডা. নীহার রঞ্জন বলেন, দারিদ্র্য আর তীব্র গরম নীরবে এই শ্রমিকদের শেষ করে দিচ্ছে। অথচ তারাই আমাদের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। তাদের স্বাস্থ্যের বিষয়ে আমাদের আরও অনেক বেশি মনযোগী হতে হবে।
অতিরিক্ত গরমে শ্রমিকেরা নিজের শ্রমের ক্ষতি করছেন। এর মাধ্যমে মূল্য চুকলেও, অতিরিক্ত গরম কিন্তু তাদের তৈরি নয়। ফলে শ্রমিকের এই সহায়তার অর্থ “লস অ্যান্ড ড্যামেজ” ফান্ডের মতো জলবায়ু তহবিল থেকে আসা উচিত। রিতু ভরদ্বাজ, পরিচালক, আইআইইডির জলবায়ু সহনশীলতা ও অর্থায়ন বিভাগ
পরিস্থিতি উত্তরণে তাঁর ভাষ্যে, গরমজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়ে সরকারের সচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও বাড়ানো উচিত। পাশাপাশি বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠান, এনজিও এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থাগুলোর উচিত শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ খাওয়ার পানি, পর্যাপ্ত বিশ্রাম, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও বাসস্থানের মান উন্নয়নে এগিয়ে আসা।
তাপমাত্রা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। এখনই পদক্ষেপ না নিলে শ্রমিকের ঘামে গড়া দেশের অর্থনীতির চাকা চরম তাপমাত্রায় থমকে যেতে পারে আশঙ্কা নীহার রঞ্জনের।

জলবায়ু পরিবর্তনের ঘাতে নিঃস্ব। গ্রাম বা উপকূল থেকে পাড়ি রাজধানীতে। কিন্তু এখানেও নতুন করে চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির শিকার শ্রমজীবী মানুষেরা। তীব্র গরমে থমকে যাচ্ছে তাদের উপার্জনের চাকা।
লন্ডনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইআইইডি) এবং বাংলাদেশের অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রামের (ওকাপ) যৌথ গবেষণায় এমন চিত্র উঠে এসেছে।
এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৮৪.৯ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাত। রিকশাচালক, নির্মাণশ্রমিক, দিনমজুর বা পোশাক কারখানার এসব শ্রমিকের শারীরিক শ্রমই তাঁর জীবিকার একমাত্র পুঁজি। অথচ সেই শ্রমিকের দেহটাই এখন ধ্বংস হচ্ছে তীব্র গরমে।
রাজধানীর ১৭৫টি শ্রমজীবী পরিবারের ওপর এই গবেষণা চালানো হয়েছে। ‘টু হট টু ওয়ার্ক, টু পুওর টু রেস্ট’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে গ্রাম বা উপকূল থেকে সব হারিয়ে শহরে আসা মানুষগুলো নতুন করে চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির শিকার হচ্ছেন।
ষাটোর্ধ্ব সিরাজুল ইসলাম তিন বছর ধরে ঢাকায় প্যাডেল রিকশা চালাচ্ছেন। একটু চালালেই শরীর ঘামে ভিজে যায়। হাঁসফাঁস করেন। গাবতলী থেকে যাত্রী তুলে মিরপুর-১ এসেছেন সিরাজুল। সাতক্ষীরার কালীগঞ্জের এই বাসিন্দা স্ট্রিমকে জানালেন, প্যাডেল রিকশা চালাতে তাঁর খুব কষ্ট হয়। কিন্তু কিছু করার নেই। ব্যাটারি রিকশা নেওয়ার মতো পুঁজি নেই।
দিনের খরচ বাদে হাজার টাকার মতো থাকে। তা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছেলে এবং গ্রামে পরিবারের খরচ জোগান সিরাজুল। তিনি বলেন, ‘সংসারে অনেক খরচ। বইসা থাকার উপায় নেই। সকালে রিকশা নিয়া বাইর হই। রাত ১০টায় ফিরি। গোসলটা দিয়া, স্যালাইন না খাইলে আর টেকা যায় না। এখন পর্যন্ত ঠিক আছি। কিন্তু কতদিন সুস্থ থাকমু জানি না। রাস্তায় যা রইদ, এমনে কাজ কইরা টিকে আছি মনের জোরে।’ মিরপুরে বস্তির ঝুপড়ি ঘরে চারজন গাদাগাদি করে থাকেন। ঠিকমতো ঘুমাতেও পারেন না সিরাজুল।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সহায়-সম্বল হারিয়ে ঢাকায় আশ্রয় নেওয়া শ্রমজীবীরা এখানেও প্রকৃতির কাঠিন্য থেকে রেহাই পাচ্ছেন না।
২০০৯ সালে ঘূর্ণিঝড় আইলার আঘাতে খুলনার দীপকের (৪০) ঘরবাড়ি ধ্বংস্তূপে পরিণত হয়। লবণাক্ত পানি কৃষিজমিতে ঢুকলে থেমে যায় আবাদ। জলবায়ু অভিবাসী হয়ে ঢাকায় আসেন, কাজ নেন নির্মাণশ্রমিকের।
গবেষকদের দীপক বলেছেন, ‘মাঝেমধ্যে আমার শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। তপ্ত কংক্রিটের তাপ চামড়া পুড়িয়ে দেয়। কাজ শেষে ঘরে ফিরেও শান্তি নেই। টিনের চাল থেকে আগুন ঝরে। গরম থেকে বাঁচতে গায়ে পানি ঢেলেও কাজ হয় না।’
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইনডোর শ্রমিকের (স্থাপনার ভেতরে কাজ করেন) ৬৬ শতাংশ এবং আউটডোর শ্রমিকের (উন্মুক্ত আকাশের নিচে কাজ করেন) ৫৪ শতাংশ টিন বা অ্যাসবেস্টসের চালের নিচে বসবাস করেন। এসব ঘর তাপ ধরে রাখে। প্রায় ৯৬ শতাংশ ঘরের চাল ১০ ফুটের কম উচ্চতায়। ফলে বাতাস চলাচলের সুযোগ কম। এতে ঘর থাকে উত্তপ্ত চুল্লির মতো।
পোশাক কারখানার ভেতরেও শ্রমিকেরা প্রায় একই মাত্রায় ‘হিট স্ট্রোক’ অথবা চরম ক্লান্তির শিকার হচ্ছেন। গুমোট পরিবেশ ও বাতাস চলাচলের অপর্যাপ্ত ব্যবস্থার কারণে ইনডোর শ্রমিকদের অবস্থা শোচনীয়।
গবেষণায় অংশ নেওয়া আউটডোর যেমন: রিকশাচালক, নির্মাণশ্রমিকদের ৯০ শতাংশ এবং ইনডোর যেমন: কারখানা শ্রমিকদের প্রায় ৮০ শতাংশ ‘হিট ক্র্যাম্প’ বা পেশীতে টান পড়ার কথা জানিয়েছেন। আউটডোরের ৬৬.৪ শতাংশ এবং ইনডোরের ৬৬ শতাংশ শ্রমিক সরাসরি ‘হিট এগজশন’ বা অতিরিক্ত ক্লান্তির শিকারের তথ্য দিয়েছেন।
গবেষণায় নেতৃত্ব দেওয়া আইআইইডির জলবায়ু সহনশীলতা ও অর্থায়ন বিভাগের পরিচালক রিতু ভরদ্বাজ স্ট্রিমকে বলেন, ‘গবেষণায় স্পষ্ট– বাইরে কাজ করা দিনমজুরের প্রায় সমান ঝুঁকিতে কারখানার ভেতরের শ্রমিকেরা। সরাসরি রোদ হয়তো সেখানে পৌঁছায় না। কিন্তু যন্ত্রপাতি, গাদাগাদি ফ্লোর এবং অপর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের কারণে দিনভর সেখানে ভয়াবহ তাপ তৈরি হয়।’
গাজীপুর চৌরাস্তায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন মাহমুদা আক্তার (৩৪)। তিনি স্ট্রিমকে বলেন, ‘কারখানায় ফ্যান চলে ঠিকই। কিন্তু তাতে গরম কমে না। আমরা একসঙ্গে অনেক মানুষ কাজ করি। এত বেশি গরম থাকে, শীতকালেও শরীর ভিজে যায়।’
কর্মস্থলে পর্যাপ্ত পানি, স্যালাইন ও বিশ্রামের অভাব শ্রমিকদের দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক জটিলতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ঘাম ও পানিশূন্যতার কারণে শ্রমিকদের কিডনিতে প্রভাব পড়ছে। গবেষণায় উঠে এসেছে, প্রতি ১৭ শ্রমিকের মধ্যে অন্তত একজন দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের (সিকেডি) ঝুঁকিতে আছেন। জাতীয় পর্যায়ের হিসাবে প্রায় ৩৫ লাখ ৬০ হাজার অনানুষ্ঠানিক শ্রমিক এই ঝুঁকির মুখে।
তীব্র গরমে দীর্ঘক্ষণ কাজ করা শ্রমিকদের ঘামের মাধ্যমে প্রচুর পানি শরীর থেকে বের হয়ে যায়। পানিশূন্যতা পূরণ না হলে রক্তচাপ কমে যায় এবং কিডনিতে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। কয়েক বছরের এমন তীব্র পানিশূন্যতা একসময় স্থায়ী বা ক্রনিক কিডনি ডিজিজে রূপ নেয়। অনেক সময় তরুণ শ্রমিকদেরও এই ভয়ংকর পরিণতি হয়।
এ ব্যাপারে অ্যালায়েন্স হসপিটাল লিমিটেডের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ নীহার রঞ্জন দাস স্ট্রিমকে বলেন, ‘অনেক শ্রমিক অসুস্থ হওয়ার পরও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান না। কারণ, চিকিৎসার খরচ চালানোর সামর্থ্য তাদের নেই। তাছাড়া কাজ থেকে ছুটি নিলে মজুরি কাটার ভয়ও কাজ করে।’
কারখানার নারী শ্রমিকদের অবস্থা আরও ভয়াবহ। গবেষণায় বলা হয়, নির্দিষ্ট টার্গেট পূরণের চাপ এবং পর্যাপ্ত বা পরিষ্কার শৌচাগার না থাকায় প্রায় অর্ধেক ইনডোর শ্রমিক (৪৭.২ শতাংশ) পানি খাওয়া কমিয়ে দেন। ফলে ছায়ার নিচে থেকেও তারা চরম পানিশূন্যতায় ভোগেন।
শুধু শারীরিক জটিলতাই নয়, রাতে ঘুমাতে না পারা এবং চরম ক্লান্তির কারণে শ্রমিকদের মধ্যে উদ্বেগ, মানসিক চাপ ও খিটখিটে মেজাজ মারাত্মক আকার ধারণ করছে। গবেষণায় শ্রমিকদের মানসিক চাপের একটি সূচক তৈরি করা হয়েছে। দেখা গেছে, গ্রীষ্মকালে মানসিক চাপের মাত্রা অন্যান্য সময়ের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি হয়ে যায়।
গরমের কারণে কাজ হারানো ও অসুস্থতার প্রভাব সরাসরি পড়ছে শ্রমিকদের আয়ে। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, প্রচণ্ড গরমের কারণে বাইরে কাজ করা শ্রমিকরা বছরে গড়ে ২৩.৭ দিন এবং কারখানায় কাজ করা শ্রমিকেরা গড়ে ১৩.৫ দিন কাজ হারান বা তাদের উৎপাদনশীলতা কমে যায়। ফলে বছরে একজন রিকশাচালক বা নির্মাণশ্রমিকের গড়ে প্রায় ১৪৮ ডলার (প্রায় ১৭ হাজার টাকা) এবং কারখানার শ্রমিকের ৮৯ ডলার (প্রায় ১০ হাজার টাকা) আয় কমছে।
রিতু ভরদ্বাজ বলেন, ‘শ্রমিকদের আয় এমনিতেই অনেক কম। ঢাকায় একটি পরিবারের সম্মানজনক জীবন যাপনের (লিভিং ওয়েজ) জন্য বছরে অন্তত ২ হাজার ৯৯৭ ডলার আয় করা প্রয়োজন। সেখানে আউটডোর শ্রমিকরা আয় করেন ১ হাজার ৭৫৫ ডলার। তার ওপর গরমের কারণে এই আয় হারানো তাদের আরও গরিব করছে এবং ঋণের জালে পড়ছেন।’
গবেষণায় বলা হয়, জাতীয় পর্যায়ে হিসাব করলে তীব্র গরমের কারণে শ্রমিকদের কর্মদিবস নষ্ট হওয়ায় সার্বিকভাবে আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে ৬২২ কোটি ডলার, যা দেশের জিডিপির ১.৩৮ শতাংশ। এই হিসাব চিকিৎসা ব্যয় বাইরে রেখেই। এই বিশাল ক্ষতি কোনো জাতীয় দুর্যোগের পরিসংখ্যানে আসে না বলে গবেষণায় উল্লেখ রয়েছে।
দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত বা অতিদরিদ্রদের জন্য সামাজিক সুরক্ষামূলক কর্মসূচি (যেমন: ভিজিএফ, ভিজিডি, ওএমএস) মূলত গ্রামকেন্দ্রিক। আইআইইডির গবেষণায় বলা হয়েছে, শহরের এই ভাসমান বা অনানুষ্ঠানিক শ্রমিকদের ১০ শতাংশের কম মানুষ এসব সুবিধা পান। তা ছাড়া, চিকিৎসা ব্যয় মেটানোর জন্য কোনো স্বাস্থ্যবিমা তাদের নেই। সরকারি স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্মসূচি (এসএসকে) টাঙ্গাইলের মতো কয়েকটি নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ। ফলে গরমে অসুস্থ হলে চিকিৎসার পুরো টাকা শ্রমিককে নিজের পকেট থেকেই দিতে হয়, যা তাদের আরও দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দেয়।
অধিকাংশ শ্রমিক গ্রাম থেকে আসায় জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) স্থায়ী ঠিকানা। ফলে শহরের কোনো সরকারি সহায়তা বা রেশনের সুবিধা তারা সহজে পান না।
এ ব্যাপারে ওকাপের চেয়ারপারসন ও অভিবাসন বিশেষজ্ঞ শাকিরুল ইসলাম স্ট্রিমকে বলেন, ‘দুর্যোগে সব হারিয়ে শহরে আসা এই মানুষদের অভিবাসন অনেকটা বাধ্যতামূলক। কিন্তু গ্রাম ও শহর– উভয় জায়গাতেই তারা সামাজিক সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত। এই জটিলতা এড়াতে আমাদের সুরক্ষা কর্মসূচিগুলোকে ‘পোর্টেবল’ বা বহনযোগ্য করতে হবে, যাতে স্থায়ী ঠিকানার শর্ত ছাড়াই শ্রমিকেরা যেকোনো জায়গায় বসে নাগরিক অধিকার ও সরকারি সুবিধা পাবেন।’
শহরের ভাসমান শ্রমিকদের জন্য বিশেষ নগদ সহায়তা ও জাতীয় স্বাস্থ্যবিমা চালুর তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, ‘সরকারি সেবাকেন্দ্রগুলোর সময়সূচি পরিবর্তন করা দরকার। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কেন্দ্র খোলা থাকায়, ওই সময়ে কাজ ফেলে শ্রমিকের পক্ষে কখনো এসব সেবা নেওয়া সম্ভব হয় না। জাতীয় শ্রম আইনেও চরম তাপমাত্রায় তাদের সুরক্ষার বিষয়টি যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করা দরকার।’
২০২০ সালে মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের টাকা দেওয়া হয়েছিল। সে বছর ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব হয়। ঠিক একইভাবে গরমের সময়ও ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে মনে করেন গবেষকেরা। তাদের মতে, ক্ষতি হওয়ার পর তা মোকাবিলার চেয়ে আগাম পদক্ষেপে ১ ডলার বিনিয়োগ করলে তা ২ থেকে ৫ ডলারের ক্ষতি এড়ানো যায়।
রিতু ভরদ্বাজ স্ট্রিমকে বলেন, ‘বছরে ২৩৪ কোটি ডলার মজুরির ক্ষতি হয়। বিপরীতে আমাদের প্রস্তাবিত নগদ অর্থ সহায়তার পরিমাণ খুবই সামান্য। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সতর্কতার ওপর ভিত্তি করে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে এই সহায়তা দেওয়া সম্ভব।’
তিনি বলেন, ‘অতিরিক্ত গরমে শ্রমিকেরা নিজের শ্রমের ক্ষতি করছেন। এর মাধ্যমে মূল্য চুকলেও, অতিরিক্ত গরম কিন্তু তাদের তৈরি নয়। ফলে শ্রমিকের এই সহায়তার অর্থ “লস অ্যান্ড ড্যামেজ” ফান্ডের মতো জলবায়ু তহবিল থেকে আসা উচিত।’
শ্রম আইনের তৃতীয় তফসিলে হিট স্ট্রোক ও গরমজনিত কিডনি রোগকে ‘পেশাগত রোগ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া প্রয়োজন। এই স্বীকৃতির মাধ্যমে অ্যামপ্লয়মেন্ট ইনজুরি স্কিমের আওতায় আনলে পরিস্থিতি বদলাতে পারে। এর মাধ্যমে শ্রমিকেরা চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণ পাওয়ার আইনি অধিকার পাবেন বলে মনে করেন রিতু ভরদ্বাজ।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ শ্রম আইন ও বিধিমালায় গরমের জন্য নির্দিষ্ট কোনো তাপসীমা নেই। আইনে এটি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তাপমাত্রা ওই সীমার ওপরে গেলে বাধ্যতামূলকভাবে শ্রমিকদের বিশ্রাম, ছায়া ও ঠান্ডা পানির ব্যবস্থা করতে হবে। এ ব্যাপারে আইআইইডির গবেষণায় আরও দুটি সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
ডা. নীহার রঞ্জন বলেন, দারিদ্র্য আর তীব্র গরম নীরবে এই শ্রমিকদের শেষ করে দিচ্ছে। অথচ তারাই আমাদের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। তাদের স্বাস্থ্যের বিষয়ে আমাদের আরও অনেক বেশি মনযোগী হতে হবে।
অতিরিক্ত গরমে শ্রমিকেরা নিজের শ্রমের ক্ষতি করছেন। এর মাধ্যমে মূল্য চুকলেও, অতিরিক্ত গরম কিন্তু তাদের তৈরি নয়। ফলে শ্রমিকের এই সহায়তার অর্থ “লস অ্যান্ড ড্যামেজ” ফান্ডের মতো জলবায়ু তহবিল থেকে আসা উচিত। রিতু ভরদ্বাজ, পরিচালক, আইআইইডির জলবায়ু সহনশীলতা ও অর্থায়ন বিভাগ
পরিস্থিতি উত্তরণে তাঁর ভাষ্যে, গরমজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়ে সরকারের সচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও বাড়ানো উচিত। পাশাপাশি বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠান, এনজিও এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থাগুলোর উচিত শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ খাওয়ার পানি, পর্যাপ্ত বিশ্রাম, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও বাসস্থানের মান উন্নয়নে এগিয়ে আসা।
তাপমাত্রা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। এখনই পদক্ষেপ না নিলে শ্রমিকের ঘামে গড়া দেশের অর্থনীতির চাকা চরম তাপমাত্রায় থমকে যেতে পারে আশঙ্কা নীহার রঞ্জনের।
.png)

আজকাল এআই ব্যবহার করেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোনো প্রশ্নের উত্তর জানা, কোনো বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানতে চাওয়া থেকে শুরু করে ছবি-ভিডিও তৈরি বা কোডিং— সবই করে দিচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। সাধারণ মানুষ এর কোনো কারখানা দেখে না। তাই এআইকে অনেকটাই ‘অদৃশ্য’ প্রযুক্তি মনে হয়। এআই মোটেও অদৃশ্য নয়।
১ দিন আগে-a0f295-256x144.webp)
নাজমা আক্তারের (ছদ্ম নাম) সকাল শুরু হয় পানির খোঁজে। একটু নিরাপদ ও কম লবণাক্ত পানির আশায় তাঁকে হাঁটতে হয় অনেকটা দূর। সেখান থেকে ফিরতে ফিরতে সূর্য চড়ে বসে মাথার ওপর। তারপর রান্না, সন্তান, সংসার, কখনো মাঠের কাজ। কিন্তু প্রতিদিনের এই চেনা লড়াইয়ের আড়ালে ঢাকা পড়ে যায় আরেক সংগ্রাম—‘প্রজনন স্বাস্থ্য’। স
২৪ আগস্ট ২০২৬
প্রশান্ত মহাসাগরে ঘনিয়ে আসা ‘এল নিনো’ স্মরণকালের শক্তিশালী রূপ নিচ্ছে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া অফিস। ফলে ২০২৭ সাল হতে যাচ্ছে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে উষ্ণ বছর।
২১ আগস্ট ২০২৬
সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশজুড়ে মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে বায়ুচাপের পার্থক্যের কারণে দেশের চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত বহাল রাখা হয়েছে। আজ (মঙ্গলবার) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর স
১৮ আগস্ট ২০২৬