এল নিনোর প্রভাবে খরা-খাদ্য সংকটের সতর্কবার্তা জাতিসংঘের

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ০৫ জুন ২০২৬, ১৫: ১১
জাতিসংঘের প্রতীক

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ধুঁকতে থাকা বিশ্বের জন্য রূঢ় বার্তা নিয়ে এসেছে এবারের পরিবেশ দিবস। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে প্রশান্ত মহাসাগরে তৈরি হতে যাচ্ছে শক্তিশালী আবহাওয়ার প্রপঞ্চ ‘এল নিনো’। এর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে তীব্র খরা, তাপপ্রবাহ, অতিবৃষ্টি এবং খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ।

গত ২ জুন জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, চলতি বছরের জুন থেকে আগস্টের মধ্যে এল নিনো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা ৮০ শতাংশ, যা চলতে পারে নভেম্বর পর্যন্ত। কিছু দেশের আবহাওয়া সংস্থা একে দশকের অন্যতম শক্তিশালী বা ‘সুপার এল নিনো’ হিসেবেও আখ্যা দিচ্ছে।

এল নিনো একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া, যার ফলে মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের ক্রান্তীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের পানির তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। ডব্লিউএমও জানিয়েছে, প্রশান্ত মহাসাগরের গভীরে পানির তাপমাত্রা ইতোমধ্যে স্বাভাবিকের চেয়ে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়ে গেছে। এই বিপুল পরিমাণ তাপ এল নিনো তৈরিতে জ্বালানি হিসেবে কাজ করছে।

প্রতিটি এল নিনোর ধরন আলাদা হলেও এর প্রভাবে আঞ্চলিক জলবায়ু বিপর্যস্ত হয়। ডব্লিউএমওর পূর্বাভাস বলছে, এর ফলে দক্ষিণ আমেরিকার দক্ষিণাঞ্চল, যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চল, হর্ন অব আফ্রিকা এবং মধ্য এশিয়ায় বৃষ্টিপাত অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে পারে, যা বন্যার ঝুঁকি তৈরি করবে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ-ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, মধ্য আমেরিকা এবং ইন্দোনেশিয়ায় দেখা দিতে পারে খরা। দক্ষিণ এশীয় জলবায়ু আউটলুক ফোরাম জানিয়েছে, এল নিনোর প্রভাবে এবার এই অঞ্চলে মৌসুমি বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের চেয়ে কম হতে পারে। বৃষ্টিপাত কম হলে বাংলাদেশের কৃষিখাত ও সার্বিক অর্থনীতি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, বিজ্ঞান স্পষ্ট বলছে– এল নিনো আমাদের দোরগোড়ায়। উষ্ণ হয়ে ওঠা বিশ্বে এল নিনো পরিস্থিতি আগুনে ঘি ঢালার মতো কাজ করবে। এই সংকট মোকাবিলায় আমাদের একমাত্র কার্যকর উপায় হলো জীবাশ্ম জ্বালানির আসক্তি কমানো এবং নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার ত্বরান্বিত করা।

ডব্লিউএমওর মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো সতর্ক করে বলেন, ২০২৩-২৪ সালের এল নিনোটি ছিল ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী, যার প্রভাবে ২০২৪ সাল বিশ্বের উষ্ণতম বছরের রেকর্ড গড়েছিল। এবার আমাদের একটি সম্ভাব্য শক্তিশালী এল নিনোর জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে।

এল নিনোর প্রভাব শুধু আবহাওয়াতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং এটি বিশ্ব অর্থনীতি ও জনস্বাস্থ্যের ওপর বড় ধরনের আঘাত হানবে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। ডব্লিউএমওর মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো বলেন, তীব্র গরমের কারণে পতঙ্গবাহী রোগের বিস্তার এবং খাদ্য ও পানিব্যবস্থার ওপর মারাত্মক চাপ বাড়বে। যেসব জনগোষ্ঠী ইতোমধ্যে জীবনধারণের জন্য লড়াই করছে, তারা আরও চরম সংকটে পড়বে।

বিশ্ব অর্থনীতিতে এর প্রভাব ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। ইরান যুদ্ধের কারণে সার সংকট ও জ্বালানির উচ্চ মূল্যে বিশ্বের কৃষকেরা আগে থেকেই ব্যাপক চাপে রয়েছেন। এর ওপর এল নিনোর খরায় এশিয়ার ফসল উৎপাদন ব্যাহত হলে বৈশ্বিক খাদ্য মূল্যস্ফীতি চরম আকার ধারণ করতে পারে।

সম্পর্কিত