নেপালে আকস্মিক বন্যায় নিহত ১৮, পর্যটকসহ নিখোঁজ ৩৮৪

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

আকস্মিক বন্যায় অন্তত ৮ জন নিহত হয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত
আকস্মিক বন্যায় অন্তত ৮ জন নিহত হয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত

তিব্বত সীমান্তবর্তী নেপালের রাসুয়া জেলায় আকস্মিক বন্যায় অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন। বন্যায় বিভিন্ন দেশের পর্যটকসহ মোট ৩৮৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

বুধবার (২৬ আগস্ট) জেলার সিয়াপ্রু বেসি ও তিমুর এলাকায় বন্যা আঘাত হানে। প্রবল স্রোতে কয়েকটি গ্রাম, সড়ক, সেতু ও বিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেপাল সেনাবাহিনী হেলিকপ্টার ও উদ্ধারকারী দল পাঠিয়েছে। নেপালে একটি ভূমিকম্পে তুষারধসের পর এ বন্যা দেখা দেয়।

নেপাল পুলিশ বিবিসিকে জানিয়েছে, বিভিন্ন জেলা থেকে ১৮টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত মোট ৩৮৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন। এদের মধ্যে ৯৩ জন নেপালি নাগরিক এবং ২৯১ জন বিদেশি নাগরিক।

নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ১০৫ জন ভারতীয়, ৩৭ জন অনাবাসী ভারতীয় (এনআরআই), ১২ জন ব্রিটিশ, ১৭ জন মালয়েশীয়, ৪ জন দক্ষিণ আফ্রিকান, ৩ জন মার্কিন ও একজন করে অস্ট্রেলীয় ও ডাচ নাগরিক রয়েছেন। এছাড়া আরও ১১১ জনের জাতীয়তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

জেলা প্রশাসক নরেন্দ্র পারিয়ার জানিয়েছেন, পানির উচ্চতা বেশি থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় হেলিকপ্টার অবতরণ করতে পারছে না। ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, ভোতে কোশি নদীর আশপাশের কয়েকটি গ্রাম এবং অবকাঠামো প্রকল্পের স্থাপনা পানির স্রোতে ভেসে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

নেপাল পুলিশ ও স্থানীয়দের প্রকাশ করা ভিডিওতে পাহাড়ি উপত্যকার মধ্য দিয়ে কাদামিশ্রিত প্রবল পানির স্রোত বয়ে যেতে দেখা গেছে। বন্যার কারণে কয়েকটি মহাসড়কও বন্ধ হয়ে গেছে।

নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যায় জলবিদ্যুৎ ও সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পসহ প্রায় ৪৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে।

নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ পরিস্থিতি পর্যালোচনায় জরুরি বৈঠক করেছেন। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, উদ্ধারকাজের পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

গত বছরও ভোতে কোশি নদীর বন্যায় ৯ জন নিহত ও ২৪ জন নিখোঁজ হয়েছিলেন। জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মৌসুমি বৃষ্টিতে দক্ষিণ এশিয়ায় নিয়মিত বন্যা ও ভূমিধস হয়ে থাকে।

এদিকে, সীমান্তের ওপারে চীনের তিব্বতেও ভূমিধসে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। সরকারি বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানায়, গিরং কাউন্টিতে ভূমিধসে বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এখনো কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন। চীন-নেপাল সীমান্তের গিরং বন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে সড়ক, যোগাযোগ ও বিদ্যুৎব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা, বিবিসি

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত