সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ইরানের বাইরে যাবে না: মুজতবা খামেনি

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২২ মে ২০২৬, ১৮: ১৪
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনি। ছবি: এক্স থেকে নেওয়া

ইরানে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে না পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মুজতবা খামেনি। দুজন জ্যেষ্ঠ ইরানি সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে। শান্তি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দাবির বিপরীতে তেহরানের অবস্থান আরও কঠোর হয়েছে। খবর রয়টার্স

খামেনির এই সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও হতাশ হতে পারেন। ইরান যুদ্ধ বন্ধে চলমান আলোচনা আরও জটিল করে তুলতে পারে।

বৃহস্পতিবার ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত রাখতে দেবে না।

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, 'আমরা এটা নিয়ে নেব। আমাদের এটার দরকার নেই, এটা চাই না। আমরা সম্ভবত এটা পাওয়ার পর ধ্বংস করে দেব, কিন্তু তাদের এটা রাখতে দেব না।'

ইসরায়েলি কর্মকর্তারা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ট্রাম্প ইসরায়েলকে আশ্বাস দিয়েছেন ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ইরানের বাইরে পাঠানো হবে। যেকোনো শান্তিচুক্তিতে এ বিষয়ে একটি ধারা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র এবং পশ্চিমা দেশগুলোর দীর্ঘদিনের অভিযোগ, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। তারা ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে। বেসামরিক ব্যবহারে এটি প্রয়োজনীয় মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি। অস্ত্র তৈরির জন্য দরকারি ৯০ শতাংশ মাত্রার কাছাকাছি। তবে ইরান বরাবরই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ইরান থেকে সরানো না হলে, তেহরান প্রক্সি মিলিশিয়াদের প্রতি সমর্থন বন্ধ না করলে এবং তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস না করা পর্যন্ত তিনি যুদ্ধ শেষ হয়েছে বলে মনে করবেন না।

দুই ইরানি সূত্রের একজন বলেন, সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশনা এবং রাষ্ট্রযন্ত্রের অভ্যন্তরীণ ঐকমত্য সিদ্ধান্ত হলো, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত দেশ থেকে বাইরে পাঠানো যাবে না।

সূত্রগুলো জানায়, ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই উপাদান বিদেশে পাঠালে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মুখে দেশ আরও ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত খামেনিই নিয়ে থাকেন।

এই বিষয়ে মন্তব্য চাইলে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের সীমারেখা পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছেন। আমেরিকান জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয় তিনি কেবল এমন চুক্তিই করবেন।

শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে গভীর সন্দেহ

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় শুরু হওয়া যুদ্ধে বর্তমানে নাজুক যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। পরে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকা দেশগুলোর দিকে হামলা চালায়। লেবাননে ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।

শান্তি প্রচেষ্টায় এখনো বড় কোনো অগ্রগতি হয়নি। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলা আলোচনা জটিল করে তুলেছে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ এবং হরমুজ প্রণালির ওপর তেহরানের নিয়ন্ত্রণ।

দুই জ্যেষ্ঠ ইরানি সূত্র জানিয়েছে, ইরান গভীর সন্দেহ করছে যে যুদ্ধবিরতি আসলে ওয়াশিংটনের একটি কৌশলগত প্রতারণা।

ইরানের স্পিকার ও প্রধান শান্তি আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বুধবার বলেন, শত্রুর প্রকাশ্য ও গোপন তৎপরতা প্রমাণ করে আমেরিকানরা নতুন হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ট্রাম্প বুধবার বলেন, ইরান যদি শান্তিচুক্তিতে রাজি না হয় তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের বিরুদ্ধে আরও হামলা চালাতে প্রস্তুত। তবে তিনি ইঙ্গিত দেন, সঠিক উত্তর পাওয়ার জন্য ওয়াশিংটন কয়েকদিন অপেক্ষা করতে পারে।

সূত্রগুলো জানায়, দুই পক্ষ কিছু মতপার্থক্য কমাতে শুরু করেছে। তবে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে এখনো বিভেদ রয়ে গেছে।

সম্পর্কিত