জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন

ইরানে শত শত টমাহক ক্ষয়, যুক্তরাষ্ট্র ক্ষেপণাস্ত্র সংকটে

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস স্প্রুয়েন্স থেকে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হচ্ছে। ছবি: রয়টার্স

ইরান যুদ্ধের মাত্র চার সপ্তাহে ৮৫০টিরও বেশি ‘টমাহক’ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে মার্কিন বাহিনী। ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এত বিপুল পরিমাণ অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার পেন্টাগনের কর্মকর্তাদের মধ্যে চরম উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

তারা আশঙ্কা করছেন, এই হারে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যয় হতে থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক মজুদ দ্রুত ফুরিয়ে যেতে পারে।

পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ আলোচনার বরাতে জানা গেছে, এই বিপুল পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে টমাহকের মজুদ এখন ‘আশঙ্কাজনকভাবে কম’। সামরিক পরিভাষায় একে বলা হয় ‘উইনচেস্টার’, যার অর্থ হলো গোলাবারুদ প্রায় নিঃশেষ হয়ে যাওয়া।

টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মূলত নৌবাহিনীর রণতরী ও সাবমেরিন থেকে নিক্ষেপ করা হয়। টমাহক হাজার মাইলেরও বেশি দূর থেকে নিখুঁতভাবে শত্রুর লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। একটি আধুনিক টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের দাম প্রায় ৩৬ লাখ ডলার এবং একটি ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে প্রায় দুই বছর সময় লাগে। বছরে মাত্র কয়েকশ টমাহক উৎপাদিত হয়।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রায় ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার ৫০০ টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ ছিল। গত চার সপ্তাহে তার প্রায় এক-চতুর্থাংশই শেষ হয়ে গেছে। এতে করে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে (যেমন চীনের বিরুদ্ধে) সম্ভাব্য কোনো সংঘাতের জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

তবে ট্রাম্প প্রশাসন এই ঘাটতির কথা সরাসরি অস্বীকার করেছে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লিভিট বলেন, ‘অপারেশন এপিক ফিউরির লক্ষ্য অর্জনের জন্য আমাদের কাছে পর্যাপ্ত অস্ত্র ও গোলাবারুদ মজুদ আছে।’ অন্যদিকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের খতম করতে অর্থের প্রয়োজন।’ তিনি ইতিমধ্যে এই যুদ্ধের ব্যয় মেটাতে এবং ফুরিয়ে যাওয়া অস্ত্রের মজুদ পূর্ণ করতে কংগ্রেসের কাছে ২০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি জরুরি তহবিল চেয়েছেন।

পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল এই ক্ষেপণাস্ত্র সংকটের খবরকে উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, গণমাধ্যম বিশ্বের শক্তিশালী সামরিক বাহিনীকে ‘দুর্বল’ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করছে। তবে ভেতরে ভেতরে প্রতিরক্ষা বিভাগ ইতিমধ্যে বড় বড় অস্ত্র উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বৈঠক শুরু করেছে এবং উৎপাদন অন্তত চার গুণ বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছে।

সম্পর্কিত