মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানে ২৫০ শিক্ষক-শিক্ষার্থী নিহত

তথ্যসূত্র:
তথ্যসূত্র:
আল-জাজিরা

প্রকাশ : ২৯ মার্চ ২০২৬, ২১: ০৭
মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় বিধ্বস্ত আইইউটির ক্যাম্পাস। ছবি: সোশ্যাল মিডিয়া থেকে নেওয়া

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ২৫০ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক নিহত হয়েছেন। এই সময়ে দেশটির অন্তত ৬০০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

ইরানের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কেন্দ্রের প্রধান হোসেন সাদেঘি দেশটির সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনাকে জানিয়েছেন, হামলায় ২৫০ জন নিহতের পাশাপাশি ১৮৪ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক আহত হয়েছেন। শুধু রাজধানী তেহরানেই ১৬ জন শিক্ষার্থী এবং ৫ জন শিক্ষক প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া ৮ জন শিক্ষার্থী ও ৫ জন শিক্ষাবিদ গুরুতর আহত হয়েছেন।

সাদেঘি আরও জানান, গত এক মাসে প্রায় ২০০টি প্রশাসনিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাসংক্রান্ত স্থাপনা হামলার শিকার হয়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের পোস্টডক্টরাল ফেলো হেলিয়েহ দুতাঘি এই হামলাকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের চরম লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছেন। আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলাগুলো একটি ‘সুনির্দিষ্ট ও সুশৃঙ্খল প্যাটার্ন’ অনুসরণ করছে। এর মূল লক্ষ্য হলো ইরানের সার্বভৌমত্ব রক্ষার সক্ষমতাকে ভেতর থেকে দুর্বল করে দেওয়া।

দুতাঘি আরও বলেন, দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং এখনকার এই সরাসরি হামলা মূলত ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও ‘বিশিল্পায়ন’ (ডি-ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশন) ধ্বংসের কৌশল।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে তেহরানের ‘ইরান ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’-তে বিমান হামলায় তড়িৎ কৌশল অনুষদের সহযোগী অধ্যাপক সাঈদ শামঘাদ্রি নিহত হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন ছবিতে তেহরানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্লাসরুম ও অফিসগুলোর ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র ফুটে উঠেছে।

সম্পর্কিত