ইউরোপে দাবদাহ, স্বস্তির জন্য পানিতে নেমে গেল ৪০ প্রাণ

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

গরমের কারণে আইফেল টাওয়ারও বিকেল ৪টার মধ্যে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ছবি: রয়টার্স

তীব্র দাবদাহে পুড়ছে ইউরোপ। এরমধ্যে ফ্রান্সে গরম থেকে বাঁচতে নদী ও খালে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) দেশটির প্রধানমন্ত্রী সেবাসতিয়ান লেকর্ন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত ১৮ জুন থেকে এ পর্যন্ত ৪০ জন মারা গেছেন, যাদের বেশিরভাগই তরুণ।

মেটিও ফ্রান্সের আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার ফ্রান্সের ইতিহাসে উষ্ণতম দিন রেকর্ড হয়েছে। দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি শহরে তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ৪৪ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছিল। বর্তমানে দেশের ৫৪টি বিভাগকে ‘রেড অ্যালার্ট’ বা সর্বোচ্চ সতর্কতার আওতায় রাখা হয়েছে, যা বুধবার বেড়ে ৫৮-তে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গরমের কারণে বিশ্বখ্যাত আইফেল টাওয়ারও বিকেল ৪টার মধ্যে বন্ধ করে দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

ইতালি ও ব্রিটেনের সতর্কতা

এদিকে ইতালির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দেশটির ১৫ শহরে সর্বোচ্চ স্তরের লাল সতর্কতা জারি করেছে এবং কিছু নির্দিষ্ট খাতে কাজের সময় কমিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে আল্পস ও অ্যাপেনাইনস পার্বত্য অঞ্চলে ভারী বৃষ্টি, দমকা হাওয়া ও শিলাবৃষ্টিসহ ঝড়ের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

ব্রিটেনেও গরমের তীব্রতা বাড়ছে। দেশটির মেট অফিস জানিয়েছে, মঙ্গলবার দক্ষিণ ইংল্যান্ডে তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছেছে, যা জুন মাসের নতুন রেকর্ড।
এছাড়া তীব্র গরমের কারণে ইউরোপজুড়ে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং অনেক ট্রেন ধীরগতিতে চালানো হচ্ছে।

ইউরোপের অন্যান্য দেশের চিত্র

স্পেনের আবহাওয়া সংস্থা দেশের বিভিন্ন অংশে লাল সতর্কতা জারি করে ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা ওঠার বিষয়ে সতর্ক করেছে। দাবানলের আশঙ্কায় দেশটির উত্তরাঞ্চলের বেশ কয়েকটি পৌরসভা তাদের ঐতিহ্যবাহী আগুন উৎসব বাতিল করেছে। অন্যদিকে, গৃহহীন ও দুর্বল জনগোষ্ঠীর জন্য মাদ্রিদে ‘জলবায়ু আশ্রয়কেন্দ্র’ বা বিশেষ আশ্রয়স্থল খুলে দেওয়া হয়েছে।

সুইজারল্যান্ডের সেন্ট গ্যালেন অঞ্চলের কর্তৃপক্ষ নদী ও হ্রদের পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় পানি উত্তোলনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

ওমেগা ব্লকের প্রভাব ও জলবায়ু পরিবর্তন

আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, এই তাপপ্রবাহের কারণ ‘ওমেগা ব্লক’ নামক বিশেষ বায়ুমণ্ডলীয় ধরন। গ্রিক বর্ণ ওমেগার (Ω) মতো দেখতে এই ব্যবস্থায় গরম বাতাস দুই পাশের শীতল বাতাসের মাঝে আটকা পড়ে যায় এবং দিনের পর দিন তাপমাত্রা বাড়াতে থাকে।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) জানিয়েছে, বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় ইউরোপ দ্বিগুণ গতিতে উষ্ণ হচ্ছে, যার ফলে এই ধরনের দীর্ঘমেয়াদি তাপপ্রবাহের ঘটনা স্বাভাবিক হয়ে উঠছে।

মেটিও ফ্রান্স জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি ২০০৩ সালের আগস্টের ঐতিহাসিক তাপপ্রবাহের আকার নিতে পারে। ১৬ দিন স্থায়ী হওয়া ওই তাপপ্রবাহে ইউরোপে প্রায় ৮০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।

খাপ খাইয়ে নেওয়ার চেষ্টা ও শীতল অবকাশ

তীব্র দাবদাহে জনজীবন যখন ওষ্ঠাগত, তখন বাজারে ফ্যান ও এয়ার কন্ডিশনার কেনার হিড়িক পড়েছে। প্যারিসের এক দোকানে ফ্যান কিনতে আসা চলচ্চিত্র নির্মাতা ভিক্টোরিয়া ইয়াকুবভ বলেন, ‘আমি সকালে কফি খাওয়ার সময়টুকুও পাইনি, দ্রুত ফ্যান কিনতে দৌড়ে এসেছি। ৩০ মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে সব ফ্যান বিক্রি হয়ে গেছে।’

লন্ডনের জন লুইস অক্সফোর্ড স্ট্রিটের ম্যানেজার পল মার্সডেনও জানিয়েছেন, তাদের দোকানগুলোতেও ফ্যান চোখের পলকে শেষ হয়ে যাচ্ছে।

তীব্র গরমে হাঁসফাঁস করা বহু পর্যটক এখন দক্ষিণ ইউরোপের বদলে তুলনামূলক শীতল উত্তর ইউরোপের দেশগুলোতে পাড়ি জমাচ্ছেন। স্টকহোমে ঘুরতে আসা জার্মান পর্যটক ক্যাথরিনা রেক্সিং বলেন, ‘আমরা প্রথমে ক্রোয়েশিয়া যাওয়ার কথা ভেবেছিলাম, কিন্তু সুইডেন অনেক বেশি শীতল হওয়ায় এখানে চলে এসেছি।’

তথ্যসূত্র: রয়টার্স

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত